কোথায় গেল -মহিউদ্দিন জুলহাস 

কোথায় গেল ঢেউ কাঁপানো বেতাই নদীর জল কোথায় গেল ছেলেবেলার সঙ্গি সাথির দল। কোথায় গেল বাড়ি ভরা নানান জাতের গাছ কোথায় গেল জলাভূমির বিশাল বিশাল মাছ। কোথায় গেল মক্তব পড়া কুরান শিক্ষার রীতি কোথায় গেল একে অন্যের হৃদয়গলা প্রীতি। কোথায় গেল বোশেখ মাসের আম কুড়ানির সুখ কোথায় গেল মানবজাতির দয়ার বিশাল বুক। কোথায় গেল মিষ্টি… Continue reading কোথায় গেল -মহিউদ্দিন জুলহাস 

মানুষের সেবা -আবদুল কাদির

হাশরের দিন বলিবেন খোদা- হে আদম সন্তান তুমি মোরে সেবা কর নাই যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান। মানুষ বলিবে – তুমি প্রভু করতার, আমরা কেমনে লইব তোমার পরিচর্যার ভার? বলিবেন খোদা- দেখনি মানুষ কেঁদেছে রোগের ঘোরে, তারি শুশ্রুষা করিলে তুমি যে সেথায় পাইতে মোরে। খোদা বলিবেন- হে আদম সন্তান, আমি চেয়েছিনু ক্ষুধায় অন্ন, তুমি কর নাই… Continue reading মানুষের সেবা -আবদুল কাদির

রাত বারোটা – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

আমি তখন মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দিতে পোস্টেড। যে দোতলা বাড়িটাতে আছি, সেটা আমাদের দুজনের পক্ষে বেশ বড়। উপরে-নিচে অনেকগুলি ঘরই ফাঁকা। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে বাঁহাতি পুবের ঘরটা আমার লেখাপড়া করবার, আর লম্বা-চওড়া বড় একটা বারান্দা পেরিয়ে পশ্চিমের ঘরটা শোবার। দক্ষিণের বারান্দায় ক’খানা চেয়ার ফেলা। নির্ঝঞ্ঝাট নিরিবিলি বাড়ি। চারদিক গাছগাছালিতে ঢাকা। ইলেকট্রিক নেই। লণ্ঠনের টিমিটিমি। তখন… Continue reading রাত বারোটা – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

পথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

পথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ০১. বল্লালী বালাই – নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের একেবারে উত্তরপ্রান্তে প্রথম পরিচ্ছেদ নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের একেবারে উত্তরপ্রান্তে হরিহর রায়ের ক্ষুদ্র কোঠাবাড়ী। হরিহর সাধারণ অবস্থার গৃহস্থ, পৈতৃক আমলের সামান্য জমিজমার আয় ও দু-চার ঘর শিষ্য সেবকের বার্ষিকী প্রণামীর বন্দোবস্ত হইতে সাদাসিধাভাবে সংসার চালাইয়া থাকে। পূর্বদিন ছিল একাদশী। হরিহরের দূরসম্পর্কীয় দিদি ইন্দির ঠাক্‌রুণ সকালবেলা ঘরের… Continue reading পথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ইছামতী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ইছামতী একটি ছোট নদী। অন্তত যশোর জেলার মধ্য দিয়ে এর যে অংশ প্রবাহিত, সেটুকু। দক্ষিণে ইছামতী কুমির-কামট-হাঙ্গর সংকুল বিরাট নোনা গাঙে পরিণত হয়ে কোথায় কোন সুন্দরবনে সুঁদরি-গরান গাছের জঙ্গলের আড়ালে বঙ্গোপসাগরে মিশে গিয়েচে, সে খবর যশোর জেলার গ্রাম্য অঞ্চলের কোনো লোকই রাখে না। ইছামতীর যে অংশ নদীয়া ও যশোর জেলার মধ্যে অবস্থিত, সে অংশটুকুর রূপ… Continue reading ইছামতী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়ের মুখে চাঁদের হাসি – মহিউদ্দিন জুলহাস 

চাঁদের মতো মুখটা মায়ের চাঁদের মতো মুখটা, মায়ের মুখে চাঁদের হাসি দেখলে ভরে বুকটা। আকাশ সমান দিলটা মায়ের আকাশ সমান দিলটা, আমার কাছে ভালো লাগে মায়ের মিঠা কিলটা! তারার মতো চক্ষু মায়ের তারার মতো চোখ, মাকে যারা দেয়না সম্মান নয়তো ভালো লোক।

তিতুর মতো-মহিউদ্দিন জুলহাস

তোরা যারা মানুষ মারিস তোদের প্রতি ক্রুদ্ধ তোদের হাতে মরার জন্য হয়নি মুক্তিযুদ্ধ। দেশকে যারা ভালোবাসেন সকল অসুর খুনি নাশেন তবেই হবেন স্বদেশ প্রেমে তিতুর মতো শুদ্ধ।

সোনার মতো তাজ-মহিউদ্দিন জুলহাস

দেশটা আমার মায়ের মতো সবাই যদি এই মানি, আমরা কী আর করতে পারি মায়ের সাথে বেঈমানি? দেশের সেবা করতে হলে দশের সেবা করুন, জনগণের উন্নয়নে নিজের প্রাণটা ধরুন। জনগণের পক্ষে যদি যান করে যান কাজ, জনগণ-ই এনে দিবে সোনার মতো তাজ।

বাংলা আমার দেশ-মহিউদ্দিন জুলহাস

অস্ট্রেলিয়া ক্যাঙ্গারুর দেশ প্রাচীরের দেশ চীন লিলি ফুলের কানাডাতে ম্যাফল পাতা মিহিন। তিব্বত হল নিষিদ্ধ দেশ মিশর পিরামিডের বজ্রপাতের দেশটা ভুটান জাপান ভূমিকম্পের। ইতালিকে সবাই জানি সাত পাহাড়ের দেশ ফিদেল কাস্রোর কিউবাতে মুক্তা আছে বেশ। নিশীথ সূর্যের নরওয়েতে গিয়েছিলাম অসলো চাঁদের মতো তিনটা মেয়ে আমার পাশে বসলো। তিনটা মেয়ে বলল সেদিন ‘কেমন আছ ভাই? কোথায়… Continue reading বাংলা আমার দেশ-মহিউদ্দিন জুলহাস

একাত্তরের দেশ-মহিউদ্দিন জুলহাস

বিলের জলে দেশটা আমার শাপলা ফোটা হাসি, মুক্তিযুদ্ধের দেশটা আমার দারুণ ভালোবাসি। ধানের ক্ষেতে দেশটা আমার সবুজ পাতার গান, ভীষণ সুন্দর দেশটা আমার মুক্তিযোদ্ধার দান। বাংলাদেশটা প্রিয় আমার সোনার মতো মাটি, বীর শহিদের দেশটা আমার থাকুক পরিপাটি। পদ্মা নদীর দেশটা আমার দেশটা মেঘনা গড়াইয়ের, একাত্তরের দেশটা আমার গর্ব করি লড়াইয়ের।