খেলা -বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মতিলাল ছেলেকে বললে–বোসো বাবা, গোলমাল করো না। হিসেব দেখছি— ছেলে বাবার কোঁচার প্রান্ত ধরে টেনে বললে–ও বাবা, খেলা করবি আয়– -না, এখন টানিসনে—আমার কাজ আছে— -–ও বাবা, খেলা কববি আয়—ঘোয়া খেলা কববি আয়— —আঃ জ্বালালে—চল দেখি— মতিলাল হিসাবের খাতা বন্ধ করে ছেলের পিছু পিছু চলল। ছেলে তার কোঁচার কাপড় ধরে টেনে নিয়ে চলল কোথায় তা… Continue reading খেলা -বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

যাচাই-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গোরুরগাড়ি ঢুকল চাঁদপুর গ্রামের মধ্যে। ননীবালা ছেলেকে বললে—বাবা, চেয়ে দ্যাখো —ঘুমুইনি মা। চেয়ে আছি– —এই গাঁয়ের সীমানা। ওই গেল দুলেপাড়া— —ব্রাহ্মণপাড়া কতদূর? —আরও আগে। ননীবালার সারা দেহেমনে একটি অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ! মনে পড়ল আজ ত্রিশ-বত্রিশ বছর পূর্বে একদিন এই গ্রামে নববধূরূপে ঢুকবার সেই দিনটির কথা। তিনি ছিলেন পাশে—আজ যেমন ছেলে সুরেশ তার পাশে বসে রয়েছে।… Continue reading যাচাই-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কয়েকটি দৃশ্য-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

চার-পাঁচজন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করতে-করতে যাচ্ছিল তপন। বন্ধুদের মধ্যে সুকুমার বেশ কৃপণ, মহা কিস যাকে বলে। আজ সবাই মিলে ঠাট্টা করে সুকুমারকে নাজেহাল করে তাকে দিয়ে এক প্যাকেট সিগারেট কেনানো গেছে। অনেকদিন বাদে জক দেওয়া গেছে তাকে, ওরা সবাই সদ্য সিগারেট ধরিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার জলবহুল রাস্তা। অনেকরকম মানুষ। শীত শেষ হয়ে এসেছে অথচ গরম পড়েনি… Continue reading কয়েকটি দৃশ্য-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তিন সিংহ ধান খায় -সমরেশ মজুমদার

প্রথম দর্শনে লোকটিকে সন্ন্যাসী বলিয়া মনে হইলেও মদনমোহন তাহার বাম হস্তের ঘড়িটিকে লক্ষ করিয়া ধারণা পরিবর্তন করিল। সন্ন্যাসীরা ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না। যদিও লোকটির পরনে রক্তাম্বর আলখাল্লা বাবরি চুল এবং শ্মশ্রুল মুখ কিন্তু মদনমোহনকে লক্ষ করিয়া প্রসন্ন হাসি তাহার অধরে খেলিয়া গেল। এখন ঊষাকাল। সূর্যদেব ভালো করিয়া উদিত হন নাই। আধুলি গ্রামের মানুষজনের আলস্য… Continue reading তিন সিংহ ধান খায় -সমরেশ মজুমদার

উৎসবের রাত -সমরেশ মজুমদার

এখনও অনেক কিছু পারেন না প্রতিভা। এই যেমন, একা-একা বাড়ির বাইরে যাওয়া, ছেলে মেয়েদের উঁচু গলায় ধমক দেওয়া, বউমাদের খোঁটা দিয়ে কথা বলা কিংবা অপরেশ ঘরে থাকলে তাঁর সামনে কাপড় পালটানো। শেষেরটি নিয়ে নিয়ত কথা শুনতে হয় তাঁকে। তুমি কি এখনও আঠারো বছরের খুকি যে আমায় দেখে লজ্জায় মরে যাচ্ছ! পঞ্চাশ বছর ঘর করছি তবু… Continue reading উৎসবের রাত -সমরেশ মজুমদার

খেয়ালি- সমরেশ মজুমদার

জংশন স্টেশন থেকে দুপুর সাড়ে বারোটার ট্রেন ধরলে ঠিক পৌনে চারটের সময় গমনপুরে পৌঁছে যাওয়া যায়। অগ্রিম জানতে পারলে ভদ্রলোক স্টেশনে লোক রাখবেন। গমনপুর থেকে খেয়ালি গ্রাম গাড়িতে পনেরো মিনিটের পথ। ওই চিঠির উত্তরে জানিয়ে দিয়েছিলাম কবে যাচ্ছি। মুশকিল করল মেল ট্রেনটা। সারাটা পথ খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে যখন জংশন স্টেশনে ঢুকল তখন দুটো বেজে গেছে। গমনপুরের ট্রেন… Continue reading খেয়ালি- সমরেশ মজুমদার

খুঁজতে যাব প্রাণগঙ্গার ঘাটে-সমরেশ মজুমদার

পরীক্ষাটা ছিল চাকরির। দেওয়ার সময়েই বুঝতে পেরেছিল ডাক আসবে না। এমন অনেক প্রশ্ন ছিল যা সে কখনও শোনেনি, উত্তর কি লিখবে। আধ ঘণ্টার পর মনে হয়েছিল উঠে পড়লেই হয়। কিন্তু ওঠেনি, সাঁতার না জানা মানুষ যদি পুকুরের ডুব দেয় তাহলে যে অবস্থা হবে সেই অবস্থায় বাকি সময়টা কাটিয়েছিল। প্রশান্ত জানে, এটাই তার জীবনের শেষ চাকরির… Continue reading খুঁজতে যাব প্রাণগঙ্গার ঘাটে-সমরেশ মজুমদার

আবগারীশ্বরী-তারাপদ রায়

০১. স্থায়ী বঙ্গীয় কুলীন কায়স্থ বংশে, একটি প্রাচীন রক্ষণশীল পরিবারে শ্রীযুক্ত সনাতন মিত্রের জন্ম। কিন্তু নিতান্ত দুঃখের বিষয় এই যে সনাতনবাবু মানুষটি যাকে ধার্মিক বা ধর্মপরায়ণ লোক বলে ঠিক সেই ধরনের নন। পুজো-আর্চায় তাঁর মোটেই মন নেই। দেবদ্বিজে বিগ্রহে-প্রতিমায় তাঁর ভক্তি অচলা নয়। তবে এসবের জন্যে একটা বয়েস লাগে। সে বয়েসে পৌঁছাতে এখনও সনাতনবাবুর ঢের… Continue reading আবগারীশ্বরী-তারাপদ রায়

মার্জার পুরাণ-তারাপদ রায়

০১. ভাঙা কাঁসর-ঘণ্টা ছুটি হয় সেই সাড়ে পাঁচটায়। আজ বড়বাবুকে বলে আধঘণ্টা আগে অফিস থেকে বেরিয়েছে প্রতিভাময়। মিশন রো-র পাশের একটা গলিতে আধা-সরকারি অফিস, যাকে বলা হয় সরকারি সংস্থা বা আন্ডারটেকিং। বউবাজার-শিয়ালদা পুরনো মোড়ে, ফ্লাইওভারের নীচ ধরে দক্ষিণ বরাবর পিতল-কাঁসার থালাবাসনের দোকান আছে। মানে ছিল। এখনও আছে কিনা বলা কঠিন। ফ্লাইওভার তৈরি হওয়ার পর থেকে… Continue reading মার্জার পুরাণ-তারাপদ রায়

২৫০%-তারাপদ রায়

আমাদের এই রাজ্যেরই কোনও এক জেলায় পাশাপাশি দুটি অঞ্চলে, দক্ষিণ রামপুর এবং উত্তর রামপুর। নামেই মালুম দক্ষিণ রামপুরের লোকেরা খুবই প্রতিক্রিয়াশীল, ফ্যাসিবাদী, মৌলবাদী ইত্যাদি, ইত্যাদি। উত্তর রামপুরের লোকেরা, স্বভাবতই, প্রগতিশীল, সাম্রাজ্যবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী। দক্ষিণ রামপুরের অঞ্চলপ্রধান হলেন, কান্তচন্দ্র রায়। আর উত্তর রামপুরের অঞ্চলপ্রধান হলেন চন্দ্রকান্ত রায়। কান্তচন্দ্রের আর চন্দ্ৰকান্তের লোকেরা পরস্পর শত্রু। তারা দুটি… Continue reading ২৫০%-তারাপদ রায়