‘দ্যাটস রাইট। ডি এম বললেন, ‘মিসেস ব্যানার্জী আপনি যাদের কথা বললেন তাদের মত অনেক মানুষ ভারতবর্ষে ছড়িয়ে আছে । মাননীয় মন্ত্রী মহাশয় নিশ্চয়ই তা জানেন। তবে সরকার কিছুই করছে না একথা আমরা বলতে চাই না।’ এবার মন্ত্রী মহাশয় উঠে দাঁড়ালেন, ‘একটু আগে যখন জানতে চেয়েছিলাম আপনাদের কোনাে সমসা আছে নাকি তখন সবাই চুপ করে ছিলেন একজন শুধু বলেছিলেন তাঁর খুব গরম লাগে।
কিন্তু এখন উনি যে গ্রামের ছবি তুলে ধরলেন তা যদি সত্যি হয় তাহলে বলতে হবে এ জেলায় সরকারি কাজকর্ম ঠিকঠাক হচ্ছে না। রাজা কান দিয়ে দ্যাখে। আমাদের কান হলেন আপনারা। যা হােক, ঠিক ছিল আমি এখান থেকে কলকাতায় ফিরে যাব । কিন্তু আমি এই ইয়ং লেডির বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে চাই। ওই গ্রামটি এখান থেকে কতদূর ? | ডি এম, এস ডি ওর দিকে তাকালেন। এস ডি ও দীপাবলীর দিকে। দীপাবলী বলল, ‘গাড়িতে যাতায়াতে ঘণ্টা তিনেকের বেশী লাগা উচিত নয়। অবশ্য রাস্তা সব জায়গায় খুব ভাল নয়।
ঘড়ি দেখলেন মন্ত্রী, ‘চলুন, আর দেরি করে লাভ নেই। সভা ভাঙল। সবাই গুনগুন করতে লাগলেন, আগে জানলে তারাও নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা বলতে পারতেন। আফসোেস এখন সবার মুখে। | দুটো জিপ রওনা হল। মন্ত্রী, ডি এম ও এবং এস ডি ও প্রথম জিপটাতে, দ্বিতীয়টাতে দীপাবলী এবং পুলিশের লােকজন। মন্ত্রীর পি এ প্রথম জিপে উঠলেন। শহর ছাড়িয়ে জিপ ছুটল। দীপাবলীর ভাল লাগছিল। বৃদ্ধ মন্ত্রী যে এভাবে নিজের চোখে নেখালি দেখতে যেতে চাইবেন তা সে অনুমান করেনি।
সাতকাহন পর্ব-(৬)
যেভাবে সাজানোে কথার মিটিং চলছিল সেই পরিপ্রেক্ষিতে ভাবা যায় না। কিন্তু একটা কথা তার মনে খচখচ করছিল। মন্ত্রী মশাই তার গলায় কম্যুনিস্টদের সুর পেয়েছেন। ভবিষ্যতে এর ফল মারাত্মক হতে পারে। নিপীড়িত মানুষের কথা অন্যের মুখে শুনলে এরা কেন ক্যুনিজম আবিষ্কার করেন তা এরাই জানেন। ধুলাে উড়িয়ে জিপ ছুটছিল চাঁদিফাটা রােদুরে। মুখের চামড়া গরম হাওয়ার হলকায় জ্বলছে। আঁচলে মুখ ঢেকেও কষ্ট কমানাে যাচ্ছে না।
সােওয়া ঘণ্টা নাগাদ জিপ থেমে গেল। রাস্তাটা দুভাগ হয়ে গিয়েছে। মন্ত্রীর পি এ দৌড়ে সামনের জিপ থেকে চলে এলেন, “মিনিস্টার আপনাকে সামনের জিপে যেতে বলছেন। দীপাবলী চটপট নেমে পড়ল। রাস্তাটুকু পার হতে মনে হল পায়ে ফোস্কা পড়ে যাবে। জিপে উঠতেই মন্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় হে নেখালি ?
সােজা যেতে হবে।’ এবার এস ডি ও বললেন, আমার অফিস হয়ে যদি যাই! ‘আপনার অফিস কোনদিকে ? ‘ডানদিকে? ‘নেখালি তাে উল্টো পথ হয়ে যাবে। আপনার অফিসে গিয়ে টেবিল চেয়ার দেখতে আমি এসেছি নাকি?’ জিপ সােজা পথ ধরল। ডি এম বললেন, ‘সময়টা ভুল বাছা হয়েছে স্যার । এখন যাকে বলে স্কুর্চিং সান । ভাের ভাের বা বিকেলে এলে দেখার সুবিধে হত।
‘ঠিক কথা। ব্লক অফিস ওখান থেকে কতদূর? ‘কাছেই স্যার । দীপাবলী জবাব দিল । ‘তাহলে ব্লকেই যাই আগে। চারটে নাগাদ নেখালি দেখে ফিরে যাব। মন্ত্রী কথাগুলাে বলমাত্র এস ডি ও জিপের আওয়াজের আড়াল খুঁজে দীপাবলীকে বলল, “আপনার ওখানে অ্যারেঞ্জমেন্ট কেমন ? ফ্রিজ আছে ?
সাতকাহন পর্ব-(৬)
‘ফ্রিজ ? ওখানে তাে ইলেকট্রিসিটি যায়নি। ‘মাই গড! তাহলে মন্ত্রীকে খাওয়াবেন কি ? ‘সেটা ওকে বলুন। এবার মন্ত্রীর পাশে বসা ডি এমের দিকে তাকিয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লাগলেন এস ডি ও। সেটা ডি এম বােঝার আগে মন্ত্রী দেখে ফেললেন, “কি হয়েছে ? কিছু বলছেন ?
তাে তাে করলেন এস ডি ও ‘স্যার, ব্লক অফিসে আপনাদের জন্যে ভাল অ্যারেঞ্জমেন্ট করা সম্ভব নয়। মানে উইদাউট নােটিস আব কি ! ডি এম বললেন, ‘দ্যাটস রাইট। | এস ডি ও সাহস পেলেন, বলছিলাম কি, আপনি যদি আমার ওখানে যান, ওখান থেকে বেশী সময় লাগবে না !
‘আপনি নেখালি গিয়েছেন ? মন্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন। ‘না, মানে, স্যার, আমি তাে নতুন এসেছি। ‘উনি আপনাকে রিপাের্ট করার পরেও যাওয়ার সময় পাননি ? ‘স্যার, আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।’
ততক্ষণে ব্লক অফিস দেখা যাচ্ছে। দীপাবলী বলল, “ওই যে আমার অফিস।
মন্ত্রী বললেন, ‘অনেকগুলাে ঘর আছে দেখছি, চল, ওখানেই চল।
অতএব জিপদুটো থামল। অফিসঘর বন্ধ। সতীশবাবুরা ঠিক দশটাতেই আজ চলে গিয়েছেন। তিনি দরজা খুলে দিতেই সবাই যেন প্রাণ বাঁচাতে ভেতরে ঢুকে পড়ল। মন্ত্রীকে নিয়ে দীপাবলী নিজের ঘরে চলে এল, সঙ্গে ডি এম।
সাতকাহন পর্ব-(৬)
‘অফিসে লােকজন কই হে ? ‘স্যার এখানে গরমের জন্য মর্নিং আর আফটার নুন অফিস হয়। চেয়ারে বসে মন্ত্রী মশাই বললেন, ‘জল খাওয়াও। দীপাবলী ছুটে ভেতরে চলে গেল। তিরিকে নির্দেশ দিল, প্রথমে জল, পরে চা দেবার জন্যে। নির্দেশ দিয়েই সে আবার দৌড়ে বাইরে চলে এসেছিল। মন্ত্রী মশাই তখন ডি এমের ২৪ সঙ্গে গল্প করছেন। তাঁর ধারণা ছিল সরকারি কাজে মহিলারা শুধু শােভাই বাড়ান কিন্তু এই মেয়েটিকে দেখে তার ধারণা পাল্টাচ্ছে। প্রায় এক কুঁজো জল শেষ হয়ে গেল। এস ডি ও বললেন, শরবৎ করে দিন, এই গরমে কেউ চা খাবেন না ।
তিরি দাঁড়িয়েছিল দরজায়, বলে উঠল, ‘যা জল ছিল তা উনুনে বসিয়ে দিয়েছি চায়ের জন্যে, গরম জলে শরবৎ হবে কি করে ? | দীপাবলী বিরক্ত এবং রাগত ভঙ্গিতে বলল, “তােকে এখানে কথা বলতে কে বলেছে। ভেতরে গিয়ে কুয়াে থেকে জল তােল।
এখন কুয়েতে জল নেই। ‘মানে ? দীপাবলী একদম অপ্রস্তুত ‘তুমি চলে যাওয়ার পরে চারজন লােক এসে জোর করে জল তুলে নিয়ে গিয়েছে। আমাকে বলল মেমসহেব বলেছেন নিয়ে যেতে। এখন কাদা পড়ে গিয়েছে, বিকেলের আগে জল জমবে না।
Read more
