সে – হুমায়ূন আহমেদ

আমার ছোট মেয়ের গলায় মাছের কাঁটা ফুটেছিল।..মাছের কাঁটা যে এমন যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার তা জানা ছিল না। বেচারি ক্রমাগত কাঁদছে। কিছুক্ষণ পরপর বমি করছে, হেঁচকি উঠছে। চোখ-মুখ ফুলে একাকার। আমি দিশেহারা হয়ে গেলাম। অনেক ধরনের লৌকিক চিকিৎসা করানো হলো। শুকনো ভাতের দলা গেলানো, মধু খাওয়ানো, গলায় সেঁক। এক পর্যায়ে আমাদের কাজের মেয়েটি বলল, একটা বিড়াল এনে… Continue reading সে – হুমায়ূন আহমেদ

ক্ষুধিত পাষাণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি এবং আমার আত্মীয় পূজার ছুটিতে দেশভ্রমণ সারিয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতেছিলাম, এমন সময় রেলগাড়িতে বাবুটির সঙ্গে দেখা হয়। তাহার বেশভূষা দেখিয়া প্রথমটা তাঁহাকে পশ্চিমদেশীয় মুসলমান বলিয়া ভ্রম হইয়াছিল। তাহার কথাবার্তা শুনিয়া আরো ধাঁধা লাগিয়া যায়। পৃথিবীর সকল বিষয়েই এমন করিয়া আলাপ করিতে লাগিলেন, যেন তাহার সহিত প্রথম পরামর্শ করিয়া বিশ্ববিধাতা সকল কাজ করিয়া থাকেন। বিশ্বসংসারের… Continue reading ক্ষুধিত পাষাণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ওরা আসে নিশুতি রাতে। প্রতি অমাবস্যায়।..তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার চারদিক শুনশান অদৃশ্যা মনে হয় এখানে কেউ বেঁচে নেই, কোনো বাড়িঘর নেই। বাতাসে গাছের ডগাগুলো কাঁপে, বাঁশবনে একটা বাঁশের সঙ্গে আর একটা বাঁশের ঘষা লেগে শব্দ হয় কর-র-র কর, কর-র-র কর! লিচু গাছে ঝাঁক বেঁধে বসে বাদুড়, দু’একটা প্যাঁচা খ্যারখেরে গলায় ডাকে, পাঁচলা মোড়ের বড় অশথ গাছটায়… Continue reading গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তিমিঙ্গিল – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

তিমি মৎস্যই যে পৃথিবীর বৃহত্তম জীব, এ বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিরা একমত। আমি কিন্তু নিতান্ত অজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও বলিতে পারি যে, তিমিঙ্গিল নামধারী আর একটি অতি বৃহদায়তন জীব আছে যাহারা তিমি মৎস্যকে গিলিয়া খায়। বিশ্বাস না হয়, অভিধান দেখুন। অপিচ, তিমিঙ্গিল যদি থাকিতে পারে, তবে তিমিঙ্গিল-গিল (যাহারা তিমিঙ্গিলকে গিলিয়া খায়) থাকিবে না কেন? এবং তিমিঙ্গিল-গিল থাকা… Continue reading তিমিঙ্গিল – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বপ্ন ও রমণী – তারাপদ রায়

স্বপ্ন ও রমণী এই রকম বিপজ্জনক নামের গোলমেলে রচনায় রবীন্দ্রনাথের কবিতার আড়াল দিয়ে প্রবেশ করাই হয়তো নিরাপদ। ‘স্বপ্ন’ কবিতার সেই স্মৃতিগন্ধময়, উজ্জ্বল, অনিবার্য পঙ্‌ক্তিগুলি আরেকবার স্মরণ করি। ‘দূরে বহুদূরে স্বপ্নলোকের উজ্জয়িনীপুরে খুঁজিতে গেছি কবে শিপ্রা নদীপারে মোর পূর্বজনমের প্রথমা প্রিয়ারে। মুখে তার লোভ্ররেণু, লীলাপদ্ম হাতে, কর্ণমূলে কুন্দকলি, কুরুবক মাথে…’ নবীন বয়েসে যে বাঙালি তরুণ এই… Continue reading স্বপ্ন ও রমণী – তারাপদ রায়

নীল হাতী – হুমায়ূন আহমেদ

নীলুর যে মামা আমেরিকা থাকেন তাকে সে কখনো দেখেনি। নীলুর জন্মের আগেই তিনি চলে গিয়েছিলেন। আর ফেরেননি। নীলুর এই মামার কথা বাসার সবাই বলাবলি করে। মা প্রায়ই বলেন, আহ্‌, সঞ্জুটা একবার যদি দেশে আসত! কিন্তু নীলুর সেই মামা নাকি আর দেশে ফিরবেন না। কোনোদিন না। একবার নানিজানের খুব অসুখ হল। টেলিগ্রাম করা হল সঞ্জু মামাকে।… Continue reading নীল হাতী – হুমায়ূন আহমেদ

অদলবদল – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

রোজ ভোরবেলা পার্কে কিছুক্ষণ বেড়ানো হরিপদবাবুর অনেককালের অভ্যাস। ৫ম পার্কটা বেশ বড়। কিন্তু হাঁটাচলার পর একটুখানি যে বসবেন কোথাও, তার উপায় নেই। এখানে-ওখানে যত বেঞ্চ আছে, কখন সবগুলো ভর্তি হয়ে গেছে। ঘাসে বসারও বিপদ আছে। ছেলেপুলেদের যা পাঁয়তারা, কে কখন ঘাড়ে এসে পড়ে তার ঠিক নেই। তার চেয়ে বড় বিপদ ওদের ফুটবল। যেন কামানের গোলা।… Continue reading অদলবদল – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

হরীতকী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আজ এই পূর্ণিমা রাতে টিউশনি সেরে ফেরার পথে গিরিজা টের পেলেন, তাঁকে কানাওয়ালা ধরেছে।…….বাঘা যতীন পার্কের পাশ দিয়ে গুটিগুটি হেঁটে জ্যোৎস্না দেখতে-দেখতে দিব্যি আসছিলেন। শরৎকালের ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে, শীত-শীত লাগছিল। কোনও বাড়ির বাগান থেকে শিউলি ফুলের গন্ধও ভেসে আসে, সেইসঙ্গে একটা ডাল ফোড়নের গন্ধওয়ালা জায়গাও পার হয়ে এলেন। খিদেটা চাগাড় দিয়ে উঠল। আবুর মা ওবেলা… Continue reading হরীতকী – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মশা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

রক্ত খেয়ে মশাটা টুপটুপে হয়ে আছে। ধামা পেটটা নিয়ে মশারির দেওয়ালে বসে আছে ওই। এইবেলা টিপে দিলে ফাঁক করে খানিক কাঁচা রক্ত ছিটকে গলে যাবে শালা।…….নফরচন্দ্র জীবনে মশা মেরেছে অনেক, আর মানুষ মেরেছে একটা। মানুষটার কথা এখন আর মনে পড়ে না। অল্প বয়স ছিল তখন। সময়ের তফাতে ভুল পড়ে গেছে। তবে মশাদের কথা যদি কেউ… Continue reading মশা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সেকালিনী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

হলুদপুরের কবিরাজ শ্রীহরিহর শর্মার কন্যা শৈল আমাদের কাহিনীর নায়িকা। কিন্তু আজকাল গল্পের নায়িকাদের যেসব অসমসাহসিক প্রগতিপূর্ণ কার্য করিতে দেখা যায় তাহার কিছুই সে পারিবে বলিয়া বোধ হয় না। শৈল নিতান্ত সোলিনী। হলুদপুর স্থানটির এক পা শহরে এক পা গ্রামে। তবে সামনের পা শহরের দিকে। গত কয়েক বছরে সে বেশ লম্বা লম্বা পা ফেলিয়া নাগরিক সভ্যতার… Continue reading সেকালিনী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়