মাংস-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সকালবেলায় মেঘ ছিল, তাতে বাচ্চাদের মন খারাপ। আজ যেন বৃষ্টি না হয়, আজ যেন বৃষ্টি না হয়! তবু সেই কালো মেঘ যেন ঝুঁকে এল শ্মশানতলায় বড় বটগাছটার মাথায়। গ্রামের নাম ছোট সাতুড়ি। বিভুপদ গড়াইয়ের দু-খানা খড়ের ঘর, সামনে একচিলতে উঠোন। সেই উঠোনে দাঁড়িয়ে তিনটে ছেলেমেয়ে, তারা আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘ তাড়াতে চাইছে। লেবুপাতা করমচা, দূরের… Continue reading মাংস-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অধ্যাপক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত। ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম। কেবল যে আমি মতামত লইয়া ছিলাম তাহা নহে,… Continue reading অধ্যাপক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক সময় যজ্ঞেশ্বরের অবস্থা ভালোই ছিল । এখন প্রাচীন ভাঙা কোঠাবাড়িটাকে সাপ – ব্যাঙ-বাদুড়ের হস্তে সমর্পণ করিয়া খোড়ো ঘরে ভগবদগীতা লইয়া কালযাপন করিতেছেন । এগারো বৎসর পূর্বে তাঁহার মেয়েটি যখন জন্মিয়াছিল তখন বংশের সৌভাগ্যশশী কৃষ্ণপক্ষের শেষকলায় আসিয়া ঠেকিয়াছে । সেইজন্য সাধ করিয়া মেয়ের নাম রাখিয়াছিলেন কমলা । ভাবিয়াছিলেন , যদি এই কৌশলে ফাঁকি দিয়া চঞ্চলা… Continue reading যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিবাহঘটিত-তারাপদ রায়

প্রথম তরঙ্গ: পঙ্কজবাবুর বিপদ কোট-প্যান্ট পরে অফিসে বেরোচ্ছিলেন পঙ্কজবাবু। অফিসে যাঁর পরিচয় মিস্টার পি. চক্রবর্তী। যা হোক এটা পারিবারিক কাহিনি। এ গল্পে আমরা তাকে পঙ্কজবাবুই বলব। পঙ্কজবাবুর স্ত্রীর নাম সুহাসিনী। মহিলার নামটি যে উপযুক্ত নয়, এ গল্প পড়েই পাঠক-পাঠিকারা বুঝতে পারবেন। কোট পরে টাইয়ের নট বাঁধছেন, রাস্তায় অফিসের গাড়ি হর্ন দিচ্ছে, এমন সময় সুহাসিনী বললেন,… Continue reading বিবাহঘটিত-তারাপদ রায়

ভিখারি বিষয়ে-তারাপদ রায়

কার্তিক সবে শেষ হতে চলেছে। কলকাতায় শীত আসতে এখনও ঢের দেরি। তবে সকালে সন্ধ্যায় বাতাসে একটু হিম হিম ভাব। রাতে গায়ে একটা চাদর দিলে আরাম লাগে। ভোরবেলায় গাছের পাতা, মাঠের ঘাস শিশিরে ভিজে থাকে। সন্ধ্যার দিকে একটা নীল কুয়াশার হালকা পরদা ল্যাম্পপোস্টের নীচে নেমে আসে কোনও কোনও দিন। মাসের দ্বিতীয় শনিবার দুপুরে খেয়ে উঠে শারদীয়… Continue reading ভিখারি বিষয়ে-তারাপদ রায়

বীণার অসুখ – হুমায়ূন আহমেদ

বীণার বয়স একুশ। সে লালমাটিয়া কলেজে বি.এ. সেকেন্ড ইয়ারে পড়ত। বীণার মামা ইদরিশ সাহেব একদিন হঠাৎ বললেন, বীণা তাের কলেজে যাবার দরকার নেই। বাসায় থেকে পড়াশােনা কর। পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দিলেই হবে। কলেজে আজকাল কী পড়াশােনা হয় তা তাে জানাই আছে। যাওয়া-না-যাওয়া একই। বীণা ঘাড় নেড়ে ক্ষীণ স্বরে বলল, জি আচ্ছা। মামার কথার উপর কথা… Continue reading বীণার অসুখ – হুমায়ূন আহমেদ

নিস্তার নৌকো-সমরেশ মজুমদার

দক্ষিণ খোলা বাড়িটা তৈরি করতে সুধাময়ের একটু বেশি খরচ পড়েছে। অধ্যাপকের পক্ষে কলকাতা শহরের ভাড়াটে বাড়িতে থেকে নিজে তদারকি করে বাড়ি বানানো অসম্ভব। সে কারণেই বন্ধুর পরিচিত কন্ট্রাক্টরের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হয়েছিল। প্রতি রবিবার খেয়েদেয়ে ভবানীপুর থেকে সল্টলেকে সুধাময় আর দয়মন্তী চলে আসত। ভিত খোঁড়া থেকে শুরু করে একটু-একটু করে বাড়িটা খাড়া হচ্ছে, বাড়ির… Continue reading নিস্তার নৌকো-সমরেশ মজুমদার

নবারুণবাবু সুখে থাকুন-তারাপদ রায়

আজ কিছুদিন হল নবারুণবাবু কিছুটা মোটা হয়ে পড়েছেন। নবারুণবাবুর বয়েস এই আগামী পয়লা অগ্রহায়ণে পঁয়তাল্লিশ পূর্ণ হবে। এক স্ত্রী, এক কন্যা। খুব ঝামেলা ঝঞ্জাট নেই তার জীবনে। চিরকাল মাঝারি চাকরি করেছেন, মাঝারি ধরনের উচ্চাশা তার। খুব টানাটানিও নেই তার, আবার খুব সচ্ছলতাও নেই। ভালভাবেই চলে যাচ্ছিল নবারুণবাবুর দিন। কিন্তু এইসব মাঝারি মানুষদের মধ্যে জীবনে একটা… Continue reading নবারুণবাবু সুখে থাকুন-তারাপদ রায়

কাঠঠোকরা-সমরেশ মজুমদার

দপ্তর থেকে ইস্যু করা পাশ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তেও একটা বার্থ পেয়ে গেল হরিপদ। এই ট্রেনের নাম দার্জিলিং মেল। আগে ছাড়ত সন্ধেবেলায়, এখন দশটার পরে। নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যায়। অর্থাৎ কাল ট্রেন থেকে নেমে আবার তাকে বাস ধরতে হবে। বারোটা বছর যেন হুস করে চলে গেল। চালসার মোড়ে ফটিকের মুদির দোকানে গিয়েছিল হরিপদ। লিস্ট অনুযায়ী জিনিস… Continue reading কাঠঠোকরা-সমরেশ মজুমদার

রেলের কামরার গল্প -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রত্যেক ট্রেনের কামরাতেই একটা গল্প আছে। বিশেষত রাত্রির যাত্রায়। একটা ছোট্ট ঘেরাটোপের মধ্যে, ওপর-নীচের চারটি শয্যায় সম্পূর্ণ অচেনা চারজন মানুষ একটা রাত কাটিয়ে যায়, এর মধ্যে গল্প থাকবে না? সম্প্রতি আমাকে পুরুলিয়া জেলায় যেতে হয়েছিল, চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার, রাতের জার্নি। রাত দশটার পর ছাড়বে, সুতরাং খাওয়াদাওয়ার পাট চুকিয়ে ট্রেনে ওঠা। আমি নির্দিষ্ট ঘেরাটোপে পৌঁছে দেখি, আর… Continue reading রেলের কামরার গল্প -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়