খুব চাপ গেল।সারাটা দিন শুধু পেসেন্ট আর পেসেন্ট।এক একটা দিন যেন সব কিছু কেমন হয়ে যায়।খুব খাটনি বাড়ে। ক্লিনিকের মেয়েগুলোও অদ্ভুত। সবাইকে একদিনে ডেকে দেয়।তারপর সকালে একটা ওটিও ছিল। বেশ কমপ্লিকেটেড।ফিটাসটা ডেড হয়ে মায়ের ইনফেকশন হয়ে গেছিল।অবস্থা ভালো নয়।বাঁচলে হয়।চেয়ারে বসে উল্টোদিকের দরজার উপর মা তারার ছবিটার দিকে একবার চোখ রেখে ঘড়িতে চোখ রাখে ডাক্তার শ্রুতি মুখার্জি।… Continue reading ছায়া রোদের আলো-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
কালীঘাটের পাখা – তারাপদ রায়
‘এসি পাখা ডিসি পাখা আকাশের কানে কানে…শিশি বোতল রেগুলেটার সরু সরু গানে গানে’….কোনও পণ্ডিত পাঠক যাতে মনে না করেন যে এই অসামান্য পঙ্ক্তি দুটি এই ব্যর্থ কবির রচনা, সেই জন্যে প্রথমেই তাঁর ভ্রম নিরসন করা দরকার। এই শ্লোকটি মূলত সুকুমার রায়ের এবং প্রয়োজনবোধে এর কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন আমার স্বর্গীয় অগ্রজ। আমার দাদা সাত… Continue reading কালীঘাটের পাখা – তারাপদ রায়
ছেলেধরা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সবাই মিলে বাসায় ফিরে এলাম।…………..এসেই দেখি ঝুমরির মা বাংলোর বারান্দাতে বসে। তার সঙ্গে নাহানপুর গ্রামের কয়েকটি লোক। নাহানপুর শোন নদের ধারে একটা গ্রাম, বেশির ভাগ গোয়ালার বাস এ-গ্রামে। শোনের চরে গোরু মহিষ চরিয়ে দুধ-ঘি উৎপাদন করে। ডিহিরি থেকে ঘি চালান যায়। এই নাহানপুর গ্রাম থেকেই তিনটি ছেলে হারিয়েছে গত পনেরো দিনের মধ্যে। ভীষণ আতঙ্কের সৃষ্টি… Continue reading ছেলেধরা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পশু-প্রেমিক – হুমায়ূন আহমেদ
আমার এক বন্ধু আছেন–পশু-প্রেমিক। রাস্তায় কুকুর কাঁদছে কুঁ-কুঁ করে, তিনি হয়ত যাচ্ছেন রিকশায়; রিকশা থামিয়ে ছুটে যাবেন। চোখ কপালে তুলে বলবেন, হল কি তোর? এই আয়, তু তু তু। তাঁর পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্রমহিলা বিড়ালের গায়ে গরম মাড় ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি সেই বিড়াল নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে গেলেন। ইন্টার্নী ডাক্তার বললেন, এখানে কেন এনেছেন? পশু… Continue reading পশু-প্রেমিক – হুমায়ূন আহমেদ
অনুকূল – সত্যজিৎ রায়
এর একটা নাম আছে তো? নিকুঞ্জবাবু জিজ্ঞেস করলেন।……….আজ্ঞে হ্যাঁ, আছে বইকী!…………কী বলে ডাকব?………..অনুকূল।…………..চৌরঙ্গিতে রোবট সাপ্লাই এজেন্সির দোকানটা খুলেছে মাস ছয়েক হল। নিকুঞ্জবাবুর অনেকদিনের শখ একটা যান্ত্রিক চাকর রাখেন। ইদানীং ব্যবসায় বেশ ভাল আয় হয়েছে, তাই শখটা মিটিয়ে নেবার জন্য এসেছেন। নিকুঞ্জবাবু রোবটটার দিকে চাইলেন। এটা হচ্ছে যাকে বলে অ্যান্ড্রয়েড, অর্থাৎ যদিও যান্ত্রিক, তাও চেহারার সঙ্গে… Continue reading অনুকূল – সত্যজিৎ রায়
ভাইভা – হুমায়ূন আহমেদ
চাকরি জীবনের প্রথম দিকে আমার প্রধান কাজ ছিল বিভিন্ন কলেজে পরীক্ষা নিয়ে বেড়ানো। রসায়নের পাস কোর্স, অনার্স, এম, এসসি, সব পরীক্ষাতেই আমি হলাম–বহিরাগত পরীক্ষক। ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই, ভাইভা নেই। দূরের সব কলেজে যেতে হয়–পটুয়াখালি, চাখার, বরগুনা, ফরিদপুর …। পরীক্ষা নেয়া খুব যে আনন্দের কাজ তা না, তবে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হয়। অদ্ভুত অদ্ভুত সব পরিবেশ… Continue reading ভাইভা – হুমায়ূন আহমেদ
ভবসিন্ধু – তারাপদ রায়
এবারে আর কোনও প্রাগৈতিহাসিক রেফ্রিজারেটরের লোমহর্ষক এবং অবিশ্বাস্য কাহিনী লিখে সরলমতি পাঠকপাঠিকাদের বিচলিত করব না। এবার আমাদের আলোচ্য বিষয় আমাদের বাড়ির অত্যাশ্চর্য এবং অব্যবহৃত একটি ফ্রিজ। মহামতি সুকুমার রায়ের অনুসরণে আমাদের বাড়িতে কোনও কোনও প্রধান জিনিসের নামকরণ করা আছে। বেশি উদাহরণ দিয়ে লাভ নেই; আমাদের দেওয়াল ঘড়িটিকে আমরা বলি চলন্তিকা, টেলিফোনকে হিংটিং এবং এবারের আলোচ্য… Continue reading ভবসিন্ধু – তারাপদ রায়
ঘুম চোর-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
বুকটা কেমন ধড়ফড় করে উঠল।মনে হল কেউ যেন কাঁধটা ধরে নাড়িয়ে দিল।তক্তার উপর শুয়েই চারদিকের অন্ধকারে একবার চোখ দুটো বুলিয়ে অতনু বালিশের নিচ থেকে মোবাইলটা বের করেই দেখতে পেল, মিসকলেরও সাইন দেখাচ্ছে।এত রাতে যখন নিশ্চয় কোন ধান্দায়।এখন অবশ্য ধান্দা ছাড়া অতনু মানে রাজুকে কেউই ফোন করে না। ফোন করলেই,‘দাদা, একটা পেয়েছি, তিনদিনের, তুলে নেবো।’ অতনুর জবাব তৈরী থাকে, ‘হয় তুলে… Continue reading ঘুম চোর-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
তীব্র কৌতূহল – হুমায়ূন আহমেদ
দুটি জিনিস দেখার জন্যে আমার তীব্র কৌতূহল ছিল।..মানুষের জন্ম এবং মৃত্যু। পৃথিবীতে আসা এবং পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার দৃশ্য। জন্মদৃশ্য দেখা তো একেবারেই অসম্ভব। সামাজিক কারণেই পুরুষের পক্ষে জন্মসময়ে উপস্থিত থাকা অকল্পনীয় ব্যাপার। মৃত্যুসময়ে উপস্থিত থাকাটা সেই তুলনায় অত্যন্ত সহজ। এই সহজ ব্যাপারটি আমার জীবনে ঘটছিল না। আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। চূড়ান্ত অসুস্থ অবস্থায় দেখতে… Continue reading তীব্র কৌতূহল – হুমায়ূন আহমেদ
মিঃ শাসমলের শেষ রাত্রি – সত্যজিৎ রায়
মিঃ শাসমল আরাম কেদারাটায় গা এলিয়ে দিয়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।……..মোক্ষম জায়গা বেছেছেন তিনি উত্তর বিহারের এই ফরেস্ট বাংলো। এর চেয়ে নিরিবিলি নিরাপদ নিরুপদ্রব জায়গা আর হয় না। ঘরটিও দিব্যি। সাহেবি আমলের মজবুত, সুদৃশ্য টেবিল চেয়ার সাজানো, প্রশস্ত খাটে বালিশ বিছানা ততকে পরিষ্কার, ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বাথরুমটিও বেশ বড়। পশ্চিমের জানালাটা দিয়ে ফুরফুরে বাতাস আসছে,… Continue reading মিঃ শাসমলের শেষ রাত্রি – সত্যজিৎ রায়