চারদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেন বাড়ির আবহাওয়ায় টান লাগল। মাধুরী নীচু গলায় শাশুড়িকে জানাল, মা, বাবাকে ওঁর খবর নিতে বলবেন? কেন, কদিন হল? ফুল তুলতে-তুলতে শোভনা প্রশ্ন করলেন। চারদিন। সেকি! ও তো দু-দিনেই ফিরে আসে। তোমাকে কিছু বলে যায়নি? নীরবে মাথা নাড়ল মাধুরী। শোভনা আড়চোখে পুত্রবধূর দিকে তাকালেন। অনেক খুঁজে খতিয়ে এই মেয়েকে এনেছিলেন তিনি… Continue reading নিরুদ্দেশ-প্রাপ্তি-হারানো-সমরেশ মজুমদার
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
নিষ্ফলা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
—আ মর! এগিয়ে আসছে দেখো না। দূর হ, দূর হ। ওমা আমি কোথায় যাব? এ যে ঘরে আসতে চায়। ছিঃ ছিঃ! ধম্ম-কম্ম সব গেল। বলি ও ভালোমানুষের মেয়ে, এমনি করে কী লোককে পাগল করতে হয়? বেলা বেশি নয়, আটটা হইবে প্রায়। বৈশাখ মাস—বেশ রৌদ্র উঠিয়াছে। পাশের বাড়ির গৃহিণী আহ্নিক করিতে বসিয়াছেন তাঁহার পূজার ঘরে। পূজার… Continue reading নিষ্ফলা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শিহরণ-সমরেশ মজুমদার
শক্তিব্রতবাবু মুখ তুলে কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখলেন। এই ভয়ংকর গরমেও গাছটা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। চোখ জুড়িয়ে যায়। তাঁর শ্বাস পড়ল। উদাস গলায় বললেন, আজকাল আর যুবতী বিধবা বড় একটা দেখা যায় না! সুধাকরবাবু অবাক হয়ে মুখ ফেরালেন, হঠাৎ এই ভাবনা? কৃষ্ণচূড়া দেখে মনে এল। শক্তিরতবাবু উত্তর দিলেন। বিমলেন্দু একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। ওপাশ থেকে একটি… Continue reading শিহরণ-সমরেশ মজুমদার
শিশিরের জল-সমরেশ মজুমদার
দমদম এয়ারপোর্ট থেকে বেরোবার আগে তার পাসপোর্ট দেখে বাঙালি ইমিগ্রেশন অফিসার হেসে বললেন, ‘আপনি অষ্ট্রেলিয়ান?’ ‘হ্যাঁ। পাসপোর্টই বলছে আমি অষ্ট্রেলিয়ার নাগরিক।’ ‘বহু দিন পরে এলেন! ভাল থাকুন।’ পাসপোর্টে স্ট্যাম্প মেরে ভদ্রলোক সেটা ফেরত দিলেন। কাস্টমসেও কোনও অসুবিধে হল না। স্যুটকেস নিয়ে প্রি-পেড ট্যাক্সির টিকিট কেটে সে যখন বাইরে এল, তখন রাতের অন্ধকার গাঢ় হয়েছে। ড্রাইভার… Continue reading শিশিরের জল-সমরেশ মজুমদার
পথ-নির্দেশ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক মাঝারি গৃহস্থ-ঘরে বাড়ির কর্তা যখন যক্ষ্মারোগে মারা যান, তখন তিনি পরিবারটিকেও আধমরা করিয়া যান। সুলোচনার স্বামী পতিতপাবন ঠিক তাহাই করিয়া গেলেন। বর্ষাধিককাল রোগে ভুগিয়া একদিন বর্ষার দুর্দিনে গভীর রাত্রে তিনি দেহত্যাগ করিলেন। সুলোচনা কাল স্বামীর শেষ প্রায়শ্চিত্ত করাইয়া দিয়া পার্শ্বে আসিয়া বসিয়াছিলেন, আর উঠেন নাই। স্বামী নিঃশব্দে প্রাণত্যাগ করিলেন, সুলোচনা তেমনি নিঃশব্দে বসিয়া রহিলেন,… Continue reading পথ-নির্দেশ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
দর্পচূর্ণ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক সন্ধ্যার পর ইন্দুমতী বিশেষ একটু সাজসজ্জা করিয়া তাহার স্বামীর ঘরে প্রবেশ করিয়া কহিল, কি হচ্ছে? নরেন্দ্র একখানি বাঙ্গালা মাসিকপত্র পড়িতেছিল; মুখ তুলিয়া নিঃশব্দে ক্ষণকাল স্ত্রীর মুখের পানে চাহিয়া থাকিয়া সেখানি হাতে তুলিয়া দিল। ইন্দু খোলা পাতাটার উপর চোখ বুলাইয়া লইয়া, জোড়া ভ্রু ঈষৎ কুঞ্চিত করিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিল—ইস, এ যে কবিতা দেখচি! তা বেশ—বসে… Continue reading দর্পচূর্ণ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
অতনু ফিরে যাবে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এটা কি আগে এখানে ছিল, না ছিল না? একটা বেঁটে মতো গম্বুজ, তার সবদিকই নানারকম পোস্টারে মোড়া, একটা বড় ফিল্মের পোস্টারে এক যুবতী দু’চোখ দিয়ে হাসছে। এক পাশে ছিল ধানক্ষেত আর জলা, রাস্তার অন্যপাশে দোকানপাট। হ্যাঁ, স্পষ্ট মনে আছে অতনুর, ধানক্ষেতের পাশে যে অগভীর জলাভূমি, সেখানে গামছা দিয়ে মাছ ধরত কয়েকটি কিশোর, মাছ বিশেষ পাওয়া… Continue reading অতনু ফিরে যাবে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শালিক ও শ্যালিকা-তারাপদ রায়
০১. সম্রাট শালিবাহন.. শিবরাম চক্রবর্তী শিবরাম চক্রবর্তীকে মনে আছে? সেই যে মহর্ষি শিবরাম চক্রবর্তী। অনেকদিন আগের কথা, সে আমাদের হারিয়ে যাওয়া অমল কৈশোরের কথা। সত্যযুগ না হলেও, সে প্রায় ক্রেতা-দ্বাপরের কথা। তখন টাকায় চার-পাঁচ সের চাল পাওয়া যেত, তিন-চার সের দুধ। কলকাতা থেকে নৈহাটি রেলভাড়া আট আনা। ঢাকা বরিশাল যেতে দলিল-দস্তাবেজ লাগে না তখনও বঙ্গজননীর… Continue reading শালিক ও শ্যালিকা-তারাপদ রায়
হঠাৎ হয়ে যায় -সমরেশ মজুমদার
দক্ষিণের বারান্দায় বেতের চেয়ারে শরীরটাকে ছেড়ে দিয়ে রবিবারের সকালটা কাটিয়ে দেওয়ার বিকল্প আর কিছু নেই ইন্দ্রজিতের কাছে। সারা সপ্তাহের পরিশ্রমের পর এই সময়টা তার নিজস্ব, আরাম করার সময়। যোধপুর পার্কের এই বিরাট ফ্ল্যাটটার বাসিন্দা ছয়জন। ওরা তিনজন আর কার্মচারী তিনজন। কর্মজীবনের প্রথম দিকে এটা মেনে নিতে পারত না ইন্দ্রজিৎ, এখন এটাকেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়।… Continue reading হঠাৎ হয়ে যায় -সমরেশ মজুমদার
রাজার মতো যাওয়া-সমরেশ মজুমদার
আজকাল রাত না ফুরোতেই ঘুম ভেঙে যায়। আসলে ঘুম বলা ঠিক উচিত নয়, ঘুমের একটা ঘোর গোছের ব্যাপার শুরু হয় একটা নাগাদ। তারই চটকা ভেঙে যায় অন্ধকার কাটতে-না কাটতেই। তারপর বিছানায় শুয়ে ছটফট করা আর জানলা দিয়ে আকাশ দেখা। ভোরের আকাশ দেখা একটা দারুণ ব্যাপার। এটা এক ধরনের নেশা হয়ে গেছে অবনীর। নীল বেনারসি শাড়ির… Continue reading রাজার মতো যাওয়া-সমরেশ মজুমদার