চোরাবালির চোর – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ছোটমামার মাথায় বড়-বড় চুল। চুল নয়, যেন সজারুর কাটা। রকমারি শ্যাম্পু ঘেযেও ছোটমামা তার ওই নচ্ছার চুলগুলোকে বাগ মানাতে পারছিলেন না। শেষে বাবা পরামর্শ দিলেন, তার চেয়ে ন্যাড়া হচ্ছ না কেন ভায়া? ছোটমামা মুখে কিছু না বললেও ভেতরে-ভেতরে রেগে টাই হয়ে যেতেন। কদিন পরে দেখি, ছোটমামা স্নানের পর একটা শিশি থেকে লাল রঙের একটা তরল… Continue reading চোরাবালির চোর – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

প্রহারেণ ধনঞ্জয় – জসীম উদ্দীন

এক কুলীন ব্রাহ্মণ ছিল খুবই গরীব। কোনোরকমে দিন চলে যায়। কোন এক বর্ষাকালে সাত মেয়ের সাত জামাই এসে বসে আছে তার বাড়িতে। বেচারি শ্বশুর আজ বিক্রি করে বউ-এর গয়না, কাল বিক্রি করে পিতলের কলসী। যা মূল্য পায় তাই দিয়ে জামাইদেরকে খাওয়ায়। আষাঢ় মাসের ঘন বর্ষার দিন। দুধে-মাছে খেয়ে জামাইরা আর ফেরার নামও করে না। পাড়ার… Continue reading প্রহারেণ ধনঞ্জয় – জসীম উদ্দীন

হেনতেন – জসীম উদ্দীন

অল্প বয়সেই আজিজের বাপ-মা মরে গেল। বুড়ো নানা আজিজকে এনে তাঁহার বাড়িতে রাখলেন। কিন্তু তার মতো দুষ্ট ছেলেকে সামাল দিবেন কতদিন? আজ এটা নষ্ট করে, কাল ওটা বাজারে বিক্রি করে মিঠাই খায়। অনেক ধকম-ধামক মারপিট করেও আজিজকে ভালো করা গেল না। পরিশেষে নানা তাঁকে বাড়ি হতে তাড়িয়ে দিলেন। দশ-বারো বছর পরে একদিন অনেক টাকা-পয়সা নিয়ে… Continue reading হেনতেন – জসীম উদ্দীন

তুমভি কাঁঠাল খায়া – জসীম উদ্দীন

এক কাবুলিওয়ালা বাংলাদেশে নতুন এসেছে! বাজারে গিয়ে দেখে বড় বড় কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। পাকা কাঁঠালের কেমন সুবাস! না জানি খেতে কত মিষ্টি! তার দেশে তো এত বড় ফল পাওয়া যায় না। মাত্র আট আনা দিয়া মস্ত বড় একটা কাঁঠাল সে কিনে ফেলল। কাঁঠালটি নিয়ে সে একবার ঘ্রাণ শুঁকে দেখে, আবার কাঁধে নিয়ে দেখে। তারপর খুশিতে নাচতে… Continue reading তুমভি কাঁঠাল খায়া – জসীম উদ্দীন

কিছুমিছু – জসীম উদ্দীন

বড় ভাই হরি প্রায়ই শ্বশুরবাড়ি যায়। সেখানে তাকে কত খাতির-আদর করে। এটা-সেটা খেয়ে এসে নানারকম গাল-গল্প করে। ছোট ভাই নেপাল শুনে মুখ কাঁচুমাচু করে। তার তো বিবাহই হয় নাই। কে তাঁকে খাতির যত্ন করবে? সেদিন নেপাল গিয়ে বড় ভাই হরিকে বলল, “দাদা, প্রতিবছর তুমি শ্বশুরবাড়ি যাও। কত কি খেয়ে আস, এবার নাহয় তোমার বদলে আমি… Continue reading কিছুমিছু – জসীম উদ্দীন

বাঙ্গালীর হাসির গল্প – চৈত্র মাসের মাসলা পৌষ মাসে – জসীম উদ্দীন

মৌলবী সাহেবের তালেব এলেম (ছাত্র) সবে মৌলবী হয়েছেন। ছাত্র অবস্থায় ওস্তাদের বক্তৃতায় যে যে কথা শুনেছেন, তারই মতো সুর করে সেই সব কথা বলেন। নূতন মৌলবীর গলার সুর আরও সুন্দর বলে ঘন ঘন তিনি দাওয়াত পান।সেবার পৌষ মাসে এক গৃহস্থ বাড়ি তাঁহার দাওয়াত হয়েছে। বক্তৃতা করতে করতে মৌলবী সাহেব বলে ফেললেন, “মেয়ে লোকের ব্যবহার করা… Continue reading বাঙ্গালীর হাসির গল্প – চৈত্র মাসের মাসলা পৌষ মাসে – জসীম উদ্দীন

পাজি পিটার – সুকুমার রায়

শহরের কোণে মাঠের ধারে এক পুরানো বাড়িতে পিটার থাকত। তার আর কেউ ছিল না, খালি এক বোন ছিল। পিটারকে সবাই বলত ‘পাজি পিটার’ —কারণ পিটার কোন কাজকর্ম করে না—কেবল একে ওকে ঠকিয়ে খায়। পিটার একদিন ভাবল ঢের লোক ঠকিয়েছি—একবার রাজাকে ঠকানো যাক। এই ভেবে সে রাজবাড়িতে গেল। রাজা বললেন, ‘তুমি কে হে? মতলবখানা কি?” পিটার… Continue reading পাজি পিটার – সুকুমার রায়

বাঙ্গালীর হাসির গল্প – ছোট গল্প -ভাগাভাগি – জসীম উদ্দীন

বাপ মরে গিয়েছে। দুই ভাই আলাদা হবে। বড়ভাই ছোটভাইকে বলল, “দেখ, আমাদের একটিমাত্র গাই (গাভী) আছে, কেটে তো আর দুই ভাগ করা যাবে না। তুই ছোটভাই। তোকেই গাই’র বড় ভাগটা দেই। তুই তাহলে গাই’র মুখের দিকটা নে। আর আমি গাই’র লেজের দিকটা নেই।” ছোটভাই ভারি খুশি! বড়ভাই যে তাঁকে ভাল ভাগটা দিয়েছে, সেজন্য সে বড়… Continue reading বাঙ্গালীর হাসির গল্প – ছোট গল্প -ভাগাভাগি – জসীম উদ্দীন

দ্রিঘাংচু – সুকুমার রায়

এক ছিল রাজা।রাজা একদিন সভায় বসেছেন- চারিদিকে তাঁর পাত্র-মিত্র আমির ওমরা সিপাই শান্ত্রী গিজ গিজ করছে- এমন সময় কোথা থেকে একটা দাঁড়কাক উড়ে এসে সিংহাসনের ডান দিকে উঁচু থামের ওপর বসে ঘাড় নিচু ক’রে চারিদিক তাকিয়ে, অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল, “`কঃ”‘। কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ‌ এরকম গম্ভীর শব্দ- সভাসুদ্ধ সকলের চোখ এক সঙ্গে গোল… Continue reading দ্রিঘাংচু – সুকুমার রায়

জামাইয়ের শ্বশুরবাড়ি যাত্রা – জসীম উদ্দীন

বিবাহের পর ছেলেটি এই প্রথম তার শ্বশুরবাড়ি যাবে। সে গোপনে কিছু টাকা-পয়সা সংগ্রহ করে বউ এর জন্য একটি শাড়ি, কয়েকগাছা চুড়ি আর একছড়া পুঁতির মালা কিনে সঙ্গে নিল।যাওয়ার সময় মা উপদেশ দিলেন, বাবা! শ্বশুরবাড়ি যেতে কাউকে সঙ্গে নিবে না। আর সেখানে গেলে তোমার শাশুড়ি তোমাকে নানারকম জিনিস খেতে দিবে, কিন্তু তুমি যদি তার সব খাও,… Continue reading জামাইয়ের শ্বশুরবাড়ি যাত্রা – জসীম উদ্দীন