পেয়ালা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সামান্য জিনিস। আনা তিনেক দামের কলাই-করা চায়ের ডিশ-পেয়ালা। যেদিন প্রথম আমাদের বাড়িতে ওটা ঢুকল, সেদিনের কথা আমার বেশ মনে আছে। শীতকাল, সকাল সকাল খাওয়া-দাওয়া সেরে লেপের মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছি, এমন সময় কাকার গলার সুর শুনে দালানের দিকে গেলাম। কাকা গিয়েছিলেন দোকান নিয়ে কুবেড়ের মেলায়। নিশ্চয়ই ভালো বিক্রি-সিক্রি হয়েছে। উঠোনে দু-খানা গোরুরগাড়ি। কৃষাণ হরু মাইতি… Continue reading পেয়ালা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আইনস্টাইন ও ইন্দুবালা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আইনস্টাইন কেন যে দার্জিলিং যাইতে যাইতে রানাঘাটে নামিয়াছিলেন বা সেখানে স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল হলে ‘On…ইত্যাদি ইত্যাদি’ সম্বন্ধে বক্তৃতা করিতে উৎসুক হইয়াছিলেন—এ কথা বলিতে পারিব না। আমি ঠিক সেইসময়ে উপস্থিত ছিলাম না। কাজেই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ আমি আপনাদের নিকট সরবরাহ করিতে অপারগ, তবে আমি যেরূপ অপরের নিকট হইতে শুনিয়াছি সেরূপ বলিতে পারি। আসল কথা, নাৎসি জার্মানি হইতে নির্বাসিত… Continue reading আইনস্টাইন ও ইন্দুবালা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

চিড়িয়াখানা -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

–ইঃ বাবা রে। এই শালো মানুষ খায়। গেঁয়ো যুবকটি বলল। —গতরখানা দেখেছিস? তার প্রৌঢ় কাকার চোখ পটপটাং হয়ে খুলে আছে। নথ-নাড়া বউটা কথা বলছে না। বাক্যহারা হয়ে গেছে। কুঁচো-কাঁচাদের মধ্যে একটা ছেলে ঘুষি পাকিয়ে লাফাচ্ছে—আয় বাঘ, লড়বি? এক ঘুষিতে মুখ ভেঙে দেব। খাঁচার শিক-এর ওপাশে ভারী চকিত পায়ে অবিশ্রান্ত পায়চারি করছে বিশাল রাজকীয় বাঘ। বিরক্ত,… Continue reading চিড়িয়াখানা -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

চিহ্ন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অন্ধকারে ভেসে যাচ্ছে জ্বলন্ত মোমবাতি। হলুদ আলোয় যেন জলের মধ্যে জেগে আছে ইভার মুখ। মুখখানা এখন ভৌতিক। একটু নীচুতে আলো, শিখাটা হেলছে, দুলছে, কাঁপছে। ইভার মুখে সেই আলো। গালের গর্তে, চোখের গর্তে, কপালের ভাঁজে ছায়া। মুখখানা যেন বা এখন ইভার নয়। ইভা এ ঘর থেকে ও ঘরে যাচ্ছে। মাঝখানের পরদা উড়ছে হাওয়ায়। অমিত বলে–সাবধান। পরদায়… Continue reading চিহ্ন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

চূড়ামণি উপাখ্যান-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঘোড়ার পিঠে চেপে তারা আসে, শেষ রাত্তিরের দিকে। কোথা থেকে আসে আবার কোথায় চলে যায়, কেউ জানে না! ঘোড়াগুলো ছোট হলেও দারুণ তেজী, চৈত্র মাসের ঝড়ের মতন হঠাৎ শোনা যায় তাদের আগমন-শব্দ। কিছুই সামাল দেওয়ার সময় পাওয়া যায় না, আবার উধাও হয়ে যায় চোখের নিমেষে। সংখ্যায় তারা জনাছয়েকের বেশি নয়, যদিও বাড়ি ঘেরাও করার পর… Continue reading চূড়ামণি উপাখ্যান-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

চেতন মিস্তিরির গল্প -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

চেতন মিস্তিরির বাড়ি ছিল সিউরির অদূরে লাখেরাজপুর গ্রামে। মাটির দেওয়াল ঘেরা বাড়ি, ভেতরে দু-খানি ঘর ও একটি রান্নাঘর। একটা গোয়ালঘরও ছিল এক কালে, একবার ঝড়ে তার চালা উড়ে যায়, নতুন করে আর ছাউনি দেওয়া হয়নি, কারণ গোয়ালে আর গরু নেই। চেতন মিস্তিরির বুড়ি মা এখনও বেঁচে আছে, চোখে দেখতে পায় না। কানে শুনতে পায় না।… Continue reading চেতন মিস্তিরির গল্প -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

হাওয়া বদলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বুধুয়াকে তোমার মনে আছে কিনা জানি না। মনে না থাকার কথা নয়, বছরখানেক আগে সে আমাদের কলকাতার বাসায় চাকরি করত। গোলগাল গাল, গোপাল গোপাল চেহারা, মাত্র দু মাস চাকরি করেছিল আমাদের বাসায়, শেষে, মায়ের জন্য মন কেমন করছে বলে কেঁদে–কেটে চলে গেল। যে দু-মাস ছিল তাইতেই বড় ভালো লেগেছিল বুধুয়াকে, তুমি ওকে অকর্মা মনে করতে… Continue reading হাওয়া বদলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রবাসী- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ট্যাক্সিতে হেলান দিয়ে বসে সুরঞ্জন একটা বই পড়ছিল। বইটা এতই আকর্ষণীয় যে সারাদিন সে সেটাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছে, একটু সময় পেলেই পড়ে নিচ্ছে কয়েক পাতা। এবং পড়তে শুরু করলেই গভীর মনোযোগ এসে যায়। এখনও সে বেশ মনোযোগ দিয়েই পড়ছিল, তবু যে কেন হঠাৎ চোখ তুলে জানলার বাইরে তাকাল—সে নিজেই জানে না। সম্ভবত পুলিশের হাতের সামনে… Continue reading প্রবাসী- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রথম মানবী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ভোরবেলা সেই নারী প্রবেশ করল আদিম উদ্যানে। তখন পৃথিবীর সৃষ্টিরও ঊষাকাল। কোথাও কোনও শব্দ নেই। যত দূর দৃষ্টি যায় মনুষ্য আকারের আর কোনও প্রাণী নেই। লতা গুল্মে, ক্ষুদ্র-বৃহৎ তরু-বৃক্ষে ফুটে আছে বিভিন্ন বর্ণের ফুল, সেগুলিরও নাম নেই। কোথাও ফুল থেকে ফল ফলেছে, কোনও-কোনও গাছের শাখা ফলভারে নুয়ে পড়েছে, সেইসব ফলও নামহীন। এখানে ফুলের সৌরভে আর… Continue reading প্রথম মানবী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পুরোনো স্পর্শ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রথম দর্শনে বুকটা খুব দমে যায়। মনে হয় যেন সম্পূর্ণ একটা অচেনা বাড়ি! লোহার গেটের দু পাশে দোকান ঘর, তারপর সরু এক চিলতে বাগান, তাতে কিছু চন্দ্রমল্লিকা নেতিয়ে আছে। একজন ছুতোর মিস্ত্রি চেয়ার সারাচ্ছে এক পাশে বসে। বাড়ির ভেতর থেকে একটি চোদ্দো পনেরো বছরের ছেলে বেরিয়ে এসে প্রায় ছুটতে-ছুটতে চলে গেল গেটের বাইরে। ভদ্রলোকটি বললেন,… Continue reading পুরোনো স্পর্শ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়