হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম -৭ – হুমায়ূন আহমেদ

মারিয়ার বাবা আসাদুল্লাহ সাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় হয় বলাকা সিনেমা হলের সামনের পুরানো বইয়ের দোকানে। আমি দূর থেকে লক্ষ্য করলাম এক ভদ্রলোক পুরানো বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে। তাঁর হাতে চামড়ায় বাঁধানো মোটা একটা বই। তিনি খুবই অসহায় ভঙ্গিতে চারদিকে তাকাচ্ছেন, যেন জনতার ভেতর কাউকে খুঁজছেন। ভদ্রলোকের পরনে পায়জামা-পাঞ্জাবি, চোখে চশমা। ফটোসেনসিটিভ গ্লাস বলেই দুপুরের কড়া… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম -৭ – হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম -৬ – হুমায়ূন আহমেদ

ফুপা টেলিগ্রামের ভাষায় চিঠি পাঠিয়েছেন–…Emergency come sharp…………..চিঠি নিয়ে এসেছে তার অফিসের পিওন। সে যাচ্ছে না, চিঠি হাতে দিয়ে চোখমুখ শক্ত করে দাড়িয়ে আছে। আমি বললাম, কী ব্যাপার?……………..সে শুকনা গলায় বলল, বখশিশ । ‘বখশিশ কিসের? তুমি ভয়ংকর দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছ। তোমাকে যে ধরে মার লাগাচ্ছি না এই যথেষ্ট । ভালো খবর আনলে বখশিশ পেতে। খুবই খারাপ… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম -৬ – হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম -৫ – হুমায়ূন আহমেদ

গল্প-উপন্যাসে “পাখি-ডাকা ভোর” বাক্যটা প্রায়ই পাওয়া যায় । যারা ভোরবেলা পাখির ডাক শোনেন না তাদের কাছে ‘পাখি-ডাকা ভোরের” রোমান্টিক আবেদন আছে। লেখকরা কিন্তু পাঠকদের বিভ্রান্ত করেন- তারা পাখি-ডাকা ভোর বাক্যটায় পাখির নাম বলেন না। ভোরবেলা যে-পাখি ডাকে তার নাম কাক । ‘কাক-ডাকা ভোর’ লিখলে ভোরবেলার দৃশ্যটি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যেত। কাকের কা-কা শব্দে আমার ঘুম… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম -৫ – হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-৪-হুমায়ূন আহমেদ

‘ব্যাপারটা যে কী সে তো আপনি বলবেন! আপনি যে এরকম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ তা তো বুঝিনি। মানুষের কপালে তো লেখা থাকে না সে কে। লেখা থাকলে পুলিশের জন্যে ভালো হতো– কপালের লেখা দেখে হাজতে ঢুকাতাম, লেখা দেখে চা-কফি খাইয়ে স্যালুট করে বাসায় পৌছে দিতাম।’ ‘ভাই, আমি অতি নগণ্য হিমু।’……..‘আপনি নগণ্য হলে আমাদের এই অবস্থা!’…..‘কী অবস্থা?’…..‘একেবারে বেড়াছেড়া… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-৪-হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-৩-হুমায়ূন আহমেদ

পুলিশের গাড়ি আমাকে কাওরান বাজার নামিয়ে দিয়ে গেল। ড্রাইভারের গায়েও খাকি পোশাক । সে বেশ আদবের সঙ্গে গাড়ির দরজা খুলে আমাকে নামতে সাহায্য করল। তার পরই এক স্যালুট। আমি অস্বস্তির সঙ্গে চারদিকে তাকালাম- কেউ দেখে ফেলছে না তো? পুলিশ আদবের সঙ্গে গাড়ি থেকে নামাচ্ছে, স্যালুট দিচ্ছে- খুবই সন্দেহজনক। রাত প্রায় দুটা- কারও জেগে থাকার কথা… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-৩-হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-2-হুমায়ূন আহমেদ

‘আপনার নাম কী?’………..আমি ইতস্তত করছি, নাম বলব কি বলব না ভাবছি। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে আমরা সাধারণত খুব আগ্রহের সঙ্গে নাম বলি। জিজ্ঞেস না করলেও বলি। হয়তো বাসে করে যাচ্ছি- পাশে অপরিচিত এক ভদ্রলোক। দুএকটা টুকটাক কথার পরই হাসিমুখে বলি, ভাইসাহেব, আমার নাম হচ্ছে এই… আপনার নামটা?……….মানুষ তার এক জীবনে যে-শব্দটি সবচেয়ে বেশি শোনে তা… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-2-হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-১-হুমায়ূন আহমেদ

আজকের দিনটা এত সুন্দর কেন?……..সকালবেলা জানালা খুলে আমি হতভম্ব। এ কী! আকাশ এত নীল! আকাশের তো এত নীল হবার কথা না। ভূমধ্যসাগরীয় আকাশ হলেও একটা কথা ছিল। এ হচ্ছে খাটি বঙ্গদেশীয় আকাশ, বেশিরভাগ সময় ঘোলা থাকার কথা। আমি তাকিয়ে থাকতে থাকতেই জানালার ওপাশে একটা কাক এসে বসল। কী আশ্চর্য! কাকটাকেও তো সুন্দর লাগছে। কেমন গর্বিত… Continue reading হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম খন্ড-১-হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন শেষ খন্ড

বিকেল পাঁচটায় ল্যাব বন্ধ করে বাসায় ফিরবার আগে আগে গ্রাসের কামরায় উকি দিলাম। গ্লাস হাসি মুখে বলল, কিছু বলবে হামাদ। হঁ্যা, বলবো। আগেও কয়েকবার বলেছি। আজও বলবাে। ঃ তােমার নামের উচ্চারণের ব্যাপার তাে ? ওহঁ্যা। ও উচ্চারণ করতে পারি না বলেই তো একটু এলােমেলো হয়ে যায়। এতে এতাে রাগ করবার কী আছে? আমেরিকানদের জিহ্বা শক্ত।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন শেষ খন্ড

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২৩

নাশতার পর দলবদল নিয়ে মাছ ধরতে বের হলাম। আমেরিকায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে স্টেট গভর্নমেন্টের কাছ থেকে লাইসেন্স করতে হয়। লাইসেন্দের ফী পনের ডলার। লাইসেন্স করা ছিল, তারপরও বুড়ি সিমসনকে পাঁচ ডলার দিতে হল। এটা নাকি লেক রক্ষণাবেক্ষণের ফী। বড়শি ফেলে মূর্তির মত বসে থাকার কাজটি খুব আনন্দদায়ক হবে মনে করার কোন কারণ নেই—তবু… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২৩

হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২২

যথাসময়ে গাড়ির ছাদে নৌকা বেঁধে রওয়ানা হয়ে গেলাম। গায়ে ক্যাম্পিং-এর পোশাক-হাফ প্যান্ট এবং বস্তার মত মোটা কাপড়ের ফাপ দেয়া শার্ট, মাথায় ক্রিকেট আম্পায়ারদের টুপির মত ধবধবে সাদা টুপি। গাড়ি চলছে ঝড়ের গতিতে। বনে যাবার এই হচ্ছে নিয়ম। স্পীডিং এর জন্য পুলিশ অবশ্যই গাড়ি থামাবে, তবে যখন বুঝবে এই দল ক্যাম্পিং-এ যাচ্ছে তখন কিছু বলবে না।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা হোটেল গ্রেভার ইন খন্ড-২২