স্টেশনের নাম ঘুমঘুমি – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ভুল করে অন্য কোথাও নেমে পড়েছি নাকি? ট্রেন চলে গেলে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে চারদিক দেখতে থাকলাম। মানুষ নেই জন নেই, গাছ নেই পালা নেই, এ কেমন জায়গা? নাঃ, ভুল হয়নি। ওই তো হলুদ বোর্ডে লেখা আছে ঘুমঘুমি। দেখে স্বস্তি পেলাম। তারপর চোখে পড়ল রেলের পোশাকপরা একটা লোক স্টেশনের উঁচু খোলামেলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। কোনও… Continue reading স্টেশনের নাম ঘুমঘুমি – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বগদাদের সড়কে রাত্রি – শওকত ওসমান

বগ্‌দাদের সড়কে রাত্রি। শহরের উপকণ্ঠে নির্জনতার রাজগী অনেক আগে শুরু হয়েছে। কিন্তু সরাইখানার আলো তখনও নেভেনি। আনন্দ-তালাসী পথিকজনের আনাগোনা কৃচিৎ কানে আসে। আবছা অন্ধকারে দুই ব্যক্তি হাটছিল। হঠাৎ একজন হেসে উঠল। অপর ব্যক্তি আর চুপ থাকতে পারে না। সেও সঙ্গীর পথ অনুসরণ করে। : আবু নওয়াস। : কী আবুল আতাহিয়া? আতাহিয়া: তুমি হাসছো? নওয়াস: হ্যাঁ,… Continue reading বগদাদের সড়কে রাত্রি – শওকত ওসমান

আমরা হাসি কেন? – সৈয়দ মুজতবা আলী

প্রায় ত্রিশ বৎসর পূর্বে কবিগুরু বিশ্বভারতী সাহিত্য-সভায় এক খ্যাতনামা লেখকের সদ্যপ্রকাশিত একটা রচনা পাঠ করেন। রচনার আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল, ‘আমরা হাসি কেন?’….এতদিন বাদে আজ আর সব কথা মনে নেই, তবে এইটুকু স্পষ্ট স্মরণে পড়ছে যে, বের্গসন হাসির কারণ অনুসন্ধান করে যে সব তত্ত্বকথা আবিষ্কার করেছিলেন, প্ৰবন্ধটি মোটের উপর তারই উপর খাড়া ছিল। প্ৰবন্ধ পাঠের পর… Continue reading আমরা হাসি কেন? – সৈয়দ মুজতবা আলী

দাম্পত্য জীবন – সৈয়দ মুজতবা আলী

কথায় কথায় বিবাহিত জীবন নিয়ে আলোচনা। সায়েব বললে, ‘লন্ডনে একবার স্বামীদের এক আড়াই মাইল লম্বা প্রসেশন হয়েছিল, স্ত্রীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবার জন্য। প্রসেশনের মাথায় ছিল এক পাঁচ ফুট লম্বা টিঙটিঙে হাড্ডি-সার ছোকরা। হঠাৎ বলা নেই, কওয়া নেই ছ’ফুট লম্বা ইয়া লাশ এক ঔরত্ দুমদুম করে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার হাত ধরে এক হ্যাঁচকা… Continue reading দাম্পত্য জীবন – সৈয়দ মুজতবা আলী

অবসরের দিনলিপি – তারাপদ রায়

ভালই আছি। ভেবেছিলাম খুব ছাড়া ছাড়া, নিঃসঙ্গ হয়ে যাব। এক সঙ্গে দুটো বড় ব্যাপার ঘটে গেল। আমার মত ঘর-গৃহস্থী মানুষের পক্ষে দুটো বড় মাপের জবরদস্ত জীবন বিদারক ঘটনা। এক নম্বর হল, চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করলাম। পঁয়ত্রিশ বছরের দশটা-পাঁচটা থেকে অব্যাহতি। অবসরগ্রহণ করলাম কথাটা যদিও সঠিক নয়। কথাটা অবশ্য সম্মানজনক, যেন আমি স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ করেছি। কিন্তু… Continue reading অবসরের দিনলিপি – তারাপদ রায়

পাপি সুইমিং স্কুল – তারাপদ রায়

আজ কয়েকদিন হল কাঞ্চনেরা একটা খুব বাড়িতে এসেছে। কাঞ্চনের বাবা যেখানে কাজ করেন, সেই কোম্পানিরই সাবেক আমলের কোয়ার্টার এটা। এত বড় যে, আজকাল কেউই তাতে থাকতে চায় না। চারদিকে বাগান, সেগুলো এখন জঙ্গল হয়ে গেছে। চওড়া বারান্দা ধুলোয় ছেয়ে আছে, দেয়ালে অতিকায় মাকড়শার জাল। পুরনো মরচে-ধরা লোহার গেট খুললে এক কিলোমিটার দূর থেকে তার আর্তনাদ… Continue reading পাপি সুইমিং স্কুল – তারাপদ রায়

পয়সার লাঞ্চনা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের আপিসের সাহেব বলে, বাঙালির বেশি বেতনের আবশ্যক নাই। সে স্থির করিয়া রাখিয়াছে, ভদ্র বাঙালির ছেলের পক্ষে মাসিক পঁচিশ টাকা খুব উচ্চ বেতন। আমাদের অবস্থা এবং আমাদের দেশের সম্বন্ধে সাহেবরা যখন একটা মত স্থির করে তখন তাহার উপর আমাদের কোনো কথা বলা প্রগল্‌ভতা। কেবল সাহেবের প্রতি একটা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কুটুম্বিতাসূচক বিশেষণ-প্রয়োগপূর্বক মনের ক্ষোভে আপনা-আপনির মধ্যে… Continue reading পয়সার লাঞ্চনা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোতা কাহিনী – সৈয়দ মুজতবা আলী

ইরান দেশের এক সওদাগরের ছিল একটি ভারতীয় তোতা। সে তোতা জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস, সৌন্দর্যে রুডলফ ভালেন্টিনা, পান্ডিত্যে ম্যাক্সম্যুলার। সদাগর তাই ফুরসৎ পেলেই সে তোতার সঙ্গে দুদন্ড রসালাপ, তত্ত্বালোচনা করে নিতেন। হঠাৎ একদিন সদাগর খবর পেলেন ভারতবর্ষে কার্পেট বিক্রি হচ্ছে আক্রাদরে। তখনই মনস্থির করে ফেললেন ভারতে যাবেন কার্পেট বেচতে। যোগাড়-যন্ত্র তদ্দন্ডেই হয়ে গেল। সবশেষ গোষ্ঠীকুটুমকে… Continue reading তোতা কাহিনী – সৈয়দ মুজতবা আলী

বর্ষা – সৈয়দ মুজতবা আলী

কাইরোতে বছরে ক’ইঞ্চি বৃষ্টি পড়ে এতদিন বাদে সে কথা আমার আর স্মরণ নেই। আধা হতে পারে সিকিও হতে পারে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস মেঘমুক্ত নীল আকাশ দেখে দেখে আমার তো প্রথমটায় মনে হয়েছিল, এদেশে বুঝি আদপেই বৃষ্টিপাত হয় না। আর গাছপালার কী দুরবস্থা, পাতাগুলোর কী অদ্ভূত চেহারা! সাহারার ধুলো উড়ে এসে চেপে বসেছে… Continue reading বর্ষা – সৈয়দ মুজতবা আলী

বইকেনা – সৈয়দ মুজতবা আলী

মার্ক টুয়েনের লাইব্রেরিখানা নাকি দেখবার মত ছিল। মেঝে থেকে ছাত পর্যন্ত বই, বই, শুধু বই। এমনকি কার্পেটের উপরও গাদা গাদা বই স্তূপীকৃত হয়ে পড়ে থাকত—পা ফেলা ভার। এক বন্ধু তাই মার্ক টুয়েনকে বললেন, ‘বইগুলো নষ্ট হচ্ছে; গোটাকয়েক শেল্ফ যোগাড় করছ না কেন?’ মার্ক টুয়েন খানিকক্ষণ মাথা নিচু করে ঘাড় চুলকে বললেন, ‘ভাই, বলেছ ঠিকই—কিন্তু লাইব্রেরিটা… Continue reading বইকেনা – সৈয়দ মুজতবা আলী