লালমোহন পাল লালমোহনের কোনওদিন কিছু হবে, এমন কেউই আশা করেনি। সবাই ধরে নিয়েছিল, লালমোহনের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, বিশেষ করে সে যখন মাধ্যমিক পরীক্ষায় অঙ্কে ব্যাক পেল। অবশ্য লালমোহনের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার সেটা ভাববার কারণ ওই শুধু ব্যাক পাওয়া নয়। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই আঠারো-উনিশ বছর বয়েসের মধ্যে তার নানাবিধ গুণ দেখা গিয়েছিল। মারামারি, ভীতি প্রদর্শন, ইভটিজিং, ছিনতাই… Continue reading লালমোহনের বিপদ-তারাপদ রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
মধ্যবর্তিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথম পরিচ্ছেদ নিবারণের সংসার নিতান্তই সচরাচর রকমের, তাহাতে কাব্যরসের কোনো নামগন্ধ ছিল না। জীবনে উক্ত রসের যে কোনো আবশ্যক আছে এমন কথা তাহার মনে কখনো উদয় হয় নাই। যেমন পরিচিত পুরাতন চটি-জোড়াটার মধ্যে পা-দুটো দিব্য নিশ্চিন্তভাবে প্রবেশ করে, এই পুরাতন পৃথিবীটার মধ্যে নিবারণ সেইরূপ আপনার চিরাভ্যস্ত স্থানটি অধিকার করিয়া থাকে, সে সম্বন্ধে ভ্রমেও কোনোরূপ চিন্তা… Continue reading মধ্যবর্তিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মেঘ ও রৌদ্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথম পরিচ্ছেদ পূর্বদিন বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। আজ ক্ষান্তবর্ষণ প্রাতঃকাল ম্লান রৌদ্র ও খণ্ড মেঘে মিলিয়া পরিপক্বপ্রায় আউশ ধানের ক্ষেত্রের উপর পর্যায়ক্রমে আপন আপন সুদীর্ঘ তুলি বুলাইয়া যাইতেছিল; সুবিস্তৃত শ্যাম চিত্রপট একবার আলোকের স্পর্শে উজ্জ্বল পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করিতেছিল আবার পরক্ষণেই ছায়াপ্রলেপে গাঢ় স্নিগ্ধতায় অঙ্কিত হইতেছিল। যখন সমস্ত আকাশরঙ্গভূমিতে মেঘ এবং রৌদ্র, দুইটি মাত্র অভিনেতা, আপন আপন… Continue reading মেঘ ও রৌদ্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুভদৃষ্টি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কান্তিচন্দ্রের বয়স অল্প, তথাপি স্ত্রীবিয়োগের পর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুসন্ধানে ক্ষান্ত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীর্ঘ কৃশ কঠিন লঘু শরীর, তীক্ষ্ম দৃষ্টি, অব্যর্থ লক্ষ্য, সাজসজ্জায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং, ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাঁসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকর্মণ্য অনুচর-পরিচরেরও অভাব নাই। দুই-চারিজন শিকারী বন্ধুবান্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার… Continue reading শুভদৃষ্টি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রতিবেশিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা। তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না— পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না। আমার অন্তরঙ্গ… Continue reading প্রতিবেশিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভ্রমণ বৃত্তান্ত -সমরেশ মজুমদার
সেই যে, কে যেন বলেছিলেন, অনেক হল, এবার মরণের পাশে শুতে চাই নিশ্চিন্তে! কেউ জবাব দিয়েছিল, এখনই! তাহলে যে মরণও গর্ভবতী হবে। চমকে উঠেছিলেন তিনি। ভোঁ-কাটা ঘুড়ির সুতোটাকে গুটিয়ে নেওয়ার মতো মুখ করে নিজের মনেই বলেছিলেন, হায়, তাহলে যে আর একটি সন্তান জন্ম নেবে। এবং নিঃসন্দেহে জানি তার নাম শয়তান। তিনি ঠিক জানতেন না, মরণের… Continue reading ভ্রমণ বৃত্তান্ত -সমরেশ মজুমদার
গন্ধ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
চলন্ত ট্রাম থেকে নেমে ছুটতে-ছুটতে সাধনদা আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। বেশ ব্যস্তভাবে বললেন, সুনীল, তুই আমার কাছ থেকে দশটা টাকা পাবি, মনে ছিল না। আজ তোকে শোধ দেব। সাধনদার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকালুম। আমি যে সাধনদাকে চিনতুম, সেই সাধনদা ইনি নন। সাধনদার মুখে দু-তিন দিনের খোঁচা-খোঁচা দাড়ি, প্যান্টের ওপরে ঝুলছে শার্ট, পায়ে রবারের চটি। আমার… Continue reading গন্ধ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দুজন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এক পলকের জন্য আমার মনে হল, ঘরের অন্য দেওয়ালের কাছে বসে থাকা একজন লোক আমার দিকে কটমট করে তাকিয়েছিল, আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই মুখ ফিরিয়ে নিল। লোকটির মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, চোখে আরশোলা রঙের ফ্রেমের চশমা, বেশ শক্ত-পোক্ত চেহারার প্রৌঢ়, মাথার চুল চিনেবাদামের খোসার মতন। ঘরে আরও প্রায় পঁচিশ-ছাব্বিশ জন। নারী-পুরুষ, কারুকে আমি চিনি না। আমার… Continue reading দুজন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রাজার খেলা-সমরেশ মজুমদার
রাজার খেলা-সমরেশ মজুমদার হিপপকেট থেকে ছোট্ট হলদে বইটা বের করল সুজয়। ফন কোম্পানির রেসবুক। একটা ঘোড়ার মুখ মলাটে আঁকা। ছবিটাকে দেখলেই কানু মিত্তিরের মুখ মনে পড়ে যায় ওর। কানু মিত্তির বলত, রেসের আগে এটাকে দেখায় টপমোস্টের মতো আর রেস শেষ হয়ে গেলে এ শালা হয়ে যায় পাউসিকি। প্রথমটা ভারতবর্ষের সব সেরা ঘোড়ার নাম, দ্বিতীয়টা ছ্যাকড়া… Continue reading রাজার খেলা-সমরেশ মজুমদার
সার্থকতা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বুকের কাছে দু-হাত জোড় করে মহিলাটি বললেন, নমস্কার, কেমন আছেন? চিনতে পারেন? অভ্যেসবশতই আধো-হেসে বাসুদেব বললেন, হ্যাঁ, আপনি ভালো তো? অনেকদিন পর দেখা। তিনি মহিলাটির মুখের ওপর স্থির দৃষ্টি রেখে নিজের বুকের ছবিঘরে খোঁজাখুঁজি করতে লাগলেন। মশাল জ্বেলেও এখন পুরোটা দেখা যায় না। কিছুটা অন্ধকার থেকেই যায়। সম্পূর্ণ অচেনা মুখ, টসটসে দুটি ঠোঁট, অচেনা-অচেনা, চোখ… Continue reading সার্থকতা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়