Categories
চাকরির-খবর

সিপিডিতে নিয়োগ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট পদে

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট পদে এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

 

যোগ্যতা

যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি, উন্নয়ন অধ্যয়ন, পরিবেশ অর্থনীতি, পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাসক করা প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

বেতন

নিয়োগপ্রাপ্তরা ৪২ হাজার টাকা বেতন পাবেন প্রতি মাসে।

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীরা তাঁদের জীবনবৃত্তান্তসহ ইমেইলের মাধ্যমে (career@cpd.org.bd) আবদেন করতে পারবেন। আবেদন করা যাবে আগামী ৬ আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত।

Categories
জাতীয়

উচ্চ মাধ্যমিকে পাস ৬৮.৯১%, পূর্ণ জিপিএ ৩৮ হাজার

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফল হস্তান্তর করেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী।

এবছর সারাদেশে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। যা গতবারের চেয়ে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। এ বছর মোট পাস করেছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন পরীক্ষার্থী। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮১৫ জন। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৯৪ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন।

বেলা দেড়টায় সংবাদ সম্মেলনে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। এরপর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন ও এসএমএসে ফল জানতে পারবে।

নজিরবিহীন সতর্কতার মধ্য দিয়ে ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় সারাদেশের ৮ হাজার ৮৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন ছাত্র এবং ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন ছাত্রী বলে শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

যেভাবে জানবেন এইচএসসির ফলাফল:
মোবাইল ও বোর্ডের ওয়েব সাইট থেকে ফলাফল জানা যাবে। মোবাইল ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। যেমন:- HSC DHA 000001 2017

মাদরাসা বোর্ডের আলিমের ক্ষেত্রে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
যেমন: Alim Mad 0000001 2017

ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
য়েমন:- HSC Tec 00000001 2017

ফিরতি এসএমএসে শিক্ষার্থীদের ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে। তবে বোর্ডের ফলাফল প্রকাশের পরই তা জানা যাবে। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd/ থেকেও ফলাফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

ফল পুনঃনিরীক্ষা:

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ২৪ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে।

ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইযেন্টিফিকেশন নম্বর-PIN) দেয়া হবে।

আবেদনে সম্মত থাকলে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ’ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে।

যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে।

একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

Categories
জাতীয়

ইংরেজি ঝড়ে বিপর্যস্ত যশোর-কুমিল্লা

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আজ সারাদেশে প্রকাশ পেয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট। এ ফলাফলে দেখা গেছে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ড থেকে সর্বনিম্ন ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৭৮ জন। গতবছর কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার ১৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে।

বোর্ড থেকে এবার মোট ১ লাখ ৩৭২ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এদের মধ্যে পাস করেছে ৪৯ হাজার ৭০৪ জন। এছাড়া বোর্ড থেকে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করতে পারেনি। ইংরেজিতেই ফেল করেছে ৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষাতেও কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয় ঘটে। এসএসসিতে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭২.৭২ শতাংশ, মানবিক বিভাগ থেকে ৩৮.৩১ ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৪৯.৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

অন্যদিকে, ইংরেজি ঝড়ে বিপর্যস্ত যশোর শিক্ষা বোর্ড। এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করতে পারেননি। যে কারণে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় কমে গেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধবচন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘এ বছর ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছে। অন্যান্য বছর যেখানে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার থাকে ৯০ শতাংশের ওপরে। এবার সেখানে মাত্র ৭২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যে কারণে সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা পদার্থ ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে ভালো করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে ভালো করলেও এ দুটি বিষয়ে ধরা খেয়েছে। এ কারণে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে।’

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর যশোর বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৫ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৭ হাজার ২০০ জন। জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ২ হাজার ৪৪৭ জন পরীক্ষার্থী। মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ০২ শতাংশ। যেখানে গত বছর ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয় ১ লাখ ৮ হাজার ৯২৯ জন। জিপিএ-৫ পায় ৪ হাজার ৫৮৬ জন। মোট পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ ও পাসের হার উভয় দিক থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফল বিপর্যয় ঘটেছে।

Categories
জাতীয়

ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন এইচএসসির ফলাফল

7442da0bb3bb5120

রবিবার (২৩ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দুপুর ১টায় সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফলের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরবেন।

এরআগে সকালে বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেবেন। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। গত ২ এপ্রিল থেকে ১৫ মে এইচএসসির তত্ত্বীয় এবং ১৬ থেকে ২৫ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়েছে। দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুর দেড়টা পর থেকে সারাদেশে একযোগ ফল প্রকাশ করা হবে।

যেভাবে জানবেন এইচএসসি ফলাফল:-

মোবাইল ও বোর্ডের ওয়েব সাইট থেকে ফলাফল জানা যাবে। মোবাইল ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। যেমন:- HSC DHA 000001 2017

মাদরাসা বোর্ডের আলিমের ক্ষেত্রে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
যেমন: Alim Mad 0000001 2017

ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
য়েমন:- HSC Tec 00000001 2017

ফিরতি এসএমএসে শিক্ষার্থীদের ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে। তবে বোর্ডের ফলাফল প্রকাশের পরই তা জানা যাবে। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd/ থেকেও ফলাফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

Categories
খেলাধুলা

এগিয়ে থেকেও তাজিকিস্তানের বিপক্ষে হারল বাংলাদেশ

 হারল বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৭-০ গোলে গোলে হেরে যায় অনূর্ধ্ব ২৩ দল। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে গেল তকলিচ-সোহেল রানারা। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল হজম করে হয় তাদের।

আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের ভাগ্য পরিক্ষার করার জন্য নেমেছিল। প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল খেলে অনূর্ধ্ব ২৩ দল। তাজিকরা বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়ালেও এই অর্ধে গোল পায় বাংলাদেশই। ৩৫ মিনিটে সোহেল মিয়ার দেওয়া গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। এই অর্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লাল-সবুজের দল।

কিন্তু, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর পেরে ওঠেনি সফরকারীরা। রক্ষণের ভুলে ৫৬ মিনিটে গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপর ৬৭ মিনিটে লিড নেয় তাজিকরা। আর ম্যাচের শেষ সময়ে আরো এক গোল করে ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচটা জিতে নেয় তাজিকিস্তান। প্রথম ম্যাচেও দ্বিতীয়ার্ধটা বাজে খেলে বাংলাদেশ। জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দুটি গোল হলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরো পাঁচ গোল হজম করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ২৩ দল। আগামী রোববার গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

Categories
খেলাধুলা

আবারো নতুনভাবে ফিরতে মরিয়া আশরাফুল

আবারো নতুনভাবে ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। তাই নিয়মিত শরীরের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের সেই ফিটনেস ফিরিয়ে আনতে লড়ছেন অনবরত। আর সে লক্ষ্যে গতকাল (বৃহস্পতিবার) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে হাঁটলেন সেই বনশ্রী পর্যন্ত! তার এহেন কাণ্ড নজর কেড়েছে সমর্থকদের।বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আশরাফুল। তারপর আপিল করে শাস্তি কমানো এবং মাঠে ফেরা। এখনও আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোর জন্য সবুজ সংকেত পাননি সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই অধিনায়ক। ভরসা তাই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে। যেহেতু এখন মৌসুম নেই, তাই নিজের ব্যক্তিগত অনুশীলন ও জিম করে নিজেকে শতভাগ ফিট রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত আশরাফুল।

সেটাই করছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের জন্য যেখানে ফিটনেস ক্যাম্প করছে জাতীয় দল, আশরাফুল তাদের সাথেই ঘাম ঝরাচ্ছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনুমতি নিয়েই অনুশীলন করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মুশফিক-রিয়াদদের সঙ্গে ফুটবলও খেললেন জিম শেষে।

কিন্তু ফেরার পথে গাড়িতে না উঠে হাঁটলেন সেই বনশ্রী পর্যন্ত! দুরত্বর হিসেবে প্রায় ১২ কিলোমিটার হাঁটার উদ্দেশ্য, ফিটনেস ঠিক না রাখতে পারলে ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। সেটাই করেছেন তিনি।  বলেছেন, ‘এটা আমার ফিটনেস রক্ষার উপায় হিসেবে দেখছি।’

Categories
প্রবাস

সৌদিতে আগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ নিহত ১১

আগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নিহত ১১

সৌদি আরবে আগ্নিকান্ডে বাংলাদেশিসহ ১১ জন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। আজ(বুধবার) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জন অভিবাসী শ্রমিক মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ৬ জন। জানালাবিহীন একটি বাড়িতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে তাঁরা মারা যান। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিক। সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের খবরে এ কথা জানানো হয়।

নাজরান প্রদেশের ফায়ার সার্ভিস এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানালাবিহীন এমন একটি ঘরের আগুন নিভিয়েছে, যেখানে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নেই। এতে ১১ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে ছয়জন।’ টুইট বার্তায় বলা হয়, নিহত ব্যক্তিদের সবাই ভারত ও বাংলাদেশের।

Categories
প্রবাস

ভারতীয় পরিচয়ে দুই বাংলাদেশি

 

f87ab8a6xc759x4

নিউজ ডেস্ক : ভারতের অন্য রাজ্যে কিছুদিন বসবাস করে, সেখানকার নাগরিক হিসেবে জাল ভোটার, প্যান, আধার কার্ড তৈরি করে ফেলছে বাংলাদেশিরা। সেই নথি দাখিল করে সহজেই ভারতীয় পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলছে। পেট্রাপোল সীমান্তে এমন দুটি ঘটনা ধরা পড়ায় চিন্তার ভঁাজ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক মহলে।
বাংলাদেশের নড়াইল জেলার বাসিন্দা, দরিদ্র পরিবারের যুবতী সাদিয়া খানম ২০১২ সালে চোরাপথে ভারতে এসে বেঙ্গালুরুতে এক পরিচিতের বাড়িতে পরিচারিকা হিসেবে আশ্রয় নেয়।

বছরখানেক কাজ করে কিছু টাকা জোগাড় করে ফের সে চোরাপথে বাংলাদেশের বাড়িতে ফিরে যায়। এরপর সেখান থেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট বানিয়ে সে ফের ভারতের বেঙ্গালুরুতে যায়। সেখানে দালাল মারফত ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ‘‌সুমি’‌ নাম নিয়ে নিজের নামে ভারতীয় ভোটার, প্যান, আধার কার্ড বানিয়ে ফেলে।

সেই জাল নথি দাখিল করে নিজের নামে ভারতীয় পাসপোর্টও বানিয়ে ফেলে। বৃহস্পতিবার সেই পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার সময় সে অভিবাসন দপ্তরের হাতে ধরা পড়ে যায়।

বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাসিন্দা ফরকানুল ইসলাম নামে এক যুবক কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তার ধারণা ছিল, বাংলাদেশির বদলে একজন ভারতীয় হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরি করলে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে। আর তাই সে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেখান থেকে সে বেঙ্গালুরুতে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে ওঠে। সেখানে বসেই সে নিজেকে একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজের নামে জাল ভারতীয় ভোটার, প্যান, আধার কার্ড বানিয়ে সেই নথি দাখিল করে ভারতীয় পাসপোর্টও বানিয়ে ফেলে।

ইতিমধ্যে বিশেষ কাজে সে ২৩ মে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছিল। সীমান্তে কাগজপত্র পরীক্ষা করার সময় সে ধরা পড়ে যায়।
দু’‌দিনের ব্যবধানে সীমান্তে এমন দুটি ঘটনা ধরা পড়ার পর অবাকই হয়েছেন অভিবাসন দপ্তরের আধিকারিকেরা। পাসপোর্টের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকত্বের নথি কীভাবে এত সহজে ভারতের মাটিতে বসে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে, তা তৈরি করে ফেলছে, সেই বিষয়টি বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।

 

Categories
মতামত

এভাবে আর কতদিন!

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ১৪.৬ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে শুধুমাত্র ৩২৫ বর্গকিলোমিটারে। অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটারে  ১১,৫০০ জনের বসবাস। এসব শুধুই কিছু সংখ্যা মনে হতে পারে, কিন্তু ঢাকার বাসিন্দারা প্রতিদিনই এই সংখ্যাগুলো  কেন এতটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, টের পাচ্ছেন। ঢাকায় বসবাসকারী সকলের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মাঝে এটি অন্যতম।

পৃথিবীর কোন শহর তার প্রতিটি জায়গার  ব্যবহার এতটা পরিপূর্ণভাবে করেনি যতটা ঢাকা করছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, হংকং এর তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি ঘনত্ব নিয়ে বসবাস করছে। হ্যাঁ, এইসব সমস্যা পুরনো, কিন্তু আজও রাজধানীর বাসিন্দারা ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার যানজটে মাথায় উচ্চ তাপমাত্রা নিয়েই কাজে যায়, আবার সেই তাপমাত্রা নিয়েই বাড়ি ফেরে। একই সময়ে শতাধিক মানুষের একই রাস্তায় প্রতিদিন আটকে থাকাটা ঢাকার নতুন সমস্যা নয়। তবুও প্রত্যেকের মন আজও এ সমস্যার সমাধান খোঁজে। এই বিরাট সমস্যার সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ তার মাঝে অন্যতম একটি।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার জাপানের সাথে মেট্রোরেল নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২.৮ বিলিয়ন অর্থের এ চুক্তিটি হয় ২০.১ কিলোমিটার লাইনের, আর রেললাইনের সূচনা হওয়ার কথা ঢাকার পল্লবী থেকে অর্থাৎ ঢাকার উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণাংশে যাতায়াতের উদ্দেশ্যে। চুক্তিমতে ২০১৯ সালের মধ্যে ১,৮০০ যাত্রী বহন করে ৫৬ টি ট্রেনের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। এ চুক্তিতে ঢাকাবাসীদের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ও মনে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ এখানেই সমস্যার অবসান ঘটার কথা ছিল, কিন্তু তা হলো না।

দুই বছর পর যে রেললাইনের সূচনা ঘটার কথা, সেই লাইনের নির্মাণ কাজে আজকের ঢাকাবাসী ভয়ানক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। রেললাইন নির্মাণের জন্য দুপাশের রাস্তা আরো সরু হয়ে গেছে এবং অনন্ত জ্যামের মাঝে অনন্ত সময়ের জন্য আটকে থাকতে হচ্ছে ঢাকাবাসীকে। এমনিতেও দূষিত বায়ু ও পরিবেশের জন্য বসবাসে দ্বিতীয় অযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার নাম এসেছে, তার ওপর এই নির্মাণ কাজে যত প্রকার ধুলাবালি তৈরী হচ্ছে তা বেশিরভাগ বাসিন্দাকে চিকিৎসকের শরণার্থী করে তুলছে। অর্থাৎ অল্প অল্প করে সকলেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

এভাবে আর কতদিন!

নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে, কাজ শুরু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই ছোট ছোট সমস্যা দেখা দিতে থাকে, সমস্যাটি হয় রাস্তা কিছুটা সরু হওয়ার কারণে। রাস্তা কিছুটা সরু হওয়ায় সমস্যাও ছোট লাগছিল। কিন্তু সমস্যার আকার বাড়তে থাকে দিন যেতে যেতে। শুরু হয় শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া থেকে মিরপুর ১০ পর্যন্ত। মিরপুর ১০ এর গোলচক্করের জ্যাম পুরনো। কিন্তু রেললাইনের নির্মাণ কাজের কারণে এক মহাযানজটের সুত্রপাত শেওড়াপাড়া থেকেই ঘটে। সামনের দিনগুলোতে এ জ্যাম হয়তো আরো আগে থেকেই শুরু হবে। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম এ বসে থাকার জন্য যে সমাধান তৈরী করা হচ্ছিল, আজ তার নির্মাণ কাজ আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই শেষ নয়। ঢাকার শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকাসমূহে বছরে প্রায়  বারো মাসই রাস্তা ঠিক করতে দেখা যায়, এসব এলাকার বাসিন্দারা এমনিতেও শুধুমাত্র গলি ছোট হওয়ার কারণে ভোগান্তিতে থাকে, এর ওপর এসব সরু ও ছোট গলি বারবার কাটা হলে তাদের ভোগান্তি কল্পনারও বাইরে চলে যায়।

এখন এই রেললাইনের নির্মাণ কাজের উদ্দেশ্যে মাটির নিচে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক , গ্যাসীয় ও পানির তারের কাজের কারণে রাস্তা প্রায় সব দিক দিয়েই কাটা থাকে। আবার বিভিন্ন বাসায় টেলিফোনের তার বা গ্যাস বা পানি অথবা বিদ্যুৎ এর তারের কাজের কারণে হঠাৎ বিদ্যুৎ বা পানি বা গ্যাস না থাকাটা এসব এলাকায় বসবাসকারীদের জীবনের একটি দৈনন্দিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৯ সালের মধ্যে যে সুবিধা ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন আমরা বুনছি, সে স্বপ্ন পূরণ হোক আমরা সবাই চাই। কিন্তু এ স্বপ্ন পূরণের স্বার্থে আজ আমরা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ঢাকাবাসী তাই aআবার ওই প্রশ্নেই ফিরে এসেছে– এভাবে আর কতদিন!

Categories
মতামত

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আগে আমজনতা হোন

 

গত মা‌সে বা‌ড়িওয়ালা ভাড়া বাড়া‌লেন ৯০০ টাকা। বলা নাই কওয়া নাই, ডি‌সেম্ব‌রে এসেই বল‌লেন জানুয়া‌রি থে‌কে বাসা ভাড়া বাড়া‌তে হ‌বে। বাসা ভাড়া ৫০০ আর পা‌নির বিল ৪০০! ‌কেন জান‌তে চাইলে ব‌লে‌ছেন পা‌নির বিল বে‌ড়েছে। আরও নানা বাহানা। এখন আবা‌রো বাড়‌তি টাকা গুণ‌তে হ‌বে।

গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়ে বাস ভাড়াও। হোক না সেটা বাসাবাড়ির গ্যাস কিংবা সিএনজির। বা‌সে উঠ‌লে এখন সি‌টিং এর নামে চ‌লে ডাকা‌তি, ১০ টাকার ভাড়া নেয় ৪০ টাকা! তার উপর নতুন আমদানি ‘স্টু‌ডেন্ট ভাড়া নাই’ এমন স্টিকার অধিকাংশ বা‌সেই। ‌সিএন‌জি‌তে উঠ‌লেই ১০০ টাকার নি‌চে ভাড়া নাই। মিটারে তো চলেই না তারা।

গ্যাসের দাম বাড়লে বরাবরই সব‌কিছুর দাম বা‌ড়ে। অনেক ক্ষে‌ত্রে দ্বিগুণও হয়। তাহ‌লে প্রশ্ন, এখন থে‌কে ওই সি‌টিং ব্যবসায়ীরা বাস ভাড়া কি ৮০ টাকা কর‌বেন? বা‌ড়ি ভাড়া কি বাড়‌তি এখন ১৮০০ টাকা গুন‌তে হ‌বে? সিএন‌জি কি উঠ‌লেই নি‌বে ২০০ টাকা?

অনেক স্টু‌ডেন্টের যে গা‌ড়ি ভাড়া দি‌তে দি‌তে ক‌লে‌জে রে‌জি‌স্ট্রেশ‌নের টাকা, পরীক্ষার ফি দি‌তে পার‌ছেন না, এটা কি সরকারের নজ‌রে নাই? অনেক প‌রিবারের কর্তা ব্যক্তি যিনি বাড়‌তি বাড়ি ভাড়া আর গা‌ড়ি ভাড়া গুন‌তে গি‌য়ে নি‌জের সন্তান‌কে ভা‌লো খাবার খাওয়া‌তে না পে‌রে নি‌জের মু‌খে আহার তুল‌ছেন না, এটা কি জা‌নেন না সরকার?

অনেক যাত্রী, অতি‌রিক্ত বাস ভাড়া দি‌তে না পে‌রে কিংবা সিএন‌জিতে উঠ‌তে না পে‌রে অসহা‌য়ের ম‌তো দি‌নের পর দিন কয়েক মাইল হেঁটে হেঁটে অফিস কর‌ছেন, কা‌জে যা‌চ্ছেন, লেট হ‌লে ব‌সের ঝা‌ড়ি শুন‌ছেন, আর কিছু‌দিন পর পর অসুস্থ হ‌য়ে ঘরে প‌ড়ে থা‌কছেন, চাক‌রি থা‌কে কি থা‌কে না দুশ্চিন্তায় জীবন পার কর‌ছেন, কর্তৃপ‌ক্ষের কি নজ‌রে নাই?

আমা‌দের ক‌ষ্টের টাকা থে‌কে যে অতি‌রিক্ত বাস ভাড়া নেয়া হয়, তার ভাগ তো তাদের প‌কে‌টে যায়। আমরা যারা ব্যাং‌কের মাধ্য‌মে বেতন পাই, সেখান থে‌কে তো ইনকাম ট্যাক্স নেনই, তার উপর কোন বাজার সদাই কর‌লেও সেখান থে‌কে ভ্যা‌টের টাকা রে‌খে দেয়া হয়।

বি‌ক্রেতারা ট্যাক্স দি‌য়ে যা কি‌নে আনেন, ক্রেতা‌দের কাছ থে‌কে অতি‌রিক্ত দাম নি‌য়ে তা পু‌ষি‌য়ে নেন। আমরা হ‌চ্ছি ট্যাক্স গাছ। ঝাড়া দি‌বেন আর ট্যাক্স পড়‌বে।

বাসা বা‌ড়ি‌তে গ্যা‌সের দাম বা‌ড়ি‌য়ে‌ছেন। সাম‌নে গ্যাসও দিবেন না। উদ্দেশ্য রান্নার কাজে পাইপলাই‌ন নি‌ষিদ্ধ ক‌রে এলপি গ্যাস বা সি‌লিন্ডার গ্যাসের বিস্তার বাড়ানো। এ ছাড়া জ্বালানি বিভাগ একটি কর্মকৌশলও প্রণয়ন করেছে, যাতে ২০১৮ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এলপিজি সরবরাহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। উদ্দেশ্য মহৎ, ‌দে‌শের রাজস্ব বাড়বে। ভালো কথা, ‌কিন্তু এই রাজস্ব খা‌বে কে? এত রাজস্ব তো আমা‌দের কোন কা‌জে আস‌ছে না, বেতন বাড়‌ছে আপনা‌দের সরকারি কর্মকর্তা‌দের, আমাদের তো না? দামি গা‌ড়ি চড়‌ছেন, দা‌মি স্কু‌লে পড়ছে আপনা‌দের সন্তান, আমরা কিংবা আমাদের সন্তান‌কে ঠেল‌তে হ‌চ্ছে ভাঙা বা‌সের ভিড়। জনগ‌ণের রক্ত পা‌নি করা প‌রিশ্র‌মের টাকা দি‌য়ে ট্যাক্স রাজস্ব নিয়ে আয়েশ কর‌বেন আপনারা?

গত বছর গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর, দুই চুলার হিসাবে সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকা ব্যয় করেছেন এক মাসে। মাসে ৮৮ ঘনমিটার গ্যাস হিসেবে। সেখানে এলপিজি ব্যবহারে লাগবে দুটি সিলিন্ডার। ১২ দশমিক ৮ কেজি ওজ‌নের একটি বোতলের মূল্য গড়ে ১২০০ টাকা ধরলে সর্বনিম্ন ব্যয় হয় দুই হাজার ৪০০ টাকা। এর বে‌শিও হয় কখনো। আর এখন বাসা বা‌ড়ি‌তে গ্যা‌সের দাম বাড়ি‌য়ে করা হ‌লো ৭৫০ থে‌কে ৮০০ টাকা। সাম‌নে হ‌বে ৯০০ থে‌কে ৯৫০ টাকা। হয়ত আরও বাড়া‌নোর প‌রিকল্পনা আছে। সে হি‌সে‌বে সি‌লিন্ডার গ্যা‌সের দাম কোথায় গি‌য়ে ঠেক‌বে ধারণা আছে কি?

আপনারা যে এল‌পি গ্যা‌স ব্যবহার কর‌তে বল‌ছেন, আমাদের সাধারণ মানুষের  ক্রয় ক্ষমতার ম‌ধ্যে আছে কি? গ্যা‌সের দাম বাড়লে যে এল‌পি গ্যা‌স সি‌লিন্ডা‌রের দামও বাড়ে, সেটা কি জা‌নেন না সরকার? প‌ত্রিকা মারফত জানলাম, গত বছর ডিসেম্বর মা‌সে খুলনার বাজারে ১২ কেজি ওজনের গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার বিক্রি হয়ে‌ছে ৯০০ টাকায়। আর এ বছর জানুয়া‌রি‌তে, যার দাম হয় ৯৫০ টাকা। ওই সময় কয়েকটি কোম্পানি প্রতি সিলিন্ডারে ৩০ থেকে ৫০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। বাড়ানো হয়েছে খালি সিলিন্ডারের দামও।

এছাড়া গত আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠানকে এলপি গ্যাস আমদানি, সিলিন্ডারজাত ও বিপণনের লাইসেন্স দেয়া হ‌য়ে‌ছে। এরমধ্যে প্রায় ৩০টি কোম্পানি এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রমই শুরু করেনি। আর লাইসেন্স বা‌তিল হয়েছে ২০ টির। তার মা‌নে এখন এল‌পি গ্যাস নি‌য়ে কাজ কর‌ছে মাত্র ১০ টি কোম্পা‌নি। ধরলাম আরও দুই এক‌টি বাড়‌লো। কিন্তু, প্রায় ২০ লাখ আবাসিক পরিবার গৃহস্থালির কাজে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করেন। (পরিবা‌রে পাঁচজন সদস্য ধরে) যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৭ শতাংশ। বাকি ৯৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য বিকল্প হলো এলপি গ্যাস।

তাছাড়া নতুন আবা‌সিক ভব‌নে গ্যাস সং‌যোগ বন্ধ ক‌রে দেয়ায় অনে‌কেই বাধ্য হ‌য়ে এল‌পি গ্যা‌সে ঝুঁক‌ছেন। তাই এই সু‌যোগে বা‌ড়ি‌য়ে দি‌চ্ছেন এল‌পি গ্যা‌সের দাম। যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

লেখক: সাংবাদিক বিলকিস ইরানী