আজ কয়েকদিন হল খুব গরম পড়েছে। সেই সঙ্গে মশার উৎপাতও খুব বেড়েছে। সারারাত মশারির মধ্যে গুমোটে হাঁসফাস করেছি। ভাল করে ঘুম হয়নি, ঘুম হওয়ার কথাও নয়। ভোর হতে-না-হতে বারান্দায় এসে একটা বেতের মোড়া নিয়ে বসেছি। ভোরবেলার ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। বেশ আরাম লাগছে। একা একা চুপচাপ বসে থাকতে বেশ ভাল লাগছিল। গরমের দিনে সকালের দিকে এই… Continue reading তরমুজের বীজ-তারাপদ রায়
Author: Admin
ডবল পটললাল- তারাপদ রায়
০১. হট্টমন্দির পরিণাম, পরিণতি এসব মোটেই ভাল শব্দ নয়। বিশেষ করে পটললাল বিষয়ে কোনও রচনার নাম একটু হালকা রকম হওয়াই নিয়ম। পটললালকে আপনারা অনেকেই অল্পবিস্তর চেনেন। লাল গানে নীল সুর হাসিহাসি গন্ধ, পটললালের গল্প হবে ফুরফুরে মেজাজের, অবশেষে তার কিনা এই পরিণতি। . অনেক দিন আগে একটা বিলিতি সিনেমা হয়েছিল, দেয়ার ইজ নো বিজিনেস লাইক… Continue reading ডবল পটললাল- তারাপদ রায়
ভীষ্মের দীর্ঘশ্বাস-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তৃষ্ণার্ত রাজা এসে থামলেন এক স্বচ্ছ সরোবরের সামনে। নিজের সৈন্যবাহিনী থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কী যেন মোহ ভর করেছিল তাঁর ওপর, তিনি মানুষের কথা ভুলে গিয়ে অরণ্যের শোভায় মুগ্ধ হয়ে ক্রমশ একাকী চলে এসেছেন গভীর থেকে গহনে। রাজা ঘোড়া থেকে নেমে সেই জলাশয়ের ধারে বসে আঁজলা ভরে পান করতে যাবেন, এমনসময় কয়েকটি নারীকণ্ঠ এক… Continue reading ভীষ্মের দীর্ঘশ্বাস-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভালোবাসার দিনগুলি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
২৪ মার্চ, ১৯৮৫ আজ রাঙাদাদু এসেছিলেন। ইস, মানুষটা কী বুড়োই হয়েই গেছেন। হঠাৎ একেবারে ফোকলা, ওপরের পাটিতে মাত্র দুটো দাঁত। আগেও মাথার চুল ধপধপে সাদা ছিল, কিন্তু এক মাথা সাদা চুল, এখন আর চুল নেই-ই বলতে গেলে! চার-পাঁচ বছর আগেও রাঙাদাদুকে কী ভালোই বাসতুম। উনি এ-বাড়িতে এলেই সবসময় আমি বসে থাকতুম ওঁর পাশ ঘেঁষে। সবাই… Continue reading ভালোবাসার দিনগুলি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাঙ-তারাপদ রায়
কার্তিকের বৃষ্টি প্রত্যেকদিন যেরকম হয়, আজও তাই হল। ভোরবেলা, খুব ভোরবেলা সাড়ে চারটে-পাঁচটা নাগাদ ঘুম ভেঙে গেল রমেশবাবুর। অথচ এরকম কথা ছিল না। গতকালই চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন রমেশবাবু, রমেশচন্দ্র রায়। পাকা তেত্রিশ বছর আটমাস এগারো দিন বন্যপ্রাণী ও পশুপালন অধিকারে এক নাগাড়ে চাকরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম কয়েকবছর নিম্নবর্গীয় এবং উচ্চবর্গীয় কেরানির পদে,… Continue reading ব্যাঙ-তারাপদ রায়
ব্লটিং পেপার-তারাপদ রায়
এই গরমে কেউ কাশী যায়? যায়। অবশ্যই যায়। কাশী অর্থাৎ বেনারস যাওয়ার রেলের কামরাগুলো কি ফাঁকা থাকে? থাকে না। ভিড়ে গিজ গিজ করে। যেকোনও রেলের অফিসে সিট রিজার্ভ করতে গেলেই ব্যাপারটা টের পাওয়া যাবে। প্রমথেশও টের পেয়েছিল। এবং টের পেয়ে খুশি হয়েছিল এই কারণে যে সে ছাড়াও এই ভরা গরমে আরও ঢের ঢের লোক আছে… Continue reading ব্লটিং পেপার-তারাপদ রায়
সমান্তরাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পান্নালাল যখন ব্যাপারীগঞ্জে নামল তখনও ভোর হয়নি। ছোট স্টিমার স্টেশন। নির্জন অন্ধকার। স্টিমার যতক্ষণ রইল, সামান্য কোলাহল, তারপর স্টিমার ছেড়ে দিতেই শীতের রাতের ভারী স্তব্ধতা। সবুজ র্যাপারটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে বিছানার বাণ্ডিল আর রংচটা টিনের সুটকেসটা তুলে নিয়ে এগুলো পান্নালাল। একটু দূরেই তারাপদদা-র হাতে গরম কেবিন। দিবারাত্র খোলা থাকে। সে ঢুকল সেখানে। ছোকরা… Continue reading সমান্তরাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শ্মশানবন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নাইট ডিউটির সময়টাতেই সবচেয়ে অসুবিধে হয়। দিনেরবেলা এখন পর্যন্ত তেমন কিছু গণ্ডগোল হয়নি। একটু-আধটু অপমান সহ্য করতে হয়, তা এমন কিছু নয়। অপমান গায়ে না মেখে বালির মতন ঝেড়ে ফেললেই হল। সকালের ডিউটি নটা থেকে তিনটে পর্যন্ত। ঠিক তিনটের সময় বাড়ি ফেরার ট্রাম ধরে অমল। রাস্তায় ট্রাফিকের গোলযোগ না থাকলে পৌনে চারটের মধ্যে বাড়ি পৌঁছে… Continue reading শ্মশানবন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দুই বন্ধু -সত্যজিৎ রায়
মহিম বাঁ হাতের কবজি ঘুরিয়ে হাতের ঘড়িটার দিকে এক ঝলক দৃষ্টি দিল। বারোটা বাজতে সাত। কোয়ার্টজ ঘড়ি–সময় ভুল হবে না। সে কিছুক্ষণ থেকেই তার বুকের মধ্যে একটা স্পন্দন অনুভব করছে, যেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। বিশ বছর! আজ হল ১৯৮৯-এর সাতই অক্টোবর। আর সেটা ছিল ১৯৬৯-এর সাতই অক্টোবর। পঁচিশ বছরে এক পুরুষ হয়। তার থেকে মাত্র পাঁচ… Continue reading দুই বন্ধু -সত্যজিৎ রায়
সার্জন সাহেবের বাড়িতে-তারাপদ রায়
বছর কুড়ি আগে একটা সরকারি চাকরি নিয়ে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন দিগন্ত রায়চৌধুরী। কলকাতার আচ্ছা ছেড়ে, সংসার গুটিয়ে প্রথম যখন দিগন্তবাবুকে দিল্লি যেতে হল নিতান্তই জীবিকার প্রয়োজনে, তাঁর মনে হয়েছিল খুব বেশিদিন হয়তো কলকাতা ছেড়ে টিকতে পারবেন না। কিন্তু তারপরে যেরকম হয় যথাসময়ে দিল্লির সঙ্গে দিগন্তবাবু নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এখন সেখানেই পাকাপাকি বসবাস। এমনকী অবসর গ্রহণের… Continue reading সার্জন সাহেবের বাড়িতে-তারাপদ রায়