পােকামাকড়ের ডাক বেড়ে গেল এতক্ষণে। জোনাকি জ্বলতে দেখছিলাম এখানে ওখানে। কেতাে ফিসফিস করে বলল,-“টু, বেচুদা এখনও ফিরতে না কেন রে? সেই সময় ষষ্ঠীতলার গাছের ওপর টোটোর চেঁচানি শােনা গেল। অ্যাই! কী হচ্ছে?..হি হি হি হি…আরে, মরে যাব!..হি হি হি..ওরে বাবা। হি হি হি হি… তারপর ধপাস শব্দ। চেঁচিয়ে উঠলাম,—টোটো। টোটো। -হি হি হি হি..মরে যাব!… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৪
Author: Admin
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৩
কিন্তু টোটো যতই গোয়ার হােক, ওর ওপর ভরসা রাখা কঠিন। খুব দৌড়বাজ যে! বেগতিক দেখলেই উধাও হয়ে যায়। আর কেবাের স্বভাব হল ভয় পেলেই আমাকে জাপটে ধরা। ভাবনায় পড়ে গেলাম। আমাদের গাঁয়ে অনেকরকম ভূত আছে জানতাম। কিন্তু কখনও তাদের সামনাসামনি দেখতে পাইনি। একজনের নাম ছিল কাঁদুনে। সে নাকি খালের ধারে কেঁদে-কেঁদে বেড়ায়। একজনের নাম ‘হাসুনে’।… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৩
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২২
যশমশাই জলে ঝাপ দিতে যাচ্ছিলেন। তাকে দুহাতে চেপে ধরে বললুম, বরং মােনাওঝাকে ডাকুন যশমশাই! উনি এবার চেঁচিয়ে উঠলেন,—মােনাওঝা কোথায় আছিস রে? ওরে মােনা, শিগগির আয় রে। পেছনে কালাচঁাদের ডাক শােনা গেল। যশমশাই। কী হয়েছে? —আমার সর্বনাশ করেছে গােরাচঁাদ ব্যাটাছেলে! দেখে যা কালাচঁাদ! কালাচাদ ঘাটে এল। তার সঙ্গে একজন জটাজুটধারী লােক। তার হাতে ত্রিশূল। কপাল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২২
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২১
আজ্ঞে হ্যা। কথায় বলে, স্বভাব যায় না মলে! বলে কালাচাদ আমার দিকে ঘুরল। বাবুমশাই! আপনি বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ধােন। ওই দেখুন বাথরুম। আমি আপনার জন্য চায়ের ব্যবস্থা করি। সে রাতে আর কোনও গণ্ডগােল ঘটেনি। তবে শুয়ে পড়ার পর পুকুরের জলে কিছুক্ষণ অন্তর বারদুয়েক ঝপাং করে কার ঝাপিয়ে পড়ার শব্দ শুনেছি। কেউ তালগাছের ডগা থেকে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২১
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২০
রসিকতা করে বললুম,-পাতব শেয়াল ধরার ফঁাদ। কঁদবে শেয়াল হুক্কাহুয়া। যশমশাই ধরবে ধুয়া, ক্যা হুয়া ক্যা হুয়া ? গােরাচঁাদ থমকে দাঁড়িয়ে তেমনই চকচকে দাঁতে হাসল। ওরে বাবা। আপনি যে যশমশাইয়ের কত্তবাবা দেখছি! বাঃ। আমি এবার যশমশাইকে ছড়াটা শুনিয়ে ছাড়ব। এখনও, উনি বাড়ি পৌঁছুতে পারেননি। বলে সে সুর ধরে আওড়াল : নামটি আমার গােরাচঁাদ পাতব শেয়াল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২০
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৯
আমার নাম তারাচরণ যশ। আপনার বন্ধু সানু আমার পদ্য শুনে বলেছিল, যদি কখনও পত্রিকা করি, আপনার পদ্য সবার আগে ছাপৰ যশকাকা! দেড় কিলােমিটার পথ হাঁটতে কথা বলাই ক্লান্তি থেকে বাঁচবার একমাত্র উপায়। তাই বললুম,—আমিও তাহলে আপনাকে যশকাকা বলব! —বলুন! ইচ্ছে যখন হয়েছে, তখন বলুন। -আচ্ছা যশকাকা, সানুদের বাড়িতে কী গণ্ডগােলের কথা বলছিলেন? —এখন এই… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৯
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৮
—তাই বলুন! অবনী চাটুজ্যে এখন কলকাতায় চলে গেছে। অবনী স্কুলে আমার ক্লাসফ্রেন্ড ছিল। তা—মশাই কি অবনীর আত্মীয়? না। অবনীবাবুর ছেলে সন্দীপ আমার বন্ধু। সন্দীপ, মানে সানু আপনার সঙ্গে আসেনি? —সে এখন ব্যস্ত। আমি একা এসেছি। ভদ্রলােক কেন কে জানে মুচকি হাসলেন। তা ভালাে। কালাচঁাদ আছে। গণ্ডগােল পড়লে সে একাই একশাে। একটু চমকে উঠেছিলুম। গণ্ডগােল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৮
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৭
ওর কথা শুনেই আমার মাথা ভোঁ-ভো করছিল। সন্দীপ যেমন জেদি, তেমনই গোঁয়ার-গােবিন্দ। করুণমুখে বললুম, সন্দীপ। তাের পত্রিকায় লিখে কি টাকা নিতে পারি? কিন্তু কথাটা কী জানিস? ভূতের আর একটুও চাহিদা নেই। সেই মান্ধাতার আমল থেকে ভূত নিয়ে এত লেখা হয়ে গেছে যে, পাঠক ভূতকে আর একটুও ভয় পায় না। তাছাড়া স্বনামধন্য ত্রৈলােক্যনাথ মুখােপাধ্যায় ভূতের সার… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৭
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৬
কাঞ্চনপুর আরও প্রায় এক কিলােমিটার। সেখানে কাদের বাড়ি যাবেন? —নির্মল সিংহের বাড়ি। —ও! সিঙ্গিমশাইদের বাড়ি? চলুন। আমার বাড়িও ওই গ্রামে। তবে সাবধান, আপনি আগে-আগে চলুন। আমি যাব পেছনে! —কেন? আমাকে কি আপনি ভয় পাচ্ছেন? —কিছু বলা যায় না! হরির হােটেলে এ পর্যন্ত যারা খেয়েছে তারা সবাই কেঁসে গেছে। —আহা! বলছি তাে আমার কিছু হয়নি! লােকটি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৬
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৫
অগত্যা হােটেল থেকে বেরিয়ে আসছি, হরি হঠাৎ ব্যস্তভাবে ডাকল, স্যার! শুনুন স্যার! ঘুরে দাঁড়ালুম। সে আমাকে অবাক করে ছটা অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট আমার হাতে গুঁজে দিল। বললুম,—অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট কী হবে? হরি মুচকি হেসে বলল,—বাইরের মানুষ! হরির হােটেলে খেয়েছেন। যদি দৈবাৎ অম্বল হয়-টয়! আপনি আমার এ রাত্তিরের একমাত্র খদ্দের স্যার! আপনি আমার সার্টিফিকেটও বটে। বলে সে হােহাটেলে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৫