চৈত্র সংক্রান্তির দিন রাজা তাঁর মুকুট এবং সিংহাসন ত্যাগ করবেন। সেদিন প্রজাবর্গের সামনেই তিনি তাঁর পিতৃপুরুষের বৃত্তি গ্রহণ করবেন হলকর্ষণ করে। তাঁর রাজকীয় মহিমার অবসান হবে। রাজাহীন রাজ্যে তিনি প্রজাসাধারণের সঙ্গে সমভূমিতে নেমে আসবেন। সেদিন সেনাপতি, নগরকোটাল এবং পৌরপ্রধানেরাও নিয়োজিত হবেন তাঁদের পুরাতন বৃত্তিতে। পৈতৃক কামারশালায় ফিরে যাবেন সেনাপতি, নগরকোটাল যাবেন তাঁর বিপণিতে, চিকিৎসাবিদ্যায় ফিরে… Continue reading রাজার গল্প-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
ম্লান-অম্লান-সমরেশ মজুমদার
নিরাপদ বসুকে এই কাহিনির নায়ক বলা যাবে না। অথচ যা কিছু ঝামেলা ওকে নিয়েই। নিরাপদ অবশ্য ঝামেলা বলে স্বীকার করে না। সে যথেষ্ট ঝামেলা এড়ানো ভদ্রলোক। ওর স্ত্রী হৈমন্তী যদিও এই স্বভাবটার জন্যে ওকে ব্যক্তিত্বহীন মানুষ বলে মনে করে। নিরাপদ এসব শুনলে দু:খ পায়। কিন্তু ইদানীং স্ত্রী-র কথাবার্তা সে উপেক্ষা করতে শিখে গিয়েছে। নিরাপদ একজন… Continue reading ম্লান-অম্লান-সমরেশ মজুমদার
শেষ ঘণ্টা বেজে গেল-সমরেশ মজুমদার
যিনি বলেছিলেন লাবণ্য না থাকলে সৌন্দর্য পূর্ণতা পায় না, তিনি একটু কম জানতেন। কুন্তী সুন্দরী একথা ওঁর কুকুর মদনও জানে। কুন্তী যে লাবণ্যবতী তা আয়নাগুলো সোচ্চারে জানিয়ে দেয়। আর এরকম সুন্দরী লাবণ্যবতী এই শহরে অন্তত আট হাজার একুশজন আছেন অথবা থাকতে পারেন। তবে কিনা ওইসব রূপসীদের অধিকাংশই বোকা-বোকা অথবা স্বার্থপর। আর সেই স্বার্থপরতা আড়াল করার… Continue reading শেষ ঘণ্টা বেজে গেল-সমরেশ মজুমদার
প্রাকৃতিক -সমরেশ মজুমদার
পঁচাত্তরে পড়তে আর তিনমাস; কিন্তু স্বপ্নেন্দুর মাথার একটি চুলও সাদা হয়নি। দাড়ি কামাবার সময় আয়নার সামনে বসে নিজেকে লক্ষ্য করেন তিনি। দুদিন দাড়ি না কামালে (সেটা খুব কম হয়) গালে সাদা ছোপ লাগে। কিন্তু না জুলপি, না কানের ওপাশে একটি রুপোলি চুল দেখতে পান না। একদা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে ঠেস দেওয়া প্রশ্ন শোনেন, ‘কি… Continue reading প্রাকৃতিক -সমরেশ মজুমদার
ভাগের অংশ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ছাইদানিতে একটা বিড়ির টুকরো দেখে দীপ্তিময় তার বউ রমাকে ডেকে জিগ্যেস করল–‘কে এসেছিল বলো তো! বিড়ি খায় এমন লোক কে!’ রমা বলল , ‘তোমার ফুলকাকা। তুমি অফিসে যাওয়ার একটু পরেই এসেছিল, বলে গেছে আবার আসবে কয়েকদিন পর।’ ‘ফুলকাকা!’ ভ্রূ কুঁচকে ফুলপ্যান্টের বোতাম খুলতে–খুলতে দীপ্তিময় বলল , ‘কই, ফুলকাকা বলে কেউ ছিল এমন তো মনে পড়ছে… Continue reading ভাগের অংশ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বন্ধুর অসুখ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
অনিন্দ্যর অসুখ করেছে শুনে দেখতে গিয়েছিলাম। এই প্রথম ওর বাড়িতে যাওয়া। কোনও নিমন্ত্রণ ছিল না। আমরা কেবল খবর পেয়েছিলাম যে, ওর অসুখ। অনিন্দ্য রোগা টিঙটিঙে, এক মাথা চুল, খুব সিগারেট খায়, আর খলবল করে কথা বলে। অফিসের আমরা সবাই অনিন্দ্যকে মোটামুটি পছন্দ করি, কারণ অনিন্দ্য ঝগড়া করেই ভাব করতে পারে, সকলের সঙ্গেই তার ভাব আর… Continue reading বন্ধুর অসুখ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
অসুখ – হুমায়ূন আহমেদ
ছোটখাটো অসুখ আমার কখনো হয় না। সর্দিকাশি-জ্বর কখনো না। পচা, বাসি খাবার খেয়েও আমার পেট নামে না। ব্যাকপেইনে কাতর হয়ে বিছানায় পড়ে থাকি না। আধকপালি, সম্পূর্ণ কপালি কোনো কপালি মাথাব্যথা নেই। মুড়িমুড়কির মতো প্যারাসিটামল আমাকে খেতে হয় না। এক বিকেলে দুটা Ace নামের প্যারাসিটামল খেয়ে ফেললাম। শাওন বিস্মিত হয়ে বলল, মাথাব্যথা? আমি বললাম, না। এক… Continue reading অসুখ – হুমায়ূন আহমেদ
তালভঙ্গ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
একদল ভক্ত পৌঁছে দিল হোটেলের দরজা পর্যন্ত। রাত প্রায় একটা, তবু তারা যেতে চায় না, এখনও তারা গল্প করতে চায়। হোটেলের দারোয়ানটি লবির একটি সোফায় শুয়েছিল, সে ধড়মড় করে উঠে অবাক ভাবে চেয়ে রইল। সবার সঙ্গে হেসে-হেসে কথা বলতে-বলতে প্রায় চোয়াল ব্যথা হয়ে যাচ্ছে দিবাকরের। পাশে মণিকা, তারও ঠোঁটে হাসি আঁকা। মণিকা কোনও কথা বলে… Continue reading তালভঙ্গ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
গোরুর গল্প-তারাপদ রায়
দীনদয়ালবাবুর মনে বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে তিনি মানুষ নন গোরু। নানা ব্যাপারে ঠকে অনেকে। নিজেকেই গোরু ভাবে, কেউ কেউ অতিবুদ্ধিমান অন্যদের গোরু ভাবে, কিন্তু দীনদয়ালবাবুর ব্যাপারটা এত সামান্য বা সাধারণ নয়। যদিও তার লেজ নেই, তিনি দুধ দিতে পারেন না বা মাঠে হালচাষ করতে পারেন না, দীনদয়ালবাবুর দৃঢ় বিশ্বাস গোরু হিসাবে তার এই সব অযোগ্যতার জন্যে… Continue reading গোরুর গল্প-তারাপদ রায়
ভেজাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পেছনের গাড়িটার খুব বেশি দোষ ছিল না। বেশ কয়েকবার হেডলাইট জ্বালিয়ে নিবিয়ে সিগন্যাল দিয়েছে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তবু সামনের ফিয়াট গাড়িটা হেলতে-দুলতে চলেছে রাস্তার মাঝখান দিয়ে। যেন ওদের পেরিয়ে আর কোনও গাড়ির যাওয়ার অধিকার নেই। আলো ফেললে দেখা যাচ্ছে, ফিয়াট গাড়িটায় রয়েছে দুজন। এক পুরুষ ও এক মহিলা, দুজনেই মাথা ঝাঁকাচ্ছে মাঝে-মাঝে, যেন খুব… Continue reading ভেজাল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়