বাঙ্গালির হাসির গল্প – চুক্তি – জসীম উদ্দীন 

গ্রামের মধ্যে সবচাইতে বড়লোক আমাদের খাঁ সাহেব; কিন্তু বড়ই কৃপণ। একটি পয়সাও তার হাতের কানি আঙুল গড়িয়ে পড়ে না। তার বাড়িতে কেহ কোনোদিন দাওয়াত খেতে পায় না। সেবার তার ছেলের বিবাহ। সমস্ত গ্রামের লোক এসে ধরল, “খাঁ সাহেব! এবার আর আপনাকে ছাড়ব না; আপনার ছেলের বিবাহ। আমাদিগকে দই চিনি খাওয়াতে হবে।” খাঁ সাহেব অনেক ওজর… Continue reading বাঙ্গালির হাসির গল্প – চুক্তি – জসীম উদ্দীন 

দাশুর খ্যাপামি – সুকুমার রায়

ইস্কুলের ছুটির দিন । ইস্কুলের পরেই ছাত্র-সমিতির অধিবেশন হবে, তাতে ছেলেরা মিলে অভিনয় করবে । দাশুর ভারি ইচ্ছে ছিল, সে-ও একটা কিছু অভিনয় করে । একে-ওকে দিয়ে সে অনেক সুপারিশ করিয়েছিল, কিন্তু আমরা সবাই কোমর বেঁধে বললাম, সে কিছুতেই হবে না ।সেইতো গতবার যখন আমাদের অভিনয় হয়েছিল, তাতে দাশু সেনাপতি সেজেছিল ; সেবার সে অভিনয়টা… Continue reading দাশুর খ্যাপামি – সুকুমার রায়

বুদ্ধিমান চাকর (২য় পর্ব) – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক বাবুর একটি বড় বুদ্ধিমান চাকর ছিল, তার নাম ভজহরি। একদিন ভজহরি পথ দিয়া যেতে যেতে দেখল, তার বাবু বড় ব্যস্ত হয়ে বাড়ির দিকে ছুটে চলেছেন। ভজহরি জিজ্ঞাসা করল, ‘বাবু, কোথায় যাচ্ছেন?’ বাবু বললেন, ‘শিগ্‌গির এস ভজহরি, সর্বনাশ হয়েছে-আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে।’ তাতে ভজহরি বলল, ‘আপনার কোন ভয় নাই বাবু, ও মিছে কথা। আগুন কি করে… Continue reading বুদ্ধিমান চাকর (২য় পর্ব) – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

বুদ্ধিমান চাকর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক কাজী সাহেবের এক চাকর ছিল, তার নাম বুদ্ধু। চাকরটা একে বিদেশী , তাতে বুদ্ধি- সুদ্ধির ধার ধারে না- কাজেই কাজি সাহেবের মহা মুশকিল। চাকরটা কায়দা কানুন কিছুই জানে না- বাড়িতে লোক আসলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।একদিন কাজি সাহেব তাকে দুই ধমক দিয়ে বললেন, ‘ফের যদি এরকম বেয়াদবী করিস- কাউকে সেলাম না করিস, তবে তোকে… Continue reading বুদ্ধিমান চাকর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি – জসীম উদ্দীন

বাপ মরে গিয়েছে। ঘুঘু আর ফাঁদ দুই ভাই। কি একটা কাজে দুই ভাইয়ের লাগল মারামারি। ফাদ রেগে বলল, “তুই ঘুঘু দেখেছিস। কিন্তু ফাঁদ দেখিস নাই।” ঘুঘু রাগ করে বাড়ি হতে পালিয়ে গেল। বিদেশে গিয়ে সে এ বাড়ি, সে বাড়ি, কত বাড়ি ঘুরল। সবাইকে বলল, আমি ধান নিড়াইতে পারি-পাট কাটতে পারি-গরুর হেফাজত করতে পারি। কিন্তু কার… Continue reading ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি – জসীম উদ্দীন

ঠুকে মারি আর মুখে মারি – সুকুমার রায়

মুখে-মারি পালোয়ানের বেজায় নাম, —তার মত পালোয়ান নাকি আর নাই। ঠুকে-মারি সত্যিকারের মস্ত পালোয়ান, মুখে-মারির নাম শুনে সে হিংসায় আর বাঁচে না। শেষে একদিন ঠুকে-মারি আর থাকতে না পেরে, কম্বলে নব্বুই মন আটা বেঁধে নিয়ে, সেই কম্বল কাঁধে ফেলে মুখে-মারির বাড়ি রওয়ানা হ’লো। পথে এক জায়গায় বড্ড পিপাসা আর ক্ষিদে পাওয়ায় ঠুকে-মারি কম্বলটা কাঁধ থেকে… Continue reading ঠুকে মারি আর মুখে মারি – সুকুমার রায়

পান্তা বুড়ী – জসীম উদ্দীন

পান্তা বুড়ী রোজ পাতিল ভরে ভাত রাঁধে। তার কতকটা খায়, আর কতকটায় পানি ঢেলে পান্তা করে রাখে। পানির ঠাণ্ডায় ভাত পচে যায় না। রোজ সকালে উঠে সে সেই পান্তা ভাত খায়। এক চোর টের পেয়ে রাত্রে বুড়ী ঘুমাইলে ঘরে ঢুকে তার পান্তা খেয়ে যায়। বুড়ী সকালে উঠে সোরগোল করে। চোরের চৌদ্দ পুরুষ ধরে গালিগালাজ করে।… Continue reading পান্তা বুড়ী – জসীম উদ্দীন

এক কথায় এত কিছু – জসীম উদ্দীন

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে জামাই কোনো কথা বলে না। শালীরা-শালারা কত ঠাট্টা-তামাসা করতে আসে; সে কোনো উচ্চবাচ্য করে না।তখন শ্বশুর গিয়ে জামাইয়ের বাপকে বলে, “দেখুন, আপনার ছেলে আমাদের বাড়ি এসে চুপ করে বসে থাকে। কোনো কথাবার্তা বলে না। এটা যেন কেমন কেমন লাগে। সবাই বলে জামাই বোকা।” বাপ বলল, “আমার ছেলে তো বাড়িতে বেশ ভালোমতোই কথাবার্তা বলে!… Continue reading এক কথায় এত কিছু – জসীম উদ্দীন

বাঙ্গালীর হাসির গল্প – ছোট গল্প – বোকা সাথী – জসীম উদ্দীন

এক ছিল নাপিত। তার সঙ্গে এক জোলার ছিল খুবই ভাব। নাপিত লোকের চুল-দাঁড়ি কামিয়ে বেশী পয়সা উপার্জন করতে পারত না। জোলাও কাপড় বুনে বেশী পয়সা লাভ করতে পারে না। দুই জনেরই সংসারে খুব টানাটানি যাচ্ছিল। আর টানাটানি বলে কারও বউই কাউকে দেখতে পারে না। এটা কিনে আন নাই, ওটা কিনে আন নাই, বলে বউরা দিনরাতই… Continue reading বাঙ্গালীর হাসির গল্প – ছোট গল্প – বোকা সাথী – জসীম উদ্দীন

ছাতার মালিক – সুকুমার রায়

তারা দেড় বিঘৎ মানুষ।তাদের আড্ডা ছিল, গ্রাম ছাড়িয়ে, মাঠ ছাড়িয়ে, বনের ধারে, ব্যাং-ছাতার ছায়ার তলায়। ছেলেবেলায় যখন তাদের দাঁত ওঠেনি, তখন থেকে তারা দেখে আসছে, সেই আদ্যিকালের ব্যাঙের ছাতা। সে যে কোথাকার কোন ব্যাঙের ছাতা, সে খবর কেউ জানে না, কিন্তু সবাই বলে, “ব্যাঙের ছাতা।” যত সব দুষ্টু ছেলে, রাত্রে যারা ঘুমোতে চায় না, মায়ের… Continue reading ছাতার মালিক – সুকুমার রায়