হুজুর কেবলা (২য় পর্ব) – আবুল মনসুর আহমদ

এশার নামাজের পর দাঁড়িয়া চিরুনি ও কাপড়ে আতর লাগানো সুন্নত এবং পীর সাহেব সুন্নতের একজন বড় মো’তেকাদ ছিলেন।ওয়াজ করিবার সময় পীর সাহেবের প্রায়ই জযবা আসিত। সে জযবাকে মুরিদগণ ‘ফানাফিল্লাহ’ বলিত।এই ফানাফিল্লাহর সময় পীর সাহেব ‘জ্বলিয়া গেলাম’ ‘পুড়িয়া গেলাম’ বলিয়া চিৎকার করিয়া চিৎ হইয়া শুইয়া পড়িতেন। এই সময় পীর সাহেবের রুহ আলমে-খাল্ক্ হইতে আলমে-আমরে পেঁৗছিয়া রুহে… Continue reading হুজুর কেবলা (২য় পর্ব) – আবুল মনসুর আহমদ

হুজুর কেবলা – আবুল মনসুর আহমদ

এমদাদ তার সবগুলি বিলাতি ফিনফিনে ধুতি,সিল্কের জামা পোড়াইয়া ফেলিল; ফ্লেক্সের ব্রাউন রঙের পাম্প সুগুলি বাবুর্চিখানার বঁটি দিয়া কোপাইয়া ইলশা-কাটা করিল। চশমা ও রিস্টওয়াচ মাটিতে আছড়াইয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিল; ক্ষুর স্ট্রপ,শেভিংস্টিক ও ব্রাশ অনেকখানি রাস্তা হাঁটিয়া নদীতে ফেলিয়া দিয়া আসিল;বিলাসিতার মস্তকে কঠোর পদাঘাত করিয়া পাথর-বসানো সোনার আংটিটা এক অন্ধ ভিক্ষুককে দান করিয়া এবং টুথক্রিম ও টুথব্রাস পায়খানার… Continue reading হুজুর কেবলা – আবুল মনসুর আহমদ

বানর রাজপুত্র – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক রাজার সাত রানী, কিন্ত ছেলেপিলে একটিও নাই। রাজার তাতে বড়ই দুঃখ; তিনি সভায় গিয়ে মাথা গুঁজে বসে থাকেন, কেউ এলে ভাল করে কথা কন না।একদিন হয়েছে কি-এক মুনি রাজার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। মুনি রাজার মুখ ভার দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘রাজা তোমার মুখ যে ভার দেখছি; তোমার কিসের দুঃখ?’ রাজা বললেন, ‘সে কথা আর… Continue reading বানর রাজপুত্র – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

আটকলা – জসীম উদ্দীন

রহিম শেখ বড়ই রাগী মানুষ। কোনো কাজে একটু এদিক-ওদিক হলেই সে তার বউকে ধরে বেদম মার মারে। সেদিন বউ সকালে সকালে উঠে ঘর-দোর ঝাড়ু দিতেছে, রহিম ঘুম হতে উঠে বলল, “আমার হুঁকায় পানি ভরেছ?” বউ বলল, “তুমি তো ঘুমাইতেছিলে, তাই হুঁকায় পানি ভরি নাই। এই এখনই ভরে দিতেছি।” রহিম চোখ গরম করে বলল, “এত বেলা… Continue reading আটকলা – জসীম উদ্দীন

ব্যোমকেশের মাঞ্জা – সুকুমার রায়

‘টোকিয়ো—কিয়োটো—নাগাসাকি—য়োকোহামা’ — বোর্ডের উপর প্রকাণ্ড ম্যাপ ঝুলিয়ে হারাণচন্দ্র জাপানের প্রধান নগরগুলি দেখিয়ে যাচ্ছে। এর পরেই ব্যোমকেশের পালা কিন্তু ব্যোমকেশের সে খেয়ালই নেই। কাল বিকেলে ডাক্তারবাবুর ছোট্ট ছেলেটার সঙ্গে প্যাঁচ খেলতে গিয়ে তার দুটো-দুটো ঘুড়ি কাটা গিয়েছিল, সে-কথাটা ব্যোমকেশ কিছুতেই আর ভুলতে পারছে না। তাই সে বসে বসে সুতোর জন্যে কড়া রকমের একটা মাঞ্জা তৈরির উপায়… Continue reading ব্যোমকেশের মাঞ্জা – সুকুমার রায়

মাঝি ও পণ্ডিত – জসীম উদ্দীন

পণ্ডিত মহাশয় পদ্মা নদী দিয়ে নৌকায় করে বাড়ি যাবেন। সেইজন্য একমাল্লাই (এক জন মাঝিবিশিষ্ট) একখানা নৌকা ভাড়া করেছেন।বহু দূরের পথ। পণ্ডিত মহাশয় কথা না বলে একা একা থাকতে পারেন না। তিনি মাঝিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আচ্ছা মাঝি! তুমি ইতিহাস পড়েছ?” মাঝি নৌকা বাইতে বাইতে উত্তর করল, “অ্যাঁ, না। কর্তা।” পণ্ডিত মহাশয় বড়ই অবাক হলেন, “আচ্ছা, বল… Continue reading মাঝি ও পণ্ডিত – জসীম উদ্দীন

কৃপণ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কদম্ববাবু মানুষটা যতটা না গরিব তার চেয়ে ঢের বেশি কৃপণ। তিনি চন্ডীপাঠ করেন কিনা কে জানে, তবে জুতো সেলাই যে করেন সবাই জানে। আর করেন মুচির পয়সা বাঁচাতে। তবে আরও একটা কারণ আছে। একবার এক মুচি তাঁর জুতো সেলাই করতে নারাজ হয়ে বলেছিল, এটা তো জুতো নয়, জুতোর ভূত। ফেলে দিন গে। বাস্তবিকই জুতো এত… Continue reading কৃপণ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

যতীনের জুতো – সুকুমার রায়

যতীনের নতুন জুতো কিনে এনে তার বাবা বললেন, “এবার যদি অমন করে জুতো নষ্ট কর তবে ওই ছেঁড়া জুতোই পরে থাকবে।” যতীনের চটি লাগে প্রতিমাশে একজোড়া। ধুতি তার দুদিন যেতে না যেতেই ছিঁড়ে যায়। কোনো জিনিসে তার যত্ন নেই। ব‌‌ইগুলো সব মলাট ছেঁড়া, কোণ দুমড়ান, শ্লেটটা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ফাটা। শ্লেটের পেন্‌‌সিলগুলি সর্বদাই তার… Continue reading যতীনের জুতো – সুকুমার রায়

অসমঞ্জবাবুর কুকুর (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

বৃষ্টিটা বেড়েছে। ভদ্রলোক অসমঞ্জবাবুর পাশেই আশ্রয় নিলেন ঘোড়সওয়ারের নীচে, এবং যে দশ মিনিট ধরে বৃষ্টিটা চলল তার মধ্যে ব্রাউনি সম্বন্ধে যা কিছু সব তথ্য জেনে নিলেন। সেই সঙ্গে অসমঞ্জবাবুর নিজের ঠিকানাটাও দিতে হল। ভদ্রলোক বললেন তাঁর নাম পিলু পোচকানওয়ালা। তিনি কুকুর সম্বন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল, তাঁর এক ড্যালমেশিয়ান নাকি দুবার ডগ-শোতে প্রাইজ পেয়েছে, এমন কী তিনি… Continue reading অসমঞ্জবাবুর কুকুর (২য় পর্ব) – সত্যজিৎ রায়

অসমঞ্জবাবুর কুকুর – সত্যজিৎ রায়

হাসিমারায় বন্ধুর বাড়িতে ছুটি কাটাতে এসে অসমঞ্জবাবুর একটা অনেকদিনের শখ মিটল।ভবানীপুরের মোহিনীমোহন রোডে দেড়খানা ঘর নিয়ে থাকেন অসমঞ্জবাবু। লাজপত রায় পোস্টঅফিসের রেজিষ্ট্রি বিভাগে কাজ করেন তিনি; কাজের জায়গা তাঁর বাড়ি থেকে সাত মিনিটের হাঁটা পথ, তাই ট্রামবাসের ঝক্কি পোয়াতে হয় না। এমনিতে দিব্যি চলে যায়, কারণ যেসব মানুষ জীবনে কী হল না কী পেল না… Continue reading অসমঞ্জবাবুর কুকুর – সত্যজিৎ রায়