বিশ্বমামার খুদে বন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সাপ দেখলে সবচেয়ে ভয় পান বিশ্বমামা, আর সবচেয়ে ভালোবাসেন পিঁপড়ে। একবার শান্তিনিকেতনে একটা সাপ দেখে বিশ্বমামা এমন দৌড় লাগালেন যে…। সাপের, জন্য তিনি খোঁড়া হয়ে রইলেন কয়েকটা দিন। না, তাঁকে সাপে কামড়ায়নি, কিন্তু ভয় পেয়ে দৌড়তে গিয়ে তিনি আছাড় খেয়ে পড়লেন, তাতেই মচকে গেল গোড়ালি। বড়দের তো দৌড়বার অভ্যেস থাকে না। তাই তাদের যখন-তখন ভয়… Continue reading বিশ্বমামার খুদে বন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সাহেবের তলোয়ার-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

গোঁসাইনি? –আইজ্ঞা। –আইলানি? –আইজ্ঞা আইলাম। –বহ বহ, খবর বার্তা কও। –খবর বার্তা ভালো নয়। রাসুবাবু ঘাড় কাইত করলেন না। –কও কী? মাইনকা ঢিপির মইধ্যে পড়লাম নাকি হে গোঁসাই? –আইজ্ঞা মাইনকা ঢিপি বইলাই তো মনে হয়। –পাকঘরে একখান চুপি মাইরা দেইখ্যা আসো তো, তাইন পাকঘরে নাকি! –আইজ্ঞা চুপি মারতে হইব না। এইখান থিক্যাই ছ্যাক ছোঁক শব্দ… Continue reading সাহেবের তলোয়ার-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সুখদুঃখ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লোকটা সারা দিন তার খেতে কাজ করে। একা-একা সে মাটির সঙ্গে কত ভালোবাসার কথা বলে। আল তুলে জল বেঁধে রাখার সময়ে সে ঠিক যেন এক পিপাসার্তকে জলদানের তৃপ্তি পায়। সে ভালোবাসে গাছগুলিকেও। যারা ফল দেয়, ছায়া দেয়, দূরের মেঘকে টেনে আনে। সে প্রতিটি গাছের সুখদুঃখকে বোধ করার চেষ্টা করে। সে ভালোবাসে তার গৃহপালিতগুলিকেও। সে বোঝে,… Continue reading সুখদুঃখ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বিষ-তারাপদ রায়

বাংলা গল্পের ইংরিজিতে নাম দেওয়া মোটেই উচিত নয়। তাই বাধ্য হয়ে এ গল্পের নাম দিতে হল বিষ। না হলে গল্পটির প্রকৃত নাম হয় পয়জন (Poison), অবশ্য ইংরেজি শব্দটি বাংলা হরফে পয়জন লিখলেও চলত। তবে শব্দটা গল্পের নাম হিসেবে চোখে ভাল লাগছে না। তাই অগত্যা বিষ, বিষই বা খারাপ কী? গল্পের ভিতর যাতে কোনও অনাবশ্যক জটিলতার… Continue reading বিষ-তারাপদ রায়

দালিয়া-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা পরাজিত শা সুজা ঔরঞ্জীবের ভয়ে পলায়ন করিয়া আরাকান-রাজের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে তিন সুন্দরী কন্যা ছিল। আরাকান-রাজের ইচ্ছা হয়, রাজপুত্রদের সহিত তাহাদের বিবাহ দেন। সেই প্রস্তাবে শা সুজা নিতান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করাতে, একদিন রাজার আদেশে তাঁহাকে ছলক্রমে নৌকাযোগে নদীমধ্যে লইয়া নৌকা ডুবাইয়া দিবার চেষ্টা করা হয়। সেই বিপদের সময় কনিষ্ঠা বালিকা আমিনাকে পিতা স্বয়ং… Continue reading দালিয়া-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ত্যাগ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় আম্রমুকুলের গন্ধ লইয়া নব বসন্তের বাতাস বহিতেছে। পুষ্করিণীতীরের একটি পুরাতন লিচু গাছের ঘন পল্লবের মধ্য হইতে একটি নিদ্রাহীন অশ্রান্ত পাপিয়ার গান মুখুজ্জেদের বাড়ির একটি নিদ্রাহীন শয়নগৃহের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিতেছে। হেমন্ত কিছু চঞ্চলভাবে কখনো তার স্ত্রীর একগুচ্ছ চুল খোঁপা হইতে বিশ্লিষ্ট করিয়া লইয়া আঙুলে জড়াইতেছে, কখনো তাহার বালাতে চুড়িতে সংঘাত… Continue reading ত্যাগ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আত্ম-পর-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

সারা সকালটা খেটেখুটে দুপুর বেলায় দক্ষিণ দিকের বারাণ্ডায় একটা বিছানা পেতে একটু শুয়েছি। তন্দ্রাটি যেই এসেছে–অমনি মুখের উপর খপ্‌ ক’রে কি একটা পড়ল। তাড়াতাড়ি উঠে দেখি একটা কদাকার কুৎসিত পাখীর ছানা। লোম নেই–ডানা নেই–কিম্ভূতকিমাকার! বাগে ও ঘৃণায় সেটাকে উঠোনে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। কাছেই একটা বেড়াল যেন অপেক্ষা করছিল–টপ।। করে মুখে করে নিয়ে গেল। শালিক পাখীদের… Continue reading আত্ম-পর-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

পয়লা নম্বর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি তামাকটা পর্যন্ত খাই নে। আমার এক অভ্রভেদী নেশা আছে, তারই আওতায় অন্য সকল নেশা একেবারে শিকড় পর্যন্ত শুকিয়ে মরে গেছে। সে আমার বই-পড়ার নেশা। আমার জীবনের মন্ত্রটা ছিল এই— যাবজ্জীবেৎ নাই-বা জীবেৎ ঋণং কৃত্বা বহিং পঠেৎ। যাদের বেড়াবার সখ বেশি অথচ পাথেয়ের অভাব, তারা যেমন ক’রে টাইম্‌টেব্‌ল্‌ পড়ে, অল্প বয়সে আর্থিক অসদ্ভাবের দিনে আমি… Continue reading পয়লা নম্বর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চিত্রকর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ময়মনসিংহ ইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে আমাদের গোবিন্দ এল কলকাতায় । বিধবা মায়ের অল্প কিছু সম্বল ছিল । কিন্তু , সব চেয়ে তার বড়ো সম্বল ছিল নিজের অবিচলিত সংকল্পের মধ্যে । সে ঠিক করেছিল , ‘ পয়সা’ করবই সমস্ত জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে । সর্বদাই তার ভাষায় ধনকে সে উল্লেখ করত ‘ পয়সা ‘ বলে… Continue reading চিত্রকর- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছাব্বিশটি কান ও বধির বিচারক- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমি হরি ঘোষ স্ট্রিট পেরিয়ে সদ্য বিডন স্ট্রিটে এসে দাঁড়িয়েছি। একটা লাল ডবল ডেকার— আমাকে আগে রাস্তা পার হতে দেবে অথবা নিজেই আগে পার হবে, এইরকম দ্বিধাময় গতিতে আসছে। আমিও রাস্তা পার হওয়ার আগে একটা সিগারেট ধরানো মনস্থ করে ফেলেছি, কিন্তু তখনও বিকেল, সন্ধে নামার কোনও লক্ষণই নেই—অথচ ডবল ডেকারের হেড লাইট দুটো জ্বলছে—এতেই আমি… Continue reading ছাব্বিশটি কান ও বধির বিচারক- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়