সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৮)

হ্যাআমি দশ ডলার বাজি রাখতে পারি আপনি কবি কিটসের প্রণয়িনীর নাম জানেন । 

আনিস অবাক হলােমেয়েটির মুখ হাসি হাসি কিন্তু ঝগড়া বাধানাের একটা সূক্ষ্ম চেষ্টা আছেসফিক তার গাড়ি নিয়ে এখনাে ব্যস্ত

সবাই গেছে বনে

তার ধারণা ঝামেলাটা আসলে ট্রান্সমিশনে নয় কারবুরেটরে, আর খানিকক্ষণ অপেক্ষা করলেই সে ঠিক করে ফেলতে পারবে। 

আনিস একটি সিগারেট ধরিয়ে মৃদু স্বরে বললাে, কবি কিটসের প্রণয়িনীর নাম জানা অত্যাবশ্যকীয় বিষয় নয়। 

আইনস্টাইনের কয় স্ত্রী সেটা জানা বােধহয় অত্যাবশ্যকীয়

তা নয়এইসব হচ্ছে বিলাসসফিকের গাড়ি একটি ছােট গর্জন করে আবার ঠাণ্ডা হয়ে গেলসে হাসি মুখে বললাে, দেখলেন তাে আনিস ভাই প্রায় কায়দা করে ফেলেছিআর দশ মিনিট। 

আনিস সে কথার জবাব দিল নারুনকি মাথার স্কার্ফ শক্ত করে বাঁধতে বাঁধতে মৃদু স্বরে বললাে, আমি তর্ক করে আপনাকে রাগিয়ে দিতে চাই নাতাহলে মা খুব রাগ করবেনমাকে আমি রাগাতে চাই নাতাঁর কিছুদিন আগেই নার্ভাস ব্রেক ডাউন হয়েছিলআরেকবার হলে খুব মুশকিল হবে। 

সফিকের গাড়ি স্টার্ট নিয়েছেবিকট শব্দ আসছে সেখান থেকে। 

সফিক কোমরে হাত দিয়ে গাড়িকে উদ্দেশ করে ছােটখাটো বক্তৃতা দিয়ে ফেললােশালা তুমি মানুষ চেন নাইকত ধানে কত চাল বুঝ নাইশালা এক চড় দিয়ে তােমার দাঁত খুলে ফেলবাে...। 

রুনকি খিলখিল করে হেসে ফেললাে। 

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ 

ফাইভ হানড্রেড লেভেলের একটি ক্লাস ছিল সাড়ে দশটায়আনিস ক্লাসে ঢুকে দেখলাে চেয়ারম্যান ডঃ হিল্ডারবেন্ট পেছনের দিকে বসে আছেহিল্ডারবেন্ট একা নয় অরগেনিক কেমিস্ট্রির ডঃ বায়ারও কফির পেয়ালা হাতে বসে আছেনহিল্ডারবেন্ট বললাে, আমরা তােমার ক্লাসে বসতে পারি তাে

আনিস বললাে, নিশ্চয়ই। 

কোনাে প্রশ্ন ঐশ্ন আবার জিজ্ঞেস করাে না হা হা হাআনিস অস্বস্তি বােধ করতে লাগলােহঠাৎ করে তার ক্লাসে এসে বসার কারণ বােঝা যাচ্ছে নাতবে এরা তাকে পছন্দ করছে না এটুকু পরিষ্কার বােঝা যায়পছন্দ না হবার কারণ তার জানা নেইকোনাে কারণ থাকার কথাও নয়। 

আনিস বক্তৃতা শুরু করলডঃ বায়ার কিছু শুনেছে বলে মনে হলাে নাকিন্তু গলায় ফিসফিস করে কী যেন বলছে হিল্ডারবেন্টকেএকবার দুজনেই সশব্দে হেসে উঠলােহিল্ডারবেন্ট আনিসের দিকে তাকিয়ে বললাে, সরি আনিসতুমি চালিয়ে যাওআনিস যেতে পারলাে নাডঃ বায়ার হঠাৎ করে বললেন, তােমার ইংরেজি কথা আমি ঠিক ধরতে পারছি না আনিসতুমি কি আরেকটু স্লো যাবে

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ 

তুমি তাে নিজেই কথা বলছাে বায়ারআমি নিজে স্লো বললেও কিছু আসবে যাবে নাদুএকটি ছেলে হেসে উঠলহিল্ডারবেন্ট বললাে, চালিয়ে যাওতুমি চালিয়ে যাও। 

আনিস দশ মিনিট আগে ক্লাস শেষ করে দিলহিল্ডারবেন্ট উঠতে যাচ্ছিল, আনিস বললাে, তােমার সঙ্গে আমার কথা আছে হিল্ডারবেন্ট। 

বলআজকে হঠাৎ আমার ক্লাসে এসে বসলে কেন ? পলিমার রিওলজিতে তােমার কোনাে উৎসাহ আছে বলে তাে শুনি নি। 

হিল্ডারবেন্ট খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বললাে, আমরা বসেছি একটা জিনিস দেখতেতােমার সম্পর্কে ভীনের অফিসে একটা রিপাের্ট হয়েছেবলা হয়েছে তােমার উচ্চারণ কেউ বুঝতে পারছে নারিপাের্ট কি ছাত্ররা করেছে

তা জানি নাতুমি ডীনকে জিজ্ঞেস করতে পারআমি অবশ্যি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তােমার কথা বুঝতে পারার কোনাে কারণ নেই। 

ধন্যবাদ। 

আনিস কফি খেতে গেল মেমােরিয়াল ইউনিয়নেডঃ এন্ডারসন খাতাপত্র নিয়ে একটি টেবিল দখল করে বসেছিলআনিসকে দেখেই গম্ভীর মুখে বললাে, তােমাদের বাংলাদেশের স্টল দেখে আসলাম। 

কী দেখে আসলে ? 

লাইব্রেরিতে আন্তর্জাতিক একটা মেলা হচ্ছেসেখানে তােমাদেরও একটা স্টল দেখলাম। 

আনিসের মনে হল ডঃ এন্ডারসন যেন হাসি গােপন করবার চেষ্টা করলােতুমি কফি শেষ করেই যাওস্টলের ব্যাপারটি মিথ্যা নয়। 

একটি প্রকাণ্ড টেবিল নিয়ে সফিক বসে আছেসফিকের গায়ে একটি হাতা কাটা স্যান্ডাে গেঞ্জি এবং পরনে সবুজ রঙের একটি লুঙ্গিবাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পােশাকটেবিলে একটি ময়লা পাঁচ টাকার নােট, দুটি দশ পয়সাআরেক পাশে একটি বড় ফুলস্কেপ কাগজে মার্কার দিয়ে লেখা, আনিস স্তম্ভিত। 

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৯)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *