চরে একটুকরো গাঢ় নীল রঙের মেঘ দেখে নী আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল। হাততালি দিয়ে বলতে লাগল, ওই দ্যাখো, ওই দ্যাখো, সত্যিকারের মেঘ! আমি কিন্তু আগে দেখেছি! ওই মেঘটা আমার! রা বসে আছে কপিটে। মেঘটা সেও দেখেছে। রা সেদিকেই তাকিয়ে ছিল। গত চার-পাঁচ দিন কোনও মেঘের চিহ্নই দেখা যায়নি। এই নীল রঙের মেঘটা কোথা থেকে এল কে… Continue reading আকাশ দস্যু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
শোনা কথা – হুমায়ূন আহমেদ
মানুষ অসম্ভব স্মৃতিধর। নব্বই বছরের একজন মানুষও তার ছেলেবেলার কথা মনে করতে পারে। মস্তিষ্কের অযত নিযুত নিওরোনে বিচিত্র প্রক্রিয়ায় স্মৃতি জমা হয়ে থাকে। কিছুই নষ্ট হয় না। প্রকৃতি নষ্ট হতে দেয় না। অথচ আশ্চর্য, অতি শৈশবের কোনো কথা আর মনে থাকে না। দুবছর বা তিন বছর বয়সের কিছুই সে মনে করতে পারে না। মাতৃগর্ভের কোনো… Continue reading শোনা কথা – হুমায়ূন আহমেদ
হীরে কি গাছে ফলে?-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রানীগঞ্জ স্টেশনে নেমে আরও সতেরো মাইল দূরে বিশ্বমামার মামার বাড়ি। জিপ গাড়ি ছাড়া যাওয়ার উপায় নেই। একটা জিপ গাড়ি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। আসলে স্টেশনের বাইরে ছিল চার-পাঁচখানা জিপ গাড়ি। সেখান থেকে একজন ড্রাইভার এগিয়ে এসে বিশ্বমামার সামনে দাঁড়িয়ে নমস্কার করে বলল, আসুন স্যার! ড্রাইভারটিকে বিশ্বমামা আগে দেখেননি। সেও বিশ্বমামাকে কখনো দেখেনি। তবু সে এত… Continue reading হীরে কি গাছে ফলে?-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সেই একলা নীল মানুষ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
[রণজয় নামে একটি ছেলে তাদের গ্রামের নদীতে একদিন সকালবেলা একটা গোল ধাতুর বল ভাসতে দেখে। সেটা সে ছোঁয়ার পর থেকেই তার চেহারার বদল হতে থাকে। তার গায়ের রং হয়ে যায় কলমের কালির মতন নীল আর সে লম্বা হতে হতে প্রায় সাড়ে সাত ফুট হয়ে যায়। তখন গ্রামের সব লোক, এমনকী তার মা বাবাও তাকে দৈত্য… Continue reading সেই একলা নীল মানুষ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সেই অদ্ভুত লোকটা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এক-একটা মানুষের কিছুতেই বয়েসটা ঠিক বোঝা যায় না। চল্লিশও হতে পারে, পঁয়ষট্টিও হতে পারে। ঠিক এই রকমই একটা লোক বসে থাকে পার্ক সার্কাস ময়দানে। প্রত্যেক শনিবার। লোকটি পরে থাকে একটা সরু পাজামা আর একটা রঙ-চঙে জোব্বা। মুখে কাঁচা-পাকা দাড়ি। চোখে চশমা, মাথায় একটা চ্যাপ্টা টুপি। গনগনে রোদের মধ্যেও লোকটি পার্কের বেঞ্চে দুপুরবেলা বসে থাকে। এক… Continue reading সেই অদ্ভুত লোকটা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
লাল জঙ্গল -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
চান করবার জন্যে বাথরুমে ঢুকলেই দিপুর প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়। মা, বাবা, দিদি ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এই সময় সকলেরই ইস্কুল-কলেজ-অফিস যাওয়ার তাড়া। এখনকি বেশিক্ষণ বাথরুম আটকে রাখলে চলে? দিদি আর মা ঘুরে ফিরে বাথরুমের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলেন, এই দিপু, তোর হল? এতক্ষণ কী করছিস? এইবার বেরো! দিপু কোনও উত্তর দেয় না। বাথরুমে ঢুকলেই… Continue reading লাল জঙ্গল -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
টিচার-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজমাতা হাইস্কুলের সেক্রেটারি রায়বাহাদুর অবিনাশ তরফদার ভেবেচিন্তে শেষপর্যন্ত টিচারদের কিছু সদুপদেশ দেওয়া স্থির করল। বুড়ো বয়সে এমনিতেই তার ঘুম হয়। কম, তার ওপর এইসব যাচ্ছেতাই খাপছাড়া ব্যাপারে মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় কদিন আর ঘুম হয়নি। টিচাররা ধর্মঘট করবে বেতন কম বলে, বেতন বাকি থাকে বলে, এটা সেটা হরেকরকম অসুবিধা আছে বলে চাকরি করতে। বাপের জন্মে… Continue reading টিচার-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
‘দু’টুকরো মাংস’- মুহাম্মদ বরকত আলী
আজ কুরবানির ঈদ। দীপু ঈদগাহ্ থেকে বাড়ি ফিরেই তার পূর্বের গুছিয়ে রাখা ব্যাগটি হাতে নিয়ে দেয় ছুট। দীপুর মা আবেদা হাঁক ছাড়ল, ‘এই দীপু, কিছু মুখে দিয়ে যা।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা? আবেদার কথার কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে দৌঁড় দিলো চৌধুরীদের বাগানবাড়ির দিকে। আপাতত তার পেটে এখন খিদে নেই। ঈদগাহে নামাজে যাওয়ার পূর্বে সেমাই… Continue reading ‘দু’টুকরো মাংস’- মুহাম্মদ বরকত আলী
ফেল -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার-বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না। নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও… Continue reading ফেল -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছোটসাহেব- তারাপদ রায়
শরৎকালের কোনও কোনও বিকেলে বেগমবাহার ঘুড়ির কাটাকুটির মতো সাদা মেঘ আর কালো মেঘ ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে। সহসা হু হু করে বাতাস আসে। কোন দিক থেকে আসবে বোঝা কঠিন, সাদাকালো মেঘগুলো ক্রমাগত দিক বদল করে। এদিকেরটা ওদিকে যায়, ওদিকেরটা এদিকে আসে। গোপালগ্রামের ছোটসাহেব তাঁদের দোতলা বাড়ির ভাঙা ছাদে উঠে একটা অদৃশ্য লাটাই হাতে মেঘগুলোকে কন্ট্রোল… Continue reading ছোটসাহেব- তারাপদ রায়