গুপী গাইন ও বাঘা বাইন – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

তোমরা গান গাইতে পার? আমি একজন লোকের কথা বলব, সে একটা গান গাইতে পারত। তার নাম ছিল গুপি কাইন, তার বাবার নাম ছিল কানু কাইন। তার একটা মুদীর দোকান ছিল। গুপি কিনা একটা গান গাইতে পারত, আর সে গ্রামের আর কেউ কিছু গাইতে পারত না, তাই তারা তাকে খাতির ক’রে বলত, গুপি ‘গাইন’। গুপি যদিও… Continue reading গুপী গাইন ও বাঘা বাইন – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

নীলকমল আর লালকমল – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

এক রাজার দুই রাণী; তাহার এক রাণী রাক্ষসী! কিন্তু, এ কথা কেহই জানে না।দুই রাণীর দুই ছেলে;-লক্ষ্মী মানুষ-রাণীর ছেলে কুসুম, আর রাক্ষসী-রাণীর ছেলে অজিত। অজিত কুসুম দুই ভাই গলাগলি। রাক্ষসী-রাণীর মনে কাল, রাক্ষসী-রাণীর জিভে লাল। রাক্ষসী কি তাহা দেখিতে পারে?-কবে সতীনের ছেলের কচি কচি হাড়-মাংসে ঝোল অম্বল বাঁধিয়া খাইবে;-তা পেটের দুষ্ট ছেলে সতীন-পুতের সাথ ছাড়ে… Continue reading নীলকমল আর লালকমল – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

আশ্চর্য প্রদীপ – সমরেশ মজুমদার

ঠা-ঠা রোদ্দুরে ছেলেটা হাঁটছিল। শামবাটির খাল পেরিয়ে রাস্তাটা দু-দিকে চিরে গেছে। লাল ধুলো এখন উড়ছে না, এইসময় বাতাস বড় দুর্বল থাকে। তেলে গন্ধ-ওঠা গামছাটা মাথা থেকে খুলে ও শরীরের ঘাম মুছল। এটা ও কখনই করতে চায় না, কারণ শরীরের ঘাম কাপড়ে মুছলে সেটা কালো হবেই আর ঘামে শরীরের রং থাকে। বাবুদের বেলায় ঠিক উলটোটা হয়।… Continue reading আশ্চর্য প্রদীপ – সমরেশ মজুমদার

খুকীর কাণ্ড – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

হরি মুখুয্যের মেয়ে উমা কিছু খায় না। না-খাইয়া রোগা হইয়া পড়িয়াছে বড়।….উমার বয়স এই মোটে চার। কিন্তু অমন দুষ্টু মেয়ে পাড়া খুঁজিয়া আর একটি বাহির করো তো দেখি!… তাহার মা সকালে দুধ খাওয়াতে বসিয়া কত ভুলায়, কত গল্প করে, সব মিথ্যা হয়। দুধের বাটিকে সে বাঘের মতো ভয় করে—মায়ের হাতে দুধের বাটি দেখিলেই সোজা একদিকে… Continue reading খুকীর কাণ্ড – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কঙ্কাল – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমরা তিন বাল্যসঙ্গী যে ঘরে শয়ন করিতাম তাহার পাশের ঘরের দেয়ালে একটি আস্ত নরকঙ্কাল ঝুলানো থাকিত। রাত্রে বাতাসে তাহার হাড়গুলা খট্‌খট্ শব্দ করিয়া নড়িত। দিনের বেলায় আমাদিগকে সেই হাড় নাড়িতে হইত। আমরা তখন পণ্ডিত-মহাশয়ের নিকট মেঘনাদবধ এবং ক্যাম্বেল স্কুলের এক ছাত্রের কাছে অস্থিবিদ্যা পড়িতাম। আমাদের অভিভাবকের ইচ্ছা ছিল, আমাদিগকে সহসা সর্ববিদ্যায় পারদর্শী করিয়া তুলিবেন। তাঁহার… Continue reading কঙ্কাল – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বকুল গাছের লোকটা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

এ আমার ছেলেবেলার কাহিনি। ইচ্ছে হলে বিশ্বাস না করতেও পারো কেউ! কিন্তু সত্যি ঘটেছিল।এক শীতের সকালে পুবের বারান্দায় ঝলমলে রোদ্দুর খেলছে। আমি আমার বোন ইলু সতরঞ্জি পেতে বসে খুব চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে পড়া মুখস্থ করছি। কদিন বাদেই বার্ষিক পরীক্ষা কি না! তার ওপর মেজকাকা বলে দিয়েছেন, যত জোরে চেঁচিয়ে পড়া মুখস্থ করবি, তত ভালো রেজাল্ট হবে। ইলু… Continue reading বকুল গাছের লোকটা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বাতিকবাবু – সত্যজিৎ রায়

বাতিকবাবুর আসল নামটা জিজ্ঞেস করাই হয়নি। পদবি মুখার্জি। চেহারা একবার দেখলে ভোলা কঠিন। প্রায় ছফুট লম্বা, শরীরে চর্বির লেশমাত্র নেই, পিঠটা ধনুকের মতো বাঁকা, হাতে পায়ে গলায় কপালে অজস্র শিরা উপশিরা চামড়া ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। টেনিস কলারওয়ালা সাদা শার্ট, কালো ফ্ল্যানেলের প্যান্ট, সাদা মোজা সাদা কেডস–দার্জিলিঙের গ্রীষ্মকালে এই ছিল তাঁর মার্কামারা পোশাক। এ… Continue reading বাতিকবাবু – সত্যজিৎ রায়

সাক্ষী শিয়াল – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

একজন সওদাগর একটি ঘোড়া নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছিল। যেতে যেতে তার বড্ড ঘুম পেল। তখন সে ঘোড়াটিকে এক গাছে বেঁধে, সে গাছের তলায় ঘুমিয়ে রইল।এমন সময় এক চোর এসে সওদাগরের ঘোড়াটিকে নিয়ে চলে যাচ্ছে।সওদাগর ঘোড়ার পায়ের শব্দে জেগে উঠে বললে, ‘কি ভাই, তুমি আমার ঘোড়াটিকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? ’ চোর তাতে ভারী রাগ করে বললে, ‘তোমার… Continue reading সাক্ষী শিয়াল – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

হাতির ভিতরে শিয়াল – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

রাজার যে হাতিটা তাঁর আর সকল হাতির চেয়ে ভালো আর বড় দেখতে সুন্দর, সেইটে তাঁর ‘পাটহস্তী’।সেই হাতিতে চড়ে রাজামশাই চলাফেরা করেন, আর তাকে খুব ভালবাসেন। একদিন রাজার পাটহস্তী মরে গেল। রাজা অনেকক্ষণ ভারি দুঃখ করলেন, শেষে বললেন, ‘ওটাকে ফেলে দিয়ে এস।’ তখন সেই হাতির পায়ে বড়-বড় দড়ি বেঁধে পাঁচশো লোক টেনে তাকে মাঠে ফেলে দিয়ে… Continue reading হাতির ভিতরে শিয়াল – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

নিতাইবাবুর ময়না – সত্যজিৎ রায়

নিতাইবাবুর অনেকদিনের শখ একটা ময়না কেনার। তাঁর বন্ধু শশাঙ্ক সেনের বাড়িতে একটা ময়না আছে। সেটা হেন বাংলা কথা নেই যে বলে না। তার কথা শুনতেই নিতাইবাবু মাসে অন্তত তিনবার করে শশাঙ্কবাবুর বাড়িতে যান। সেদিন তো শশাঙ্কবাবুর বৈঠকখানায় ঢুকতেই নিতাইবাবু শুনলেন ময়না বারান্দা থেকে বলে উঠল, আসুন, বসুন। একেবারে মানুষের গলা। কেবল একটু খোনা, যেমন সর্দি… Continue reading নিতাইবাবুর ময়না – সত্যজিৎ রায়