এই আমি পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ

ভূমিকা ব্যক্তিগত রচনা শিরোনামে আমি একধরনের লেখা অনেক দিন থেকেই লিখছি।শুরু করেছিলাম”হোটেল গ্রেভার ইন”দিয়ে। প্রকাশ করেছিল কাকলী প্রকাশনী।এই ধারার সর্বশেষ রচনা”এই আমি”।এর প্রকাশকও কাকলী।যেখান থেকে শুরু সেখানেই শেষ।চক্র সম্পূর্ণ হল।                                      হুমায়ূন আহমেদ                                    ১৩৫,এলিফেন্ট রোড                                    ঢাকা। আমার বড় মেয়ে তার কলেজে একটা কোয়েশ্চেনিয়ার জমা দেবে। সেখানে অনেক গুলি প্রশ্নের ভেতর একটি প্রশ্ন হলো- তোমার প্রিয় ব্যক্তি… Continue reading এই আমি পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

রাত তিনটা।ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। তরুদের বাসার সামনে আধমরা কাঁঠাল গাছের ডাল মড়াৎ করে ভাঙল। ভাঙা ভাল পড়ল ড্রাইভার, দারোয়ানদের একতলা টিনের চালে। তাদের হৈচৈ এবং বজ্রপাতের শব্দে খালেক জেগে উঠলেন। ইলেকট্রিসিটি নেই, চারদিক ঘন অন্ধকার। শুধু তরুর ঘরে মোমবাতি জ্বলছে। খালেক মেয়ের ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলেন। ব্যাকুল গলায় বললেন, তরু কি হয়েছে রে মা? টেনশনের কারণে… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৭ হুমায়ূন আহমেদ

ওসমান বললেন, যে মেয়েটির বিয়ে হতে যাচ্ছে তার কিছুই বলার থাকে না। মেয়েটিরও তো পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার থাকতে পারে।কবিরুল ইসলাম তখন শুরুর দিকে তাকিয়ে থিয়েটারে পাঠ গাইছেন ভঙ্গিতে বললেন, মা তরু। মা তুমিই বলো ছেলে কি পছন্দ হয়েছে? আলাপ খোলাখুলি হওয়া ভালো। আমি প্যাচের আলাপ পছন্দ করি না। তরু সবাইকে চমকে দিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল, বাবা… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৭ হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ

তরুর লেখা ডায়েরি।পঙ্গু চাচার (ওসমান সাহেব) পরামর্শ আমার পছন্দ হয়েছে। ঠিক করেছি ডিটেকটিভ উপন্যাসই লিখব। নির্ভেজাল একজন ভালো মানুষের হাতে খুন হয়েছে দুজন তরুণী। তারা দুই বোন। এই দুজনকেই ভদ্রলোক বিয়ে করেছিলেন। ছোট বোনের গর্ভে একটি মেয়ে জন্মায়। মেয়েটিকে ভদ্রলোক অত্যন্ত পছন্দ করেন। এই মেয়েটিই হত্যা রহস্যের সমাধান করে।আমি কিছু খোঁজখবর নেয়া শুরু করি। বড়… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

ওসমান কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, তরু তার আগেই ছাদ থেকে নেমে গেল। সিঁড়ির গোড়ায় তরুর বাবা আব্দুল খালেক দাঁড়িয়ে আছেন। তার হাতে কানকোয় দড়ি দিয়ে বাঁধা তিন ফুট সাইজের একটা জীবন্ত বোয়াল। মাছটা বারবার লেজ এদিক-ওদিক করছে।খালেক হাসি মুখে বললেন, এত বড় বোয়াল আগে দেখেছিস? Seen before? তরু বলল, না।এর সারা শরীর ভর্তি চর্বি। বিলের মাছ।… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

লেখক স্যার কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন, এই বিষয়ে পরে তোমার সঙ্গে কথা হবে। বলেই টেলিফোন রেখে দিলেন। তারপর থেকে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে লেখক সাহেবের টেলিফোন আসতে লাগল। আমি টেলিফোন ধরি না। বুঝতে পারছি ভদ্রলোক আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছেন। জরুরি কিছু। আমাকে না পেয়ে অস্থির বোধ করছেন। অস্থিরতা তৈরি করাও একজন লেখকের কাজ। লেখক পাঠকের ভেতর… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ

ঢাকা শহরে বৃষ্টি। ওসমান ছাদে। এক হাতে মাথায় ছাতি ধরে আছেন। ঝুমঝুম বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির সঙ্গে এলোমেলো বাতাস। তাঁর ভালো লাগছে। গরম এক মগ কফি যদি কেউ তার হাতে ধরিয়ে দিত আরো ভালো লাগত। কয়েক দিন আগে একটা ছবিতে এ রকম দৃশ্য দেখেছেন। পাহাড়ের চূড়ায় এক যুবক বসে আছে। তুষারপাত হচ্ছে। যুবকের হাতে মস্ত বড়… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ

আপনার জন্য কাজ জোগাড় করেছি। শৌখিন লোক। প্রচুর টাকাপয়সা। স্পেনে থাকে। সাভারে বাগানবাড়ির মতো করেছে। দুশ বিঘা জমির বাগানবাড়ি। সেখানে সে মেডিটেশন ঘর বলে ঘর বানিতে চায়। আপনাকে দিয়ে ডিজাইন করাবে। ভাল টাকা-পয়সা দেবে। টাকার ক্ৰকোডাইল। আপাতত আমি কোনো ডিজাইন করছি না। মাথায় কিছু আসছে না।এখন আসছে না। পরে আসবে। আইডিয়া আপনার ভালো লাগবে। স্পেনের… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ

চক্ষে আমার তৃষ্ণা – হুমায়ূন আহমেদ

উৎসর্গ আমার হৃদয় নামক পাম্পিং মেশিনে কিছু সমস্যা হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্যে আমাকে মাঝে মাঝে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে যেতে হয়। তখন এক প্রবাসী গল্পকার। ছুটে আসেন। প্রাণপণ চেষ্টা করেন। আমাকে কিছুটা স্বস্তি দিতে। শহীদ হোসেন খোকন স্বস্তিকারকেষু ———– ০১. তরু তার বাবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে তার পানির পিপাসা পাচ্ছে। বুক ধকধক করছে। শব্দটা… Continue reading চক্ষে আমার তৃষ্ণা – হুমায়ূন আহমেদ

একজন মায়াবতী শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

মইন মীরাকে দেখে সহজ গলায় বলল, এস মীরা, এস। প্লেন বানাচ্ছি। মইনের গলায় কোনো বিস্ময় নেই। মনে হতে পারে সে এই মুহুর্তে মীরার জন্যেই অপেক্ষা করছিল। বিস্মিত না হবার অভিনয় দুরূহ অভিনয়। এই মানুষটি সেই অভিনয় এত চমৎকার করছে কী করে? নাকি সে আসলেই বিস্মিত হয় নি। ধরেই নিয়েছিল মীরা যেকোনোদিন আসবে। মইন কাগজ কাটতে… Continue reading একজন মায়াবতী শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ