ঠাকুরদা -উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

একগ্রামে এক বুড়ো ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাঁর নাম ছিল ভবানীচরণ ভট্রাচার্য। গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে তাঁর খুব ভাব ছিল। তাঁরা তাঁকে বলত ঠাকুরদাদা। তাদের কাছ থেকে শিখে দেশসুদ্ধ লোকেও তাঁকে ঐ নামেই ডাকত।..ছেলেরা ঠাকুরদার কাছে খুবই আদর পেত, আর তাঁকে জ্বালাতন করত তার চেয়েও বেশি। ঠাকুরদা ভারি পণ্ডি আর বুদ্ধিমান ছিলেন। খালি এক বিষয়ে তাঁর একটা পাগলামি… Continue reading ঠাকুরদা -উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

কুদ্দুসের এক দিন – হুমায়ূন আহমেদ

মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস পত্রিকা অফিসে কাজ করে।…..বড় কাজ না, ছোট কাজ–চা বানানো, সম্পাদক সাহেবের জন্যে সিগারেট এনে দেয়া। ড্রাইভার গাড়িতে তেল নেবে সঙ্গে যাওয়া, যাতে তেল চুরি করতে না পারে। এই ধরনের টালটু-ফালটু কাজ। কুদ্দুসের বয়স বাহান্ন। বাহান্ন থেকে ষোল বাদ দিলে থাকে ছয়ত্রিশ। সোল। বছরে মেট্রিক পরীক্ষা দেবার পর (পুরো পরীক্ষা দিতে পারেনি, ইংরেজি… Continue reading কুদ্দুসের এক দিন – হুমায়ূন আহমেদ

ভয়ভুতুড়ে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

খবরের কাগজে একটা বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। বড় অদ্ভুত বিজ্ঞাপন। সস্তায় ভূত কিনুন! বাচ্চা ভূত মাত্র পঞ্চাশ পয়সা ধেড়ে ভূত মাত্র এক টাকা জাল ভূত নয়। একেবারে আসল ভূত!! ভূতনাথ অ্যান্ড কোং ১/১ কালোবাজার স্ট্রিট (লালবাজারের উল্টোদিকে) কলকাতা ভাগ্নে নেপাল তার মামা নকুলেশ্বরকে বলল,–ও মামা, ভূত কিনবেন? এই দেখুন, কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। নকুলেশ্বর বললেন, তাই নাকি? দেখি,… Continue reading ভয়ভুতুড়ে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বাড়ি ভাড়া – তারাপদ রায়

আজকাল আর কেউ হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবে না কিন্তু এই কলকাতা শহরেই একদা প্রায় বিনা আয়াসে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যেত। তখনকার শহরতলি ঢাকুরিয়া বা দমদমেই শুধু নয়। শ্যামবাজার এবং ভবানীপুরে, এমনকী নতুন গড়ে ওঠা বালিগঞ্জে বা নিউ আলিপুরে বাড়ি খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল না। সুন্দর, খোলামেলা, দক্ষিণমুখী বাড়ির দোতলার রেলিংয়ে অথবা একতলার বারান্দায় নোটিশ বা… Continue reading বাড়ি ভাড়া – তারাপদ রায়

হাট্টিম রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কর্নেল নীলাদ্রি সরকার খুব মন দিয়ে একটা চিঠি পড়ছিলেন। পড়া শেষ হলে আমার দিকে ঘুরে মৃদু হেসে এই ছড়াটা খুব ধীরে আওড়ালেন? হাট্টিমাটিম টিম তারা মাঠে পাড়ে ডিম তাদের খাড়া দুটো শিং তারা হাট্টিমাটিম টিম। অবাক হয়ে বললুম, হঠাৎ ছড়া আওড়াতে শুরু করলেন যে?….কর্নেল তাঁর সাদা দাড়ি থেকে কী একটা বের করে ফেলে দিলেন। পোকা… Continue reading হাট্টিম রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কুয়াশার রঙ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ভয়ানক বর্ষা। ক-দিন সমানভাবে চলিয়াছে, বিরাম বিশ্রাম নাই। প্রতুল মেসের বাসায় নিজের সিটটিতে বসিয়া বসিয়া বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছে। কোথায় বা বাহির হইবে? যাইবার উপায় নাই কোনোদিকে, ছাদ চুইয়া ঘরে জল পড়িতেছে—সকাল হইতে বিছানাটা একবার এদিকে, একবার ওদিকে সরাইয়াই বা কতক্ষণ পারা যায়? সন্ধ্যার সময় আরও জোর বর্ষা নামিল। চারিদিক ধোঁয়াকার হইয়া উঠিল, বৃষ্টির জলের কুয়াশার… Continue reading কুয়াশার রঙ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিপদ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাড়ি বসিয়া লিখিতেছিলাম। সকালবেলাটায় কে আসিয়া ডাকিল— জ্যাঠামশাই?.একমনে লিখিতেছিলাম, একটু বিরক্ত হইয়া বলিলাম—কে?………..বালিকা-কণ্ঠে কে বলিল—এই আমি, হাজু।………….—হাজু? কে হাজু?……..বাহিরে আসিলাম। একটি ষোলো-সতরো বছরের মলিন বস্ত্র পরনে মেয়ে একটি ছোটো ছেলে কোলে দাঁড়াইয়া আছে। চিনিলাম না। গ্রামে অনেকদিন পরে নতুন আসিয়াছি, কত লোককে চিনি না। বলিলাম—কে তুমি? ………..মেয়েটি লাজুক সুরে বলিল—আমার বাবার নাম রামচরণ বোষ্টম। এইবার… Continue reading বিপদ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

রামগরুড়ের ছানা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কলকাতা থেকে যাত্রা করার আগেই খবরটা পড়া ছিল। বেহালা ফ্লাইং ক্লাবের এক দুঃসাহসী বিমান শিক্ষার্থী ইন্দ্রনীল রায়ের গ্লাইডার কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা একটানা উড়ে পৌঁছোনো অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল।…বিদেশে হ্যাং গ্লাইডারে ওড়াউড়ি এখন রীতিমতো স্পোর্টস। বিশ থেকে তিরিশ ফুট পর্যন্ত একটা করে লম্বাটে ডানা- কতকটা দেখতে গঙ্গাফড়িংয়ের মতো। প্যারাসুট কাপড়ে তৈরি। মধ্যখানে হালকা ধাতুর রড দিয়ে… Continue reading রামগরুড়ের ছানা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

জুটি – সত্যজিৎ রায়

আজ আমি একজন ফিল্মস্টারের কথা বলতে যাচ্ছি, চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন তারিণীখুড়ো।….কে তিনি? তাঁর নাম কী? আমরা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলাম।……..তাঁর নাম তোরা শুনিসনি, বললেন তারিণীখুড়ো। তিনি যখন রিটায়ার করেন তখন তোরা সবে জন্মেছিস।……..তবু আপনি নামটা বলুন না, বললে নাছোড়বান্দা ন্যাপলা। আজকাল টেলিভিশনে অনেক পুরনো ফিল্মস্টারের ছবি আমরা দেখি। তাঁর নাম হল রতনলাল রক্ষিত।……….তা হলে তো… Continue reading জুটি – সত্যজিৎ রায়

ছারপোকার এপিটাফ – তারাপদ রায়

আমি যখন চাকরিতে ঢুকেছি, একটা জিনিস দেখে আমার খুবই অবাক লেগেছিল প্রথম প্রথম; সেটা হল আমার সহকর্মীরা দিনের কাজ শুরু করার আগে অফিসে ঢুকে নিজ নিজ চেয়ার শূন্যে তুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দিতেন। কাজের প্রতি ঘোরতর বিতৃষ্ণা অথবা অফিসের উপর নিদারুণ রাগ, ঠিক কী কারণে এতগুলি শান্ত ভদ্র কর্মচারী প্রতিদিন কাজের প্রারম্ভে এই বিচিত্র আচরণ… Continue reading ছারপোকার এপিটাফ – তারাপদ রায়