ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় – অলৌকিক

অলৌকিক বি কম পাশ করেছি আজ বছর দুয়েক। তারপর থেকে অফিসে অফিসে ঘুরে তিন জোড়া চটি ছিঁড়ল, কিন্তু চাকরি জুটল না। বড়ো, মেজো, ছোটো সব অফিস ঘোরা শেষ। সব জায়গায় এক কথা। দুঃখিত, এখানে কোনো কাজ নেই। বেশ কয়েকটা অফিসে সদর দরজায় মস্ত বড়ো নোটিস লটকানো। নো ভ্যাকেন্সি। নিতান্ত বাপের পেনসনটুকু ছিল বলে অনাহারে দিন… Continue reading ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় – অলৌকিক

কুমড়ো ও পাখির কথা

গ্রাম থেকে দূরে বনের ধারে, নির্জন জায়গায় ছিল এক মিষ্টিকুমড়োর লতা। লতায় ছিল একটি মাত্র মিষ্টিকুমড়ো। দেখতে বেশ গোলগাল। ছোট একটি কুল গাছে জড়ানো লতায় মিষ্টিকুমড়োটা ঝুলছিল। সকাল হলো। শিশির জমে আছে ঘাস ও লতাপাতায়। [মিষ্টিকুমড়ো ও শিশির কথা বলছে।] শিশিরঃ ও কুমড়ো ভাই, ভালো আছ তো? কুমড়োঃ হ্যাঁ, ভালো। তুমি? শিশিরঃ আমিও ভালো। কুমড়োঃ… Continue reading কুমড়ো ও পাখির কথা

প্রাণ কানাইয়া-Monika Shokuntola

#poetry : প্রাণ কানাইয়া। #poet : Monika Shokuntola #artwork : Jugal Sarkar কোথায় তোমার শিখিপাখা? কোথায় মোহনচূড়া? কোন বনেতে বেনু বাজে? ক‌ই বা শিশুরাধা? গোপাল বেশে মুক্তকেশে, ললাটে রাজটীকা। মোহন বাঁশী কোথায় বলো? ওহে প্রান কানাইয়া!! ননীচুরি করতে গিয়েই- সব বুঝি হারালে? এমন সুন্দর রাজসজ্জায়- কে তোমায় সাজালে? যশোধরা দেয়নি বুঝি , আজকে একটু আদর?… Continue reading প্রাণ কানাইয়া-Monika Shokuntola

আমাদের বাড়ি- রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় 

  আমাদের একটা বাড়ী ছিল। তার তিনটে তলা ছিল। সদরে তিনটে দরজা ছিল। পাল্লাগুলোয় নক্সি ছিল। লোহার লম্বা খিল্ ছিল। ওপরে দুটো ছাদ ছিল। ছাদের আগে ঘর ছিল। রামধেনু রঙ জানলা ছিল। ঘরের শেষে রেলিং ছিল। লোহার তৈরি রেলিং ছিল। লতাপাতার নক্সা ছিল। রেলিং ‘পরে রাস্তা ছিল। এক্কাগাড়ি অনেক ছিল। একটু দুরে রেল ছিল। রেলের… Continue reading আমাদের বাড়ি- রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় 

আয়না – আবুল মনসুর আহমদ- গো-দেওতা কা দেশ

আয়না – আবুল মনসুর আহমদ গো-দেওতা কা দেশ গো-দেওতা কা দেশ দিনটাও ছিল বেজায় গরম, মেজাজটাও ছিল নিতান্ত চড়া। রাত না পোহাতেই বিবির সাথে ঝগড়া হওয়ায় প্রতিজ্ঞা করিলাম : আজ বাসায় থাকিব না; সারাদিন বাহিরে থাকিয়া বিবিকে একটু শাস্তি দিব। কিন্তু যাই-ই বা কোথায় ছাই! জামা-কাপড় লইয়া আড়চোখে বিবির দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া লইলাম। বিবি ভ্রুক্ষেপও… Continue reading আয়না – আবুল মনসুর আহমদ- গো-দেওতা কা দেশ

শ্যাম প্রেয়সী-মনিকা শকুন্তলা

মন ভরিলো হে নৃত্য পটিয়সী, হৃদয় নাচিলো জল তরঙ্গে। কোথা তব নিবাস কন্যে? থাকো তুমি কোন বঙ্গে? কিবা শোভা বসন ভূষনে, কি যে তরঙ্গ শ্যাম বরণ অঙ্গে! দেখি আর ভাবি বিমোহিত আমি – রাধিকা বুঝি বা এসেছে নবরঙ্গে। নয়ন যুগলে হরিনী আবেশ, যতনে সেজেছে ঘনকালো কেশ। সুনিপুণ হাতে মুদ্রার তালে, মনপ্রাণ আজ উছলিয়া পড়ে। কিবা… Continue reading শ্যাম প্রেয়সী-মনিকা শকুন্তলা

ভালো বনাম মন্দ – মহিউদ্দিন জুলহাস 

মন্দ বলে, ‘ভালো! তুই যদি না থাকতি বিশ্ব করতাম কালো। জানিস আমি কেমন মন্দ? আমার গায়ে থাকে গন্ধ। আমার সাথে চলবে যারা জ্ঞানে ধরবে পচন, এবং তারা মানবে না তো নীতির কোনো বচন।’ ভালো বলে,’ধুর! যতই কালো করিস রে তুই আমি করবো দূর। যাদের সঙ্গে থাকবো আমি মানুষ হবে সৎ, বিশ্বে আমি রুদ্ধ করি মন্দ… Continue reading ভালো বনাম মন্দ – মহিউদ্দিন জুলহাস 

ঈদ ভয়ংকর! – হুমায়ূন আহমেদ

ভাবতে অবাক লাগে, একসময় আমার ঈদও আনন্দময় ছিল। তখন আমাকে ঈদসংখ্যায় উপন্যাস লিখতে হতো না। কারণ ‘ঈদসংখ্যা’ নামক কোনো বস্তু ছিল না। বিটিভিতে ঈদের হাসির নাটক লিখতে হতো না, এই দায়িত্ব জনাব আমজাদ হোসেন নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন। বিটিভির কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান সাহেবের কাছে শুনেছি, আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে ঈদের নাটক আদায় করা কঠিন ব্যাপার… Continue reading ঈদ ভয়ংকর! – হুমায়ূন আহমেদ

দুইবার রাজা – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

বাজে -পোড়া ঠুঁটো তালগাছটা উঠোনের পাশে দাঁড়িয়ে, যেন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আকাশকে ঠাট্টা করছে। অথচ ম্রিয়মাণ, বিষণ্ণ। বুকের মধ্যে যেন একটা হাপর আছে, উঁচু তাকিয়াটায় ঘাড় গুঁজে উবু হয়ে শুয়ে অমর হাঁপানির টান টানছে। ডাক্তার খানিকটা ন্যাকড়ায় কি একটা ঝাঁঝালো ওষুধ ঢেলে দিয়ে বলে গিয়েছিল শুকতো তাতে টান কমা দুরে থাক, রগ দুটো বাগ না… Continue reading দুইবার রাজা – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

খসড়া পাণ্ডুলিপি /রব্বানী চৌধুরী 

পেইজ ১ বাবার সেবা করব খাওয়াদাওয়ার চিন্তা নেই শান্তি ঘুমের এ কোন মোটেল? বাবার হোটেল! কাপড়চোপড় মাগনা মিলে পকেট খরছ ইন টোটেল বাবার হোটেল! টি ভি-বিদ্যুৎ-টেলিফোন গ্যাস-পানি ও শ্যাম্পু-তেল বাবার হোটেল! খেলনা কেনা, বিয়েশাদি, আর কী বাকি? ভাবতে ভাবতে মাথাই বেল বাবার হোটেল! বাবার মতো দাতা নেই কেউ সন্তানেরা হয় কি লুটেল? বাবার হোটেল! যাদের… Continue reading খসড়া পাণ্ডুলিপি /রব্বানী চৌধুরী