গোলমাল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

০১-০৫. সকালবেলাটি বড় মনোরম সকালবেলাটি বড় মনোরম। বড় সুন্দর। দোতলার ঘর থেকে জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে হরিবাবুর মনটা খুব ভাল হয়ে গেল। বাগানে হাজার রকম গাছগাছালি। পাখিরা ডাকাডাকি করছে, শরৎকালের মোলায়েম সকালের ঠাণ্ডা রোদে চারদিক ভারি ফটফটে। উঠোনে রামরতন কাঠ কাটছে। বুড়ি ঝি বুধিয়া পশ্চিমের দেয়ালে ঘুঁটে দিচ্ছে। টমি কুকুর একটা ফড়িঙের পিছনে ছোটাছুটি করছে।… Continue reading গোলমাল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আহারাদি – সৈয়দ মুজতবা আলী

যে লোক উদ্ভিদতত্ত্ব জানে না, সে দেশী-বিদেশী যে-কোন গাছ দেখলেই মনে করে, এও বুঝি এক সম্পূর্ণ নূতন গাছ। তখন নূতন গাছের সঙ্গে তার চেনা কোনো গাছের কিছুটা মিল সে যদি দেখতে পায়। তবে অবাক হয়ে ভাবে, এই চেনা-অচেনায় মেশানো গাছের কি অন্ত নেই। কিন্তু শুনেছি, উদ্ভিদ-বিদ্যা নাকি পৃথিবীর বেবাক গাছকে এমন কতকগুলো শ্রেণীতে ভাগ করে… Continue reading আহারাদি – সৈয়দ মুজতবা আলী

নিঝুম দ্বীপের সেই ছেলেটি – ইমদাদুল হক মিলন

বিলুর স্বভাব হচ্ছে সকালবেলা ঘর থেকে বেরিয়ে প্রথমেই আকাশের দিকে তাকানাে। আজও তাকাল। তাকিয়ে খারাপ মন আরও খারাপ হয়ে গেল। একই অবস্থা আকাশের। নিঝুম দ্বীপের আকাশ গতকাল থেকে মেঘলা। একে বর্ষাকাল তার ওপর চলছে তিন নম্বর বিপদ সংকেত। অবিরাম হুংকার করছে সমুদ্র। সমুদ্রের হাওয়া আর ঢেউ মিলে তুলকালাম চলছে। বৃষ্টিটা আছেই। ঝিরঝির করে ঝরছে। জেলে… Continue reading নিঝুম দ্বীপের সেই ছেলেটি – ইমদাদুল হক মিলন

শেখ সাদির গল্প: পোশাকের গুণ

শেখ শাদী (রঃ) সাধারনত খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। একবার এক দাওয়াতে তিনি ছেড়া ও নোংরা কাপড় চোপড় পড়ে চলে গেলেন। তাই মেজবান তাকে চিনতে না পেরে ফকির ভেবে অপেক্ষাকৃত কম ও অনুন্নত খাবার দিলেন। শেখ শাদী বিষয়টি বুঝতে পারলেন। তিনি ঐ কম ও অনুন্নত খাবার খেয়ে ফিরে এলেন এবং কিছুদিন পর আবার ভালো ও শাহেনশাহী… Continue reading শেখ সাদির গল্প: পোশাকের গুণ

গৌরীপুর জংশন – হুমায়ূন আহমেদ

০১. মনে হচ্ছে কানের কাছে কেউ শিস দিচ্ছে মনে হচ্ছে কানের কাছে কেউ শিস দিচ্ছে। শিসের শব্দে জয়নালের ঘুম ভেঙে গেল। সে মনে-মনে বলল, বিষয় কি? কোন হালার পুতে… মনে-মনে বলা কথাও সে শেষ করল না। মনের কথা দীর্ঘ হলে ঘুম চটে যেতে পারে। ইদানীং তার কী যেন হয়েছে, একবার ঘুম ভেঙে গেলে আর ঘুম… Continue reading গৌরীপুর জংশন – হুমায়ূন আহমেদ

ঠাকুর মশায়ের লাঠি – জসীম উদ্দীন

বামুন ঠাকুর কিছুই আয় করিতে পারে না। পূজা আর্চা করিয়া কিইবা সে পায়। বউ দিনরাত খিটখিট করে, এটা আন নাই—ওটা আন নাই । শুধু কি এমনি খিটিখিটি ? মাঝে মাঝে ঝাঁটা উঁচাইয়া ঠাকুর মশায়কে মারিয়া নাস্তানাবুদ করে। কাঁহাতক আর এত সওয়া যায়! সব সময় বউ বলে, “তুমি বাড়ি হইতে বাহির হইয়া যাও ।” সেদিন ঠাকুরমশায়… Continue reading ঠাকুর মশায়ের লাঠি – জসীম উদ্দীন

বোকার বাণিজ্য – জসীম উদ্দীন

এক ছিল তাঁতি। ঘরে বসিয়া কাপড় বোনে। ব্যাপারীরা আসিয়া তাহাকে ঠকাইয়া কম দামে কাপড় কিনিয়া লইয়া যায়। তাহার বউ তাহাকে পরামর্শ দিল, ‘তুমি হাটে যাইয়া কেন কাপড় বেচো না?’ পরামর্শটি তাঁতির খুব পছন্দ হইল। সে নৌকাখানা ভালোমতো সেঁচিয়া বড় একটা লম্বা দড়ি দিয়া ঘাটে বাঁধিয়া রাখিল। রাত্র হইলে কাপড়ের বোঝা নৌকায় রাখিয়া তাঁতি নৌকার দড়ি… Continue reading বোকার বাণিজ্য – জসীম উদ্দীন

সমানে সমান – জসীম উদ্দীন

ছোট্ট একটা নদী, হাঁটিয়াই পার হওয়া যায়। তার পশ্চিম পারে থাকে এক ট্যাটন, নাম ধূলি । পুব পারে থাকে আর এক ট্যাটন । তার নাম বালি । ট্যাটন মানে অতি চালাক। লোক ঠকাইয়া বেড়ানোই তাহার পেশা । বালি এক ছালা বিচেকলার বীজ মাথায় লইয়া নদীর ওপার দিয়া যাইতেছে। পশ্চিম পারের ট্যাটন ধূলি তেমনি আর এক… Continue reading সমানে সমান – জসীম উদ্দীন

অতসী মামী – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

যে শোনে সেই বলে, হ্যাঁ, শোনবার মতো বটে! বিশেষ করে আমার মেজমামা। তার মুখে কোনো কিছুর এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা খুব কম শুনেছি। শুনে শুনে ভারী কৌতুহল হল। কী এমন বাঁশি বাজায় লোকটা যে সবাই এমনভাবে প্রশংসা করে? একদিন শুনতে গেলাম। মামার কাছ থেকে একটা পরিচয়পত্র সঙ্গে নিলাম। আমি থাকি বালিগঞ্জে, আর যাঁর বাঁশি বাজানোর ওস্তাদির… Continue reading অতসী মামী – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোট্ট বেলা- মনিকা শকুন্তলা

ছোট্ট বেলা (মনিকা শকুন্তলা) আমার ছোটোবেলা হারিয়ে গেলো কই ইচ্ছে শুধু আমার মাঝে আবার ছোটো হই। আমায় নিয়ে হয়তো সবাই করবে মাতামাতি জুটবে তখন ছোট ছোট কত্তো খেলার সাথী। কেউ বা আমায় খাইয়ে দিতে রাধবে মজার রান্না তবু আমি করবো শুধু নতুন নতুন বায়না। কেউ বা চুলে আলতো হাতে করে দিবে বেণী আমি বলবো খেলতে… Continue reading ছোট্ট বেলা- মনিকা শকুন্তলা