কত করুণ দৃশ্য, কত হৃদয়বিদারক ঘটনা দেখি প্রতিদিন—সত্য বলতে কি, তাই রাস্তায় বেরুতে ইচ্ছে করে না—কিন্তু যদি জিজ্ঞেস করেন, সব চেয়ে মর্মদ্ভদ আমার কাছে কি লেগেছে, তবে বলব, আমাদের পাড়ার কালো মেয়েটি। সকালবেলা কখন বেরিয়ে যায় জানি নে। সন্ধ্যের সময় বাড়ি ফেরে—আমি তখন রকে বসে চা খাচ্ছি। মাথা নিচু করে, ক্লান্ত শ্লথগতিতে আমাদের বাড়ির সামনে… Continue reading কালো মেয়ে – সৈয়দ মুজতবা আলী
Author: Admin
খেলেন দই রমাকান্ত – সৈয়দ মুজতবা আলী
ইহুদি যাজক সম্প্রদায়ের সুপুত্র শ্রীযুক্ত লেভির সঙ্গে তার বাড়িতে খানা খেতে যাচ্ছি। তার আছে গল্পের অফুরন্ত ভাণ্ডার। তারই একটা ছাড়লেন: “জারের আমলে রোববার দিন গির্জেয় গেছে গ্রামের সবাই। রুশ জাতটা একদা ছিল বড়ই ধর্মানুরাগী! কুলোকে বলে, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভূতপ্রেত-তাবিজ-কবচে-বিশ্বাসী উজবুকের ভায়রাভাই। এবং সাতিশয় পাষণ্ডেরা বলে, সেই প্রাচীন কুসংস্কারই আজ তাদের টেনে নিয়ে যায় লেনিনের দর্গায় শিরনি… Continue reading খেলেন দই রমাকান্ত – সৈয়দ মুজতবা আলী
বেচারামবাবু – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
হরিশ মুদী সন্ধ্যাবেলা হিসাব বুঝাইয়া গেল যে গত মাসের পাওনা ২৭.৭০ পঃ হইয়াছে এবং তাহা অবিলম্বে দেওয়া দরকার। সদ্য-অফিস-প্রত্যাগত বেচারামবাবু বলিলেন–“আচ্ছা মাইনেটা পেলেই–!” অতঃপর কাপড়-চোপড় ছাড়িয়া বেচারামবাবু বাহুরের রোয়াকটিতে বসিয়া হাঁক দিলেন–“অরে চা আন্–।” চা আসিল। চা আসিবার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার হরিবাবু, নবীন রায়, বিধু ক্লার্ক প্রভৃতি চার পাঁচজন ভদ্রলোকও সমাগত হইলেন এবং সমবেত গল্প-গুজব… Continue reading বেচারামবাবু – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
চরিত্র বিচার – সৈয়দ মুজতবা আলী
গল্প শুনেছি, ইংরেজ, ফরাসি, জর্মন আর স্কচ এই চারজন মিলে একটা চড়ুইভাতির ব্যবস্থা করলো। বন্দোবস্ত হলো সবাই কিছু সঙ্গে নিয়ে আসবেন। ইংরেজ নিয়ে এলো বেকন আর আন্ডা, ফরাসী নিয়ে এল এক বোতল শ্যাম্পেন, জর্মন নিয়ে এলো ডজনখানেক সসেজ আর স্কচম্যান…? সে সঙ্গে নিয়ে এলো তার ভাইকে। এ জাতীয় বিস্তর গল্প ইয়োরোপে আছে। স্কচদের সম্বন্ধে গল্প… Continue reading চরিত্র বিচার – সৈয়দ মুজতবা আলী
ডাক্তার – হুমায়ূন আহমেদ
এবারের এলেবেলে ডাক্তারদের নিয়ে। কাজেই ভয়ে ভয়ে লিখছি। ডাক্তাররা রাজনীতিবিদদের মতই সেন্সিটিভ। কেউ হা করলেই মনে করে গাল দিচ্ছে। রসিকতা একেবারেই ধরতে পারে না। রসিকতার কারণেই আমার দীর্ঘদিনের ডেন্টিস্ট বন্ধু এ. করিমের সাথে কথাবার্তা বন্ধ। এক সন্ধ্যা তার চেম্বারে দাঁত দেখাতে গিয়ে ডেনটিস্টদের নিয়ে একটা গল্প বললাম। এই গল্পই হল আমার কাল। বন্ধু রেগে অস্থির।… Continue reading ডাক্তার – হুমায়ূন আহমেদ
গন্ধটা খুব সন্দেহজনক – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সেবার আমার দিদিমা পড়লেন ভারি বিপদে। দাদামশাই রেল কোম্পানিতে চাকরি করতেন, সে আজ পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা। আমার মা তখনও ছোট্ট ইজের-পরা খুকি। তখন এত সব শহর, নগর ছিল না, লোকজনও এত দেখা যেত না। চারধারে কিছু গাছগাছালি, জঙ্গল-টঙ্গল ছিল। সেইরকমই এক নির্জন জঙ্গুলে জায়গায় দাদামশাই বদলি হলেন। উত্তর বাংলার দোমোহানীতে। মালগাড়ির গার্ড ছিলেন, তাই… Continue reading গন্ধটা খুব সন্দেহজনক – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
জটায়ুর পালক – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
সেদিন খুব মন দিয়ে একটা বই পড়ছি, পায়ে কুট করে যেন পিঁপড়ে কামড়াল। পা আলগোছে নাড়া দিয়ে ফের বইয়ের পাতায় ডুবে রইলাম। ভারি জমাটি গোয়েন্দা কাহিনি। গোয়েন্দা অফিসারকে বেঁধে ডাকাতরা বস্তায় ভরছে। এক্ষুনি সমুদ্রে ফেলে দেবে। কী হয় কী হয় অবস্থা। উত্তেজনায় আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠেছে। ফের কুটুস করে যেন… Continue reading জটায়ুর পালক – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
নো ফ্রি লাঞ্চ – হুমায়ূন আহমেদ
‘নো ফ্রি লাঞ্চ’—একটি আমেরিকান বাক্য। এই বাক্যটা বলে তারা এক ধরনের শ্লাঘা অনুভব করে। তারা সবাইকে জানাতে পছন্দ করে যে তারা কাজের বিনিময়ে খাদ্যে বিশ্বাসী। এই ধরনের বাক্য বাংলা ভাষাতেও আছে—’ফেলো কড়ি মাখো তেল’। গায়ে তেল মাখতে হলে কড়ি ফেলতে হবে। আরামের বিনিময়মূল্য লাগবে। যা-ই হোক, ফ্রি লাঞ্চে ফিরে যাই। নো ফ্রি লাঞ্চের দেশে চিকিৎসা… Continue reading নো ফ্রি লাঞ্চ – হুমায়ূন আহমেদ
মোল্লা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার মজার গল্প
নাসিরুদ্দিন হোজ্জা তথা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের নাম শোনেননি এমন মানুষ বিরল। তাকে কিংবদন্তি বললেও কম বলা হবে। বিশ্বের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প প্রচলিত নয়। তার জীবন সম্বন্ধে খুব বেশি জানা না গেলেও সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ত্রয়োদশ শতকে বর্তমান তুরস্কের এসকিসেহির প্রদেশের সিভ্রিহিসার নামের শহরে তার জন্ম। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, তার… Continue reading মোল্লা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার মজার গল্প
হাতে খড়ি – তারাপদ রায়
পুরনো গড়িয়াহাট বাজারের ভিতরে যেখানে আলুর আড়ত ছিল তারই একেবারে পিছনদিকে ছিল শ্যামাদাসীর ঠেক। ঠেক মানে একটা বে-আইনি চুল্লুর দোকান। এ দোকানের কোনও দরজাকপাট ছিল না। সারা দিনরাতই খোলা। সারা দিনরাতই জমজমাট। গড়িয়াহাট মোড়ের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে চারপাশে দিনরাতে যত মাতাল দেখা যেত তার আধাআধি এই ঠেক থেকে বেরুত। গল্পের মধ্যে যাওয়ার আগে শ্যামাদাসী… Continue reading হাতে খড়ি – তারাপদ রায়