টাক এবং ছড়ি রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কাকতালীয় যোগ সেদিন সকালে আমার প্রাজ্ঞ বন্ধু স্বনামধন্য কর্নেল নীলাদ্রি সরকারের ডেরায় ঢুকে আমি অবাক। একটি ছোট্ট ডিমালো আয়না মুখের ওপর তুলে উনি নিজের বিশাল টাকটি খুঁটিয়ে দেখছেন। বললেন, এসো ডার্লিং। তোমার কথাই ভাবছিলুম।….বললুম, টাকের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?……..আছে। কর্নেল আয়নাটি টেবিলে রেখে একটু হাসলেন। কারণ একটি বিজ্ঞাপন। যেটি তোমাদেরই দৈনিক পত্রিকায় সম্প্রতি বেরিয়েছে। পড়ে… Continue reading টাক এবং ছড়ি রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

নয়নচাঁদ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

গভীর রাতে একটা শব্দ শুনে নয়নচাঁদবাবুর ঘুম ভেঙে গেল।……..এমনিতেই নয়নচাঁদের ঘুম খুব পাতলা। টাকা থাকলেই দুশ্চিন্তা! আর দুশ্চিন্তা থাকলেই অনিদ্রা। অনিদ্রা থেকেই আবার অগ্নিমান্দ্য হয়। অগ্নিমান্দ্য থেকে ঘটে উদরাময়, সুতরাং টাকা থেকেও নয়নচাঁদের সুখ নেই। সারাবছর কবরেজি পাঁচন, হোমিওপ্যাথির গুলি আর অ্যালোপ্যাথির নানা বিদঘুঁটে ওষুধ খেয়ে বেঁচে আছেন কোনোমতে। ঘুম ভাঙতেই নয়নচাঁদ চারদিকে চেয়ে দেখলেন।… Continue reading নয়নচাঁদ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

জীবনের প্রথম টিভি দেখা – হুমায়ূন আহমেদ

আমি জীবনের প্রথম টিভি দেখি উনিশশ পয়ষট্টি সনে। তখন ঢাকায় প্রথম টিভি এসেছে। সৌভাগ্যবান কেউ কেউ টিভি সেট কিনেছেন। সেসব জায়গায় যাওয়ার সুযোগ নেই। একদিন খবর পেলাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হোস্টেলে একটা টিভি কেনা হয়েছে। গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখতে গেলাম। চৌকোনা বাক্সের কাণ্ডকারখানা দেখে আমি মুগ্ধ ও বিস্মিত। একজন লোক খবর পড়ছে, তার মাথা দুলছে, কোমর… Continue reading জীবনের প্রথম টিভি দেখা – হুমায়ূন আহমেদ

তুরুপের তাস – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কাগজের খবর……..অক্টোবর মাসের এক অত্যুজ্জ্বল রবিবারের সকালে কর্নেল নীলাদ্রি সরকারে ফ্ল্যাটে আড্ডা দিতে গিয়ে দেখি, বৃদ্ধ প্রকৃতিবিদ একপ্রকার কিম্ভুত আকৃতির ক্যাকটাসের সামনে চোখ বুজে ধ্যানস্থ রয়েছেন এবং তার কানে হেডফোন চাপানো। হেডফোনের তার গিয়ে ক্যাকটাসটার গায়ে বেঁধানো একটা আলপিনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পা টিপে টিপে ঘরে ঢুকেছিলুম, বুড়োকে একটু চমকে দেওয়ার আশায়। কিন্তু উল্টে আমাকেই… Continue reading তুরুপের তাস – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

খেলার সঙ্গী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পায়ের শব্দেই মানুষ চেনা যায়। বাবা ফিরছেন অফিস থেকে। অভির বাবা বেশ লম্বা-চওড়া মানুষ, তিনি কাজ করেন টেলিফোন অফিসে। অফিস থেকে ফেরেন অনেক দেরি করে। আবার বাড়িতে ফিরেও মেতে থাকেন কাজ নিয়ে।..তবে, বাবা প্রায় রোজই কিছু না কিছু জিনিস নিয়ে ফেরেন। কোনওদিন গরম সিঙাড়া, কোনওদিন আইসক্রিম, কোনওদিন সবেদা বা কমলালেবু।… Continue reading খেলার সঙ্গী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষের সেদিন – তারাপদ রায়

কোথায়, কোন দেশে নাকি তাঁর ল্যাবরেটরিতে এক খামখেয়ালি জীববিজ্ঞানী একটি হাস্যবান হায়েনার সঙ্গে এক সদাবাত্ময়ী কাকাতুয়ার পরিণয় দিয়েছিলেন।…..জীববিজ্ঞানীর উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল, এই পরিণয়জাত সংকর সন্তানটি পশু না পাখি বোঝা যায়নি, কিন্তু সে বাবার কাছ থেকে হা হা হাসি এবং মায়ের কাছ থেকে চমকপ্রদ কথা বলা এই দুটি জন্মসূত্রে অর্জন করে। ফলে এই বিচিত্র জীবটি শুধু… Continue reading শেষের সেদিন – তারাপদ রায়

আমার আপন আঁধার – হুমায়ূন আহমেদ

তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভাঙল। মনে হল সারা গায়ে কাঁটা ফুটে গেছে। নির্ঘাত কোন দুঃস্বপ্ন। ইদানীং ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন দেখছি। আমি চোখ মেলে দেখি–দুঃস্বপ্ন নয়, আসলেই কাঁটা ফুটেছে। বিছানাময় গোলাপ ফুল। পাশ ফিরতেই গায়ে গোলাপের কাটা বিঁধল। ব্যাপার বুঝতে বেশি সময় লাগল না। আজ আমার জন্মদিন। আমার কন্যারা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করে বিছানাময় কাটাসুদ্ধ গোলাপ… Continue reading আমার আপন আঁধার – হুমায়ূন আহমেদ

সংসারত্যাগী মানুষ – হুমায়ূন আহমেদ

সংসারত্যাগী মানুষদের প্রতি আমি এক ধরনের মুগ্ধতা বোধ করি। এই মুগ্ধতার কারণ সম্ভবত জীবনানন্দ দাসের কবিতা– অর্থ নয় কীর্তি নয় সচ্ছলতা নয় আরো এক বিপন্ন বিস্ময় কোন্ বিপন্ন বিস্ময়ের কারণে এই সব মানুষ সংসার ত্যাগ করে তা জানতে ইচ্ছে করে। অবশ্যি এক অর্থে এরা আবার পলাতক মানুষ। সংসার থেকে পলাতক, জীবন থেকে পলাতক। দায়িত্ব থেকেও… Continue reading সংসারত্যাগী মানুষ – হুমায়ূন আহমেদ

যে দোয়া পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি পাবেন

দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার দোয়া যে দোআটি আমল করার দ্বারা সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপর্যুক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দেন এবং তা সকাল সন্ধ্যায় পড়তে বলেন।আবু উমামা বলেন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দোয়াটি পড়তে লাগলাম ফলে আল্লাহ তায়ালা আমার চিন্তা দূর… Continue reading যে দোয়া পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি পাবেন

লোকটা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সোমনাথবাবু সকালবেলায় তাঁর একতলার বারান্দায় বসে কাগজ পড়ছেন। সামনেই মস্ত বাগান, সেখানে খেলা করছে তাঁর সাতটা ভয়ংকর কুকুর। কুকুরদের মধ্যে দুটো বকসার বুলডগ, দুটো ডবারম্যান, দুটো অ্যালসেশিয়ান, একটা চিশি সড়ালে। এদের দাপটে কেউ বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পারে না, তার ওপর গেটে বাহাদুর নামের নেপালি দারোয়ান আছে। তার কোমরে কুকরি, হাতে লাঠি। সদাসতর্ক, সদাতৎপর। সোমনাথবাবু এরকম… Continue reading লোকটা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়