প্রথম পরিচ্ছেদ মহামায়া এবং রাজীবলোচন উভয়ে নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দিরে সাক্ষাৎ করিল। মহামায়া কোনো কথা না বলিয়া তাহার স্বাভাবিক গম্ভীর দৃষ্টি ঈষৎ ভর্ৎসনার ভাবে রাজীবের প্রতি নিক্ষেপ করিল। তাহার মর্ম এই, ‘তুমি কী সাহসে আজ অসময়ে আমাকে এখানে আহ্বান করিয়া আনিয়াছ। আমি এ পর্যন্ত তোমার সকল কথা শুনিয়া আসিতেছি বলিয়াই তোমার এতদূর স্পর্ধা বাড়িয়া… Continue reading মহামায়া-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
Author: Admin
মানভঞ্জন-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথম পরিচ্ছেদ রমানাথ শীলের ত্রিতল অট্টালিকায় সর্বোচ্চ তলের ঘরে গোপীনাথ শীলের স্ত্রী গিরিবালা বাস করে। শয়নকক্ষের দক্ষিণদ্বারের সম্মুখে ফুলের টবে গুটিকতক বেলফুল এবং গোলাপফুলের গাছ – ছাতটি উচ্চ প্রাচীর দিয়া ঘেরা-বহির্দৃশ্য দেখিবার জন্য প্রাচীরের মাঝে মাঝে একটি করিয়া ইঁট ফাঁক দেওয়া আছে। শোবার ঘরে নানা বেশ এবং বিবেশ-বিশিষ্ট বিলাতি নারীমূর্তির বাঁধানো এন্গ্রেভিং টাঙানো রহিয়াছে ;… Continue reading মানভঞ্জন-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জোড়া পা-সমরেশ মজুমদার
কেউ একজন সাইকেলে এসে গাছতলায় বলে গেল, লাইনের পাশে বসে জগাদা বমি করছে, হেভি রক্ত! যে বলল সে আর দাঁড়াল না। গাছতলার আড্ডাটা থতমত খেয়ে গেল। পাঁচজন এ ওর মুখের দিকে তাকাল। কোনও কথা না। বলেই পাঁচজন একসঙ্গে দৌড়ল লাইনের দিকে। যারা দূর থেকে দেখল তারা ভাবল আজ আবার হুজ্জতি হবে। এ পাড়ার লোক এমন… Continue reading জোড়া পা-সমরেশ মজুমদার
নদীর দু-ধারে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
কীসের আওয়াজ? বোমা, না গুলি? কত রাত কে জানে। সূর্য টুপ করে ডুবে যাওয়ার পরই আলোর সঙ্গে আর সম্পর্ক থাকে না। আকাশ দেখেও তো প্রহর বোঝার উপায় নেই, পূর্ণিমা আর অমাবস্যার সীমারেখা ঘুচে গেছে যে! আকাশেস্তরে-স্তরে কাজল মেঘ। মানুষ কত দিন, কত মাস মেঘের জন্য হা-পিত্যেশ করে তাকিয়ে থাকে। মেঘের জন্য কত প্রেম। কত গান।… Continue reading নদীর দু-ধারে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নদীতীরে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তারপর আমি ইন্দিরা গান্ধীকে জিজ্ঞেস করলুম, আপনি বই পড়তে ভালোবাসেন? উনি একটু হেসে বললেন, ছেলেবেলায় আমি বইয়ের পোকা ছিলুম। —এখন বই-টই পড়ার সময় পান না বোধ হয়? সে রকম সময় পাই না, তা ঠিকই। তবে, যেটুকু সময় বাঁচানো যায়… যেমন ধরো, যখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়—এ রকম প্রায়ই যেতে হয়, বিমানে বসে… Continue reading নদীতীরে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বিপদ ও তারাপদ-তারাপদ রায়
সেই কবে, কতকাল আগে, নিতান্তই ইয়ার্কি করে আমি লিখেছিলাম, বিপদ এবং তারাপদ কখনও একা আসে না। সবাই জানেন, অকারণে বিপদে পড়া আমার পুরনো স্বভাব। এবার আমেরিকায় এসে নিতান্ত পরোপকার বৃত্তি পালন করতে গিয়ে আবার বিপদে পড়লাম। বিপদ বলে বিপদ, রীতিমতো গোলমাল। আসলে দোষটা সম্পূর্ণই আমার। আজীবন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কিছু না কিছু করে এসেছি।… Continue reading বিপদ ও তারাপদ-তারাপদ রায়
দুরাশা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দার্জিলিঙে গিয়া দেখিলাম, মেঘে বৃষ্টিতে দশ দিক আচ্ছন্ন। ঘরের বাহির হইতে ইচ্ছা হয় না, ঘরের মধ্যে থাকিতে আরো অনিচ্ছা জন্মে। হোটেলে প্রাতঃকালের আহার সমাধা করিয়া পায়ে মোটা বুট এবং আপাদমস্তক ম্যাকিন্টশ পরিয়া বেড়াইতে বাহির হইয়াছি। ক্ষণে ক্ষণে টিপ্ টিপ্ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে এবং সর্বত্র ঘন মেঘের কুজ্ঝটিকায় মনে হইতেছে যেন বিধাতা হিমালয় পর্বত-সুদ্ধ সমস্ত বিশ্বচিত্র… Continue reading দুরাশা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সতী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক হরিশ পাবনার একজন সম্ভ্রান্ত ভাল উকিল। কেবল ওকালতি হিসাবেই নয়, মানুষ হিসাবেও বটে। দেশের সর্বপ্রকার সদনুষ্ঠানের সহিতই সে অল্প-বিস্তর সংশ্লিষ্ট। শহরের কোন কাজই তাহাকে বাদ দিয়া হয় না। সকালে ‘দুর্নীতি-দমন’ সমিতির কার্যকরী সভার একটা বিশেষ অধিবেশন ছিল, কাজ সারিয়া বাড়ি ফিরিতে বিলম্ব হইয়া গেছে, এখন কোনমতে দুটি খাইয়া লইয়া আদালতে পৌঁছিতে পারিলে হয়। বিধবা… Continue reading সতী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
স্বামী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সৌদামিনী নামটা আমার বাবার দেওয়া। আমি প্রায়ই ভাবি, আমাকে এক বছরের বেশি ত তিনি চোখে দেখে যেতে পাননি, তবে এমন করে আমার ভিতরে বাহিরে মিলিয়ে নাম রেখে গিয়েছিলেন কি করে? বীজমন্ত্রের মত এই একটি কথায় আমার সমস্ত ভবিষ্যৎ-জীবনের ইতিহাসটাই যেন বাবা ব্যক্ত করে গেছেন। রূপ? তা আছে মানি; কিন্তু না গো না, এ আমার দেমাক… Continue reading স্বামী-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বিন্দুর ছেলে-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক যাদব মুখুয্যে ও মাধব মুখুয্যে যে সহোদর ছিলেন না, সে কথা নিজেরা ত ভুলিয়াই ছিলেন, বাহিরের লোকও ভুলিয়াছিল। দরিদ্র যাদব অনেক কষ্টে ছোটভাই মাধবকে আইন পাশ করাইয়াছিলেন এবং বহু চেষ্টায় ধনাঢ্য জমিদারের একমাএ সন্তান বিন্দুবাসিনীকে ভ্রাতৃবধূরূপে ঘরে আনিতে সক্ষম হইয়াছিলেন। বিন্দুবাসিনী অসামান্যা রূপসী। প্রথম যেদিন সে এই অতুল রূপ ও দশ সহস্র টাকার কাগজ… Continue reading বিন্দুর ছেলে-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়