আজ চিত্রার বিয়ে পর্ব:০৯ হুমায়ূন আহমেদ

আজ চিত্রার বিয়ে পর্ব:০৯

জ্বি স্যার। আগে কথা ছিল এনগেজমেন্ট হবে–পরে ঠিক হয়েছে বিয়েই হয়ে যাবে। এই জন্যেই ছুটি।মেয়ের বিয়ের দিন অফিস করবেন এটা কেমন কথা। অবশ্যই ছুটি। দরখাস্ত আমার পি.এ-র কাছে রেখে চলে যান। ও আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেলাম, একটা ছেলের চাকরির কথা বলেছিলেন মজনু নাম। আমার বড় শালাকে বলেছিলাম। সে একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির জি এম। ও চাকরির ব্যবস্থা কনেছে — স্টোর কিপার। চার হাজার ছয়শ টাকা বেতন প্লাস আদার ফেসিলিটিজ।স্যার আপনার অশেষ মেহেরবাণী।বড় সাহেব ললেন, এত সহজে যে চাকরি হয়ে যাবে আপনি কি ভেবেছিলেন?

জি স্যার ভেবেছিলাম। যে দিন আপনাকে বলেছি সেদিনই আমি জানি মনের চাকরি হবে। আপনি ব্যবস্থা করে দেবেন।আগে থেকে জানলে তো ভালোই। আমার বড় শালার কার্ড আমি আমার পি এর কাছে দিয়ে রেখেছি। আপনি সেখানে থেকে নিয়ে যান। আর ঐ ছেলেকে পাঠিয়ে দিন। সব ঠিক করাই আছে। ইন্টারভ্যু টিন্টারভ্যু কিছু লাগবে না।জ্বি আচ্ছা স্যার।রহমান সাহেব অফিস থেকে বের হলেন। তাঁর মন সামান্য খারাপ। রতন আজ অফিসে আসে নি। গত দিনই অফিস থেকে বের হবার সময় দেখেছিলেন রতনের জ্বম এসেছে। জ্বর নিশ্চয়ই বেড়েছে। তার ইচ্ছা ছিল মেয়ের বিয়েতে রতনকে রাখলেন। যে কোনো শুভ কাজে সব প্রিয়জনদের পাশে রাখতে হয়। রতন তার প্রিয়জন তো বটেই। রতনের আগের বাসায় তিনি বেশ কয়েকবার গিয়েছেন। গত মাসে সে বাসা বদলেছে। নতুন বাসার ঠিকানা রহমান সাহেবের জানা নেই। জানা থাকলে তিনি অবশ্যই রতনকে দেখতে যেতেন।

রহমান সাহেব হাঁটতে শুরু করলেন। এই সময়ে অফিস থেকে বের হয়ে তার অভ্যাস নেই। সব কেমন যেন অন্য রকম লাগছে।এত সকাল সকাল বাসায় ফিরে কি হলে? চুপচাপ ঘরে বসে থাকা ছাড়া তার আর করার কি আছে? ঘরে থাকা মানেই মীরাকে বিরক্ত করা। তারচে নিউমার্কেটের কাঁচাবাজারে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা যায়। চারটা ক্যাপসিকাম কিনে ফরিদার বাসায় চলে যাওয়া যায়। নতুন একটা তরকারি খেয়ে দেখা দরকার। অনেকদিন গরুর গোসত দিয়ে ওল খাওয়া হয় না। ওল সামান্য গলায় ধরবে। অনেকে গরম পানিতে ওল সিদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিয়ে গলা ধরার সমস্যার সমাধান করে।

রহমান সাহেব তার পক্ষপাতি না। ধরুক একটু গলায়। তারও আলাদা মজা আছে। বাজারে কচুর লতি উঠেছে। চিকন চিকন কালো রঙের কচুর লতি চিংড়ি মাছ দিয়ে অসাধারণ হয়। তার মা দিতেন। তিনি কচুর লতির সঙ্গে কুচি কুচি করে কাঁঠাল বিচি দিয়ে দিতেন। সেই স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে। ক্যাপসিকাম না কিনে কচুর লতি এবং কাঁঠাল বিচি কেনা যায়।দুপুরে ফরিদার বাসায় খাওয়া দাওয়া করে তাকে নিয়েই নিজের বাসায় যাওয়া। চিত্রার এনগেজমেন্টে সে থাকবে না, তা হয় না। তাছাড়া এটা এনগেজমেন্টও না। রীতিমতো বিয়ে।

ফরিদার সঙ্গে জহিরের যে সমস্যা ছিল তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে মিটে গেছে। ছোট ছোট ঝগড়া সহজে মিটতে চায় না। ছোট ঝগড়াগুলি চোর-কাটার মতো কাপড়ের এক জায়গা থেকে উঠে অন্য জায়গায় লাগে। বড়গুলি হল মানকাটার মতো। একবার তুলে ফেললে দ্বিতীয়বার লাগার সুযোগ নেই।রহমান সাহেব বোনকে ফেলে নিজের মনে হেঁটে চলে এসেছিলেন–এই ব্যাপারটা তার আর তেমন করে মনে পড়ছে না। তিনি কোনো অস্বস্তি বোধ করছেন না। তিনি জানেন ফরিদা তার ওপর খুবই রাগ করেছে। তবে এটাও জানেন সে রাগ করে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না।

পৃথিবীতে বোন ছাড়া তার আর কেউ নেই— এই কঠিন সত্যটা ফরিদা জানে। কাজেই সে তার ভাইজানের সব অপরাধ ক্ষমা করে দেবে।তিনি কাঁচাবাজার থেকে বেশ কিছু বাজার করে ফেললেন। কচুর লতি, কাঁঠাল বিচি, দুটা কলার থোর, লাউ ডগা। মাছের মধ্যে কিনলেন চিংড়ি মাছ আর মলা মাছ। এত মাছ পলিথিনের ব্যাগে করে নেয়া যায় না। তিনি দশা টাকা দিয়ে চটের একটা ব্যাগ কিনে ফেললেন। বাজার থেকে বের হবার মুখে হঠাৎ চোখে পড়ল কচি লাউ বিক্রি হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে এই মাত্র লাউ গাছ থেকে ছিঁড়ে আনা হয়েছে। তিনি তের টাকা দিয়ে একটা লাউ কিনলেন।

ফরিদার জন্যে একটা উপহার কিনতে ইচ্ছা করছে। খুব খুশি হয়ে যায় এমন কোনো উপহার। ফরিদার সবচে বড়গুণ হচ্ছে যে কোনো তুচ্ছ জিনিস পেয়েও সে খুশি হয়। সেই খুশির মধ্যে কোনো ভান থাকে না। একবার নিউমার্কেটের সামনে গোল প্লাস্টিকের বক্সে সুঁচ বিক্রি হচ্ছিল। বক্সের ভেতর অনেকগুলি খাপ। একেক ধাপে একেক মাপের সুঁচ। ঢাকনা ঘুরিয়ে পছন্দসই মাপের সুঁচের কাছে গেলে সেই সুঁচ বের হয়ে আসে। তিনি সেই সুঁচের বাক্স বোনের জন্যে একটা কিনলেন। ফরিদা উপহার হাতে নিয়ে গাঢ় গলায় বলল, ভাইজান তুমি কোত্থেকে খুঁজে খুঁজে এমন সব অদ্ভুত জিনিস আমার জন্যে আন? কে তোমাকে এত কষ্ট করতে বলেছে। নিজের ওপর তোমার কোনো মায়া নেই।

রোদে রোদে ঘুরে কি করে শরীরের অবস্থা। দেখি একটু দাঁড়াও তো তোমাকে সালাম করি।সালাম করবি কেন? একটা উপহার দিয়েছ আমি তোমাকে সালাম করব না। তুমি আমাকে কি ভাব? রহমান সাহেবের স্পষ্ট মনে আছে সালাম করে উঠে দাঁড়িয়ে ফরিদা চোখ মুছতে লাগল। উপহার পাবার আনন্দে তার চোখে পানি এসে গেছে।রিকশায় উঠে রহমান সাহেবের মনে হল বোনের জন্যে আজ ভালো কোনো উপহার নিতেই হবে। তাঁর সবচে পছন্দ কাচের চুড়ি।

দুই বাক্স কাচের চুড়ি কিনে নিয়ে গেলে কেমন হয়? কাচের চুড়ি কোথায় পাওয়া যায় তিনি জানেন না। খুঁজে বের করা যাবে। রতন সঙ্গে থাকলে খুব সুবিধা হত। সে চেনে না এমন জায়গা নেই। কেউ যদি রতনকে বলে— রতন একটা ছমাস বয়েসী হাতির বাচ্চা কিনতে চাই। কোথায় পাওয়া যাবে বল তো। রতন সঙ্গে সঙ্গে বলবে, আসেন আমার সঙ্গে।দুই লাক্স কাচের চুড়ি কিনে রহমান সাহেব ফরিদাদের ফ্ল্যাটে উপস্থিত হলেন। সেখানে অনেক লোকজন পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। বিরাট হৈচৈ। তিনি অবাক হয়ে শুনলেন–ফ্ল্যাট বাড়ির ছাদ থেকে একটা মেয়ে লাফ দিয়েছে। মেয়েটার নাম ফরিদা। তখনো তিনি বুঝতে পারলেন না— এই ফরিদা তার অচেনা কেউ। ফরিদা তারই বোন। ফরিদার জন্যেই তিনি দুই বাক্স কাচের চুড়ি এনেছেন।

অচেনা এক ভদ্রলোক রহমান সাহেবকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেল। জহিরকে শুকনো মুখে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। তার ঠোঁট চিমসে মেরে গেছে। সে সিগারেট টানছে। আর একটু পর পর পুপু ফেলছে। জহিরের সঙ্গে তার কিছু বন্ধু-বান্ধব। তারাও শুকনো মুখে সিগারেট টানছে। প্রত্যেকের চেহারাই কালাসের মতো। রহমান সাহেবকে দেখে জহির এগিয়ে এল। চিন্তিত মুখে বলল, ভাইজান দেখেছেন কি রকম বিপদে পড়েছি। পুলিশ টাকা খাওয়ার জন্যে নানান ফ্যাকড়া করছে। বলছে এটা নাকি সুইসাইড না, হত্যা। তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ছাদে তুলে পেছন থেকে নাকি ধাক্কা দিয়ে ফেলেছে।

রহমান সাহেব বললেন, কে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছে? বহির বিরক্ত মুখে বলল, কেউ ফেলে নি। কে আবার মেলবে। আমাকে বিপদে ফেলার জন্যে নিজেই পি দিয়েছে। তা ভাগ্য ভালো যে চিঠিতে আমার সম্পর্কে সত্যি কথাগুলি লিখেছে।কি লিখেছে? আমি যে স্বামী হিসেবে কত ভালো এইটা লিখেছে। সে যদি লিখত তার মৃত্যুর জন্যে আমি দায়ী তাহলে আজ আমার খবর ছিল। তবে সমস্যা হয়েছে কি ভাইজান, চিঠিটা এখন আছে পুলিশের কাছে। আমার কাছ থেকে টাকা খাওয়ার জন্যে পুলিশ চিঠি গায়েব করে দিতে পারে। আমি চেষ্টা করছি মূল চিঠিটা, মুল চিঠি না হলে তার একটা ফটোকপি হলেও যোগাড় করতে। ফটোকপি আমি একজন ফার্স্টক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে এটাচড করিয়ে নেন।

রহমান সাহেব কি বলবেন ভেবে পেলেন না। তার প্রচণ্ড ভয় লাগছে। বুক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। ফরিদা মারা গেছে এই ব্যাপারটা এখনো তার কাছে সে রকম স্পষ্ট হয় নি।জহির হাতে সিগারেট ফেলে আরেকটা সিগারেট ধরাল। রহমান সাহেবের দিকে ঝুঁকে এসে বলল, গত রাতে আপনি ফরিদাকে রেখে চলে যাবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমি দরজা খুলে তাকে বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে। যা হবার হয়েছে। এখন ঘরে ঢোক। হাত মুখ ধুয়ে ভাত খাও। সে তখন বলল, না। তারপর রাগ দেখিয়ে ফট ফট করে ছাদে চলে গেল। আমার তখনই উচিত ছিল তাকে ছাদে যেতে না দেয়া। সে যে আমাকে এত বড় বিপদে ফেললে আমি চিন্তাও করি নি।

রহমান সাহেব চুপ করে আছেন। তার কেমন যেন লাগছে। মনে হচ্ছে না ঘটছে তার কিছুই সত্যি না। স্বপ্নের ভেতর ঘটেছে। তিনি দুঃস্বপ্ন দেখছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জেগে উঠবেন। তখন আর এই ঝামেলায় থাকতে হবে না।জহির বলল, ভাইজান চালাবেন? রহমান সাহেব বললেন, না। পানি থাব।ঐ দোকানের দিকে চলেন, পানি খাবেন চাও খাবেন। এরা চা-টা ভালো বানায়। আমি ছয় কাপ চা খেয়ে ফেলেছি। সকালে নাশতা টাশতা কিছুই থাই নি। চায়ের ওপর আছি।

রহমান সাহেব যন্ত্রের মতো জহিরকে অনুসরণ করলেন। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে চায়ে চুমুক দিলেন। জহির ভুল বলে নি। চা-টা ভালো। জহির বলল, ভাইজান আপনি এসেছেন খুব ভালো হয়েছে। আপনি আমার একটা উপকার করেন।কি উপকার? কিছুক্ষণের মধ্যেই সুরতহাল হয়ে যাবে। টাকা দিয়ে মনে করেছি। উপর থেকে মন্ত্রী লেভেলে চাপও দিয়েছি। ডাবল একশান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডেডবডি হ্যান্ডওভার করে দেবে। আমি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের গাড়ি যোগাড় করেছি। আপনি ডেড বডি নিয়ে যান। আমি পুলিশের ঝামেলা শেষ করে আসছি।রহমান সাহেব অবাক হয়ে বললেন, কোথায় নিয়ে যান?

জহির বিরক্ত মুখে বলল, আপনার বাড়িতে নিয়ে যান। এ ছাড়া তো আর জায়গা দেখি না। আমার ফ্ল্যাটে নেওয়াই যাবে না। রাজ্যের মানুষ ভিড় করে আছে। সাংবাদিক ফাংবাদিকও আছে। এরা ভেবেছে মশলাদার কোনো ঘটনা আছে—ফ্রন্ট পেজ নিউজ করে পত্রিকার সার্কুলেশন বাড়বে। চা আরেক কাপ খাবেন ভাইজান? না।

খান আরেক কাপ। নার্ভ ঠিক থাকলে। চায়ের মধ্যে কেফিন আছে। কেফিন নার্ভ ঠিক রাখে। এই আমাদের আরো দুকাপ চা দাও। ভাইজান আপনি চায়ের সঙ্গে সিগারেটও খান। চায়ের কেফিন আর সিগারেটের নিকোটিন— দুইটায় মিলে নার্ভ একেবারে পুকুরের পানির মতো ঠাণ্ডা রাখবে। আমি যে এত নর্মাল আছি— এই দুই বন্ধুর জন্যে আছি। সকালে খুবই কান্নাকাটি করেছি। তারপর ভাবলাম আগে কাজ গুছায়ে নেই। তারপর কান্নাকাটি। কান্নাকাটির সময় পার হয় নাই। সারাজীবনই কান্নাকাটির জন্যে পড়ে আছে।

রহমান সাহেব আরেক কাপ চা নিলেন। সিগারেট ধরালেন। তার কাছে মনে হল জহির সত্যি কথাই বলেছে। শরীরের কাঁপুনিটা কমে এসেছে। জহির বলল, ভাইজান তাহলে আপনি এই উপকারটা করুন। ডেডবডি নিয়ে আপনার বাসায় চলে যান। আমি পুলিশের ঝামেলা শেষ করে, আজিমপুর গোরস্থানের সঙ্গে কথাবার্তা বলে চলে আসছি। কোরানে হাফেজ টাফেজ জাতীয় কাউকে পান কিনা দেখেন। কোরান পাঠ করতে থাকুক। টাকা-পয়সা যা লাগে আমি দেব।রহমান সাহেব বললেন, আচ্ছা।জহির বলল, আপনি যে শক্ত আছেন এটা দেখে ভালো লাগছে। বিপদের সময় কেউ মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারে না। আপনাকে দেখলাম মাথা ঠাণ্ডা। আপনার ব্যাগে কি?

বাজার।জহির ব্যাগের ভেতর উঁকি দিয়ে বলল, লাউটা ভালো কিনেছেন। লম্বা লাউ মিষ্টি হয়। গোল লাউ দেখতে ভালো, কিন্তু খেতে ভালো না। লাউ কিনে আপনি জিতেছেন।লাশের গাড়ির ভেতর রহমান সাহেব বসে আছেন। পাশাপাশি দুটা লম্বা সিট। একটায় তিনি বসেছেন। অন্যটায় ফরিদা শুয়ে আছে। শাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। রহমান সাহেবের কাছে মনে হচ্ছে এ অমিলে যদিদা না। অন্য কেউ। কিশোরী কোনো মেয়ে। শাদা কাপড়ে ঢাকা বলেই কি না— ফরিদাকে খুব ছোট খাট মনে হচ্ছে। রহমান সাহেবের দমবন্ধ লাগছে।

পাশের গাড়িটা পুলিশের প্রিজন ভ্যানের মতো। কোনো জানালা নেই। একটা ছোট্ট রেলের টিকিট চরের জানালার মতো জানালা আছে। এই জানালা দিয়ে গাড়ির ড্রাইভারের সঙ্গেই শুধু কথা বলা যায়। বাইরের কিছু দেখা যায় না।গাড়ি চলতে শুরু করেছে। ড্রাইভারকে এখনো বলা হয় নি কোথায় যেতে হবে। ড্রাইভার অবিশ্যি একবার জিজ্ঞেস করেছে— কোনদিকে যাব? রহমান সাহেব কিছু বলেন নি। গাড়ি কোথায় যাবে তিনি জানেন কি জায়গাটার নাম এই মুহূর্তে মনে আসছে না। একটু পরেই মনে আসবে।

রাস্তার কোনো গর্তে গাড়ি প্রবল ঝাঁকুনি গেল। ফরিদা সিট থেকে পড়ে যাচ্ছিল, রহমান সাহেব ছুটে এসে তাকে ধুলেন। আর তখনি ফরিদা কথা বলে উঠল। চৌবাচ্চার মাছটা যে রকম ক্ষীণ স্বরে কথা বলেছিল সে কম ক্ষীণ স্বর। কিন্তু স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ।ভাইজান তুমি এটা নিয়ে করছ? রহমান সাহেব বিড়বিড় করে বললেন, কি করেছি? আমাকে কোন বুদ্ধিতে তুমি তোমার বাসায় নিয়ে যাচ্ছে? আজ তোমার মেয়ের বিয়ে। কত লোকজন আসবে। একটা শুভ কাজ হবে। এর মধ্যে তুমি একটা মরা লাশ নিয়ে উপস্থিত হবে। কি সর্বনাশের কথা।তাহলে কি করব? ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বল। তারপর গাড়ি থেকে নেমে হাঁট?

 

Read more

আজ চিত্রার বিয়ে শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *