রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১৪)

‘আনুশকা মন খারাপ করে আছে। তুমি নাকি তার সঙ্গে ঝগড়া করেছ?  জরী কিছু বলল না। জানালার অন্ধকারের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসল। বৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। জরী হাই তুলতে তুলতে বলল, প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে। ইস, একটা পুরাে কামরা যদি আমার একার থাকত, তা হলে দরজা বন্ধ করে হাত–পা ছড়িয়ে কী আরাম করে ঘুমুতাম ! … Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১৪)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১৩)

আপনার নাম কী?  ‘স্যার, আমার নাম সুলেমান। সুলেমান সাহেব! আপনি দয়া করে বিদায় হােন। আমাকে আমার মতো থাকতে দিন।  “জ্বি আচ্ছা, লাইটারটা রাখুন স্যার।  লাইটার দিয়ে কী করব?” ‘আপনার সিগারেট নিভে গেছে।  শুভ্র লাইটার হাতে নিজের জায়গায় ফিরে এল। আনুশকা বলল, শুভ্র, তুমি কি জরীকে দেখেছ? সে কোথায় জান?  ‘এখন কোথায় জানি না। তবে তাকে… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১৩)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১২)

তার পাশের সীটের ভদ্রলােককে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দুটা সীট দখল করে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়েছে। দূর থেকে দেখলেই বােঝা যায় সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অথচ কথা ছিল সারা রাত কেউ ঘুমুবে না। জরীর মনে হল – শেষটায় দেখা যাবে শুধু সেই জেগে আছে, আর সবাই ঘুমে। কামরায় গাড়িভরা ঘুম, রজনী নিঝুম।  রাত কত হয়েছে? জরীর হাতে… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১২)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১১)

বন্দু বলল, প্রতিরাতেই যে ঘুমতে হবে তার কি কোনাে মানে আছে? একটা রাত না ঘুমিয়ে দেখুন কেমন লাগে। খারাপ লাগবে না। | কথাবার্তার এই পর্যায়ে রানা উঠে বলল, নাে মিউজিক। গান বন্ধ। অন্য যাত্রীদের সুবিধা–অসুবিধাও আমাদের দেখতে হবে। | সে চশমাপরা লােকের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, ওল্ড ব্রাদার, নাে অফেন্স। যান, শুয়ে পড়ুন।  মােতালেবের গা… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১১)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১০)

রাহেলা জবাব দিলেন না। ইয়াজউদ্দিন সাহেব শান্ত গলায় বললেন, আমি টুনে একজন লােক রেখেছি। সে সবসময় শুভ্রের উপর লক্ষ রাখবে। তােমাকে এই খবরটা জানাতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু প্রেশার–শাের বেড়ে তােমার যা অবস্থা হয়েছে, আমার মনে হল জানানাে উচিত। | ইয়াজউদ্দিন সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। স্ত্রীর হাত ধরে তাকে নিচে নামালেন। রাহেলা বললেন, মজিদ বলছিল, সুন্দর একটা… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১০)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৯)

 এক চুমুক পানি খেয়েই  রাহেলার মনে হল, তার আসলে পিপাসা পায়নি। রাহেলা বললেন, মজিদ কি এসেছে মধুর মা ?  ‘জ্বি আসছে। ‘কতক্ষণ হল এসেছে ? ‘অনেকক্ষণ। ‘আমাকে বলনি কেন ? রাহেলা উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর মার্থা অবশ্যি এখনাে ঘুরছে। আজ সকালে ব্লাড় প্রেশারের ওষুধ কি তিনি খেয়েছেন? রাহেল মনে করতে পারলেন না। মজিদকে পাঠাতে হবে ডাক্তার… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৯)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৮)

এরা আমাদের দুজনকে আশা করে পাঠিয়েছে। এর নাম শুভ্র। অতি ভাল ছেলে। শুভ্রর প্রেস্টিজের একটা ব্যাপারও আছে। চা নিয়ে যেতে না পারলে মেয়েগুলির সামনে শুভ্রর মান থাকবে না।  এক কথা কয়বার বলব? আপনারা কেন বিরক্ত করছেন? তা হলে কি এদের নিয়ে উঠে চলে যাব ?” ‘সেটা আপনার ইচ্ছা।  ভাইজান, আমরা কিন্তু মানুষ ভাল না। এখন… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৮)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৭)

‘বিয়ের আসর থেকে তুই পালিয়ে এলি কীভাবে?  ‘বড় চাচী ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে বসে ছিলাম। বড় চাচী পালিয়ে যেতে বললেন।  আগে তো শুনেছিলাম, তাের এই চাচী তােকে দেখতে পারে না। ‘মানুষকে চট করে চেনা যায় না, আনুশকা। এই চাচী আমাকে সত্যি সত্যি অপছন্দ করতেন। সারাক্ষণ কঠিন সব অপমান করতেন। আমরা যে… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৭)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৬)

ম্যানেজারের কোনো ভাবান্তর হল না। সে আবার হাই তুলল। চলতি ট্রেনে ছােটখাটো ঝামেলা হয়। এসব পাত্তা দিলে চলে না। চা অবশ্য সে সহজেই দিতে পারে। টী–ব্যাগ আছে, গরম পানি আছে। কিন্তু দরকারটা কী? মেয়ে দুটি খানিকক্ষণ বসে থেকে বিরক্ত হয়ে চলে যাবে। রাগারাগিও হয়তাে করবে। করুক ! অসুবিধা কী?  সুন্দরী মেয়ে রাগারাগি করলেও দেখতে ভাল লাগে।… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৬)

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৫)

সবাই হাসছে, শুধু জরী হাসছে না। সে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে। এক সময় সে মনে মনে বলল, আল্লাহ, তুমি আমার মনটা ভাল করে দাও।  আনুশকা বলল, জরী, তাের ঠাণ্ডা লাগবে। মাথা ভেতের টেনে নে। কচ্ছপের মতো সারাক্ষণ মাথা বের করে রেখেছিস কেন?  জরী বলল, আমার ঠাণ্ডা লাগছে না।। ‘বাইরে দেখার কিছু নেই, অন্ধকারে শুধু শুধু… Continue reading রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৫)