রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১০)

রাহেলা জবাব দিলেন নাইয়াজউদ্দিন সাহেব শান্ত গলায় বললেন, আমি টুনে একজন লােক রেখেছিসে সবসময় শুভ্রের উপর লক্ষ রাখবেতােমাকে এই খবরটা জানাতে চাচ্ছিলাম না

রূপালী দ্বীপ কিন্তু প্রেশারশাের বেড়ে তােমার যা অবস্থা হয়েছে, আমার মনে হল জানানাে উচিত| ইয়াজউদ্দিন সাহেব উঠে দাঁড়ালেনস্ত্রীর হাত ধরে তাকে নিচে নামালেনরাহেলা বললেন, মজিদ বলছিল, সুন্দর একটা মেয়ে নাকি শুভ্রের হাত ধরে তাকে তুলে নিয়ে তুলছে। 

ভালই তোসমস্যার সময়ে বন্ধুর মতাে কাউকে কাছে পাচ্ছেআমার কেন জানি খুব খারাপ লাগছেমনে হচ্ছে ভয়ংকর কিছু ঘটবেভয়ংকর কিছুটা কী হবে বলে মনে করছ ? ওরা সমুদে নামবে, তারপর চোরাবালিতে আটকে যাবেতো একা যাচ্ছে নাওর অটিজন বন্ধু আছেএকজন চোরাবালিতে 

আটকালে অন্যরা টেনে তুলবে। 

বিপদের সময় কাউকে কাছে পাওয়া যায় নামেয়েটিকে পাওয়া যাবে বলে আমার ধারণাকোন মেয়ে

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১০

ইয়াজউদ্দিন সাহেব হাসতে হাসতে বললেন, সুন্দরমত মেয়েটিযে শুভ্রের হাত ধরে তাকে ট্রেনে তুলে নিলতুমি এখনাে এত অস্থির হয়ে আছি কেন? যাও, নিচে গিয়ে খাবার গরম করতে বলআমি চিটাগাং টেলিফোন করছি। 

ম্যানেজার সাহেবের সঙ্গে আমিও কথা বলবতােমার কথা বলার কোনাে প্রয়ােজন দেখছি নাযা বলার আমি গুছিয়ে বলব। 

চশমাটা আছে ওর হ্যান্ডব্যাগের ডান দিকের পকেটেডিসপােসেবল রেজার, শেভিং ক্রীম, সাবান, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ সব আছে বাঁ দিকের পকেটে। 

আমি বলে দেব| রাহেলকিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন, শুভ্রের জন্যে আমার এই যে ভীতি, তােমার কাছে তা কি অস্বাভাবিক মনে হয়

ইয়াজউদ্দিন সাহেব বললেন, নাঅন্য সবার কাছে মনে হবে তুমি বাড়াবাড়ি করছকিন্তু আমার কাছে মনে হবে, নাকারণ অন্যরা জানে না, কিন্তু আমরাজানি, শুভ্রের চোখের নার্ভ শুকিয়ে আসছেঅতি দ্রুত তার চোখ নষ্ট হয়ে যাবেসে কিছুই দেখবে না। 

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১০

রাহেলা থমথমে গলায় বললেন, বারবার তুমি এই কথা মনে করিয়ে দাও কেন

তােমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্যেই করিবড় ধরনের ক্যালামিটির জন্যে মানসিক প্রস্তুতি দরকারমানসিক প্রস্তুতি থাকে না বলেই আমরা কোনাে বিপদের মুখােমুখি দাঁড়াতে পারি না। 

তুমি পার ? হ্যা, আমি পারি। 

রাহেলার মাথা ঘুরে উঠলতিনি ক্ষীণ স্বরে বললেন, আমার কেমন জানি লাগছে। 

ইয়াজউদ্দিন রাহেলার হাত ধরে ফেললেনঠাণ্ডা হাতসেই হাত থরথর করে কাঁপছে। 

রাত বাজে দুটার মতাে। 

কথা ছিল সারা রাত সবাই জেগে থাকবেহৈচৈ করতে করতে যাবেমনে হচ্ছে সবার উৎসাহে ভাটা পড়েছেবন্দু গোড়া থেকেই মনমরা ছিলতার মনমরা ভাব রাত একটার দিকে কাটলসে মােতালেবের কাছ থেকে ক্যাসেট প্লেয়ার নিয়ে ফুল ভলমে ক্যাসেট চালু করলবন্যার রবীন্দ্রসংগীততবে ক্যাসেটে দোষ আছেমনে হচ্ছে বন্যার গলায় ল্যারিনজাইটিসভাঙা গলায় গান, – 

সখী বয়ে গেল বেলা 

শুধু হাসি খেলা আর কি ভাল লাগে? চশমাপরা দাড়িওয়ালা এক ভদ্রলােক হঠাৎ পেছন থেকে উঠে এসে কঠিন গলায় বললেন, আপনি কি গান বন্ধ করবেন

বল্ট বলল, কেন বন্ধ করব

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১০

বন্ধ করবেন, কারণ, রাত দুটা বাজেএখন গানের সময় নাএখন ঘুমুবার সময়। 

আপনার জন্যে ঘুমুবার সময়আপনি কোলবালিশ নিয়ে শুয়ে পড়ুনআমাদের এখন জেগে থাকার সময়। 

চশমাওয়ালা লােক সমর্থনের আশায় চারদিকে তাকাচ্ছেকাজেই সমর্থন পাবার আগেই বন্দুকে সাপাের্ট দেবার জন্যে মােতালেব বলল, গানের পরেপরেই আছে নৃত্যানুষ্ঠানআপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণআমাদের দলে কয়েকজন নৃত্যশিল্পী আছেননইমা, নাচের জন্যে তৈরি হও। 

নইমার জন্যে অত্যন্ত অপমানসূচক কথাতার বিশাল শরীরের দিকে লক্ষ্য করেই তাকে নৃত্যশিল্পী বলা হচ্ছেঅতিবড় বােকাও এটা বুঝবেনইমার পাশে নীবা বসেছিল। সে খিলখিল করে হাসতে শুরু করেছে, যেন এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রসিকতাটা সে এইমাত্র শুনল। 

চশমাপরা ভদ্রলােক বললেন, আপনারা আমাদের সারা রাত বিরক্ত করবেন, তা তাে হয় না। 

 

Read more

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১১)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *