নীল আলো-তারাপদ রায়

নিলামে একটা রঙিন টিভি কিনেছিলেন প্রেমতোষ। নতুনের দামের প্রায় অর্ধেক দামে। অনেকদিনই একটা রঙিন সেটের শখ ছিল প্রেমতোষের। খোঁজ নিয়ে দেখেছিলেন পাঁচ অঙ্কের টাকা একটা নতুন সেটের দাম। টাকার পরিমাণ দেখে দমে গিয়েছিলেন প্রেমতোষ। প্রেমতোষের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ তা বলা যাবে না। ফল সংরক্ষণের একটি কেন্দ্রীয় সরকারি আন্ডারটেকিংয়ে ফিনান্স অফিসারের চাকরি করেন তিনি। তার… Continue reading নীল আলো-তারাপদ রায়

জ্বর-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রথমটা অসিত বুঝতে পারেনি, শুধু সমস্ত শরীরে কীরকম একটা অস্বস্তি লাগছিল। কন্ডাক্টরকে পয়সা দিতে গিয়ে বুঝতে পারল, তার জ্বর এসেছে। একটা পাঁচ টাকা তুলে বলল ভবানীপুর! দু-চারটে কৌতূহলী চোখ তার দিকে তাকাল। কন্ডাক্টর দার্শনিকের মতো নির্লিপ্ত গলায় বললে, ভবানীপুর যাবে না, এ-ট্রাম আলিপুর যাচ্ছে! আশ্চর্য! অসিত জানলা দিয়ে তাকাল। ময়দানের মধ্য দিয়ে ট্রাম মেল-ট্রেনের মতো… Continue reading জ্বর-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

জেটিঘাট -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তিনখানা খড়ের নৌকো লিজ নিয়েছে দানসা, আর ফেরিঘাটের টিকিট কাটে ওমর। দুজনে এক ছাউনির নীচে বসে। দানসার খাটুনি বেশি, কারণ কারবারটা তার নিজের। এক সিজনের জন্য নৌকোগুলো সে লিজ নিয়েছে, এবার থেকে ওপারে খড় বোঝাই করে চালান দেয়। কখনও ইট কিংবা আলুর বস্তাও। যায়। পাঁচজন মজুর খাটাতে হয়। নৌকোগুলোতে খড় কিংবা অন্য মাল বোঝাই করার… Continue reading জেটিঘাট -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বোষ্টমী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি লিখিয়া থাকি অথচ লোকরঞ্জন আমার কলমের ধর্ম নয়, এইজন্য লোকেও আমাকে সদাসর্বদা যে রঙে রঞ্জিত করিয়া থাকে তাহাতে কালির ভাগই বেশি। আমার সম্বন্ধে অনেক কথাই শুনিতে হয়; কপালক্রমে সেগুলি হিতকথা নয়, মনোহারী তো নহেই। শরীরে যেখানটায় ঘা পড়িতে থাকে সে জায়গাটা যত তুচ্ছই হোক সমস্ত দেহটাকে বেদনার জোরে সেই ছাড়াইয়া যায়। যে লোক গালি… Continue reading বোষ্টমী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দৈত্যের বাগানে শিশু-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

যৌবনকালটা লালুর কেটেছে মামদোবাজিতে। মামদোভূতের ধড় আছে, মুড়ো নেই। লালুরও ছিল না। ধড় ছিল। সেটা দশাসই। ছেলেবেলা থেকেই তার চেহারাখানা বিশাল, দু-খানা বিপুল কাঁধের মধ্যে তার মুণ্ডুটা নিতান্তই ছোট দেখতে। মুখখানা ভালো নয়, কিন্তু সেই মুখে খুব সরলতা ছিল। ছিল নিষ্ঠুরতাও। মাথায় বুদ্ধি ছিল না। পনেরো–ষোলো বছর বয়সেও ক্লাস এইট-এর ছাত্র সে, তখন মদ খেতে… Continue reading দৈত্যের বাগানে শিশু-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তিন নম্বর বেঞ্চ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আচ্ছা, এটাই তো পূর্ব দিক থেকে তিন নম্বর বেঞ্চ? তাই-না? হ্যাঁ। এটাই তিন নম্বর বেঞ্চ। আর আপনিই কি মধু রায়? হ্যাঁ। তাহলে আমি ঠিক জায়গাতেই এসেছি। আমার নাম নব চৌধুরী। আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। তবে আসাটা উচিত হয়নি। কেন বলুন তো? আমি আজ সকালেই আপনার এস এম এস পেয়েছি। আপনি আমাকে এই জায়গায় দেখা করতে… Continue reading তিন নম্বর বেঞ্চ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হালদারগোষ্ঠী -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না । অবস্থাও সচ্ছল , মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে কিন্তু তবুও গোল বাধিল । কেননা , সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত , একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না ; যদি বা ঘটিত সেটাকে… Continue reading হালদারগোষ্ঠী -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অচ্ছুৎ – জসীম উদ্দীন

কাককে কেউই ভালবাসে না। তার গায়ের রং কালো। কথার সুরও কর্কশ। তাই বলেই কি কাককে অবহেলা করতে হবে? সকলেই কি সুন্দর? সকলের স্বরই কি মিষ্টি? যেখানে আবর্জনার মধ্যে দু’একটি খাবার জিনিস পড়ে থাকে, কাক তা খুঁটে খায়; ইঁদুর, আরশোলা, ব্যাঙ মরে গেলে কাক তা কুঁড়িয়ে খায়। মাটির উপর যে কত রকমের পোকা জন্মে। কাক সেগুলিও… Continue reading অচ্ছুৎ – জসীম উদ্দীন

জারিনা বিবি -তারাপদ রায়

পাঠিকা ঠাকুরানি নিজগুণে ক্ষমা করবেন। আপনি ঠিকই ধরেছেন, মাতালের গল্প ছাড়া আমার গতি নেই। মাতাল যেমন বারবার তার ঠেকে ফিরে যায়, তেমনি আমি ঠেকে গেলেই মাতালের গল্পে ফিরে আসি। এক মদ্যপ মধ্যরাতে রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিল, তার কপাল কেটে যায়। বাড়িতে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কপালের কাটা জায়গায় স্টিকিং প্লাস্টার লাগিয়ে সে শুতে যায়।… Continue reading জারিনা বিবি -তারাপদ রায়

শিকার কাহিনি -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মেয়েটিকে দেখলেই বোঝা যায়, সে আগে কখনও কলকাতায় আসেনি। হাওড়া স্টেশনে সকাল পৌনে দশটায় ভিড়ের মধ্যে সে স্পষ্টতই একা। একটা হলদে ডুরে তাঁতের শাড়ি পরা। কপালে লাল টিপ। সিঁথিতে অনেকখানি সিঁদুর। তার বয়েসে তেইশ চব্বিশের বেশি না। পাতলা দোহারা। একটু বেশি লম্বা বলে হিলহিলে ভাব আছে। তার চোখে প্রতিফলিত হচ্ছে প্রথম দেখা শহরের ছবি! অফিস… Continue reading শিকার কাহিনি -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়