হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৯

আমার পাশের ঘরের বৃদ্ধা আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করে, তােমার কি হয়েছে বলতাে? তুমি কি অসুস্থ? স্ত্রীর চিঠি পাচ্ছি না? দেখতে দেখতে মিড-টার্ম পরীক্ষা এসে গেল। পরীক্ষার পর পর যে লজ্জার সম্মুখীন হতে হবে তা ভেবে হাত-পা পেটের ভেতর ঢুকে যাবার জোগাড় হল। মার্ক গর্ডন যখন দেখবে বাংলাদেশের এই ছেলে পরীক্ষার খাতায় কিছুই লেখেনি তখন তিনি… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৯

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৮

কোর্স কো-অর্ডিনেটরের মুখ দেখে মনে হল তিনি আমার ইয়েস শুনেও বিশেষ ভরসা পাচ্ছেন না।ক্লাস শুরু হল। ছাত্র সংখ্যা পনেরো। বিদেশী বলতে আমি এবং ইণ্ডিয়ান এক মেয়ে কান্তা। ছাত্রদের মধ্যে একজন অন্ধ ছাত্রকে দেখে চমকে উঠলাম। সে তার ব্রেইলি টাইপ রাইটার নিয়ে এসেছে। ক্লাসে ঢুকেই সে বিনীত ভঙ্গিতে বলল, আমি বক্তৃতা টাইপ করব। খটখট শব্দ হবে,… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৮

হুমায়ূন আহমেদের লেখা  হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৭

আমাকে অবাক করে দিয়ে বসলাে আমার সামনের চেয়ারে। যে কথাগুলাে সে আমাকে বললো তা শােনার জন্যে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। মেয়েটি নিচু গলায় বললো, | ঃ দ্যাখাে আহামাদ, আমরা জানি তােমার সময়টা ভালাে যাচ্ছে না। দিনের পর দিন তুমি একটা কুৎসিত খাবার মুখ বুজে খেয়ে যাচ্ছাে। টাকা-পয়সার কষ্টের মতো কষ্ট তাে আর কিছুই হতে পারে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা  হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৭

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৬

মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ইকবাল টেলিফোন করে খাস ময়মনসিংহের উচ্চারণে. বললাে—দাদাভাই কেমন আছাে? আমি বললাম, তুই আমার টেলিফোন নাম্বার কোথায় পেলি? ও আমেরিকায় টেলিফোন নাম্বার পাওয়া কোন সমস্যা না। তুমি কেমন আছাে বল?ও তাের কাছে ডলার আছে? তােমাকে একশ ডলারের একটা ড্রাফট পাঠিয়ে দিয়েছি। আজই পাবে।ও একশ ডলারে হবে না। তুই আমাকে একটা টিকিট কেটে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৬

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৫

পথে লােভে পড়ে এক কার্টুন মার্লবােরাে সিগারেট কিনে ফেলায় ডলারের সঞ্চয় কমে গেছে। মেনু দেখে আঁতকে উঠলাম। সব খাবারের দাম আট ডলার নয় ডলার। স্টেক জাতীয় খাবারগুলাের দাম আরাে বেশি। বেছেবছে সবচে কমদামী একটা। খাবারের অর্ডার দিলাম–ঞ্চে টোস্ট। দামে সস্তা, তাছাড়া চেনা খাবার। ওয়েট্রেস অবাক হয়ে বললাে, এটাই কি তােমার ডিনার? আমি বললাম, ইয়েস। ও সঙ্গে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৫

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৪

ও আচ্ছা। আমি মুদ্রা এবং স্ট্যাম্প দুটাই জমাই। এটা আমার হবি। বৃদ্ধা বিমর্ষ মুখে চলে গেলেন। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। এই মহিলা জীবনের শেষ কটি দিন স্ট্যাম্প বা মুদ্রা জমিয়ে যাচ্ছেন কেন বুঝতে পারলাম না। অন্য কোনাে সঞ্চয় কি তাঁর জীবনে নেই? বৃদ্ধা চলে যাবার পর পরই হােটেলের লীর লােক ঢুকলাে। কালাে আমেরিকান এর… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৪

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৩

অনেক গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট এই হােটেলে থেকেই পড়াশােনা করে। তুমিও ইচ্ছা করলে তা করতে পারে। হােটেলের সব সুযােগ-সুবিধা এখানে আছে। বার আছে, বল রুম আছে, সাওয়ানা আছে। একটাই অসুবিধা, হােটেলটা ইউনিভার্সিটি থেকে দশ কিলােমিটার দূরে। তােমাকে বাসে যাতায়াত করতে হবে। এটা কোনাে সমস্যা হবে না, হােটেল থেকে দু’ঘণ্টা পর পর ইউনিভার্সিটির বাস যায়। আমি কি বলছি… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-৩

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২

প্লেনে আসতে-আসতে সারাক্ষণ আমি আমার মেয়ের নাম ভেবেছি। কতো লক্ষ লক্ষ নাম পৃথিবীতে, কিন্তু কোনােটিই আমার মনে ধরছে না। কোনােটিই যেন মায়ের গর্ভে ঘুমিয়ে থাকা রাজকন্যার উপযুক্ত নাম নয়। এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নামটি আমাকে আমার মেয়ের জন্য খুঁজে বের করতে হবে। আজ থেকে আঠারাে, উনিশ বা কুড়ি বছর পর কোনো এক প্রেমিক পুরুষ এই নামে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস হোটেল গ্রেভার ইন

এলেম নতুন দেশে। লরা ইঙ্গেলস ওয়াইল্ডারের প্রেইরি ভূমি, ডাকোটা রাজ্য। ভোর চারটায় পৌঁছলাম, বাইরে অন্ধকার, সূর্য এখনো ওঠেনি, হেক্টর এয়ারপোর্টর খোলামাঠে হু-হু করে হাওয়া বইছে। শীতে গা কাপছে। যদিও শীত লাগার কথা নয়। এখন হচ্ছে–ফল, শীত আসতে দেরি আছে। আমার মন খুব খারাপ। দেশ ছেড়ে দীর্ঘদিনের জন্যে বাইরে যাবার উৎসাহ আমি কখনো বোধ করিনি। বর্ষাকালে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস হোটেল গ্রেভার ইন

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে খন্ড-৪

শুধু মাথা ভেজানোর জন্যে গিয়েছিলাম, পুরো শরীর ভিজিয়ে ফেললাম । আরাম লাগছে । একটু শীত ভাব হচ্ছে- আরামদায়ক শীত ভাব । অর্থাৎ আমি সুখ পাচ্ছি । এই সুখের স্বরুপ জানলেই দুঃখ কি তা জেনে ফেলব । ভেজাল বাণী তাই বলেছে । চোখ বন্ধ করে কলের নিচে মাথা পেতে আছি । সারাদিন এভাবে বসে থাকলে কেমন… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস দরজার ওপাশে খন্ড-৪