জতুগৃহ-তারাপদ রায়

০১. অবতরণিকা নিবারণবাবু লোকটাকে প্রথম প্রথম আমি যতটা বোকা ভেবেছিলাম, তিনি বোধ হয় তা নন। ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার আজ প্রায় বছর দেড়েক আলাপ। দিল্লি না বোম্বাই, কোথায় যেন বড় চাকরি করতেন, সেখান থেকে অবসর নিয়ে আমাদের গলির মোড়ের এক মালটিস্টোরিড বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট কিনে ডেরা বেঁধেছেন। আমাদের রাস্তাটা সরাসরি ময়দানের দক্ষিণ মুখে গিয়ে পড়েছে। মোড় পেরোলেই… Continue reading জতুগৃহ-তারাপদ রায়

সাপ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বাপ্পা তার বাবার সঙ্গে এই বাগানে এল। সে, তার বাবা আর রেনি। শরৎকাল এখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বাগানের ফুল, ঘাসের রং আর রোদের তাপ থেকে তার আন্দাজ পাওয়া যায়। যে ঘাসগুলো বর্ষার জলে ঘন সবুজ হয়ে উঠেছিল তা এখন নিষ্প্রভ। এই রোদ, ঘাস আর ফুলের রং–সব কিছুই যেন স্তিমিত, নিঃশেষপ্রায়। আর এখন না-দুপুর না… Continue reading সাপ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

হুইসেল-ঋভু চট্টোপাধ্যায়

-কটা বাজে এখন ? -দুটো পনেরো। -রাত দুটো পনেরো! -না’তো কি দুপুর হবে ? -তা না, আমি জিজ্ঞেস করছি মানে তুমি কি এখন বেরোবে ? -সেই জন্যেই তো জামাকাপড় পরলাম। -তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি, প্রতিরাতে এমনি ভাবে বেরিয়ে যাচ্ছ ? -পাগলের মত কথা বোলো না। প্রতিরাতে আমি বেরিয়ে নিষিদ্ধপল্লি যাচ্ছি না। -বাজে… Continue reading হুইসেল-ঋভু চট্টোপাধ্যায়

ইঁদুরের কল-সমরেশ মজুমদার

নিরাপদ একজন বাঙালি প্রৌঢ়ের নাম, যার কোনও উজ্জ্বল অতীত নেই। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার আছে বলে সে মনে করে না। বর্তমানে সে সদাগরি অফিসে চাকরি করে, যা বেতন পায় তাতে তিন বেলা খাওয়া, ইলেকট্রিক বিল মেটানো, ঠিকে ঝি-এর মাইনে, কেবল এর পাওনা মিটিয়ে মন্দ থাকে না। তবে প্রত্যেক শনিবার সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতেই অনেকটা… Continue reading ইঁদুরের কল-সমরেশ মজুমদার

ফেল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার-বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না। নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও… Continue reading ফেল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পঞ্চমশক্তি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বিকেলবেলাটা যে এমন সুন্দর ঝকঝকে হয়ে উঠবে, আশাই করিনি। সকাল থেকে ছিল একঘেয়ে বৃষ্টি আর কুয়াশা। আর সে কী ঘন কুয়াশা! আমাদের দেশে এমন কুয়াশা কখনও দেখিনি। চার-পাঁচ হাত দূর থেকে একটা গাড়ি চলে গেলেও বোঝা যায় না। ছুটির দিন। ভাস্কর আমাকে এক জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাবে বলেছিল। কিন্তু সকাল বেলা ওইরকম আবহাওয়া দেখে মনে… Continue reading পঞ্চমশক্তি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বিশ্বমামা ও অহি-নকুল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মামাদের সুন্দরকাকা থাকেন সুন্দরবনে। সুন্দরকাকার আসল নাম কিন্তু সুন্দর নয়, প্রিয়নাথ। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তাকে আমরা সুন্দরকাকা বলে ডাকি। সুন্দরবনটাও কিন্তু মোটেই সুন্দর নয়, বরং ভয়ংকর বলা যেতে পারে। সেখানে জলে বাঘ আর ডাঙায় কুমির। না, না। উলটো হবে, তাই না? জলে কুমির ডাঙায় বাঘ। অবশ্য, আগেরটাও খুব একটা ভুল নয়। কুমির তো ডাঙায় উঠে… Continue reading বিশ্বমামা ও অহি-নকুল-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

হন্তদন্ত-তারাপদ রায়

সমস্যার পর সমস্যা। অস্থির হয়ে পড়েছেন হরেন মিত্র। এতই অস্থির হয়েছেন তিনি যে একেক সময় আশঙ্কাষিত বোধ করছেন, পাগল না হয়ে যাই। না, এখনও পাগল হয়ে যাননি তিনি। কিন্তু এত সমস্যার ধাক্কা সামলানো সহজ নয়। বিপদ আর সমস্যা কখনও একা আসে না। এক সমস্যার ঘাড়ে এসে আরেক সমস্যা চেপে বসে। ঘরের দেয়ালের দিকে তাকালেন হরেনবাবু,… Continue reading হন্তদন্ত-তারাপদ রায়

নরওয়ে দেশের পুরান-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

আমাদের দেশের পুরাণে যেমন দেবতা আর অসুরের গল্প আছে, পুরাতন নরওয়ে আর সুইডেন দেশের পুরাণেও তেমনি সব দেবতা আর অসুরের কথা লেখা আছে। নরওয়ের পুরাণে আছে, সেকালের আগে যখন পৃথিবী বা সমুদ্র বা বায়ু কিছুই ছিল না-তখন কেবল বিশ্ব-পিতা (All Father) ছিলেন। তাঁহাকে কেহ সৃষ্টি করে নাই, কেহ তাঁহাকে দেখিতে পায় না। তিনি যাহা চাহেন,… Continue reading নরওয়ে দেশের পুরান-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

রহস্য কাহিনী নয়-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাথরুম থেকে একটা মগ চুরি গেছে। চুরি ছাড়া আর কী বলা যায়? একটা নতুন মগ তো ডানা মেলে উধাও হয়ে যেতে পারে না? এ চুরির কথা শুনলে লোকে হাসবে। বাড়ি থেকে আর কিছু খোওয়া যায়নি, হ্যাঁ, সব মিলিয়ে দেখা হয়েছে, আর সব কিছুই ঠিকঠাক আছে, শুধু দু-দিন আগে কিনে আনা নীল মগটি পাওয়া যাচ্ছে না।… Continue reading রহস্য কাহিনী নয়-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়