ঝুলনপূর্ণিমার রাতে গঞ্জের মেলায় ছোটমামার সঙ্গে কলকাতায় যাত্রা দেখতে গিয়েছিলাম। সন্ধের দিকে বৃষ্টি পড়ছিল। ফেরার সময় দেখি আকাশ ফাঁকা। ঝলমলে চাঁদ কাত হয়ে বাদবাকি জ্যোত্সা ঢেলে নিজেকে খালি করে দিচ্ছে। রাস্তা শুনশান ফাঁকা। মানুষজন মেলায় রাত কাটাতেই আসে। কিন্তু ছোটমামা খুঁতখুঁতে মানুষ।–ঘুম পাচ্ছে বলেই যেখানে-সেখানে শুয়ে পড়তে হবে নাকি? মোটে তো পাঁচ কিমি রাস্তা। চলে… Continue reading রাতের মানুষ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
ভোলানাথের সর্দারি – সুকুমার রায়
সকল বিষয়েই সর্দারি করিতে যাওয়া ভোলানাথের ভারি একটা বদ অভ্যাস। যেখানে তাহার কিছু বলিবার দরকার নাই, সেখানে সে বিজ্ঞের মতো উপদেশ দিতে যায়, যে কাজের সে কিছুমাত্র বোঝে না, সে কাজেও সে চট্পট্ হাত লাগাইতে ছাড়ে না। এইজন্য গুরুজনেরা তাহাকে বলেন ‘জ্যাঠা’- আর সমবয়সীরা বলে ‘ফড়ফড়ি রাম’ ! কিন্তু তাহাতে তাহার কোনো দুঃখ নাই, বিশেষ… Continue reading ভোলানাথের সর্দারি – সুকুমার রায়
দুষ্ট দানব – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
এক দানব আর এক চাষা, দুজনে পাশা খেলছিল। খেলায় চাষার হার হল।পাশায় হেরে চাষা হায় হায় করতে লাগল। খেলবার আগে সে বাজি রেখেছিল যে, সে হারলে দানব তার ছেলেটিকে নিয়ে যাবে। এখন উপায় কি হবে? দানব কিছুতেই ছাড়বে না। সে বলছে, ‘কালই এসে আমি ছেলে নিয়ে যাব। যদি তাকে রাখতে চাও, তবে এমন করে তাকে… Continue reading দুষ্ট দানব – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
নতুন পণ্ডিত – সুকুমার রায়
আগে যিনি আমাদের পণ্ডিত ছিলেন, তিনি লোক বড় ভালো। মাঝে মাঝে আমাদের যে ধমক-ধামক না করিতেন, তাহা নয়, কিন্তু কখনও কাহাকেও অন্যায় শাস্তি দেন নাই। এমন কি ক্লাশে আমরা কত সময় গোল করিতাম, তিনি মাঝে মাঝে ‘আঃ’ বলিয়া ধমক দিতেন। তাঁর হাতে একটা ছড়ি থাকিত, খুব বেশি রাগ করিলেই সেই ছড়িটাকে টেবিলের উপর আছড়াইতেন— সেটিকে… Continue reading নতুন পণ্ডিত – সুকুমার রায়
একটি বর – সুকুমার রায়
একটি অন্ধ ভিখারি রোজ মন্দিরে পূজা করতে যায়। প্রতিদিন ভক্তিভরে পূজা শেষ করে মন্দিরের দরজায় প্রণাম করে সে ফিরে আসে; মন্দিরের পুরোহিত সেটা ভাল করে লক্ষ করে দেখেন।এইভাবে কত বৎসর কেটে গেছে কেউ জানে না। একদিন পুরোহিত ভিখারিকে ডেকে বললেন, “দেখ হে! দেবতা তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তুমি কোন একটা বর চাও। কিন্তু, মনে রেখো,—… Continue reading একটি বর – সুকুমার রায়
বনমানুষ – আবু ইসহাক
নতুন চাকরি পেয়ে কলকাতা এসেছি। সম্পূর্ণ অস্থায়ী চাকরি। যে-কোনাে সময়ে, বিনা-কারণে ও বিনা নােটিশে বরখাস্ত হওয়ার সম্ভাবনা। নিয়ােগপত্রে এসব শর্ত দেখেও ঘাবড়াইনি একটুও। বন-বিভাগে চাকরি করতাম ষাট টাকায় এখানে পাব একশাে তিরিশ টাকা। দ্বিগুণেরও বেশি। এমন সুবর্ণ সুযোেগ কোনাে নির্বোধ পায়ে ঠেলে দেয় বলে আমার মনে হয় না। আর যাই হােক, আমি দুপায়ে হাঁটি। জঙ্গলে… Continue reading বনমানুষ – আবু ইসহাক
বউ-চণ্ডীর মাঠ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ্রামের বাঁওড়ের মধ্যে নৌকো ঢুকেই জল-ঝাঁঝির দামে আটকে গেল।কানুনগো হেমেনবাবু বললেন—বাবলা গাছটার গায়ে কাছি জড়িয়ে বেঁধে নাও… বাইরের নদীতে ভাটার টান ধরেছে, নাটা-কাঁটার ঝোপের নীচের জল সরে গিয়ে একটু একটু করে কাদা বার হচ্ছে। হেমেনবাবু বললেন—একটুখানি নেমে দেখবেন না কোথায় পিন ফেলা হয়েছে? যত শিগগির খানাপুরীটা শেষ হয়ে যায়…এমন সুন্দর বিকালটাতে আর কাজ করতে ইচ্ছা… Continue reading বউ-চণ্ডীর মাঠ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সল্টলেকের বাড়ি – সমরেশ মজুমদার
শ্রাদ্ধ-শান্তি চুকে যাওয়ার পর আর কিছু করার থাকে না। যে কয়েকজন আত্মীয় এসেছিলেন তাঁরা ফিরে গেলেন যে-যার সংসারে। আগামীকাল সকালে বড়মেয়ে-জামাই যাবে ম্যানচেস্টারে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে চটজলদি চলে এসেছিল স্বা তাঁকে নিয়ে। কোনওরকমে ছুটি ম্যানেজ করেছিল জামাই। আর থাকতে পারছে না। ছোট্ট মেয়ে এসেছিল কানাডা থেকে। সেও ফিরে যাচ্ছে কাল। দিল্লি হয়ে।… Continue reading সল্টলেকের বাড়ি – সমরেশ মজুমদার
সাইকেল (২য় পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
মহিম মণ্ডলের পয়সা আছে, পয়সার গরমও আছে। হঠাৎ হুঙ্কার দিয়ে উঠল, তাই পাবে। লেগে পড়ো, বুধবার বেলা বারোটার মধ্যে কাজ সারা চাই। জামাই আসবে সাড়ে পাঁচটায়। তার আগে এমন করে সব সারতে হবে যে, সদ্য হয়েছে বলে বোঝা না যায়।তা হয়ে যাবে।আজ রাত থেকেই শুরু করে দাও। আমি ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সাধনকে খবর দিচ্ছি, সে এসে… Continue reading সাইকেল (২য় পর্ব) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সাইকেল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বউ দিয়ে সে কী করবে? তার দরকার একখানা সাইকেল। সাইকেলের মতো জিনিস হয় না। ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হওয়ার মতো করে উঠে পড়লেই হল। তারপর দু-খানা সরু চাকার খেল। এই খেলটাও বড়ই আশ্চর্যের। পড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু পড়ে না। ঘটুর দুনিয়াখানা এখন এসে জড়ো হয়েছে সাইকেলে। আর সাইকেলের রকমারি কম নয়। মদনবাবুর ছেলে কুঁড়োরাম কী জিনিসটাই… Continue reading সাইকেল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়