বঙ্গ আমার জননী -সমরেশ মজুমদার

আমার দোয়েল পাখি দুটোর দিকে তাকিয়ে ইমনের হঠাৎ মনে হল ওরা যে-কোনও মুহূর্তে ডানা নেড়ে আকাশে উড়ে যাবে। তারপর শূন্যে ভাসতে-ভাসতে বাংলা অ্যাকাডেমির চত্বরে গিয়ে বইমেলা দেখে নিতে পারে। মনে হওয়ামাত্র তার বেশ মজা লাগল। মাটিতে দাঁড়ানো মানুষেরা এই বিশাল পাখিদুটোকে জীবন্ত দেখলে দোয়েল বলে ভাবতেই পারবে না, আতঙ্কে ছুটোছুটি করবে। দিনের-পর-দিন, রাতের-পর-রাত নিষ্প্রাণ পাখিদুটো… Continue reading বঙ্গ আমার জননী -সমরেশ মজুমদার

গুপ্তপ্রসঙ্গ-তারাপদ রায়

(প্রমীলা কাণ্ড) রাত সাড়ে দশটার সময় সদ্য খাওয়া শেষ হয়েছে, এর পরে খবরের কাগজগুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে শুতে যাব, এমন সময় ফোন এল। এই সময়টা ফোন-টোন খুব বিরক্তিকর। আমার নিতান্ত নিজস্ব এই কিছুক্ষণ খবরের কাগজের জন্যে নির্দিষ্ট এবং উৎসর্গীকৃত। সারাদিন খবরের কাগজ পড়ার অবকাশ আমার হয় না। সকালে উঠে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে পার্কে গিয়ে ভেজা… Continue reading গুপ্তপ্রসঙ্গ-তারাপদ রায়

আরশোলা এবং নিদারুণ বার্তা – তারাপদ রায়

রুদ্রনারায়ণ আচার্য মহাশয় বিভাগপূর্ব বঙ্গদেশের এমন একটি জেলায় বাস করিতেন যেখানে আরশোলাকে তেলাচোরা বলা হইয়া থাকে। আরশোলাই আমাদের বর্তমান গল্পের বিষয়বস্তু। তাই পূর্বাহ্নে কিঞ্চিৎ ভূমিকা করিয়া লইতে হইতেছে। প্রথমে আচার্য মহাশয়ের পরিচয় প্রদান আবশ্যক। দেশে আচার্য মহাশয়ের বিরাট নারিকেল এবং সুপারি বাগান ছিল। নারিকেল এবং সুপারি বাগানের সুবিধা এই যে, এই প্রকার ফসল বৎসর বৎসর… Continue reading আরশোলা এবং নিদারুণ বার্তা – তারাপদ রায়

পুত্রযজ্ঞ -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৈদ্যনাথ গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞ ছিলেন সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া বর্তমানের সমস্ত কাজ করিতেন। যখন বিবাহ করিলেন তখন তিনি বর্তমান নববধূর অপেক্ষা ভাবী নবকুমারের মুখ স্পষ্টতররূপে দেখিতে পাইয়াছিলেন। শুভদৃষ্টির সময় এতটা দূরদৃষ্টি প্রায় দেখা যায় না। তিনি পাকা লোক ছিলেন, সেইজন্য প্রেমের চেয়ে পিণ্ডটাকেই অধিক বুঝিতেন এবং পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা এই মর্মেই তিনি বিনোদিনীকে… Continue reading পুত্রযজ্ঞ -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রগতিসংহার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের—এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানারকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত—‘আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা’। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখ-টেপাটেপি… Continue reading প্রগতিসংহার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কথা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তোমাকে আমার অনেক কথা বলার আছে টুপু। এ কথা প্রায়ই টুপুকে বলার জন্য যায় কুশল। বলা হয় না। কী করে হবে? টুপু যে বড্ড ব্যস্ত। কুশল কলকাতায় এসেছে চার বছর। একটা বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং শেখানোর স্কুল থেকে সে লেদ মেশিনের কাজ শিখেছিল। তার বেশি আর কী করার ছিল তার? গাঁয়ে তার বাবা মারা গেছে, কিন্তু চাষবাসের… Continue reading কথা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ওষুধ -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

উকিলবাবু এখনও আসেননি। মক্কেলরা বসে-বসে মশা মারছে। দুর্গাপদ খুবই ধৈর্যশীল লোক। সে জানে, বড় অফিসার, বড় ডাক্তার, বড় উকিল ধরলে ধৈর্য রাখতে হয়। যে যত বড় সে তত ঘোরাবে। দুর্গাপদ রাস্তা পেরিয়ে উলটোদিকের পানের দোকানে গিয়ে লেমনেড চাইল। তেষ্টা পেয়ে রয়েছে অনেকক্ষণ। উকিলবাবুর বাড়ির চাকরের কাছে জল চাইলে দিত নিশ্চয়ই, কিন্তু চাইতে কেমন ভয়-ভয় আর… Continue reading ওষুধ -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

নামাবলী-তারাপদ রায়

প্রথমে নাম ছিল কালাচাঁদ হুই। সবাই কালাচাঁদ নামেই ডাকত। কাছাকাছি নিকটজন, পাড়াপ্রতিবেশী অবশ্য বলত কালু, কেউ কেউ আদর করে কেলো। গুছাইতগঞ্জের নয়নচাঁদ হুইয়ের একমাত্র ছেলে কালাচাঁদ। সাত মেয়ের মধ্যে একমাত্র ছেলে। সাত ভাই চম্পার ঠিক উলটো আর কি! সাত ভাই চম্পা এক বোন পারুল না হয়ে এক ভাই চম্পা সাত বোন পারুল। পারুল বোনেদের যথাসময়ে… Continue reading নামাবলী-তারাপদ রায়

নিজেকে জানো -তারাপদ রায়

উপনিষদে অনেক ভাল ভাল কথা লেখা আছে। তার মধ্যে একটা হল নিজেকে জানো৷ মূল কথাটি বোধহয় আত্মানং বিদ্ধি। কে আমি? আমি কোথা থেকে এলাম, কোথায় যাচ্ছি। এই বিশাল বিশ্বে আমাদের কী কাজ, কী ভূমিকা; এইসব নিয়ে প্রাচীন ঋষি আমাদের মাথা ঘামাতে, চিন্তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নিজেকে জানতে বলেছেন। এ অবশ্য খুবই জটিল ভাবনা। এর কোনও… Continue reading নিজেকে জানো -তারাপদ রায়

পথিকের বন্ধু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মহকুমার টাউন থেকে বেরুলাম যখন, তখনই বেলা যায় যায়। কলকাতা থেকে আসছিলাম বরিশাল এক্সপ্রেসে। বারাসাত স্টেশনে নিতান্ত অকারণে (অবশ্য যাত্রীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী) উক্ত বরিশাল এক্সপ্রেস চল্লিশ মিনিট কেন যে দাঁড়িয়ে রইল দারুব্রহ্মবৎ অনড় অবস্থায় তা কেউ বলতে পারলে না। গন্তব্যস্থান বনগাঁয়ে পৌঁছে দেখি রানাঘাট লাইনের গাড়ি চলে গিয়েচে। বেলার দিকে চাইলাম। বেশ উঁচুতেই সূর্যদেব, লিচুতলা… Continue reading পথিকের বন্ধু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়