পদ্মার পলিদ্বীপ – খুনের চর দখল-আবু ইসহাক

লাঠালাঠি হাঙ্গামা ছাড়াই খুনের চর দখল হয়েছে। এত সহজে চরটা দখল করতে পারবে, ভাবতে পারেনি জঙ্গুরুল্লা। সে মনে করেছিল–বিপক্ষের কিছু লোক আর চাকরিয়ারা অন্তত থাকবে চরে। তারা মুখোমুখি হবে তার লাঠিয়ালদের, ছোটখাট মারামারি হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। পুলিসের ভয়ে ওদের সবাই ছুটছাট পালিয়েছিল চর খালি রেখে। চর দখলের পরের দিন ভোরবেলা জঙ্গুরুল্লার পানসি এসে ভিড়ে… Continue reading পদ্মার পলিদ্বীপ – খুনের চর দখল-আবু ইসহাক

পদ্মার পলিদ্বীপ – আবু ইসহাক

পদ্মার পলিদ্বীপ – উপন্যাস – আবু ইসহাক উৎসর্গ – বড় ভাই মোহাম্মদ ইসমাইল-এর স্মৃতির উদ্দেশে পদ্মার পলিদ্বীপ সম্পর্কে দেশি-বিদেশী অভিমত …একখানা উচ্চাঙ্গের উপন্যাস। ইহার অনেক জায়গা একাধিকবার পড়িয়াছি। বিষয়বস্তুর অভিনবত্ব ছাড়িয়াই দিলাম।…এত ব্যাপক, বিস্তৃত, জটিল অথচ সুসংহত এবং স্বচ্ছন্দ কাহিনী কমই পড়িয়াছি।…এই উপন্যাসে নানা কাহিনীর সুষম সমাবেশ হইয়াছে, পদ্মার বিধ্বংসী লীলার যথাযথ বর্ণনা আছে,…। এই… Continue reading পদ্মার পলিদ্বীপ – আবু ইসহাক

খলিফা হারুনুর রশিদ এর সত্য গল্প

এক গ্লাস পানির মূল্য দুনিয়ার চেয়েও বেশি: খলিফা হারুনুর রশিদ এর সত্য গল্প পানির অপর নাম জীবন। মানবদেহের এক-তৃতীয়াংশই পানি। একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক ৪-৫ লিটারের বেশি পানি পান করা প্রয়োজন। শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে শরীরে সতেজতা ঠিক থাকে না। দিন দিন শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় পানির আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে… Continue reading খলিফা হারুনুর রশিদ এর সত্য গল্প

শার্লক হোমস: দি ইয়েলো ফেস

শার্লক হোমসের সফল কীর্তির মধ্যে তার বুদ্ধিবৃত্তি যতটা প্রকাশ পেয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছে তার বিফল কীর্তির মধ্যে। যে-কেস সে সমাধান করতে পারেনি, তা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতই থেকে গেছে–কারো বুদ্ধিতে কুলোয়নি মীমাংসা করার। হলদে মুখের কাহিনি সেই জাতীয় কাহিনি যার মধ্যে ওর আশ্চর্য বিশ্লেষণী ক্ষমতা সম্যকরূপে প্রকাশ পেয়েছে–অথচ হালে পানি পায়নি। অহেতুক শক্তিক্ষয় করা… Continue reading শার্লক হোমস: দি ইয়েলো ফেস

শার্লক হোমস: দ্য অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য কপার-বীচেস

শার্লক হোমস ছুঁড়ে ফেলে দিল ডেইলি টেলিগ্রাফের বিজ্ঞাপনের পাতাটা। বললে, ওয়াটসন, আমারকীর্তি নিয়ে তুমি যখনই গল্প লিখেছ, সেগুলো গল্পইহয়ে দাঁড়িয়েছে–রং চড়ানোর দিকে নজর না-দিয়ে যুক্তিবিজ্ঞানের দিকে বেশি নিষ্ঠা দেখালে ভালো করতে।   কথা বলতে বলতে চেরি কাঠের পাইপটা ধরিয়ে নিল হোমস। তর্ক করার দরকার হলে এই পাইপ খায় ও, ধ্যানস্থ থাকার সময়ে ক্রে পাইপ।  … Continue reading শার্লক হোমস: দ্য অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য কপার-বীচেস

বিরাজবৌ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

হুগলি জেলার সপ্তগ্রামে দুই ভাই নীলাম্বর ও পীতাম্বর চক্রবর্তী বাস করিত। ও অঞ্চলে নীলাম্বরের মত মড়া পোড়াইতে, কীর্তন গাহিতে, খোল বাজাইতে এবং গাঁজা খাইতে কেহ পারিত না। তাহার উন্নত গৌরবর্ণ দেহে অসাধারণ শক্তি ছিল। গ্রামের মধ্যে পরোপকারী বলিয়া তাহার যেমন খ্যাতি ছিল, গোঁয়ার বলিয়া তেমনই একটা অখ্যাতিও ছিল। কিন্তু ছোটভাই পীতাম্বর সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির লোক।… Continue reading বিরাজবৌ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বামুনের মেয়ে – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পাড়া-বেড়ানো শেষ করিয়া রাসমণি অপরাহ্নবেলায় ঘরে ফিরিতেছিলেন! সঙ্গে দশ-বারো বৎসরের নাতিনীটি আগে আগে চলিয়াছিল। অপ্রশস্ত পল্লীপথের এধারে বাঁধা একটি ছাগশিশু ওধারে পড়িয়া ঘুমাইতেছিল। সম্মুখে দৃষ্টি পড়িবামাত্র তিনি নাতিনীর উদ্দেশে চীৎকার করিয়া উঠিলেন, ওলো ছুড়ী, দড়িটা ডিঙুস্‌নি, ডিঙুলি? হারামজাদী, সগ্‌গপানে চেয়ে পথ হাঁটচ। চোখে দেখতে পাও না যে ছাগল বাঁধা রয়েচে! নাতিনী কহিল, ছাগল ঘুমোচ্চে ঠাকুমা।… Continue reading বামুনের মেয়ে – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

জালাল উদ্দিন রুমির গল্প: তোতা পাখি ও দোকানি

অনেক আগে এক দেশে ছিল এক মুদিদোকানি। তার ছিল সবুজরঙা খুব সুন্দর এক  তোতা পাখি। পাখিটি তার দোকানের এক কোণে বসে থাকত। তোতাপাখিটা চমৎকার গাইতে পারত, কথাও বলত অনর্গল। সেদিক থেকে পাখিটি ছিল দোকানির আদর্শ সঙ্গী। কারণ, তার মিষ্টি গান আর কথা শুনতে সেখানে ভিড় জমাত লোকজন। সেই সঙ্গে প্রহরী হিসেবেও দোকানটি সারা দিন দেখেশুনে রাখত পাখিটি।… Continue reading জালাল উদ্দিন রুমির গল্প: তোতা পাখি ও দোকানি

শূন্য – হুমায়ূন আহমেদ

০১. চোখ দিয়ে  পানি পড়ছে সকাল থেকেই তাঁর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। শুরুতে ব্যাপারটা তিনি বুঝতে পারেননি। স্কুলে রওনা হবার আগে আয়নার চুল আঁচড়াতে গিয়ে মনে হল—বা চোখের কোণাটা ভেজা ভেজা। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আয়নায় ভালো করে তাকিয়ে দেখেন শুধু বা চোখ না, দুচোখ দিয়েই পানি পড়ছে। অথচ চোখে কোনো জ্বালা-যন্ত্ৰণা নেই। রহস্যটা কি? বয়সকালে শরীরবৃত্তির… Continue reading শূন্য – হুমায়ূন আহমেদ

দুই মুসাফির – শওকত ওসমান

গ্রীষ্মের দুপুর প্রায় শেষ। অড়হর খেতে ছায়া পড়ছে। ক্রমশ দীর্ঘতর। কুষ্টিয়া জেলাবোর্ডের সড়ক পথে একজন পথিক হাঁটছিলেন। পরনে গেরুয়া তহবন্দ, গায়ে গেুরুয়া আলখেল্লা। লম্বাটে মুখবোঝাই সাদা দাড়ি। হাতে একটা একতারা। পথিক ঘর্মক্লান্ত। তবু দুই চোখ পথের ওপর নয়, পথের দু ধারে। গ্রীষ্মের দাবদাহ সব পুড়িয়ে দিয়ে গেছে। এই রুক্ষতার সৌন্দর্য বৈরাগীর মনের রঙের মতো। পথিক… Continue reading দুই মুসাফির – শওকত ওসমান