চারদিকে বাগান, মাঝখানে প্রকাণ্ড তিনতলা বাড়ি। জমি কিনিয়া বাড়িটি তৈরি করিতে চারুর শ্বশুরের লাখ টাকার উপর খরচ হইয়াছিল। কিন্তু মোটে তিরিশ হাজার টাকার দেনার দায়ে এই সম্পত্তি চারুর হাত হইতে খসিয়া বনমালীর হাতে। চলিয়া গিয়াছে। প্রথম বয়সে চারু তার টনটনে বুদ্ধির সাহায্যে শ্বশুরের সম্পত্তির এমন চমৎকার বিলি-ব্যবস্থাই করিয়াছিল যে, আত্মীয়-পর কেহ কোনোদিন কোনো দিক দিয়া… Continue reading সরীসৃপ -মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
Author: Admin
রাসের মেলা-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
আজ রাস পূর্ণিমা। রাসের মেলা বসেছে শহরতলির খালধারের এই রাস্তা আর দু-পাশে যেখানে যেটুকু ফাঁকা ঠাঁই আছে তাই জুড়ে। নামকরা মস্ত মেলা, প্রতিবছর হয়। দোকানপাট বসে অনেক, দূর থেকে বহু লোক আসে কেনাবেচা করতে, অনেকে সারা বছরের দরকারি মাদুর পাটি বঁটি-দা হাতা খুন্তি ঝুড়ি ধামা কুলো ঝাঁটা গেলাস বাটি থালা কেনে এই মেলাতে। মনোহারি কাজের… Continue reading রাসের মেলা-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
আমার মেয়ের পুতুল-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
গাড়িটা থেমে আসছে। আমরা যেন ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। এতক্ষণ ক্লান্ত একটানা শব্দের তালে–তালে অলস নাচের ছন্দে গাড়িটা কোমর দোলাচ্ছিল। নাচের ছন্দটা ছড়িয়ে পড়ছিল আমার রক্তের মধ্যে। আমি জেগে ছিলাম। শুধু আমার মনটা নেশার ঘোরে থিতিয়ে যাচ্ছিল। গাড়িটা থেমে আসছে। শান্তা আমার দিকে তাকাল। অনেকক্ষণ পর ও চোখ মেলল। খুব ক্লান্ত অবসন্ন কণ্ঠে বলল ,… Continue reading আমার মেয়ের পুতুল-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ধন্য! জন্মেছি এই দেশে – হুমায়ূন আহমেদ
আমার বড় মেয়ে পড়ে হলিক্রস কলেজে। একেকটা কলেজের মেয়েরা একেক ধরনের হয়। হলিক্রস কলেজের মেয়েদের ভেতর ইংরেজি ভাবটা খুব প্রবল। কাজেই আমার বড় মেয়ে যখন আমাকে এসে বলল, তার ইচ্ছা বাসায় একটা স্লাম্বার পার্টি দেয়, তখন আমি তেমন বিস্মিত হলাম না। শুধু ভয়ে ভয়ে জানতে চাইলাম, স্লাম্বার পার্টি ব্যাপারটা কি? জানা গেল, স্লাম্বার পার্টি হচ্ছে… Continue reading ধন্য! জন্মেছি এই দেশে – হুমায়ূন আহমেদ
আমাকে দেখুন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
দয়া করে আমাকে একবার দেখুন। এই যে আমি এখানে। একটু আগে আমি বাসের পা–দানিতে ঠেলেঠুলে উঠলাম, তারপর নীরেট জমাট ভিড়ের ভিতর আমি এ-বগল সে-বগলের তলা দিয়ে, এর–ওর পায়ের ফোঁকর দিয়ে ঠিক ইঁদুরের মতো একটা গর্ত কেটে-কেটে এতদূর চলে এসেছি। বাসের রডগুলো বড় উঁচুতে–আমি বেঁটে মানুষ–অতদূর নাগাল পাই না। আমি সিটের পিছন দিক ধরে দাঁড়াই, তারপর… Continue reading আমাকে দেখুন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
জীবিত ও মৃত- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথম পরিচ্ছেদ রানীহাটের জমিদার শারদাশংকরবাবুদের বাড়ির বিধবা বধূটির পিতৃকুলে কেহ ছিল না; সকলেই একে একে মারা গিয়াছে। পতিকুলেও ঠিক আপনার বলিতে কেহ নাই, পতিও নাই পুত্রও নাই। একটি ভাশুরপো, শারদাশংকরের ছোটো ছেলেটি, সেই তাহার চক্ষের মণি। সে জন্মিবার পর তাহার মাতার বহুকাল ধরিয়া শক্ত পীড়া হইয়াছিল, সেইজন্য এই বিধবা কাকী কাদম্বিনীই তাহাকে মানুষ করিয়াছে। পরের… Continue reading জীবিত ও মৃত- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজকন্যার নাম অপরাজিতা। উদয়নারায়ণের সভাকবি শেখর তাঁহাকে কখনো চক্ষেও দেখেন নাই। কিন্তু যে দিন কোনো নূতন কাব্য রচনা করিয়া সভাতলে বসিয়া রাজাকে শুনাইতেন সে দিন কণ্ঠস্বর ঠিক এতটা উচ্চ করিয়া পড়িতেন যাহাতে তাহা সেই সমুচ্চ গৃহের উপরিতলের বাতায়নবর্তিনী অদৃশ্য শ্রোত্রীগণের কর্ণপথে প্রবশে করিতে পারে। যেন তিনি কোনো-এক অগম্য নত্রলোকের উদ্দেশে আপনার সঙ্গীতোচ্ছ্বাস প্রেরণ করিতেন যেখানে… Continue reading জয়পরাজয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বেশ-বেশ-তারাপদ রায়
দুশো-তিনশো শব্দের মধ্যে গল্প? একালের জটিল জীবনের কাহিনি এত অল্পে হবে না। বরং শতবর্ষ আগের একটা ঘটনায় যাই। মকদমপুরের জমিদার খান মফিজউদ্দিন তালুকদার বাহাদুরের একটাই দোষ, সেই দোষটা মুদ্রাদোষ। তিনি কথায় কথায় বেশ-বেশ বলেন। কেউ হয়তো বলল, গ্রামে খুব ওলাওঠা হয়েছে। তিনি চিন্তিত মুখে বললেন, বেশ-বেশ। আবার খবর এল বাঁধ ভেঙে বর্ষার নদীর জল গ্রামের… Continue reading বেশ-বেশ-তারাপদ রায়
বেগুন, মোচা এবং কাফকা -তারাপদ রায়
আগে বইয়ের, মানে বিলিতি বইয়ের দাম ছিল ভদ্রমতো৷ শুধু দামে কম ছিল তা নয়, দামটা ছিল মার্কিন দেশে প্রকাশিত হলে দেড়, দুই, বড়জোর তিন ডলার। খাস ব্রিটেনের বই হলে পাউন্ডে দাম। এক পাউন্ড, দুই পাউন্ড। তা ছাড়া পাউন্ড, ডলারও এখনকার মতো এত মূল্যবান ছিল না। বেশিদিন আগের কথা নয়, মাত্র পনেরো বছর আগের কথা, সদ্য… Continue reading বেগুন, মোচা এবং কাফকা -তারাপদ রায়
বিশ্বমামা ও বেড়াল-ভূত -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মনে আছে, সেই দিনটির কথা। দুবছর কিংবা আড়াই বছর আগে। সকালবেলা বিশ্বমামা হঠাৎ এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে। তিনি সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ান, কখন কোথায় থাকেন তার ঠিক নেই। তাই এরকম হঠাৎ-হঠাই আসেন। বাবা বাজারে গেছেন, মায়ের সঙ্গে দাদা আর আমি চা খেতে বসেছি, বিশ্বমামা একটা চেয়ার টেনে বসে বললেন, দিদি, আমাকে চা দাও। মা ব্যস্ত হয়ে… Continue reading বিশ্বমামা ও বেড়াল-ভূত -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়