সুখের দিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মহারাজ, আমাদের সেইসব সুখের দিন কোথায় গেল?………..তখন আকাশে কাঠচাঁপা ফুলের মতো চাঁদ উঠত। জ্যোৎস্নারাতে ছিল আমাদের নদীর ধারে সাদা বালির ওপর চড়ুইভাতি। আকাশ তখন কত নিভৃতে নেমে আসত! ঝাড়বাতির মতো থোপা। থোপা হয়ে আলো দিত গ্রহ-নক্ষত্র। সে কি তুমি মহারাজ, যে রোজ আমাদের ঘুম ভাঙার আগে খুব ভোরে হরেকরকম রঙের। বালতি হাতে ঘুরে-ঘুরে রং করে… Continue reading সুখের দিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রতিকৃতি – সত্যজিৎ রায়

রঞ্জন পুরকায়স্থ কলকাতার একজন নামকরা চিত্রকর। শুধু কলকাতা কেন, তাঁর খ্যাতি পশ্চিমবাংলার বাইরে সারা ভারতবর্ষেই ছড়িয়ে পড়েছে–বোম্বাই, মাদ্রাজ, দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদে তাঁর আঁকা ছবির প্রদর্শনী হয়ে গেছে। ছবি বিক্রি করেই পুরকায়স্থ মশাইয়ের রোজগার, এবং সে রোজগার রীতিমতো ভাল। গতমাসেই বোম্বাইতে তাঁর একখানা অয়েল পেন্টিং পঁয়ত্রিশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। পুরকায়স্থ মশাইয়ের আঁকার ঢং যাকে বলে… Continue reading প্রতিকৃতি – সত্যজিৎ রায়

প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক-রহস্য – সত্যজিৎ রায়

৭ই এপ্রিল…………….অবিনাশবাবু আজ সকালে এসেছিলেন। আমাকে বৈঠকখানায় খবরের কাগজ হাতে বসে থাকতে দেখে বললেন, ব্যাপার কী? শরীর খারাপ নাকি? সকালবেলা। এইভাবে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে দেখেছি বলে তো মনে পড়ে না। আমি বললুম, এর আগে কখনও এইভাবে বসে থাকিনি তাই দেখেননি।….কিন্তু কারণটা কী?…..একটা নতুন যন্ত্র নিয়ে প্রায় দেড় বছর একটানা কাজ করে কাল সকালে… Continue reading প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক-রহস্য – সত্যজিৎ রায়

নীলুর দুঃখ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সক্কালবেলাতেই নীলুর বিশ চাক্কি ঝাঁক হয়ে গেল। মাসের একুশ তারিখ ধারে কাছে কোনো পেমেন্ট নেই। বাবা তিনদিনের জন্য মেয়ের বাড়িতে গেছে বারুইপুর–মহা টিকরমবাজ লোক–সাউথ শিয়ালদায় গাড়িতে তুলে দিয়ে নীলু যখন প্রণাম করল তখন হাসি-হাসি মুখে বুড়ো নতুন সিগারেটের প্যাকেটের সিলোফেন ছিড়ছে। তিনদিন মায়ের আওতার বাইরে থাকবে বলে বুঝি ওই প্রসন্নতা–ভেবেছিল নীলু। গাড়ি ছাড়বার পর হঠাৎ… Continue reading নীলুর দুঃখ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

টান – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গল্প নয়, সত্য ঘটনা।……………..যাঁর মুখে আমার এ-গল্প শোনা, তাঁদের পরিবারবর্গ কর্ম উপলক্ষ্যে পূর্ব-আফ্রিকার নাইরোবি শহরে অনেক দিন থেকে বাস করছিলেন। ও-দেশের নানাগল্প আমি বন্ধুটির মুখে সেদিন বসে বসে শুনছিলাম। সকাল বেলা, পাহাড়ি পথে একা বেড়াতে বার হয়েছি, একখানা জিপ-গাড়ি দেখি স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসছে, আমার বন্ধু প্রণববাবু গাড়িটি চালাচ্ছেন। অনেক দিন দেখিনি প্রণববাবুকে, তিনি কবে… Continue reading টান – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

হলুদ আলোটি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অদ্ভুত এক আলোর ভিতরে ঘুম ভাঙে মনোরমার। রোজকার আলো নয়। পাকা যজ্ঞিডুমুর ভাঙলে যেমন রং তেমন এক আলো। মনোরমার পায়ের দিককার জানালার ধারে ডুমুর ফল রোজ এসে ঠোঁটে ভাঙে বুলবুলি। সেই রংটাই এখন পৃথিবীময় ছড়িয়ে গেছে এই বৈশাখের বিকেলে। শানুর থুতনিতে ঘাম, নাকের নীচে ঘাম, বুকে গলায় মুক্তোফল ফুটে আছে ঘামের। বড্ড ঘামে মেয়েটা। কোমরের… Continue reading হলুদ আলোটি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

দুর্মতি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের প্রান্তে হরিচরণ রায়ের ছোটো একখানা কোঠাবাড়ি ছিল। সংসারে থাকিবার মধ্যে তাহার স্ত্রী আর এক ছেলে। হরিচরণ রায়ের বয়স বছর ত্রিশেক, স্ত্রীর বয়স একুশ-বাইশ। হরিচরণ রায়ের লেখাপড়া এমন বিশেষ কিছুই জানা ছিল না, তাহার উপর নিতান্তই পাড়াগেঁয়ে মানুষ; কাজেই কোথাও না যাইয়া তিনি বাড়ি বসিয়া পৈতৃক আমলের সামান্য একটু জমিজমার খাজনা সাধিতেন। কচু কুমড়া… Continue reading দুর্মতি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ডুবুরি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আঁচিয়ে এসে ঘরে ঢুকতেই থমকে গেল টুনু। বাঁশের মাচার ওপর বিছানায় মাথা গুঁজে মা কাঁদছে। একটু আগে তাদের খেতে দিয়ে মা পুকুরে গিয়েছিলেন স্নান করতে। এখনও মা’র শাড়িটা ভেজা। মাটির মেঝেটা শাড়ির জলে অনেকটা ভিজে গিয়ে কাদা–কাদা হয়ে গিয়েছে। সেই কাদা মা’র হাঁটুর কাছে আর গোঁড়ালিতে লেগে আছে। মেজেতে বসে উঁচু হয়ে ময়লা কাঁথা আর… Continue reading ডুবুরি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বারীন ভৌমিকের ব্যারাম – সত্যজিৎ রায়

কন্ডাকটরের নির্দেশমতো ডি কামরায় ঢুকে বারীন ভৌমিক তাঁর সুটকেসটা সিটের নীচে ঢুকিয়ে দিলেন। ওটা পথে খোলার দরকার হবে না। ছোট ব্যাগটা হাতের কাছে রাখা দরকার। চিরুনি, বুরুশ, টুথব্রাশ, দাড়ি কামানোর সরঞ্জাম, ট্রেনে পড়ার জন্য হ্যাডলি চেজের বই–সবই রয়েছে ওই ব্যাগে আর আছে থ্রোট পিলস। ঠাণ্ডা ঘরে ঠাণ্ডা লেগে গলা বসে গেলে কাল গান খুলবে না।… Continue reading বারীন ভৌমিকের ব্যারাম – সত্যজিৎ রায়

গণৎকার তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়

তারিণীখুড়োর এক ভাইপো এক চা কোম্পানিতে ভাল কাজ করে, সে খুড়োকে এক টিন স্পেশাল কোয়ালিটির চা দিয়েছে। খুড়ো টিনটা আমার হাতে চালান দিয়ে বললেন, এটা খোলাবার ব্যবস্থা কর; আজ তোদের চা না খেয়ে এইটে খাব। বৈশাখ মাসের এক রবিবারের সন্ধে। দুপুরের দিকে কালবৈশাখী হয়ে গেছে, এখন সব শান্ত। আমাদের ঘরে খুড়োর শ্রোতারা সব জমায়েত হয়েছে,… Continue reading গণৎকার তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়