ছেলেবেলা থেকেই চানু শয়তানের একশেষ, আশেপাশের লোকজন তার জ্বালায় অস্থির। চানুর বাবা বড় গরিব ছিল, চানু ভাবল-বিদেশে গিয়ে টাকা পয়সা রোজগার করে আনবে। যেমন ভাবা তেমনি কাজ, একদিন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। খানিক দূরে গিয়েই বনের ভিতর দিয়ে একটা নির্জন রাস্তা-চানু সেই রাস্তা ধরে চলল। সমস্ত দিন বৃষ্টিতে ভিজে শ্রান্ত-কান্ত হয়ে স্যার সময় পথের… Continue reading ঝানু চোর চানু – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
Author: Admin
ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
প্রাইভেট ডিটেকটিভ কে কে হালদার খবরের কাগজ পড়ছিলেন। হাতে নস্যির কৌটো। হঠাৎ বলে উঠলেন, –অ্যাঃ! পিচাশ!…….হাসি চেপে বললাম, –কথাটা পিশাচ হালদারমশাই! উত্তেজিত হলেই ঢ্যাঙা গড়নের এই গোয়েন্দা ভদ্রলোক আরও ঢ্যাঙা হয়ে ওঠেন যেন। গোঁফের ডগা তিরতির করে কাঁপে। বললেন, –মশায়! চৌতিরিশ বৎসর পুলিশে সার্ভিস করছি। অন্ধকারে বনবাদাড়ে শ্মশানেমশানে ঘুরছি। কখনও পিচাশ দেখি নাই। কর্নেলস্যার, দেখছেন… Continue reading ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সুকুমার রায়ের গল্প – আশ্চর্য কবিতা
চণ্ডীপুরের ইংরাজি স্কুলে আমাদের ক্লাশে একটি নূতন ছাত্র আসিয়াছে। তার বয়স বারো-চোদ্দোর বেশি নয়। সে স্কুলে আসিয়া প্রথম দিনই সকলকে জানাইল, “আমি পোইট্রি লিখতে পারি!” এ কথা শুনিয়া ক্লাশসুদ্ধ সকলে অবাক হইয়া গেল; কেবল দু-একজন হিংসা করিয়া বলিল, “আমরাও ছেলেবেলায় ঢের ঢের কবিতা লিখেছি। ” নূতন ছাত্রটি বোধ হয় ভাবিয়াছিল, সে কবিতা লিখিতে পারে, শুনিয়া… Continue reading সুকুমার রায়ের গল্প – আশ্চর্য কবিতা
আশ্চর্য প্রদীপ (২য় পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রায় আধঘণ্টা গেল ধস্তাধস্তিতে। অনিকেত মেয়েটাকে কিছুতেই বাগে আনতে পারে না। মেয়েটার দু-খানা লম্বা হাত, হাতে নখ, দু-খানা পায়ে হরিণের গতি, অসম্ভব দম—এসবই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বারদুই ধরতে পেরেছিল সে মেয়েটিকে, কিন্তু কিছু করার আগেই ছিটকে বেরিয়ে গেল মেয়েটি। অনিকেত তীব্র পিপাসায় ছটফট করে। এমন তীব্র নারীদেহের তৃষ্ণা সে আগে কখনও টের পায়নি। কিন্তু তার… Continue reading আশ্চর্য প্রদীপ (২য় পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সুকুমার রায় – খৃস্টবাহন
তার নাম অফেরো। অমন পাহাড়ের মত শরীর, অমন সিংহের মত বল, অমন আগুনের মত তেজ, সে ছাড়া আর কারও ছিল না। বুকে তার যেমন সাহস, মুখে তার তেমনি মিষ্টি কথা। কিন্তু যখন তার বয়স অল্প, তখনই সে তার সঙ্গীদের ছেড়ে গেল; যাবার সময় বলে গেল, “যদি রাজার মত রাজা পাই, তবে তার গোলাম হয়ে থাকব।… Continue reading সুকুমার রায় – খৃস্টবাহন
সুজন হরবোলা – সত্যজিৎ রায়
সুজনের বাড়ির পিছনেই ছিল একটা সজনে গাছ। তাতে থাকত একটা দোয়েল। সুজনের যখন আট। বছর বয়স তখন একদিন দোয়েলের ডাক শুনে সে ভাবল–আহা, এ পাখির ডাক কেমন মিষ্টি। মানুষে কি কখনও এমন ডাক ডাকতে পারে? সুজন সেইদিন থেকে মুখ দিয়ে দোয়েলের ডাক ডাকার চেষ্টা। করতে লাগল। একদিন হঠাৎ সে দেখল যে, সে ডাক দেবার পরেই… Continue reading সুজন হরবোলা – সত্যজিৎ রায়
গেছোবাবার বৃত্তান্ত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
ঝিলের ধারে বসে ছোটমামা মুগ্ধচোখে চাঁদ দেখতে-দেখতে বলছিলেন,–আচ্ছা পুঁটু, সত্যি করে বল তো, ওই চাঁদে আমেরিকানরা হেঁটেছে, বিশ্বাস হয়? অসম্ভব পুঁটু, অসম্ভব। কবি লিখেছেন, এমন চাঁদের আলোয় মরি যদি সেও ভালো সে-মরণ স্বৰ্গসমান…। ঠিক এই সময়ই বাঁ-দিকে কোথাও আবছা খসখস-মচমচ শব্দ শুনতে পেলাম। ভাঙা শিবমন্দির খুঁড়ে মস্ত বটগাছ। হাওয়া-বাতাস বন্ধ। সন্দেহজনক শব্দটা সেই গাছের ভেতর… Continue reading গেছোবাবার বৃত্তান্ত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
নিশীথে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
“ডাক্তার! ডাক্তার! ”…………..জ্বালাতন করিল। এই অর্ধেক রাত্রে—……….চোখ মেলিয়া দেখি আমাদের জমিদার দক্ষিণাচরণবাবু। ধড়্ফ্ড় করিয়া উঠিয়া পিঠভাঙা চৌকিটা টানিয়া আনিয়া তাঁহাকে বসিতে দিলাম এবং উদ্বিগ্নভাবে তাঁহার মুখের দিকে চাহিলাম। ঘড়িতে দেখি, তখন রাত্রি আড়াইটা। দক্ষিণাচরণবাবু বিবর্ণমুখে বিস্ফারিত নেত্রে কহিলেন, “আজ রাত্রে আবার সেইরূপ উপদ্রব আরম্ভ হইয়াছে— তোমার ঔষধ কোনো কাজে লাগিল না।”………আমি কিঞ্চিৎ সসংকোচে বলিলাম, “আপনি… Continue reading নিশীথে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
লাল সূতো আর নীল সূতো – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
এক জোলা একদিন তাহার স্ত্রীকে বলিল,‘আমি পায়েস খাব, পায়েস রেঁধে দাও।’ জোলার স্ত্রী বলিল, ‘ঘরে কাঠ নেই। কাঠ এনে দাও, পায়েস রেঁধে দিচ্ছি। জোলা কাঠ আনিতে গেল।পথেরা ধারে একটা বড় আম গাছ ছিল, তাহার একটা শুকনো ডালের আগায় বসিয়া জোলা তাহারই গোড়ার দিকটা কাটিতেছে। তাহা দেখিয়া পথের লোক একজন ডাকিয়া বলিল, ‘ওহে, ও ডাল কেটো… Continue reading লাল সূতো আর নীল সূতো – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ঘুড়ি ও দৈববাণী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
অঘোরবাবু নিরীহ মানুষ। বড়ই রোগা-ভোগা। তার হার্ট খারাপ, মাজায় সায়াটিকার ব্যথা, পেটে এগারো রকমের অসুখ। অফিসে তার উন্নতি হয় না। কেউ পাত্তা দেয় না তাকে।……..অঘোরবাবু ঘুড়ি ওড়াতে খুবই ভালবাসেন। তার শখ-শৌখিনতা বলতে ওই একটাই। ঘুড়ি তিনি নিজেই তৈরি করেন। মস্ত মস্ত ঘুড়ি। মোটা সুতো আর মস্ত লাটাই দিয়ে অনেক ওপরে ঘুড়ি ভাসিয়ে দেন তিনি। ঘণ্টার… Continue reading ঘুড়ি ও দৈববাণী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়