খুঁটি দেবতা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘোষপাড়ার দোলের মেলায় যাইবার পথে গঙ্গার ধারে মঠটা পড়ে।…মঠ বলিলে ভুল বলা হয়। ঠিক মঠ বলিতে যাহা বুঝায়, সে-ধরনের কিছু নয়। ছোটো খড়ের খান চার-পাঁচ ঘর মাঠের মধ্যে। একধারে একটা বড়ো তেঁতুল গাছ। গঙ্গার একটা ছোটো খাল মাঠের মধ্যে, খানিকটা ঢুকিয়া শুকাইয়া মজিয়া গিয়াছে। জোয়ারের সময়ে তবুও খালটা কানায়-কানায় ভরিয়া ওঠে। ঠিক সেইসময়ে জেলেরা দোয়াড়ি… Continue reading খুঁটি দেবতা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সহদেববাবুর পোট্রেট – সত্যজিৎ রায়

যেটার আগে নাম ছিল ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সেই মিরজা গালিব স্ট্রিটে ল্যাজারাসের নিলামের দোকানে প্রতি রবিবার সকালে সহদেববাবুকে দেখা যেতে শুরু করেছে মাস তিনেক হল। প্রথম অবস্থায় লোকাল ট্রেনে হেঁয়ালির বই, গোপাল ভাঁড়ের বই, খনার বচনের বই, পাঁচালির বই, এইসব বিক্রি করে, তারপর সাত বছর ধরে নানারকম দালালির কাজ করে কমিশনের টাকা জমিয়ে সেই টাকায়… Continue reading সহদেববাবুর পোট্রেট – সত্যজিৎ রায়

ঘড়ি রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কর্নেল মাহমুদুল হাসানের প্রিয় পরিচারক আব্দুল মাজেদের দু’দিন থেকে সামান্য সর্দিজ্বর। পাড়ার ডাক্তার তারেক হাসান সাহেব তাকে দেখতে এসেছিলেন প্রচুর আশ্বাস দিয়ে এবং লম্বা-চওড়া প্রেসক্রিপশন লিখে তিনি আড্ডার মেজাজে বসলেন। দেশের হালচাল নিয়ে কিছুক্ষণ বকবক করে গেলেন। তারপর হঠাৎ মুচকি হেসে বললেন, “আচ্ছা কর্নেল সায়েব, আপনি তো বিখ্যাত রহস্যভেদী। এ যাবৎ বিস্তর জটিল রহস্য ফাস… Continue reading ঘড়ি রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সুভাষিণী (শেষ পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বদমাশ, জুয়াড়ি, জোচ্চোর, মিথ্যেবাদী বলে পল্লকে সবাই চিনত। তবু রুচিরা যে কী করে ওর প্রেমে পড়ল কে জানে! শান্ত, শিষ্ট, ভারি ভালো মেয়ে। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল। তবু পল্লুর প্রেমে পাগল হয়ে প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ল। কেলেঙ্কারির একশেষ। পল্ল দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। রুচিরার বাবা পল্লর সঙ্গে বোঝাপড়া করতে গিয়ে গুণ্ডাদের হাতে মার খেয়ে এলেন। পুলিশ অবধি… Continue reading সুভাষিণী (শেষ পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সুভাষিণী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন? না তো! আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। একদম না? আমার কি আপনাকে চেনার কথা?হ্যাঁ। তাহলে চিনতে পারছি না কেন? মানুষ যদি কিছু ভুলে যেতে চায়, তাহলে সে নিজের মস্তিষ্ক থেকে ওই অনভিপ্রেত স্মৃতি মুছে ফেলতে পারে।তাই যদি হয়, তাহলে কি এটাও সম্ভব যে, মানুষ তার কিছু প্রিয় ভুলে-যাওয়া স্মৃতিকে ফের… Continue reading সুভাষিণী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তারিণীখুড়ো ও ঐন্দ্রজালিক – সত্যজিৎ রায়

কই, আর সব কই? বললেন তারিণীখুড়ো। সব্বাইকে খবর দে, নইলে গল্প জমবে কী করে?………..আমি বললাম, খবর পাঠানো হয়ে গেছে খুড়ো। এই এসে পড়ল বলে!……….তা হলে এই ফাঁকে চা-টা বলে দে।………………………………..বললাম, তাও বলা হয়ে গেছে–দুধ চিনি ছাড়া চা। ভেরি গুড।………………মিনিট তিনেকের মধ্যেই ন্যাপলারা এসে পড়ল। বলল, ম্যাজিক দেখতে গিয়েছিল। অর্ণব দি গ্রেট। খুব ভাল লেগেছে।………..খুড়ো বলল,… Continue reading তারিণীখুড়ো ও ঐন্দ্রজালিক – সত্যজিৎ রায়

ধুমলগড়ের হাণ্টিং লজ – সত্যজিৎ রায়

মাথায় অনেকরকম উদ্ভট শখ চাপে মানুষের, বললেন তারিণীখুড়ো, কিন্তু আমার যেমন চেপেছে, তেমন কজনের চাপে জানি না।……..আমরা পাঁচজন ঘিরে বসেছি খুড়োকে। বাইরে এক পশলা বেশ ভাল বৃষ্টি হয়ে গিয়ে এখন সেটা অবিরাম ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়েছে। আষাঢ় মাস, তার উপর লোডশেডিং, টিম টিম করে দুটো মোমবাতি জ্বলছে, দেয়ালে আমাদের সকলের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড ছায়া পড়েছে–সব মিলিয়ে তারিণীখুড়োর… Continue reading ধুমলগড়ের হাণ্টিং লজ – সত্যজিৎ রায়

অশ্বডিম্ব রহস্য (শেষ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সক্কালে আমাকে ওঁর ড্রয়িংরুমে দেখে গোয়েন্দাপ্রবর মুচকি হেসে বললেন, কী জয়ন্ত? তোমাদের দৈনিক সত্যসেবক তো এইমাত্র পড়লুম, এক জব্বর অন্তর্তদন্তের সূত্রপাত করেছ। কিন্তু তুমিও যে পুলিশের থিয়োরি মেনে জগনকে হত্যাকারী শাব্যস্ত করবে, ভাবতেও পারিনি।ষষ্ঠীচরণ কফি দিয়ে গেল। কফিতে চুমুক দিয়ে বললুম, ঘটনাস্থলে আমিও ছিলুম। প্রাণগোপালবাবুকে যখন জীবিত দেখেছি তখন জগন সেখানে ছিল। ডিমচোরের ব্যাপারটা নিয়ে… Continue reading অশ্বডিম্ব রহস্য (শেষ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

অশ্বডিম্ব রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ঘোড়া ডিম পেড়েছে–মানে ঘোড়ার ডিম? খি খি করে হাসতে লাগলেন কৃতান্তবাবু। প্রাইভেট গোয়েন্দা কে, কে, হালদার। গণেশ অ্যাভিনিউতে যাঁর রীতিমতো হালদার ডিটেকটিভ এজেন্সি আছে।ভদ্রলোক বিরক্ত হয়ে বললেন, এতে হাসির কী আছে? যা সত্যি তা সত্যি। গিয়ে দেখে আসুন আমার গ্যারাজে! কৃতান্তবাবু আরও খি খি করে বললেন, আপনার গ্যারাজে মোটর গাড়ির বদলে ঘোড়া থাকে বুঝি? থাকে।… Continue reading অশ্বডিম্ব রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ডনের ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সেদিন সকালে চোখ বুজে একটা রোমাঞ্চকর গল্পের প্লট ভাবছি এবং টেবিলে কাগজ-কলমও তৈরি, হঠাৎ পিঠে চিমটি কাটল কেউ। উঃ বলে আর্তনাদ করে পিছনে ঘুরে দেখি, ডন দাঁড়িয়ে আছে। মুখে ধূর্ত এবং ক্রুর হাসির ছাপ। খাপ্পা হয়ে বললুম, হতভাগা ছেলে! দিলি তো মুডটা নষ্ট করে?…ডন আমার ভাগনে। মহা ধড়িবাজ বিচ্ছু ছেলে! তার মাথায় একটা কিছু খেয়াল… Continue reading ডনের ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ