চিনেমাটির পুতুল – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষরাতে তিনি আজও কান খাড়া করে রাখলেন। কে গায়! কোনো দূরবর্তী মাঠে উদাস গলার স্বর—কাছাকাছি তো কোনো মাঠ নেই, শস্যক্ষেত্র নেই! কে গায়। আগে মনে করতেন স্বপ্ন, ভেঙে গেলে মনে হত স্বপ্ন নয়, সত্যি। নদীর ওপারে দাঁড়িয়ে কেউ তাঁকে ডাকছে। কে সে? ইদানীং ভয়ে ভয়ে আগেই ঘুম ভেঙে যায়। আজও ঘুম ভাঙলে টর্চ জ্বেলে ঘড়ি… Continue reading চিনেমাটির পুতুল – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

কেতুর পুচ্ছ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ডাক্তার অমিতাভ মিত্রের বয়স আটাশ বৎসর। মাত্র দুই বৎসর হইল সে কলেজ ছাড়িয়া ব্যবসায় আরম্ভ করিয়াছে, কিন্তু ইহারই মধ্যে শহরে বেশ পসার জমাইয়া তুলিয়াছে। শহরটি বেশ বড় এবং তাহাতে বহুমারী প্রবীণ চিকিৎসকের অভাব নাই—তবু—……ইহাকেই বলে ভাগ্য। অমিতাভ বেশ চটপটে; নাকে মুখে কথা। চেহারাও মন্দ নয়, বলিষ্ঠ দোহারা লম্বা—মাথায় কোঁকড়া চুল। ঠোঁটের গড়ন এমন যে মুহূর্তমধ্যে… Continue reading কেতুর পুচ্ছ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘড়িদাসের গুপ্তকথা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চল্লিশ বছর কাটিয়া যাইবার পর কোনও গুপ্ত কথারই আর ঝাঁঝ থাকে না, ছিপি-আটা বোতলের আরকের মতো অলক্ষিতে নিস্তেজ হইয়া পড়ে। বিশেষত গুপ্তকথার স্বত্বাধিকারী যদি সামান্য লোক। হয়। আমার তরুণ বয়সের বন্ধু ঘড়িদাস অসামান্য লোক ছিল না; তাই চল্লিশ বছর আগে তাহার গুপ্তকথায় যে বিচিত্র চমৎকারিত্বের স্বাদ পাইয়াছিলাম, তাহা হয়তো বহু পূর্বেই পানসে হইয়া গিয়াছে। সে… Continue reading ঘড়িদাসের গুপ্তকথা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চিন্ময়ের চাকরি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চিন্ময়ের মুখে মামার ভাত তিক্ত হইয়া গিয়াছিল। মামী মানুষটি ভাল তাই রক্ষা, নহিলে এতদিন সে মামার বাড়িতে টিকিতে পারিত না।আজ আট মাস হইল সে চাকরির খোঁজে কলিকাতায় আসিয়াছে এবং মামার স্কন্ধে আরোহণ করিয়াছে। সে পিতৃহীন; তাহার মা উত্তরবঙ্গে কোনও শহরের একটি হাসপাতালে নার্সের কাজ করেন। তিনি চিন্ময়কে আই. এ. পর্যন্ত পড়াইয়াছেন, কিন্তু আর অধিক পড়াইবার… Continue reading চিন্ময়ের চাকরি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

দুই ভূত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লালু আর ভুলুর কোনো কাজ নেই। তারা সারাদিন গল্প করে কাটায়। সবই নিজেদের জীবনের নানা সুখ-দুঃখের কথা। কথা বলতে-বলতে যখন আর কথা কইতে ভালো লাগে না তখন দুজনে খানিক কুস্তি লড়ে। তাদের কুস্তিও খুব একঘেয়ে–কেউ হারে না। কেউ জেতে না। কুস্তি করে তাদের ক্লান্তিও আসে না, ঘামও ঝরে না। তার কারণ লালু আর ভুলু দুজনেই… Continue reading দুই ভূত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তন্দ্রাহরণ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পৌন্ড্রবর্ধনের রাজকুমারী তন্দ্রার মন একেবারে খিঁচড়াইয়া গিয়াছে। মধুমাসের সায়াহ্নে তিনি তাই প্রাসাদশিখরে উঠিয়া একাকিনী দ্রুত পায়চারি করিতেছেন এবং গণ্ড আরক্তিম করিয়া ভাবিতেছেন, কেন মরিতে রাজকন্যা হইয়া জন্মিলাম। অনেক দিন আগেকার কথা। ভারতীয় রমণীগণের মন তখন অতিশয় দুর্দমনীয় ছিল; মাত্র কয়েক বৎসর পূর্বে কনৌজে সংযুক্তার স্বয়ংবর হইয়া গিয়াছে।………..রাজকুমারী তন্দ্রার বয়স আঠারো বৎসর, ফুটন্ত রূপ, বিকশিত যৌবন।… Continue reading তন্দ্রাহরণ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

হজরত বায়েজিদ বোস্তামির (রহ.) মায়ের গল্প

হুমায়ুন আইয়ুব: হজরত বায়েজিদ বোস্তামি (রহ.) (৮০৪-৮৭৪ খ্রি.)। ইরানের বোস্তান শহরে জন্ম। তার নাম শোনেনি এমন লোক খুব কমই আছেন। মায়ের সেবা করে তিনি অনন্য হয়ে আছেন ইতিহাসের পাতায়। বোস্তামি (রহ.)-এর মা একদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। তখন শীতকাল। ঘরের দরজা খোলা থাকায় ঠা-া বাতাস ভেতরে আসছিল। বায়েজিদকে মা বললেন, দরজার একটি কপাট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।… Continue reading হজরত বায়েজিদ বোস্তামির (রহ.) মায়ের গল্প

কাক ও কলসির গল্প

সেই বছর গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। এমন এক দিনের দুপুরে এক কাক বহুদূর থেকে উড়তে উড়তে আসছিল। অনেকক্ষণ ধরে ওড়ার ফলে তার খুব জল পিপাসা পেল। সে আশেপাশে কোথাও জল আছে কিনা দেখতে লাগলো। কিন্তু সে কোথাও জল পেল না। হঠাৎ একটা কলসি তার চোখে পড়ল। সে তক্ষুনি জল পাওয়ার আশায় নিচে নামল এবং কলসির… Continue reading কাক ও কলসির গল্প

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

এক বনে খরগোশ আর কচ্ছপ পাশাপাশি বাস করত। দুইজনের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু মাঝে মাঝে ঝগড়াঝাটি যে হতো না তা নয়।….খরগোশ খুব জোরে ছোটে। যেন বাতাসের আগেই ছুটে চলে। আর কচ্ছপ? সে চলে ধীরে ধীরে হেলেদুলে।…….কচ্ছপের ওই হাঁটা দেখে একদিন খরগোশটি হেসে বলল, ‘তোমার হাঁটার যে ছিরি, দেখলেই হাসি পায়।’……ব্যঙ্গ করতে দেখে কচ্ছপটি গম্ভীর… Continue reading খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

টুনটুনি আর বিড়ালের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

গৃহস্থের ঘরের পিছনে বেগুন গাছ আছে। সেই বেগুণ গাছের পাতা ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে টুনটুনি পাখিটি তার বাসা বেঁধেছে।…….বাসার ভিতর তিনটি ছোট্ট-ছোট্ট ছানা হয়েছে। খুব ছোট্ট ছানা, তারা উড়তে পারে না, চোখও মেলতে পারে না। খালি হাঁ করে আর চীঁ-চীঁ করে। গৃহস্থের বিড়ালটা ভারি দুষ্টু। সে খালি ভাবে ‘টুনটুনির ছানা খাব।’ একদিন সে বেগুন গাছের… Continue reading টুনটুনি আর বিড়ালের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী