-সাইকেলরিকশাে বা একাগাড়ি? চা-ওয়ালা হাসল। আজ্ঞে না। খামােকা কেন রাত্তিরবেলা ওরা আসবে? বাবুমশাই! আপনি বড় ভুল করেছেন। আসবার সময় দেখেননি সােনাগড় জংশনে হঠাৎ ট্রেনের কামরায় বেজায় ভিড় হয়েছিল? মনে পড়ে গেল। বললুম,—তুমি ঠিক বলেছ। কামরা একেবারে ফঁকা ছিল। হঠাৎ ওই জংশনে ভিড়ের চাপে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিলাম। ব্যাপারটা হল, এ তল্লাটের অসংখ্য লােক সােনাগড়ে কলকারখানায় চাকরি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৪
Author: Admin
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৩
কিন্তু ভূত হলে কী হবে? দেহের ওপর মায়া কি সহজে যায়? কিন্তু দেহ তাে তখন কঙ্কাল! আমার মনে হচ্ছে, ওই দুই ভূতের মধ্যে খুলি বদল হয়ে গিয়ে গণ্ডগােল বেধেছিল। ছােটমামা বলেছিলেন, ঠিক বলেছ মােনাদা! একজন ছিলেন সাদাসিধে ভদ্রলােক। অন্যজন ছিলেন কোনও সাধুবাবা। দিদিমা বলেছিলেন, তা না হয় বুঝলুম। কিন্তু যে যার নিজের খুলি ফেরত… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৩
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১২
ভদ্রলােক শুধু বললেন,—দেখা যাক।… কালিকাপুর স্টেশনে নামবার পর একদল বরযাত্রী বর-কনে নিয়ে হইহই করে ট্রেনে উঠছিল। সেই ভিড়ে ভদ্রলােককে আর দেখতে পেলুম না। কথাটা ছােটমামাকে বললুম। ছােটমামা বিরক্ত হয়ে বললেন,—ছেড়ে দে তাে পাগলের কথা। দেখেই বুঝেছিলুম বদ্ধপাগল। পা চালিয়ে চল। সাড়ে ছ’টার ট্রেনে আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে। কিছুক্ষণ পরে ছােটমামা হাঁটার গতি কমালেন। সামনেই… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১২
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১১
তিনি বটগাছে লুকিয়ে থাকেন। মা করুণমুখে বললেন, তা হলে তুমি নিজেই সেই গানের মাটি এনে দাও না মােনা! মােনা হাসল।-“ওরে বাবা! আমাকে থানের ত্রিসীমানায় দেখলে বাবা কন্ধকাটা রে-রে করে তেড়ে আসবেন। তবে তাঁর থানের মাটি আনার সহজ উপায় আছে। বাবা কন্ধকাটা ছােটদের খুব ভালােবাসেন। এই খােকাবাবু থানে গিয়ে এক খাবলা মাটি তুলে রুমালে বেঁধে আনে,… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১১
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১০
যাই হােক, দিদিমা সেই যে শয্যাশায়িনী হলেন তাে হলেন। নাড়ডাক্তারের মােক্ষম সব ইঞ্জেকশন আর ওষুধে কাজ হল না। এরপর শহরের ডাক্তার নিয়ে এসেছিলেন বাবা। তিনিও দিদিমাকে বিছানা থেকে ওঠাতে পারলেন না। কোমরের যন্ত্রণাও কমল না। শেষে এলাকার নামকরা কবিরাজমশাইকে আনা হল। লােকে তাকে সাক্ষাৎ ধন্বন্তরী’ বলত। কিন্তু তাঁর ওযুধেও কাজ হল না। আমার মনে পড়ে,… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১০
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৯
মায়ের ডাকাডাকিতে ছােটমামার সাড়া পাওয়া গেল না। যাবে কী করে? ছােটমামাকে দুপুরে খাওয়ার পর সেজেগুজে বেরিয়ে যেতে দেখেছিলুম। মাকে কথাটা জানিয়ে দিলুম। মা খাপ্পা হয়ে বললেন,“আসুক ছােটকু। দেখাচ্ছি মজা। ও থাকলে তােমাকে নিয়ে যেত। দিদিমা বললেন,“আমার পুটুদাদামণিই যথেষ্ট। চলাে ভাই! মা আমার দিকে চোখ কটমটিয়ে বললেন, দিদার সঙ্গী হয়ে তুমি যেন ভিড়ে হারিয়ে যেও না।… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৯
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৮
না স্যার। তবে সে উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা সব ভাষাতেই কথা বলতে পারত। কলকাতাতে নাকি তার ছােটবেলা কেটেছিল। স্কুলেও পড়েছিল। তাই বাংলাও বলতে পারত। আজমগড়ে বাঙালি আছে। তারা তাে কান্নুকে বাঙালি বলেই মনে করত। কাম্পু কখন কোন রূপ ধরত, চেনা কঠিন হতাে। কাঙ্কুর লাশ কি পুলিশ নিয়ে গেছে? —শুনলুম একটু আগে মর্গে নিয়ে গেছে।… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৮
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৭
বললুম,—এখন পাচ্ছি না। কিন্তু আমার কথা থেমে গেল। এরপর যা ঘটল তা কল্পনাও করিনি। হঠাৎ টর্চ নিভিয়ে অশােকবাবু আমার কানের নিচে শক্ত এবং ঠান্ডা কী একটা জিনিস ঠেকিয়ে চাপা গর্জন করে বললেন,—টু শব্দটি নয়। ট্রিগারে আঙুল আছে। একটু চাপ দিলেই তােমার মুন্ডু উড়ে যাবে। আগে ক্যামেরাটা দাও। হ্যা—তারপর রিস্টওয়াচ। আর মানিব্যাগটা বের করাে। মুহূর্তে আমি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৭
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৬
জীবনে বহু ঐতিহাসিক ধ্বংসস্তুপ এবং দুর্গম স্থানে গেছি। কিন্তু এমন অদ্ভুত ঘটনা কোথাও ঘটতে দেখিনি। হােটেলের লাউঞ্জে বসে ইশারায় একজন ওয়েটারকে ডেকে কফি আনতে বললুম। সে কফি এনে দিল। কফি খেতে-খেতে ঘটনাটা ঠান্ডা মাথায় বােঝবার চেষ্টা করছিলুম। এমন সময় দেখি, লাউঞ্জের অন্যপ্রান্তে একজন ভদ্রলােক দাঁড়িয়ে আছেন। পরনে জিনস এবং টি-শার্ট। মুখে গোঁফ। বেশ বলিষ্ঠ গড়ন।… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৬
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৫
একটু পরে দূর থেকে দেখলুম, ফকির আলখাল্লা খুলে রেখে জলে ঝাপিয়ে পড়লেন। ওখানে জল খুব গভীর। ফকির সেই জলে সাঁতার কাটছেন দেখে অবাক লাগল। একটা ঝােপের আড়ালে দাঁড়িয়ে তাঁকে লক্ষ করছিলুম। কিছুক্ষণ পরে ফকির জল থেকে উঠে ভিজে গায়েই কালাে আলখাল্লা পরে নিয়ে চিমটেসহ এগিয়ে গেলেন। তারপর ধ্বংসস্তুপের আড়ালে অদৃশ্য হলেন। ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগল। ওঁকে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৫