না, ব্ৰহ্মদৈত্যের জন্যে নয়। গাছটা ইয়া মােটা, বেলে ভর্তি। ভৰভূতি বেলের সরবত পেলে আর কিছু খেতে চান না। একগাল হেসে গজপতিকে বললেন–গজু, প্রতিদিন বেলের সরবতের নেমতন্ন রইল। এলেই পাবে। গজপতি মুখে হঁ্যা বললেন বটে, কিন্তু মনে মনে বললেন -মাথা খারাপ ? বেলের সরবতের জন্যে রােজ ট্রেনে চেপে ব্ৰহ্ম দৈত্যর আখড়ায় আসব ? আমি তাে ভবুর… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১২
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১১
–না দেখেছি তাে কি বানিয়ে বলছি ? গজপতি গম্ভীর মুখে বলেন। আমার বয়েস বারাে–তেরাে হবে। ক্লাস এইটে পড়ি। মাধুরীদির ছেলেপুলে ছিল না বলে আমাকে মাঝে মাঝে নিয়ে যেতেন। খাটে শুয়ে পিট পিট করে তাকিয়ে ওইসব কাণ্ডকারখানা দেখতুম । বলতুমও কে দিদি, যাকে হজমি গুলি দিলে ? মাধুরীদি বলতেন, চুপ, চুপ। বলতে নেই। ভবভূতি বলেন—সে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১১
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১০
সে ছিল আসলে যাকে বলে সত্যযুগ। তখন স্বর্গ থেকে দেবতারা ‘আসতেন পৃথিবীতে। দেবরাজ ইন্দ্রের বাহনের নাম ঐরাবত। ঐরাবতও মাঝে মাঝে স্বর্গের জলে চান করে সুখ পেত না—তেষ্টা মিটত না। চলে আসত পৃথিবীতে। জোলাপাড়ার কাছে ছিল একটা দিঘি। সেই দীঘিতে নেমে শুড়ে জল তুলে খেলা করত। তারপর স্বর্গে ফিরে যেত। একদিন হয়েছে কী, ঐরাবত নেমেছে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১০
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৯
আরেকবার হয়েছে কী, করিম জোলা গেছে ঘােড় কিনতে শহরে। একখানে কুমড়োেলা কুমড়াে বিক্রি করছে। করিম বলল – ভাই, এগুলো কী? লােকটা ভাবল, কী বুদ্ধরে বাবা। কুমড়ােও চেনে না। তাই তামাসা করে বলল—এগুলো হচ্ছে ঘােড়ার ডিম। করিম জোলা লাফিয়ে উঠল। জ্যান্ত ঘােড়া কেনার চেয়ে ঘােড়ার ডিম কিনলে সস্তায় হবে। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরুবে : তাকে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৯
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৮
ভয়েভয়ে টিউবেলের কাছে গিয়ে সেই ঝােপটার দিকে তাকালুম। কেউ নেই তাে ওখানে! একহাতে টিউবেলের হাতল চেপে অন্যহাতে জল খাওয়া ভারি কঠিন। হঠাৎ মনে হল হাতলটায় কেউ চাপ দিচ্ছে। গলগল করে জল পড়তেও দেখলুম। জলের তেষ্টা এত বেশি যে অত কিছু লক্ষ্য না করে জল খেতে থাকলুম। জল খাওয়ার পর ভয়টা অনেকটা কেটে গেল। তখন… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৮
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৭
কিন্তু এখন যেমন সহজে বলে যাচ্ছি, আসল ভূতটা দেখার সময়ে মােটও ব্যাপারটা সহজ ঠেকেনি। ওরে বাবা! সে বড় গােলমেলে ব্যাপার। আর সেই দৃশ্য মনে পড়লে আজও গায়ের রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তখন আমার বয়স মােটে বারাে বছর। পড়ি ক্লাস এইটে। আমাদের স্কুলটা ছিলাে দুটো গাঁয়ের মধ্যিখানের মাঠে একেবারে নিরিবিলি জায়গায়। চারপাশে বড় বড় গাছ, আর ঝােপঝাড় ছিল। পিছনের পুকুরপাড়ে কল্কে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৭
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৬
নীলু বলল—আমাদের পাড়ায় থাকে। বিজু, তাের নাম বল। ম্যাজিসিয়ান হাত তুলে বলল—থাক্ থাক্। বিজু তাে? ব্যস, ওতেই হবে। নীলু বলল—বিজু, তােকে কিন্তু দুটো টাকা দিতে হবে। আমিও দিয়েছি। বললুম—দেব। কিন্তু এখন যে নেই রে ! ম্যাজিসিয়ান বলল–আচ্ছা, আচ্ছা এবার শােন বাবা, আমি যা করার সব করে দিয়েছি। এখন তােমাদের কি করতে হবে, বলছি। আমি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৬
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৫
যেই যাবে কাছাকাছি, ডাকিনীটা ওর গলা মটকে রক্ত চুষে খাবে। | হাঁ করে তাকিয়ে ওর কাণ্ড দেখছি, এমন সময় আমাদের কুকুর ভুলাে এসে আমার পা শুকে লেজ নেড়ে কেঁউ কেঁউ করে উঠল। ভুলাের মতাে তেজী কুকুর গাঁয়ে আর দুটো নেই। ওর গায়ের গন্ধ পেলেই মাঠের শেয়ালগুলাে লেজ গুটিয়ে তল্লাট ছেড়ে পালায়। একবার এক ভালুকওলা এসেছে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৫
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৪
তৃতীয় উপজাতি হচ্ছে প্রাণীজ ভূত অর্থাৎ মানুষ বাদে অন্যান্য প্রাণী মরে যে ভূতের জন্ম। যেমন ধরুন, গরু মরে যে ভূত হয়েছে, তার নাম ‘গােদানাে’। ভবভূতি আরও কৌতূহলী হয়ে বললেন—সবরকম ভূতই তাে এখানে রয়েছে ? ভূতনাথ বললেন—হুউ । তবে সবসময় দেখা পাওয়া মুশকিল। আপনি তত সুন্দরবন অভয়ারণ্যে গেছেন। কবার বাঘ দেখতে পেয়েছেন, বলুন? ভবভূতি সায় দিয়ে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৪
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৩
রাস্তাটা ডাইনে ঘুরছে এবার। সামনে গেট দেখা যাচ্ছে। তার ওপাশে বাংলো মতাে একটা বাড়ি। গেটের কাছাকাছি যেতেই ভবভূতি দেখলেন, আচমকা কী একটা ঢ্যাঙা লিকলিকে মূর্তি সটান ঝােপ ঠেলে রাস্তায় এল এবং তাঁদের সামনে একটু তফাতে সঁাড়িয়ে, গেল। ভবভূতি ফিসফিস করে উঠলেন—গজু। ওটা কী ? গজপতি দাড়িয়ে গেছেন। তেমনি ফিসফিসিয়ে বললেন-এই সেরেছে। কিছু খাবার আনা… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৩