নবনী পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

তোদের কথা আমি কিছুই জানতে চাচ্ছি না। জানি তুই নিজ থেকেই সব লিখবি। কিছুই বাদ দিবি না।তোকে ছোট্ট একটা ধন্যবাদ দেয়া দরকার। সুটকেস খুলে দেখি লাইব্রেরি থাকে আনা উপন্যাসটা তিথির নীল তোয়ালে। তুই স্যুটকেসে দিয়ে দিয়েছিস। বই পড়ার সময় পাচ্ছি না। কাহিনী কি তাও ভুলে গেছি। আবার গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। তোর চোখ কান… Continue reading নবনী পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

নবনী পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

সফিক সাহেব চুপ করে গেলেন, কারণ নোমান ফিরে আসছে। আমার বিরক্ত লাগছে। আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপারে উনি কথা বলছেন কেন? তাছাড়া আমার সঙ্গে আজই তার প্রথম কথা হচ্ছে। প্রথম আলাপে এ জাতীয় প্ৰসঙ্গ তোলার কোন কারণ আছে কি? সফিক সাহেব ওর দিকে তাকিয়ে বললেন–পাওয়া গেছে? না।কোথায় আছে কিছু বলল? নোমান মিটিমিটি হাসছে। কোন একটা আনন্দের… Continue reading নবনী পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

নবনী পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ

সম্পূর্ণ নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ। অচেনা ঘরের অচেনা খাটে আমি শুয়ে আছি। ঘরের আলো কমে এসেছে। আবারও মেঘ করেছে। মনে হয়। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে। নামুক বৃষ্টি, সব ভাসিয়ে নিয়ে যাক। বৃষ্টি নামলে ময়নাটা ভিজবে। আমি কি ওকে নিয়ে আসব ভেতরে? না-কি ওর পানিতে ভিজে অভ্যাস আছে? নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন না, একটা পাখির কথা ভাবতে ভাবতে… Continue reading নবনী পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ

নবনী পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ

ছোটখালা ওকে হাত ধরে আমার পাশে বসিয়ে দিয়ে বললেন, নবনীর মত সুন্দর মেয়ে কি তুমি এর আগে কখনও দেখেছি? বল হ্যাঁ কিংবা না।ও হাসল। ছোটখালা আমাদের চা খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বসে রইলেন। যাবার সময় বাতি নিভিয়ে গেলেন। ও উঠে গিয়ে অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে ছিটিকিনি লাগল। খাটের দিকে আসতে গিয়ে চেয়ারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে… Continue reading নবনী পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ

নবনী পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ

স্টেশন থেকে বর আনার জন্যে দুটা গাড়ি জোগাড় হয়েছে। ফুল দিয়ে সেই গাড়ি সাজানো হচ্ছে।ইরার বান্ধবীরা এসেছে। তারা বাসরঘর সাজাচ্ছে। কাউকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমার কোথাও বসার জায়গা নেই। বাবার পিঠের ব্যথা উঠেছে বলে তিনি তার ঘরে শুয়ে আছেন। আমাকে ডেকে পাঠালেন। কাঁদো-কাঁদো গলায় বললেন— তোর মামা এসে কি যে করবে ভাবতেই হাত-পা ঠাণ্ডা… Continue reading নবনী পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ

নবনী পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ

বাবা হৃষ্টচিত্তে বললেন, তোর বড় মামার কাজ সব গোছানো। কোন ফাঁক নেই। ভেরী প্রাকটিক্যাল ম্যান। ভেরী ডিপেনডেবল। উনার ব্যবস্থা দেখেছিস? আগে থেকে কিছু বলবে না। সব ঠিকঠাক করে তারপর বলবে। মিনু, আরেক কাপ চা দাও দেখি। আজকের বড়াগুলোও হয়েছে মারাত্মক। মাখনের মত মোলায়েম। মুখে দেবার আগেই গলে যাচ্ছে। নবনী, তোর জন্যে দুটা রেখে দিয়েছি, খা।… Continue reading নবনী পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ

নবনী পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ

দুপুরে গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মা এসে গায়ে হাত দিয়ে ঘুম ভাঙালেন। ব্যাকুল গলায় ডাকলেন, নবনী! নবনী!! আমি চোখ মেলতেই তিনি আমার মুখের কাছে মুখ এনে কাতর গলায় বললেন, ওঠ মা। ওঠ! আমি হকচকিয়ে উঠে বসলাম। মা এভাবে আমাকে ডাকছেন কেন? কিছু কি হয়েছে? বাবা ভাল আছে তো? খাট থেকে নামতে গেছি, মা… Continue reading নবনী পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ

অরণ্য শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

তাছাড়া চোখের সামনে মিছিলের চরিত্র বদলাতে থাকে, তাও দেখতে ভালো লাগে। যত সময় যায় ততই মিছিলের মানুষগুলি রেগে উঠতে থাকে। একটা সময় আসে যখন শুধু আগুনের কথা মনে হয়। চারদিকে আগুন জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। এটাই সবচেয়ে চমৎকার সময়। তখন পাশের মানুষটিকেও মনে হয় কতদিনের বন্ধু। কিন্তু আজকের মিছিল জমছে না। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না।… Continue reading অরণ্য শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

অরণ্য পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

হুদা সাহেব তাকিয়ে রইলেন বুলুর দিকে। গতকাল থেকে বুলু ফটফট করে কথা বলছে। আগে তার ছায়া দেখলে বুলুর দম বন্ধ হয়ে আসত। হ্যাঁ কিংবা না বলতেই তিনবার বিষম খেত। এখন দিব্যি কথাবার্তা বলছে। কথা বলবার ভঙ্গি এরকম যেন ইয়ার দোস্তের সঙ্গে আলাপ করছে। হুদা সাহেব বহু কষ্টে রাগ সামলালেন। কঠিন স্বরে বললেন, চুপচাপ শুয়ে থাক।… Continue reading অরণ্য পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

অরণ্য পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

সোবাহান বসে রইল একা একা। বসার ঘরটা ছোট হলেও বেশ গোছানো। সুন্দর। একটা শোকেস আছে। যার নিচের তাকে বেশ কিছু গল্প-উপন্যাসের বই। বইগুলির একটিও মলিন নয়। ঝকঝক করছে। রেশমা বই পড়ে মলাট লাগিয়ে। পড়া হলেই মলাট খুলে শোকেসে তালা লাগিয়ে দেয়। বুলু একবার কী একটা বই নিয়ে তরকারির সরুয়া ভরিয়ে ফেরত দিল। রেশমা রাগে তিনদিন… Continue reading অরণ্য পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ