এক দেশের এক রাজপুত্র। রাজপুত্রের রূপে রাজপুরী আলো। রাজপুত্রের গুণের কথা লোকের মুখে ধরে না।একদিন রাজপুত্রের মনে হইল, দেশভ্রমণে যাইবেন। রাজ্যের লোকের মুখ ভার হইল, রাণী আহার-নিদ্রা ছাড়িলেন, কেবল রাজা বলিলেন,-“আচ্ছা, যাক্।” তখন দেশের লোক দলে-দলে সাজিল,…… রাজা চর-অনুচর দিলেন,……. রাণী মণি-মাণিক্যের ডালা লইয়া আসিলেন।রাজপুত্র লোকজন, মণি-মাণিক্য চর অনুচর কিছুই সঙ্গে নিলেন না। নূতন পোশাক… Continue reading ঘুমন্ত পুরী – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
Author: Admin
পুঁই মাচা (২য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
অন্নপূর্ণা গিয়া দেখিলেন ভাঙ্গা পাঁচিলের ধারে যে ছোট খোলা জমিতে কতকগুলো পাথরকুচি ও কন্টিকারীর জঙ্গল হইয়াছিল, ক্ষেন্তি ছোট বোনটিকে লইয়া সেখানে মহা উৎসাহে তরকারির আওলাত করিবার আয়োজন করিতেছে এবং ভবিষ্যসম্ভাবী নানাবিধ কাল্পনিক ফলমূলের অগ্রদুত-স্বরূপ বর্তমানে কেবল একটিমাত্র শীর্ণকায় পুঁইশাকের চারা কাপড়ের ফালির গ্রন্থিবন্ধ হইয়া ফাঁসি হইয়া যাওয়া আসামীর মতন উধ্বমুখে একখণ্ড শুষ্ক কঞ্চির গায়ে ঝুলিয়া… Continue reading পুঁই মাচা (২য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পুঁই মাচা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সহায়হরি চাটুজ্যে উঠানে পা দিয়াই স্ত্রীকে বলিলেন—একটা বড় বাটি কি ঘটি যা হয় কিছু দাও ততা, তারক খুড়ো গাছ কেটেছে, একটু ভাল রস আনি। স্ত্রী অন্নপূর্ণা খড়ের রান্নাঘরের দাওয়ায় বসিয়া শীতকালের সকালবেলা নারিকেল তেলের বোতলে ঝাঁটার কাটি পুরিয়া দুই আঙুলের সাহায্যে ঝাঁটার কাটিলগ্ন জমানো তেলটুকু সংগ্রহ করিয়া চুলে মাখাইতে ছিলেন স্বামীকে দেখিয়া তাড়াতাড়ি গায়ের কাপড়… Continue reading পুঁই মাচা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
রূপো বাঙাল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
আমি সকালে উঠেই চণ্ডীমণ্ডপে যেতাম হীরু মাস্টারের কাছে পড়তে।আজ ঘুম ভাঙতে দেরি হওয়ায় মনে হল কাল অনেক রাত্রে বাবা বাড়ি এলেন মরেলডাঙা কাছারি থেকে। আমরা সব ভাইবোন বিছানা থেকে উঠে দেখতে গেলাম বাবা আমাদের জন্যে কী কী আনলেন। চণ্ডীমণ্ডপের উঠানে পা দিতেই রূপো কাকা আমাদের বকে উঠল—এ্যাঃ, রাজপুত্তুর সব উঠলেন এখন! মারে গালে এক এক… Continue reading রূপো বাঙাল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
টেলিফোন – সত্যজিৎ রায়
ক্রিং-ক্রিং…ক্রিং ক্রিং…ক্রিং ক্রিং… বীরেশবাবু বিরক্ত হয়ে খাটের পাশের টেবিলের ওপর রাখা টেলিফোনটার দিকে দেখলেন। টেলিফোনের পাশেই ঘড়ি, তাতে বারোটা বাজে। রাত বারোটা। বীরেশবাবু সবে হাতের বইটা বন্ধ করে ঘরের বাতিটা নেভাতে যাচ্ছিলেন। এদিকে টেলিফোনটা বেজেই চলেছে। বীরেশবাবু রিসিভারটা তুলে নিলেন। হ্যালো— ফোর সিক্স ফাইভ ওয়ান সেভেন সিক্স? ইয়েস— বীরেশবাবু আছেন? বীরেশচন্দ্র নিয়োগী? কথা বলছি। ও।… Continue reading টেলিফোন – সত্যজিৎ রায়
দুই ম্যাজিশিয়ান – সত্যজিৎ রায়
পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ, এগারো।সুরপতি ট্রাঙ্কগুলো গুনে নিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট অনিলের দিকে ফিরে বলল, ঠিক আছে। দাও, গাড়ি পাঠিয়ে দাও সব ব্রেকভ্যানে। আর মাত্র পঁচিশ মিনিট।অনিল বলল, আপনার গাড়িও ঠিক আছে স্যার। কুপে। দুটো বার্থই আপনার নামে নেওয়া আছে। কোনও অসুবিধে হবে না। তারপর মুচকি হেসে বলল, গার্ডসাহেবও আপনার একজন ভক্ত।নিউ এম্পায়ারে দেখেছেন আপনার… Continue reading দুই ম্যাজিশিয়ান – সত্যজিৎ রায়
বাঘের উপর টাগ – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
এক জোলা ছিল” তার একটি বড় আদুরে ছেলে ছিল। সে যখন যা চাইত, সেটি না নিয়ে কিছুতেই ছাড়ত না।একদিন এক বড়মানুষের ছেলে জোলার বাড়ির সামনে দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিল। তাকে দেখে জোলার বড় ছেলে তার বাপকে ডেকে বললে, ‘বাবা, আমার কেন ঘোড়া নেই? আমাকে ঘোড়া এনে দাও।’ জোলা বললে, ‘আমি গরীব মানুষ, ঘোড়া কি করে… Continue reading বাঘের উপর টাগ – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ভুতো আর ঘোঁতো – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ভুতো ছিল বেঁটে আর ঘোঁতো ছিল ঢ্যাঙা। ভুতো ছিল সেয়ানা, আর ঘোঁতো ছিল বোকা। দুজনে মিলে গেল কুলগাছ থেকে কুল পড়াতে। ঘোঁতো কিনা ঢ্যাং, সে দুহাতে খালি কুলই পাড়ছে। ভুতো কিনা বেঁটে, তাই সে কুল নাগাল পায় না, সে শুধু ঘোঁতোর পাড়া কুল খাচ্ছে।কুল পাড়া হয়ে গেলে ঘোঁতো বলল, ‘কুল কইরে?’ ভুতো বলল, ‘নেই। খেয়ে… Continue reading ভুতো আর ঘোঁতো – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ভূতো – সত্যজিৎ রায়
নবীনকে দ্বিতীয়বার হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হল। অক্রূরবাবুর মন ভেজানো গেল না। উত্তরপাড়ার একটা ফাংশনে নবীন পেয়েছিল অক্রূর চৌধুরীর আশ্চর্য ক্ষমতার পরিচয়। ভেট্রিলোকুইজম। খেলার নামটা নবীনের জানা ছিল না। সেটা বলে দেয় দ্বিজপদ। দ্বিজুর বাবা অধ্যাপক, তাঁর লাইব্রেরিতে নানান বিষয়ের বই। দ্বিজু নামটা বলে বানানটাও শিখিয়ে দিল। ভি-ই-এন-টি-আর-আই-এল-ও-কিউ-ইউ-আই-এস-এম। ভেনট্রিলোকুইজম। অক্রূর চৌধুরী মঞ্চে একা মানুষ, কিন্তু… Continue reading ভূতো – সত্যজিৎ রায়
দেবতার দুর্বুদ্ধি – সুকুমার রায়
স্বর্গের দেবতারা যেখানে থাকেন, সেখান থেকে পৃথিবীতে নেমে আসবার একটিমাত্র পথ; সে পথ রামধনুকের তৈরী। জলের রঙে আগুন আর বাতাসের রং মিশিয়ে দেবতারা সে পথ বানিয়েছেন। আশ্চর্য সুন্দর সেই পথ, স্বর্গের দরজা থেকে নামতে নামতে পৃথিবী ফুঁড়ে পাতাল ফুঁড়ে কোন অন্ধকার ঝরণার নিচে মিলিয়ে গেছে। কোথাও তার শেষ নেই। পথটি পেয়ে দেবতাদের আনন্দও হল, ভয়ও… Continue reading দেবতার দুর্বুদ্ধি – সুকুমার রায়