এশা বলল, মা আপাকে সাধারণ ঘরে পরার একটা শাড়ি পরতে বলব ? বল। তাের বাবা আবার রাগ না করে। শখ করে একটা শাড়ি কিনে এনেছে।বাবা কিছু বুঝতে পারবে না। বাবা খুব টেনশনে আছে তাে। টেনশনের সময় মানুষ কিছু বুঝতে পারে না। বাবা ভালমতাে আপার দিকে তাকাবেই না । মেয়েরা যখন বড় হয়ে যায় তখন বাবারা… Continue reading বৃষ্টি বিলাস (পর্ব-৩)- হুমায়ূন আহমেদ
Author: Admin
বৃষ্টি বিলাস (পর্ব-২)- হুমায়ূন আহমেদ
ছেলের নাম আতাউর । কী সর্বনাশ খাতাউর আবার মানুষের নাম হয় ? নাম শুনলেই মনে হয় খাতাউর সাহেব হাঁ করে আছেন— খেয়ে ফেলার জন্যে। খাতাউর না, আতাউর। শামা তুই ইচ্ছা করে ফাজলামি করছিস। এইসব ঠিক না। পানি আনার ব্যবস্থা কর মা। আসল কথা বলতে ভুলে গেছি। মা শশান, লাল চুড়ি আছে ? তােমার ট্রাংকেতাে অনেক… Continue reading বৃষ্টি বিলাস (পর্ব-২)- হুমায়ূন আহমেদ
বৃষ্টি বিলাস- (পর্ব-১)- হুমায়ূন আহমেদ
রিকশা থেকে নেমেই শামা দেখল তাদের বাসার বারান্দার কাঠের চেয়ারে কে যেন বসে আছে। কাঠের চেয়ারের পেছনের একটা পা ভাঙা। চেয়ারটা দেয়ালে হেলান না দিয়ে বসা যায় না। কিন্তু যে বসেছে সে চেয়ারটা বারান্দার মাঝামাঝি এনেই বসেছে। একটু অসাবধান হলেই উল্টে পড়বে। শামার বুক ধুকধুক করতে লাগল। যে-কোন সময় একটা একসিডেন্ট ঘটবে এটা মাথায় থাকলেই… Continue reading বৃষ্টি বিলাস- (পর্ব-১)- হুমায়ূন আহমেদ
ক্লাস ফ্রেণ্ড – সত্যজিৎ রায়
সকাল সোয়া নটা।………..মোহিত সরকার সবেমাত্র টাইয়ে ফাঁসটা পরিয়েছেন, এমন সময় তাঁর স্ত্রী অরুণা ঘরে ঢুকে বললেন, ‘তোমার ফোন।’………..‘এই সময় আবার কে?’………………..কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে নটায় অফিসে পৌঁছানোর অভ্যাস মোহিত সরকারের; ঠিক বেরোনোর মুখে ফোন এসেছে শুনে স্বভাবতই তাঁর কপালে ভাঁজ পড়ল। অরুণাদেবী বললেন, ‘বলছে তোমার সঙ্গে ইস্কুলে পড়ত।’………..‘ইস্কুলে? বোঝ!—নাম বলেছে?’…………‘বলল, জয় বললেই বুঝবে!’……..ত্রিশ বছর আগে ইস্কুল… Continue reading ক্লাস ফ্রেণ্ড – সত্যজিৎ রায়
ভয় (শেষ-পর্ব)-হুমায়ূন আহমেদ
আমি বললাম, এরা কারা? ‘জানি না। কিছু জানি না। আপনি থাকায় কেন জানি একটু ভরসা পাচ্ছি। যদিও জানি আপনি কিছুই করতে পারবেন না। কিছুই না, কিছুই না, কিছুই না …. মেয়েটি হাপাতে শুরু করল আর তখন সেই ভারী এবং শ্রেষা জড়ানাে কণ্ঠ চিৎকার করে বললাে, সময় শেষ। দৌড়াও দৌড়াও, দৌড়াও …।। সেই চিৎকারের মধ্যে ভয়ংকর… Continue reading ভয় (শেষ-পর্ব)-হুমায়ূন আহমেদ
ভয় (পর্ব-১৮)-হুমায়ূন আহমেদ
আমার প্রফেসর ছিলেন ডঃ সুইন হার্ন। দুঃস্বপ্নের ব্যাপারে যাকে পৃথিবীর সেরা বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। দুঃস্বপ্ন এ্যানালিসিসের তিনি একটা টেকনিক বের করেছেন যার নাম সুইন হার্ন এ্যানালিসিস। সুইন হার্ন এ্যানালিসিসে ব্যাখ্যা করা যায় না এমন সব দুঃস্বপ্নের একটা ফাইল তাঁর কাছে ছিল। সেই ফাইল তিনি তার গ্রাজুয়েট ছাত্রদের দিতেন না। আমাকে তিনি খুবই পছন্দ করতেন… Continue reading ভয় (পর্ব-১৮)-হুমায়ূন আহমেদ
ভয় (পর্ব-১৭)-হুমায়ূন আহমেদ
আমি তখন নিশ্চিত হবার জন্যে বললাম, আমার সঙ্গে চারটা ভাত খান। আপনি রাজি হয়ে গেলেন। আমি ধরে নিলাম – রাগারাগি হয়েছে এবং আপনার স্ত্রী বাসায় নেই। আপনার একা একা লাগছে বলেই আপনি এসেছেন আমার কাছে। এই সিদ্ধান্তে আসার জন্যে শার্লক হােমস হতে হয় না। একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বুঝা যায়। আমি কিছু বললাম না।… Continue reading ভয় (পর্ব-১৭)-হুমায়ূন আহমেদ
ভয় (পর্ব-১৬)-হুমায়ূন আহমেদ
মেয়েটি দরিদ্র ইমামকে বিয়ে করে কঠিন মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়েছে। একই সঙ্গে সে লােকটিকে প্রচণ্ড ভালােবাসে আবার প্রচণ্ড ঘৃণাও করে। কি ভয়াবহ অবস্থা। ‘মেয়েটি ইমামকে প্রচণ্ড ঘৃণা করে এটা কেন বলছেন? ‘ইমামতি পেশা মেয়েটির পছন্দ নয়। পছন্দ নয় বলেই মেয়েটি কফিলের গলায় বলেছে – ইমাম আসছে। অজুর পানি দে, জায়নামাজ দে, কেবলা কোনদিকে বলে দে।… Continue reading ভয় (পর্ব-১৬)-হুমায়ূন আহমেদ
ভয় (পর্ব-১৫)-হুমায়ূন আহমেদ
রাতে একসঙ্গে খাওয়া–দাওয়া করলাম। তিনি প্রায় দু‘ঘণ্টা কাটিয়ে বাড়ি চলে গেলেন — ইমাম সাহেবের গল্প বলা হলাে না। তিনি চলে যাবার পর মনে হলাে – ইমাম সাহেবের গল্পটাতাে তাকে শােনানাে হলাে না। আমি আমার মেয়েকে বলে রাখলাম যে এরপরে যদি কখনাে মিসির আলি সাহেব আমাদের বাসায় আসেন সে যেন আমার কানের কাছে ‘ইমাম বলে একটা… Continue reading ভয় (পর্ব-১৫)-হুমায়ূন আহমেদ
তারিণীখুড়ো ও বেতাল – সত্যজিৎ রায়
শ্রাবণ মাস, দিনটা ঘোলাটে, সকাল থেকে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে, তারই মধ্যে সন্ধের দিকে তারিণীখুড়ো এসে হাজির। হাতের ভিজে জাপানি ছাতাটা সড়াত করে বন্ধ করে দরজার পাশটায় দাঁড় করিয়ে রেখে তক্তপোশে তাঁর জায়গাটায় বসে তাকিয়াটা টেনে নিয়ে খুড়ো বললেন, কই, আর সবাইকে ডাক, আর নিকুঞ্জকে বল নতুন করে জল ফুটিয়ে এক কাপ চা করতে। লোড… Continue reading তারিণীখুড়ো ও বেতাল – সত্যজিৎ রায়