প্রথম পরিচ্ছেদ পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, এমন স্বামীর মুখে আগুন। শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিল – স্বামীজাতির মুখে চুরুটের আগুন ছাড়া অন্য কোনোপ্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না। অতএব এ সম্বন্ধে তিনি কিঞ্চিৎ সংকোচ… Continue reading দিদি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
Author: Admin
দুর্বুদ্ধি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভিটা ছাড়িতে হইল । কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না , আভাস দিব মাত্র । আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার , পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি । যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত তাহা অপেক্ষা কম ছিল না , সুতরাং নর এবং নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা… Continue reading দুর্বুদ্ধি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শেষ পুরস্কার -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খসড়া সেদিন আই. এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব’লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব’লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা,… Continue reading শেষ পুরস্কার -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নীল মানুষ ও ছোট্ট বন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
কেন যে মা ওকে জন্ম থেকেই আদর করে গুটুলি বলে ডাকত? সেই নামটাই ওর কাল হল। গুটুলির বয়েস বাড়লেও তার শরীরটা আর বাড়ে না। তার যখন সাত বছর বয়েস তখন তাকে দেখতে চার বছরের ছেলের মতন। দশ বছর বয়েসে দেখাত সাত বছরের ছেলের মতন। চোদ্দো বছর বয়েসে তাকে সবাই মনে করত দশ বছরের ছেলে। তারপর… Continue reading নীল মানুষ ও ছোট্ট বন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নীল মানুষের মন খারাপ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
গভীর জঙ্গল, এখানে মানুষ প্রায় আসেই না, দু-একজন কাঠুরে বা শিকারি দৈবাৎ এসে পড়লেও ভূতের ভয়ে পালিয়ে যায়। লোকের মুখে মুখে রটে গেছে যে ওই জঙ্গলে ভূত আছে। কেউ-কেউ বলে, ভূত নয়, ব্রহ্মদৈত্য। এই জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে একটা হাইওয়ে গেছে। সেখান দিয়ে ট্রাক যায়, অন্য গাড়ি যায়। কিন্তু কোনও গাড়ি কখনো থামে না এই জায়গায়।… Continue reading নীল মানুষের মন খারাপ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বুড়োর দোকান-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দিনেরবেলা কেউ কোনওদিন এ-দোকান খোলা দ্যাখেনি। অন্য দোকান যখন বন্ধ হয় তখন এই দোকান খোলে। কোনও অচেনা খদ্দের এ-দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে ধমক খায়। দশ-বারোটা সোডার বোতল আর অনেকগুলো সিগারেটের প্যাকেট সাজানো রয়েছে, তার মধ্যে অবশ্য বেশির ভাগই খালি। ইলেকট্রিক কানেকশান নেই, একটা পেট্রোম্যাক্স জ্বলে শাঁ-শাঁ শব্দ করে। দোকানের মালিকের নাম বুড়ো হলেও সে কিন্তু… Continue reading বুড়োর দোকান-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভজগোবিন্দ ভোজনালয়-তারাপদ রায়
ভজগোবিন্দ ভোজনালয়ের আমি একজন বাঁধা খদ্দের। অবশ্য এতে আমার আপত্তি বা অসম্মানের কিছু নেই। এই ভোজনালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভজগোবিন্দ জীবিত থাকলে যে কোনও উৎসাহী তার কাছ থেকে এই হোটেলের প্রাক্তন গ্রাহকদের একটি বিস্তৃত তালিকা শুনতে পারতেন। যাঁদের মধ্যে অনেকেই রীতিমতো খ্যাতনামা এখন। একসঙ্গে রাজভবনের কোনও ভোজসভাতেই বোধহয় এতগুলি কৃতবিদ্যা ব্যক্তির দর্শন অসম্ভব। ভজগোবিন্দবাবুর তালিকায় পূর্ণ আস্থা… Continue reading ভজগোবিন্দ ভোজনালয়-তারাপদ রায়
সাক্ষাৎকার-তারাপদ রায়
কোনও বৃদ্ধা বাঙালিনী যে এমন সাহেবি কায়দায় চোস্ত হতে পারেন আদিত্যের বাবার রাঙামামিমাকে না দেখলে বিশ্বাস করাই দায়। সধবা অবস্থায় দেখেছিল আদিত্য লালপাড় গরদের শাড়ি, কপালে ফুল-মুন সাইজের সিদুরের ফোঁটা অথচ তার চালচলন যেকোনও মেমসাহেবকে লজ্জা দিতে পারে। তার ছুরি কাঁটা চালানো দেখলে তাকে অনায়াসে মহিলা সব্যসাচী বলা যায়। বাবার রাঙামামা তখন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের ইঞ্জিনিয়র,… Continue reading সাক্ষাৎকার-তারাপদ রায়
খেলা -বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
মতিলাল ছেলেকে বললে–বোসো বাবা, গোলমাল করো না। হিসেব দেখছি— ছেলে বাবার কোঁচার প্রান্ত ধরে টেনে বললে–ও বাবা, খেলা করবি আয়– -না, এখন টানিসনে—আমার কাজ আছে— -–ও বাবা, খেলা কববি আয়—ঘোয়া খেলা কববি আয়— —আঃ জ্বালালে—চল দেখি— মতিলাল হিসাবের খাতা বন্ধ করে ছেলের পিছু পিছু চলল। ছেলে তার কোঁচার কাপড় ধরে টেনে নিয়ে চলল কোথায় তা… Continue reading খেলা -বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
যাচাই-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গোরুরগাড়ি ঢুকল চাঁদপুর গ্রামের মধ্যে। ননীবালা ছেলেকে বললে—বাবা, চেয়ে দ্যাখো —ঘুমুইনি মা। চেয়ে আছি– —এই গাঁয়ের সীমানা। ওই গেল দুলেপাড়া— —ব্রাহ্মণপাড়া কতদূর? —আরও আগে। ননীবালার সারা দেহেমনে একটি অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ! মনে পড়ল আজ ত্রিশ-বত্রিশ বছর পূর্বে একদিন এই গ্রামে নববধূরূপে ঢুকবার সেই দিনটির কথা। তিনি ছিলেন পাশে—আজ যেমন ছেলে সুরেশ তার পাশে বসে রয়েছে।… Continue reading যাচাই-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়