বড় রাস্তায় দুটি চায়ের দোকান ভোলা পাওয়া গেল। একটিতে ইংরেজি গানের ক্যাসেট বাজানো হচ্ছে। জলিল সাহেব গানের দোকানটিতেই বসলেন। চা খাওয়া শেষ হওয়ার পরও বসে রইলেন। সোবাহান বলল, যাবেন না? আরে বসেন না, গান শুনি। বাড়িতে গিয়ে তো সেই ঘুমাবেন। ভালোই লাগছে তো গান শুনতে। লাগছে না? সোবাহান কিছু বলল না।বেঁচে থাকতে হলে আনন্দ দরকার।… Continue reading অরণ্য পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
অরণ্য পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ
মিলি তাকে গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিল। রোদের তাপ কমে এসেছে। ঠাণ্ডা বাতাস, দূরে কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে হয়তো। সোবাহান বড় রাস্তায় নেমে একবার পেছনে তাকাল। মিলি দাঁড়িয়ে আছে। তার দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে একধরনের কাঠিন্য আছে। সোবাহানের তবু মনে হলো, ঠিক এ ধরনের মেয়েদের কাছেই বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। একটা ভুল হয়ে গেল। মিলির বর কবে আসবে… Continue reading অরণ্য পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ
অরণ্য পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
নাহ। মেয়েদের গায়ে আমি হাত তুলি না। ছেলে হলে এক চড়ে মাঢ়ির দুটো দাঁত নড়িয়ে দিতাম।মেয়েটির গাল গোলাপি বর্ণ ধারণ করল। সোবাহান ঘর থেকে বেরিয়ে এল। খুব সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নিচে গেল। তার ভয় করছিল হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন এসে তাকে ধরে ফেলবে। কিন্তু সেরকম কিছু হলো না। শুধু বুড়োটি পিছু পিছু নেমে এল। সে… Continue reading অরণ্য পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
অরণ্য পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
মেয়েটি ফ্যাকাসে হয়ে গেল। ফরিদ আলি গম্ভীর গলায় বললেন, না না, সালাম করতে হবে না। পা ছুঁয়ে সালাম করা ঠিক না। এতে মাথা নিচু করতে হয়। আমরা মুসলমানরা আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নিচু করি না। ( যূথি তাকিয়ে রইল। মেয়েটা সুন্দর, তবে বড় রোগা। দেখলেই মনে হয় অসুস্থ। ফরিদ আলি বললেন, তুমি কী পড়?… Continue reading অরণ্য পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
অরণ্য পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
মেয়েটি টেলিফোন নামিয়ে রেখে তরতর করে দোতলায় উঠে গেল। আর নামার নাম নেই। সোবাহান আরও পঁচিশ মিনিটের মতো অপেক্ষা করল। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। সেজন্যেই মাথায় এখন চাপা যন্ত্রণা হচ্ছে। বাসায় ফিরে টেনে একটা ঘুম দিতে হবে। রিসিপশনিস্ট মেয়েটির নাম কী কে জানে। মাঝে মাঝে সুন্দরী মেয়েদের কুৎসিত সব নাম থাকে। মুন্সিগঞ্জের এসডিও সাহেবের একটি… Continue reading অরণ্য পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
অরণ্য পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ
মশারির ভেতর একটা মশা ঢুকে গেছে।পাতলা ছিপছিপে বুদ্ধিমান একটা মশা। কোথাও বসলেই তাকে মরতে হবে এটি জানে বলেই কোথাও বসছে না। ক্রমাগত উড়ছে।সোবাহান তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকাল। নিশ্চয়ই একসময় সে বসবে। কিন্তু বসছে না, অসম্ভব জীবনীশক্তি। সোবাহানের মাথায় আজগুবি ভাবনা আসতে লাগল–এই মশাটির বয়স কত? এ কি বিবাহিত? এর ছেলেমেয়ে আছে কি? ওদের একা ফেলে সে মরবার… Continue reading অরণ্য পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
ফরহাদের কাছে মনে হচ্ছে সে সারাজীবন খুব পরিশ্রম করেছে। নিঃশ্বাস ফেলার মত সময়ও তার ছিল না। আজ ছুটি পাওয়া গেছে। প্রচণ্ড কর্ম ব্যস্ত এ শহরে আজ তার কাজ নেই। আজ সারাদিন রাস্তায় হাঁটা। পার্কে বসে থাকা। নাপিতের দোকানে গিয়ে চুল কাটানো, মাথা মালিশ করানো। পুরানো বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা করা যেতে পারে। অফিসে চলে যাওয়া যায়।… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ১৮ হুমায়ূন আহমেদ
মানুষের মন যদি এ রকম হত যে সে একসঙ্গে একটার বেশি কোন কিছু নিয়ে ভাবতে পারে না তাহলে চমৎকার হত। মনটাকে সব সময় কোন না কোন কিছু নিয়ে ব্যস্ত রাখা যেতে পারত। কিন্তু মানুষের মন এক সঙ্গে দশ বারোটা বিষয় নিয়ে ভাবতে পারে। ফরহাদ নিশ্চিত যে যখন মাছের বাজারে ঢুকে রুই এবং কাতল মাছের দাম… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ১৮ হুমায়ূন আহমেদ
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ১৭ হুমায়ূন আহমেদ
রাণীর বড় ভাই তার কথা রেখেছিলেন। তাদের হিসাব মতে অতি অপদার্থ একজন ছেলের সঙ্গে বোনের বিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন। সেই চেষ্টায় কোন লাভ যে হয় নি তা না। একটা লাভ হয়েছে—রাণীর ভয়ংকর এক অসুখ হয়েছে। অসুখের লক্ষণ হল তাকে হঠাৎ হঠাৎ বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিতে ইচ্ছা করে। অতি সামান্য একটা ব্যাপার থেকে এত… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ১৭ হুমায়ূন আহমেদ
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ১৬ হুমায়ূন আহমেদ
ভাবটা এ রকম যেন ট্যাবলেট নিয়েই ভাবী চলে যাবে। তার এক মুহূর্ত দাঁড়াবার সময় নেই। অথচ রাণী খুব ভাল করে জানে জাহানারা কোন প্ল্যান নিয়ে এসেছে। এবং এসেছে দীর্ঘ সময় কাটাতে। রাণী ভাবীর সঙ্গে রাগারাগি করার জন্যে মনে মনে তৈরী হল। সে মুখটা হাসি হাসি করে ফেলল। এবং এক ফাঁকে দেখেও ফেলল তার হাসিমুখ আয়নায়… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ১৬ হুমায়ূন আহমেদ