শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৯ হুমায়ূন আহমেদ

মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণে পদ্মায় যে বিশাল চর জেগেছে, শুভ্ৰ আছে সেখানে। সে খাটো করে লুঙ্গি পরেছে। গায়ে কুচকুচে কালো রঙের গেঞ্জি। পায়ে রাবারের লাল জুতা। সে নৌকায় বসা, হাতে ছিপ। নৌকা খুঁটি দিয়ে আটকানো। জোয়ারে পানি বাড়ছে। নৌকা দুলছে। শুভ্রর দৃষ্টি ফাতনার দিকে। তিনটা ছিপ সে ফেলেছে। একটা হাতে নিয়ে আছে। মাছ বড়শি ঠোকরাচ্ছে, কিন্তু গিলছে… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৯ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

সে কি সন্ত্রাসীদের কেউ? জি-না। অতি ভালো ছেলে। তবে ছোট-মজিদ তার অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা দুজন একই স্কুলে পড়ত। দুজন একই সঙ্গে ইন্টারমিডিয়েট ফেল করে। র্যাব তাকে দেখিয়েছে ছোট-মজিদের সহযোগী হিসেবে।টুনুর পরিবারের কেউ বিষয়টা জানে না? না। টুনুর ব্যাপারে তারা উদ্বিগ্নও না। সে প্রায়ই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে।তুমি তার ব্যাপারে আরও তথ্য… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

দুদিন হলো আজহার অফিসে যাচ্ছেন না। শোবার ঘরে ঝিম ধরে বসে আছেন। একটার পর একটা বিড়ি টানছেন। বিড়ির ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার। মাঝে মাঝে গলা খাকারি দিচ্ছেন। তখন গলা থেকে পশুর মতো অাওয়াজ বের হচ্ছে।তাঁর কোনো বড় সমস্যা যাচ্ছে। সমস্যার প্রধান লক্ষণ, তিনি খবরের কাগজ পড়ছেন না। কাগজ পড়া তার নেশার মতো। প্রথম একবার চা খেতে… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

রেহানা এবং মেরাজউদ্দিন দুজনের কেউ বেশ কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলেন না। দুজন অবাক হয়ে আহসানের দিকে তাকিয়ে রইলেন।আহসান বলল, স্যার, আমাকে আটচল্লিশ ঘণ্টা সময় দিন, আমি খোঁজ বের করে ফেলব। সব জায়গায় খবর চলে গেছে। থানাতে জানিয়েছি। থানাওয়ালরা কিছু করতে পারবে না; আমি দালাল লাগিয়েছি।মেরাজউদ্দিন সিগারেট ধরাতে ধরাতে রেহানার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার ছেলে… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ

আমার এখন এই অবস্থা পৃথিবীর সব কিছু খেয়ে ফেলতে ইচ্ছা করছে। আমার সবচেয়ে পছন্দের খাবার কী জানেন? মাছ মাংস কিছু না। রসুনের ভর্তা। রসুন পুড়িয়ে শুকনা মরিচ দিয়ে ভর্তাটা বানানো হয়। আমার এখন রসুনভার্তা দিয়ে ভাত খেতে ইচ্ছা করছে।যুথী রাত আটটায় প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে বাসায় ফিরেছে।আজহার বাসার সামনের বারান্দায় টুল পেতে উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, তোকে… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ

আজহার বললেন, তুমি ষাড়ের গোবর ছাড়া কিছু না। প্লেইন এন্ড সিম্পল cowdung. তিনবার ইন্টারমিডিয়েট ফেল করে এখন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াও। ঢাকা শহরে তুমি ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবন কাটাবে, আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এখন আমার চোখের সামনে থেকে বিদায় হও। স্টুপিড কোথাকার! টুনু মাথা নিচু করে বের হয়ে গেল। আজহার খাম খোলার প্রস্তুতি নিলেন। তবে… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ

ইন্টারভিউ বোর্ডে সাধারণত বেশ কয়েকজন থাকেন। এখানে বোর্ডে একজনই আছেন। মধ্যবয়স্ক একজন মানুষ। সুন্ট-টাই পরা না। হালকা সবুজ রঙের টিশার্ট পরা। ভদ্রলোকের চুল কোঁকড়ানো। চেহারা সুন্দর। তাঁর সামনে কোনো ফাইলপত্র নেই। আছে কোনো একটা গল্পের বই। ইন্টারভিউ নেওয়ার চেয়ে গল্পের বই পড়ার ব্যাপারে তার আগ্ৰহ বেশি দেখা যাচ্ছে। কথাবাতাঁর ফাঁকে ফাঁকে তিনি বইও পড়ছেন। তাঁর… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ

করিম আঙ্কেল জয়তীর দিকে তাকিয়ে বললেন, My dear child, ভালোবাসা বলে কিছু নেই। ভালোবাসা হচ্ছে এমন একটা শব্দ যা রাজশেখর বসু তাঁর চলন্তিকা ডিকশনারিতে ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ তিনি লিখেছেন- প্রীতি করা, কাহারো প্রতি অনুরক্ত হওয়া, পছন্দ হওয়া। ডিকশনারির বাইরে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। তোমরা চাইলে প্রমাণ করে দিতে পারি।প্ৰমাণ করুন।একটি শর্তে প্ৰমাণ করব। তোমাদের… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ

শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ

উৎসর্গ শুভ্রর মতো কাউকে কি আমি চিনি, যাকে এই বই উৎসর্গ করা যায়? না, চিনি না। প্রকৃতি শুদ্ধতম মানুষ তৈরি করে না। কিছু-না-কিছু খাদ ঢুকিয়ে দেয়।এই বই আমার অচেনা সেইসব মানুষের জন্যে, যারা জানেন তাদের হৃদয় শুভ্রর মতোই শুভ্র। ভূমিকা বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটনকে পার্লামেন্ট সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল।তিনি এই দায়িত্ব পালনকালে একটি মাত্র বাক্য উচ্চারণ… Continue reading শুভ্র গেছে বনে পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ

মিসির আলীর অমিমাংসিত রহস্য শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

এক-এক করে বলি। ছোটবেলায় আমরা একধরনের খেলা খেলতাম। খেলার নাম টক্কা খেলা। পেঁপে গাছের পাতা দিয়ে খেলাটা খেলা হত। পেঁপে গাছের পাতার লম্বা ডাঁটাটা ফাঁপা। সেই ফাঁপা ডাঁটায় মুখ লাগিয়ে একজনের কানের কাছে ডাটার অন্য প্ৰান্ত নিয়ে বিকট চিৎকার করা–টক্কা টক্কা। এই হচ্ছে টক্কা খেলা শব্দ শুনে কিনে তাল লেগে যেত।…… পেঁপে পাতার ডাটা না… Continue reading মিসির আলীর অমিমাংসিত রহস্য শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ