বাদুড় বিভীষিকা – সত্যজিৎ রায়

বাদুড় জিনিসটা আমার মোটেই ধাতে সয় না। আমার ভবানীপুরের ফ্ল্যাটের ঘরে মাঝে মাঝে যখন সন্ধের দিকে জানলার গরাদ দিয়ে নিঃশব্দে এক-একটা চামচিকে ঢুকে পড়ে, তখন বাধ্য হয়েই আমাকে কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। বিশেষত গ্রীষ্মকালে যখন পাখা ঘোরে, তখন যদি চামচিকে ঢুকে মাথার উপরই বাঁই বাঁই করে ঘুরতে থাকে আর খালি মনে হয় এই বুঝি… Continue reading বাদুড় বিভীষিকা – সত্যজিৎ রায়

বাজে গল্প ২ – সুকুমার রায়

কতগুলো ছেলে ছাতের উপর হুড়োহুড়ি করে খেলা করছে-এমন সময়ে একটা মারামারির শব্দ শোনা গেল। তার পরেই হঠাৎ গোলমাল থেমে গিয়ে সবাই মিলে ‘হারু পড়ে গেছে’ বলে কাঁদতে কাঁদতে নিচে চলল।খানিক বাদেই শুনি একতলা থেকে কান্নাকাটির শব্দ উঠছে। বাইরের ঘরে যদুর বাবা গণেশবাবু ছিলেন-তিনি ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী হয়েছে?’ শুনতে পেলেন ছেলেরা কাঁদছে, ‘হারু পড়ে… Continue reading বাজে গল্প ২ – সুকুমার রায়

বাজে গল্প ১ – সুকুমার রায়

দুই বন্ধু ছিল। একজন অন্ধ আরেকজন বদ্ধ কালা। দুইজনে বেজায় ভাব। কালা বিঞ্জাপনে পড়িল আর অন্ধ লোকমুখে শুনিল, কোথায় যেন যাত্রা হইবে, সেখানে সঙেরা নাচগান করিবে। কালা বলিল, “অন্ধ ভাই, চল, যাত্রায় গিয়া নাচ দেখি। অন্ধ হাত নাড়িয়া, গলা খেলাইয়া কালাকে বুঝাইয়া দিল, “কালা ভাই, চল, যাত্রায় নাচগান শুনিয়া আসি। দুইজনে যাত্রার আসরে গিয়া বসিল।রাত… Continue reading বাজে গল্প ১ – সুকুমার রায়

নন্দলালের মন্দ কপাল – সুকুমার রায়

নন্দলালের ভারি রাগ, অঙ্কের পরীক্ষায় মাস্টার তাহাকে গোল্লা দিয়াছেন। সে যে খুব ভালো লিখিয়াছিল তাহা নয়, কিন্তু তা বলিয়া একেবারে গোল্লা দেওয়া কি উচিত ছিল? হাজার হোক সে একখানা পুরা খাতা লিখিয়াছিল তো ! তার পরিশ্রমের কি কোনো মূল্য নাই? ঐ যে ত্রৈরাশিকের অঙ্কটা, সেটা তো তার প্রায় ঠিক‌‌ই হ‌‌ইয়াছিল, কেবল একটুখানি হিসেবের ভুল হওয়া… Continue reading নন্দলালের মন্দ কপাল – সুকুমার রায়

জগ্যিদাসের মামা – সুকুমার রায়

তার আসল নামটি যজ্ঞদাস। সে প্রথম যেদিন আমাদের ক্লাশে এল পণ্ডিতমশাই তার নাম শুনেই ভ্রূকুটি করে বললেন, “যজ্ঞের আবার দাস কি? যজ্ঞেশ্বর বললে তবু না হয় বুঝি।” ছেলেটি বলল, “আজ্ঞে, আমি তো নাম রাখিনি, নাম রেখেছেন খুড়োমশাই।” এই শুনে আমি একটু ফিক করে হেসে ফেলেছিলাম, তাই পণ্ডিতমশাই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “বানান কর যজ্ঞদাস। ”… Continue reading জগ্যিদাসের মামা – সুকুমার রায়

চালিয়াৎ – সুকুমার রায়

শ্যামচাঁদের বাবা কোন একটা সাহেব-অফিসে মস্ত কাজ করিতেন, তাই শ্যামচাঁদের পোষাক পরিচ্ছদে, রকম-সকমে কায়দার অন্ত ছিল না। সে যখন দেড় বিঘৎ চওড়া কলার আঁটিয়া, রঙিন ছাতা মাথায় দিয়া, নতুন জুতার মচ্‌মচ্‌ শব্দে গম্ভীর চালে ঘাড় উঁচাইয়া স্কুলে আসিত, তাহার সঙ্গে পাগড়িবাঁধা তক্‌মা-আঁটা চাপরাশি এক রাজ্যের বই ও টিফিনের বাক্স বহিয়া আনিত, তখন তাহাকে দেখাইত ঠিক… Continue reading চালিয়াৎ – সুকুমার রায়

সত্যি – সুকুমার রায়

ইনি কে জানো না বুঝি? ইনি নিধিরাম পাটকেল।কোন নিধিরাম? যার মিঠাইয়ের দোকান আছে? আরে দুৎ! তা কেন? নিধিরাম ময়রা নয়— প্রে—ফে—সার্‌ নিধিরাম! ইনি কি করেন? কি করেন আবার কি? আবিষ্কার করেন!ও বুঝছি! ঐ যে উত্তর মেরুতে যায়, যেখানে ভয়ানক ঠাণ্ডা— মানুষজন সব মরে যায়— দূর মুখ্যু! আবিষ্কার বললেই বুঝি উত্তর মেরু বুঝতে হবে, বা দেশ… Continue reading সত্যি – সুকুমার রায়

কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু (২য় পর্ব) – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু

ঘরের মধ্যে এক বুড়ি বাস করত। আর ছিল তার. পোষা বিড়াল টম, আর একটা মুরগি। পৃথিবীতে কেউ ছিল না বুড়ির, তাই বিড়ালটাকে সে ছেলে জ্ঞান করত। আর টম পুষি বুড়ির ঘুরে বেড়াত। তার লোম ধরে বেয়াড়া ধরনের ঠাট্টা করলে সে নখ দিয়ে আচড়ে দিতেও চেষ্টা করত। মুরগিটার পা দুটো আবার বড়োই ছোট্ট, বুড়ি সেজন্যে তাকে… Continue reading কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু (২য় পর্ব) – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু

কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু

সারা দেশ কী অপরূপ মনে হচ্ছে! গরমের সময় গমের ক্ষেত হলুদবর্ণ হয়ে আছে, মানারাত তারার রোজা রানে লম্বা লম্বা ঠ্যাং নিয়ে ঠুক্ঠুক্‌ করে হেঁটে বেড়াচ্ছে আর কথা বলছে মিশরি ভাষায়-_মাদ্র কাছ থেকে তারা এ-ভাষাই রপ্ত করেছে কিনা তাই। সামনের মাঠ আর ক্ষেতের একদিক দিয়ে সবুজ বনানীর সারি চলে গেছে দিগন্ত ছুঁয়ে এ বনের মধ্যে এক… Continue reading কুচ্ছিৎ প্যাঁকারু – হ্যান্স এন্ডারসন অনুবাদঃ বুদ্ধদেব বসু

চাষী বউ – মোহাম্মদ নাসির আলী

অনেক কাল আগে এক দেশে বাস করত গরীব এক চাষী। নিজের বলতে জমি-জিরাত কিছুই তার ছিল না। সারাদিন ধরে পরের জমি চাষ করে যা কিছু পাওয়া যেত তাই দিয়ে চলত চাষীর সংসার। সংসার বলতে ছিল সে নিজে আর তার বউ।একদিন জমি চাষ করতে মাঠে গিয়ে একটা আজব ঘটনা ঘটল। একটা ক্ষেত চষে সে প্রায় শেষ… Continue reading চাষী বউ – মোহাম্মদ নাসির আলী