স্বামীর আত্মা – সমরেশ মজুমদার

সকালবেলার সদ্য চায়ের কাপ শেষ করেছে সৌরভ, বেল বাজল।…………..আজ রবিবার, ক্রমাগত বেল বাজবেই। গত রবিবারে দরজা খোলা নিয়ে তৃণার সঙ্গে ঝগড়া হয়ে গিয়েছিল। হকারের দল, ঝি, দুধওয়ালা থেকে শুরু করে সৌরভের বন্ধুবান্ধব আসার আর শেষ নেই। আজ সৌরভই দরজা খুলল। খুলে জিজ্ঞাসা করল, একি? আপনারা?……..শাশুড়িঠাকরুন গম্ভীর মুখে বললেন, খুশি হওনি মনে হচ্ছে?…….সেকি! আসুন-আসুন। হঠাৎ না… Continue reading স্বামীর আত্মা – সমরেশ মজুমদার

দোলা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

গাড়ি বদল করতে হয় মধুডিহি জংশনে।………….আর যে–গাড়ি নিয়ে যাবে আপনাকে লামডিঙে তা আগাগোড়া ছবি–আঁকা। কী নরম আর চকচকে গদির আসন গাড়ির ভিতরে। আর কী মিঠে ইনজিনের ভেঁপু। কু-ঝিক–ঝিক ট্রেন মধুডিহি ছাড়িয়েই বাঁক নেবে মায়াবী জগতে। সবুজ অরণ্যের ডালপালা এসে হাত বুলোবে রেলগাড়ির গায়ে। একটু দুলে–দুলে চলবে মন্থর গাড়ি। খেয়াল করে শুনবেন গাড়ির চাকা ঠিক যেন… Continue reading দোলা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

গল্পবলিয়ে তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়

তোরা তো আমাকে গল্পবলিয়ে বলেই জানিস, বললেন তারিণীখুড়ো, কিন্তু এই গল্প বলে যে আমি এককালে রোজগার করেছি সেটা কি জানিস?…………….না বললে জানব কী করে? বলল ন্যাপলা।………..সে আজ থেকে বাইশ বছর আগের কথা, বললেন তারিণীখুড়ো। বম্বেতে আছি, ফ্রি প্রেস জার্নাল কাগজে এডিটরের কাজ করছি, এমন সময় একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম–আমেদাবাদের এক ধনী ব্যবসায়ী একজন গল্পবলিয়ের সন্ধান করছে।… Continue reading গল্পবলিয়ে তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়

লামডিঙের আশ্চর্য লোকেরা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লামডিঙে খুবই অদ্ভুত–অদ্ভুত ধরনের ঘটনা ঘটত। এই ছোট্ট শহরে কৃপণ, লোভী, রাগি, চোর, সাধু, ম্যাজিসিয়ান, ডাকাত, সাহসী, ভীতু নানারকমেরই লোক ছিল। সকলেই সকলকে চিনত।…………মগন ছিল চোর এবং খুব একটা উঁচু দরের চোরও নয়। প্রায়ই চুরি করতে কারও বাড়ি ঢুকে ধরা পড়ে যেত। সত্যসিন্ধুবাবুর বউ একদিন তাকে রান্নাঘরে ধরে ফেললেন। চুরি করার আগে মগন জালের মিটসেফ… Continue reading লামডিঙের আশ্চর্য লোকেরা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লাখপতি – সত্যজিৎ রায়

ত্রিদিব চৌধুরী আর থাকতে না পেরে বিরক্তভাবে বেয়ারাকে ডাকার বোতামটা টিপলেন। কিছুক্ষণ থেকেই তিনি অনুভব করছেন যে, কামরাটা যত ঠাণ্ডা থাকার কথা মোটেই তত ঠাণ্ডা নয়। অথচ তাঁর তিন সহযাত্রীই দিব্যি নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছেন। এটা যে কী করে সম্ভব হয় তা ত্রিদিববাবু মোটেই বুঝতে পারেন না। আসলে অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে করেই হয়েছে এই হাল।… Continue reading লাখপতি – সত্যজিৎ রায়

অক্ষয়বাবুর শিক্ষা – সত্যজিৎ রায়

অক্ষয়বাবু ছেলের হাত থেকে লেখাটা ফেরত নিলেন।……….কী রে–এটাও চলবে না?……….ছেলে মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিলনা, চলবে না। এটা অক্ষয়বাবুর পাঁচ নম্বর গল্প যেটা ছেলে নাকচ করে দিল। অক্ষয়বাবুর ছেলের নাম অঞ্জন। তার বয়স চোদ্দ। অতি বুদ্ধিমান ছেলে, ক্লাসে সে সব সময় ফাস্ট হয়, পড়ার বাইরে তার নানা বিষয়ে কৌতূহল। অক্ষয়বাবু নিজে লেখক নন; তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের… Continue reading অক্ষয়বাবুর শিক্ষা – সত্যজিৎ রায়

ফকির-বাবা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

মনে পড়ল পঁয়ত্রিশ বছর আগেকার কথা। আমি তখন মুঙ্গেরে ওকালতি করি। আমার বাবা জেলা কোর্টের বড় উকিল ছিলেন, তাঁর গুটি তিন-চার জুনিয়র। আমি ছিলাম তাঁদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।……………..কাজকর্ম বিশেষ করতাম না; বাবার পিছন পিছন এক এজলাস থেকে অন্য এজলাসে ঘুরে বেড়াতাম, কখনো বা এজলাসে সাক্ষীর এজেহার লিখতাম, এবং বেশীর ভাগ সময় বার-লাইব্রেরিতে বসে সমবয়স্ক উকিলদের সঙ্গে… Continue reading ফকির-বাবা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

একজন ইডিয়টের গল্প – বুদ্ধদেব গুহ

বহুদিন পরে পুরীতে এলাম। এসে পুরী এক্সপ্রেস থেকে নেমে পুরী স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই ধাক্কাটা খেলাম। না, কোনো মানুষ বা জিনিসের সঙ্গে ধাক্কা নয়, ধাক্কাটা নিজের স্মৃতির সঙ্গে।আমরা কামরা থেকে নেমে একটি ব্যাগ কাঁধে তুলে বাইরে যাবার গেট-এর দিকে এগোচ্ছি যখন, তখন ভিড় পাতলা হয়ে গেছে প্ল্যাটফর্মে। অপেক্ষাকৃত অল্পবয়সিরা তাড়াতাড়ি হেঁটে বেরিয়ে গেছেন স্টেশন থেকে। আমার বয়স… Continue reading একজন ইডিয়টের গল্প – বুদ্ধদেব গুহ

পটলবাবু ফিল্মস্টার – সত্যজিৎ রায়

পটলবাবু সবে বাজারের থলিটা কাঁধে ঝুলিয়েছেন এমন সময় বাইরে থেকে নিশিকান্তবাবু হাঁক দিলেন, পটল আছ নাকি হে?………..আজ্ঞে হ্যাঁ। দাঁড়ান, আসছি।…..নিশিকান্ত ঘোষ মশাই নেপাল ভট্টচাজ্যি লেনে পটলবাবুর তিনখানা বাড়ির পরেই থাকেন। বেশ আমুদে লোক। পটলবাবু থলে নিয়ে বেরিয়ে এসে বললেন, কী ব্যাপার? সক্কাল সক্কাল?………শোনো, তুমি ফিরছ কতক্ষণে?………..এই ঘণ্টাখানেক। কেন?……..তারপর আর বেরোনোর ব্যাপার নেই তো? আজ তো… Continue reading পটলবাবু ফিল্মস্টার – সত্যজিৎ রায়

আমি ভূত – সত্যজিৎ রায়

আমি ভূত। আজ থেকে ঠিক সাড়ে তিন বছর আগে আমি জ্যান্ত ছিলাম। সেই সময় এই দেওঘরের এই বাড়িতেই আগুনে পুড়ে আমার জ্যান্ত অবস্থার শেষ হয়। এই বাড়ির নাম লিলি ভিলা। আমি এখানে এসেছিলাম আমার এক বন্ধুর সঙ্গে ছুটি কাটাতে। একদিন স্টোভে চা করতে গিয়ে স্টোভ ফেটে আমার কাপড়ে আগুন ধরে যায়। আমার মুখেও আগুন লেগেছিল… Continue reading আমি ভূত – সত্যজিৎ রায়